বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
১০:০৭ পি.এম
‘এপস্টিন ফাইল্স’-এর বিষয়বস্তু দেখার পর কঙ্গনা গভীরভাবে বিস্মিত হয়েছেন। তিনি জানান, বিখ্যাত এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত বছর রিয়া চক্রবর্তী শেষ পর্যন্ত ক্লিনচিট পেয়ে যান। কিন্তু অভিনেত্রী বোঝেন, তার মনে হয় এই পৃথিবীটা সহ্য করার মতো নয়।
এমন অনুভূতি কেন হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এক হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যারা ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসবে, তারা অবশ্যই তাদের মা-বোন এবং সন্তানের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে আসবেন; কারণ তোমরা আর ফিরতে পারবে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ১২-দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফীর সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা যে বাংলাদেশের আন্দোলন গড়ে তুলছি, সেটি হবে দুর্নীতিমুক্ত। আমরা নির্বাচনের নামে চলমান এই খেলা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিছু দল ভোটারদের টাকা দিয়ে আসে, বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণ করে, বাড়িতে গাড়ি-রিকশা-সিএনজি পাঠাচ্ছে। অথচ, সাধারণ মানুষ নিজেদের টাকা খরচ করে আমাদের প্রোগ্রামে আসছে। আপনারা কি বুঝতে পারছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি কতোটা মারাত্মক!’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। গত দেড় বছরে মানুষের থেকে জমা করা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অর্থ এবার নির্বাচনে ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে। নবীনগরের বাসীরা আগামী ১২ তারিখে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এই চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবেন।’
প্রশাসন ও পুলিশের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘প্রশাসনের ভাইয়েরা, আপনারা তো দেখছেন, দিনে ভোট রাতে দেয়া হচ্ছে। মৃত ব্যক্তিরা এসে ভোট দিচ্ছে। সেই ফলাফলের ভিত্তিতে আপনারা ৫ আগস্ট ফলাফল পেয়েছেন। কিছু অগ্রগামী অফিসার আছেন, যারা বলেছেন, ‘আমরা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।’ কিন্তু কিছু লোভী ব্যক্তির উদ্ভব হয়েছে। প্রিয় পুলিশ ভাইয়েরা, আপনি বেনজীর, হারুন ও বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিন।’
গণমাধ্যমের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘তৃণমূলের সাংবাদিকরা আমাদের জানাচ্ছে, ভাই আমরা খবর পাঠাই, কিন্তু সেই খবর কাটিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে, মিডিয়া একটি দলের বন্দনা ও প্রশংসায় ব্যস্ত। কিসে যেন বর্বর মিডিয়া! বিএনপির প্রচারণা চলছে এবং গত ১৭ বছর ধরে তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে খলনায়ক হিসেবে ঘোষণা করেছে। আজ, তারা তার পদলেহনে ব্যস্ত।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মিডিয়ার মালিকেরা হচ্ছেন মুনাফিক। যদি আপনারা আগামী নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করেন, তবে জনগণ এবার মিডিয়াকে লাল কার্ড দেখাবে।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই নির্বাচন ১৪ শ শহীদের নির্বাচনের প্রতীক। এই নির্বাচন ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার নির্বাচনের সাক্ষী। এই নির্বাচনে ৩০ হাজার ছাত্র-জনতার আহত হবার ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে। এ নির্বাচন আমাদের রক্ত, ঘাম ও শ্রমের ভিত্তিতে হয়েছে। অনেক স্ত্রী তার স্বামী এবং অনেক মা তার সন্তান হারিয়েছেন। যদি আপনারা ইনসাফ চান তবে ১২ তারিখ পর্যন্ত কাজের ব্যাপারে অবহেলা করবেন না।’
নিজের এক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যাকে উঁচু করেন... ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কথা বলে চলেছেন! গত দেড় বছর আগে রোজার ঈদে এক বিএনপি নেতা আমার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে ছিল। তখন আমি কিছু বলিনি, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছিলাম। দেড় বছর পর আল্লাহর কি বিচার, এখন সেই নেতার ব্যানারটা লাগানোর ক্ষমতা নেই।’
নবীনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসেন আখন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফী এবং জোটের নানা স্তরের নেতৃবৃন্দ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ নুরুজ্জামান বাদল (৫১) এর জানাজা সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রার্থীর মৃত্যুতে আসনটির নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত (বাতিল) করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় শেরপুর শহরের পৌর পার্ক মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় জানাজা বিকাল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে পোড়াগর এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে বাদলকে দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা এ টি এম মাসুম, ড. সামিউল হক ফারুকী, শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান এবং জামায়াতের পার্টির জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মী, বিএনপি এবং এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই আলহাজ মাসুদুর রহমান জানান, পবিত্র শবে বরাতের নামাজ শেষ করার পর তিনি বাসায় ফিরে যান। রাতের খাবার খাওয়ার পর আবার নামাজের প্রস্তুতির সময় শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার আরো অবনতি হলে ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রার্থীর পারলে আসনটির নির্বাচন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আরপিও-এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচন বাতিল ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হবে কিন্তু ১২ তারিখের আগে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।’
আলহাজ নুরুজ্জামান বাদল শেরপুর-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু রাজনীতির অঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলেছে। আসনটির জমজমাট নির্বাচনী পরিবেশে একটি ভাটা পড়েছে।
মরহুমের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বাদলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বাদল ছিল আমার কাছের ছোট ভাই। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চার দলীয় জোটের আন্দোলন ও সংগ্রামে সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করেছি এবং তার অকালের প্রয়াণে আমরা শোকাহত।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাতের নির্বাচনী পথসভায় মাইক ব্যবহার করার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিবকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বুড়াবুড়ি বাজারের সভায় এই দ্বীধা প্রকাশ করা হয়।
এ সময় জামায়াতের জেলা আমির ইকবাল হোসাইন, পুলিশ প্রশাসন ও বিজিবি উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তেঁতুলিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আকাশ পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, রাত ৮টার পরে মাইক ব্যবহার করে সভা চলছিল এবং প্রার্থী সারজিস আলম বক্তৃতা দেয়ার সময়ই এই ঘটনা ঘটে। অভিষেক হিসেবে, আদালত নির্বাচনী আচরণ বিধির ১৭ এর ২ লঙ্ঘনের অভিযোগে হাবিবকে জরিমানা প্রদান করেন এবং তেঁতুলিয়া উপজেলায় ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাইক ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
এসএম আকাশ বলেন, "আমরা নির্বাচন আচরণ বিধির যথাযথ প্রয়োগের জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো আইন লঙ্ঘন হলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে। বুধবার রাতে ১১ দলীয় জোটের সভায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।"
এ প্রসঙ্গে, হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, "নির্বাচনী পথসভায় কথা বলতে গিয়ে আমরা নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে ফেলেছি। আমরা আইন সম্মতভাবে জরিমানা দিয়ে দিয়েছি এবং ভবিষ্যতে আচরণ বিধি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ