বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৫৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে আরও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরের দিকে ওমনি এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা ঢাকা মহানগরের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে যে, দেশে ফিরে আসা এসব বাংলাদেশি নাগরিক ২০১৪ সালের বিভিন্ন সময়ে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিলেন। পরে তারা অবস্থান করেন দুবাই, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল এবং পেরুসহ বিভিন্ন দেশে। এদেশগুলো থেকে তারা পর্যায়ক্রমে সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
উল্লেখ্য, সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করলেও বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় আইন প্রক্রিয়া পরিবর্তনের পর তাদের বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক প্রত্যেক ডিপোর্টি যাত্রীকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। তাদের জন্য খাবারও ব্যবস্থা করা হয়। ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈধ পথ অনুসরণ এবং অভিবাসন আইন কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন, যিনি ডেভিড ইমন নামেও পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তার অপরাধ জগতের নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের উৎস, চাঁদাবাজির অর্থের প্রবাহ, তদবিরকারীদের টাকার ভাগ দেওয়া, এবং ভারতে পালানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এছাড়াও, ভারতে ডেভিড ইমনের জন্য ‘আজহার খান’ নামে একটি আধার কার্ড তৈরি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তারের সময় ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সাজ্জাদ আলীর পরামর্শেই এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল। উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডে ‘আজহার খান’ নামে একটি পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ভারতের নাগরিক পরিচয়পত্রের আদলে একটি ছবি, জন্মতারিখ এবং পরিচয় নম্বর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন কার্ডটি আসল, নকল বা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে কিনা। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের জন্য কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়। ডেভিড ইমন এবং সন্ত্রাসী রায়হান নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে চাঁদাবাজি পরিচালনা করতেন। ডেভিড ইমন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এবং রায়হান চট্টগ্রাম জেলা এলাকায় চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতেন। একজনের এলাকায় অন্যজন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন না। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে যশোরে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফটিকছড়ির উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মোবারক হোসেন ইমন বা ডেভিড ইমন (২৫), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের মো. শামীম (২৮), ঢাকার শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)।
ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র এবং চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে।
তবে ইউপিডিএফের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং ভারতে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলীর কাছে অর্থ পাঠানোর অভিযোগগুলো এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে এখন ব্যক্তিগত তথ্য নাগরিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হয়েছে। একটি মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর অথবা জন্মতারিখ, এগুলো এখন আর কেবল তথ্য নয়; বরং এগুলোই একজন নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয়। ব্যাংক হিসাব খোলা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট, মোবাইল ব্যাংকিং, চিকিৎসাসেবা, কর পরিশোধ কিংবা সরকারি ভাতা, এই সবকিছুই আজ ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং, এসব তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল প্রযুক্তিগত বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়, এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের অবধানের অপরিহার্য শর্ত।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, ব্যক্তির বাসস্থান, যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা আইন দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে। তবে ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তার এই পরিধি এখন চিঠিপত্র বা বাসস্থানে সীমাবদ্ধ নয়; এই গোপনীয়তার অংশ হিসেবে রয়েছে নাগরিকের মোবাইল নম্বর, বায়োমেট্রিক তথ্য, অবস্থান, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং অনলাইন কার্যক্রম। এই কারণে আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন আবশ্যক।
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার দুর্বলতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল ২০২৩ সালে, যখন সরকারি একটি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে প্রায় পাঁচ কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এই তথ্য ফাঁসে নাম, মোবাইল নম্ব, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং ঠিকানা সহ বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়। দেশি এবং বিদেশি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডেটা লিকের একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও তদন্ত, ব্যাখ্যা এবং আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তবে ঘটনা এই বিষয়টি প্রকাশ করেছে যে, রাষ্ট্রীয় তথ্যভাণ্ডারের একটি দুর্বলতাই কোটি মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এছাড়া, কেবল এনআইডির তথ্য ফাঁসের ঘটনা নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাইবার প্রতারণার ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের সাইবার ইউনিট এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সতর্কবার্তায় নিয়মিতভাবে ফিশিং লিংক, ভুয়া কাস্টমার কেয়ার, কিউআর কোড প্রতারণা, সিম সোয়াপিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দখল এবং মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুয়া কণ্ঠস্বর বা ছবি তৈরি করে প্রতারণার ঘটনার সংখ্যা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে।
ডিপফেক ভিডিও, ভয়েস ক্লোনিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর পরিচয় জালিয়াতি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলছে। এই অপরাধগুলির পিছনে রয়েছে ব্যক্তিগত তথ্যের অনিয়ন্ত্রিত প্রাপ্যতা।
তবুও উদ্বেগ কোথাও কমছে না। অনেক সময় প্রতারণার ঘটনা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে ঘটে, যেমন ওটিপি হাতিয়ে নেওয়া, ভুয়া কাস্টমার কেয়ারের ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা পরিচয় চুরির ঘটনা ঘটে। প্রতারকদের অনেকেই ভুক্তভোগীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য জানেন। প্রশ্ন হলো, এই তথ্যগুলো কোথা থেকে পাচ্ছে? প্রতিটি ঘটনার উৎস হয়তো এক নয়, তবে বাস্তবতা হলো, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতভাবে দুর্বল রয়েছে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবার পরিধি দ্রুত বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে কোন তথ্য কত দিনের জন্য নেওয়া হচ্ছে, কত সময় ধরে সংরক্ষণ হবে এবং কার সঙ্গে ভাগ করা যাবে, সেই বিবরণ এখনো সুস্পষ্ট ও কার্যকর আইনের অভাবে নেই। সেখানে তথ্য ফাঁস হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কী প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে, তা সম্পর্কে ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনও প্রয়োজন। "যত বেশি, তত ভালো" একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠছে যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দমনে আইন রয়েছে। ২০২৩ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়। তবে এই আইন প্রধানত সাইবার অপরাধ ও শাস্তির পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ; ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, তথ্য ব্যবহারের সীমা, নাগরিকের সম্মতি ও তথ্য নিয়ন্ত্রকের দায়বদ্ধতার জন্য কোনও পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে তুলে না। ফলে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকের অধিকার ও প্রতিকার এখনো আলোচনায় আনতে হয়নি।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার জন্য দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে, যা পরবর্তীতে ২০২৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে আরও উন্নত করা হয়। এটি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ব্যবহার এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর বাস্তবায়ন, শক্তিশালী ও স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা, তথ্য ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত প্রতিকার সৃষ্টি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিডিপিআর (GDPR) প্রতিষ্ঠানে নাগরিকের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে দেয়া হয় না। তথ্য কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে, কত দিন রাখা হবে এবং নাগরিক চাইলে কীভাবে তা মুছে ফেলা হবে, এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে।
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত উপাত্ত সুরক্ষা আইনেও (Data Protection Act) ইউরোপের এই GDPR’র অনেক নীতির মধ্যে ডেটা লোকালাইজেশন, ডেটা প্রসেসর ও কন্ট্রোলারের দায়বদ্ধতার মতো বিষয়গুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি আন্তর্জাতিক মানের কাঠামোর কার্যকর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।
এখন বিষয়টি শুধুমাত্র রাষ্ট্রের নয়, বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও গুরুতর দায়িত্ব রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার পরিবর্তে তথ্য সংগ্রহে বেশি আগ্রহী। আবার কোথাও কর্মীদের অসতর্কতা, কোথাও দুর্বল সার্ভার, আর কোথাও নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষার অভাব কারণে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্যকে অনেক সময় সম্পদ হিসেবে নয়, বরং দায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও একবার তথ্য ফাঁস হলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।
সবার শেষে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। অপরিচিত লিংক ক্লিক না করা, ওটিপি বা ব্যাংকিং তথ্য কাউকে না দেওয়া, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখাও এখন বিলাসিতা নয়; এগুলো ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ন্যূনতম শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিজিটাল রাষ্ট্র গড়তে হলে নাগরিকের আস্থা অর্জন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই আস্থা কেবল নতুন অ্যাপ, স্মার্ট সেবা বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দিয়ে নয়, বরং তৈরি হবে তখনই, যখন মানুষ নিশ্চিত হবে যে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান তার ব্যক্তিগত তথ্যের বিশ্বস্ত অভিভাবক।
প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের তথ্য ফাঁসের ঘটনা আমাদের একটি কঠিন শিক্ষা দিয়েছে, যে ডিজিটাল অবকাঠামো যত দ্রুত বিস্তৃত হবে, তথ্য সুরক্ষার আইন ও জবাবদিহিও তত শক্তিশালী হতে হবে। অন্যথায় প্রযুক্তির সুবিধা যত বাড়বে, নাগরিকের ঝুঁকিও সেই অনুযায়ী বাড়বে।
ডিজিটাল অগ্রগতির এই সময়ে, বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি নয়, বরং আস্থা। এবং সেই আস্থার ভিত্তি হতে পারে একটি আধুনিক, কার্যকর ও নাগরিককেন্দ্রিক ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন, সুদৃঢ় প্রতিষ্ঠান এবং জবাবদিহিমূলক তথ্য ব্যবস্থাপনা। ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই প্রস্তুতির ওপর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিগত ১৭ বছরের তুলনায় বর্তমানে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্তব্য করেছেন যে, দেশে পত্রিকার পাতায় গুম, খুন এবং ব্যাংক লুটের খবর নেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি ভোলা সদরের ইলিশা ও রাজাপুরের নদীভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তাঁর এ মন্তব্যটি করেন।
ব্যারিস্টার পার্থ উল্লেখ করেন, গত সাড়ে চার মাসে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গুম, খুন, হয়রানি ও রাজনৈতিক মামলা বা রাষ্ট্রীয়ভাবে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় মদদে গুম-খুন বা বড় ধরনের দুর্নীতি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে অনিয়ম করে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ভোলার শিল্পায়নের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, 'শুধু গ্যাস থাকলেই শিল্প গড়ে ওঠে না।' ভোলা-বরিশাল সেতুসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ভোলাকে একটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা, এবং এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এমপি পার্থ ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে বলেন, সরকার নীতিগতভাবে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এরপর পিপিপি পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। একইভাবে ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্যও সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নদীভাঙন বিষয়ে এমপি পার্থ জানান, ভোলার শিবপুর, ইলিশা ও রাজাপুর এলাকায় ভাঙন উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে; তবে কাজের গতি আরও বেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। নদীর গতিপ্রকৃতি এবং কারিগরি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এছাড়া হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে পার্থ বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ জনবলের সংকট এবং ওষুধের বিষয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) নেতাকর্মীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ননদ জামাইয়ের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে।
ওই গৃহবধূর দাবি, আত্মরক্ষার জন্য তিনি এ কাজ করেছেন। তার অভিযোগ, ননদ জামাই তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন।
এ ঘটনায় আহত মিঠু মল্লিককে (৪০) প্রথমে বরিশাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গাবারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের রমজানকাঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মিঠু মল্লিক বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চাখার এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত মোশাররফ মল্লিকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঝালকাঠিতে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ওই গৃহবধূর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতে মিঠু মল্লিক গুরুতর আহত হন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত গৃহবধূ জানান, তার স্বামী স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক। ঘটনার সময় তিনি বিদ্যালয়ে ছিলেন। ননদও কর্মস্থলে চলে যান। এ সুযোগে মিঠু মল্লিক বাড়িতে এসে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার জন্য একটি ব্লেড দিয়ে তিনি মিঠু মল্লিকের পুরুষাঙ্গে আঘাত করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন বলেও অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।
গৃহবধূর অভিযোগের বিষয়ে আহত মিঠু মল্লিকের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর কলটি কেটে দেওয়া হয়। পরে একই নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও আর সাড়া মেলেনি। তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ