ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বাং

স্কুলছাত্রীকে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে পুকুরপাড়ে পালাক্রমে ধর্ষণ, ফরিদপুরের সদরপুর


স্কুলছাত্রীকে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে পুকুরপাড়ে পালাক্রমে ধর্ষণ,  ফরিদপুরের সদরপুর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে এক অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রী (১৫) অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা মোটরসাইকেলসহ দুই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনিকল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নে একটি গ্রামে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতে কিশোরীর চাচা জানান, কিশোরী এবং তার দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ও কিশোরীর মা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরীর ছোট ভাই ও ছোট বোন ছিল। ঠিক রাত ১টার সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা না খোলায় তারা জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হামলার হুমকি দিয়ে এলাকার মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাত ৩টার দিকে কিশোরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে বাড়ির উঠানে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে দুই যুবককে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেন। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে সদরপুর থান পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু

ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শাশুড়ির অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে মেয়ের এই অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

কিশোরীর ছোট বোন জানায়, দুর্বৃত্তরা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার বোনের চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এলাকাবাসী যে দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে, তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।”

আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ব্যাপক পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ‘যেকোনো উন্মত্ততার’ জবাব দিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


ইরানের ব্যাপক পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ‘যেকোনো উন্মত্ততার’ জবাব দিতে

তেহরান একটি ব্যাপক পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোয় হামলা চালায়।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে তারা ‘উন্মত্ততা’ হিসেবে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন। তবে, এমন হামলা হলে, তাদের জবাব দেওয়ার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরানের পাল্টা পরিকল্পনায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা ও পাল্টা জবাব দেওয়ার দৃঢ়তা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একাধিক হুমকির প্রেক্ষিতে এসেছে এ বক্তব্য। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, পরমাণু ইস্যুতে তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নিচ্ছে। এ কারণে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য বিভিন্ন অবকাঠামোয় নতুন করে হামলার নির্দেশ দেওয়ার হুমকিও তিনি দিয়েছেন।

এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪০ দিনের মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময়ও ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে এসব হামলা চালানোর হুমকি বহাল থাকবে।

তাসনিমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময়ের হামলায় ইরানের বিভিন্ন স্থাপনাসহ বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইনে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে একটি স্কুলে হামলায় ১৬০ জনের বেশি ছাত্রী নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তেহরানে হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ও একটি সিনাগগেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোজ খাচ্ছেন মাল্টিভিটামিন? জানুন সত্যিই কতটা উপকারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩১ এম


রোজ খাচ্ছেন মাল্টিভিটামিন? জানুন সত্যিই কতটা উপকারী

শরীর সুস্থ রাখতে অনেকেই প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন খেয়ে থাকেন। অনেকের ধারণা, এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে, হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকে এবং বয়সের সঙ্গে স্মৃতিশক্তিও ঠিক থাকে। তবে গবেষণা বলছে, মাল্টিভিটামিন নিয়ে এমন ধারণার পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাল্টিভিটামিন খাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের খাদ্যাভ্যাস মূল্যায়ন করা। প্রতিদিনের খাবার থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া গেলে আলাদা করে মাল্টিভিটামিনের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

এ পর্যন্ত হওয়া কয়েকটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মাল্টিভিটামিন খেলে হৃদ্‌রোগ বা মানসিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে—এমন প্রমাণ মেলেনি। কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট বয়সী মানুষের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিতে সামান্য ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেলেও, সব গবেষণায় একই ফল পাওয়া যায়নি।

আরও একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন খেলেও মৃত্যুঝুঁকি কমে না। তাই শুধু সুস্থ থাকার আশায় নিয়মিত মাল্টিভিটামিন খাওয়ার আগে প্রয়োজন ও উপকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে কোনো ভিটামিনের ঘাটতি আছে কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে নেওয়াই ভালো। পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এছাড়া প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় কোনো ভিটামিন খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ভিটামিন এ ও ভিটামিন ই বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মাল্টিভিটামিনকে সুস্থ থাকার একমাত্র ভরসা না করে, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেহাল দশা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


বেহাল দশা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর  কমিউনিটি ক্লিনিকের

বেহাল দশা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের। চারদিকে থইথই পানি। এর মাঝখানে কংক্রিটের পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ণ ভবন। বেশ কিছু পিলারের পলেস্তারা খসে পড়ে, ফলে রড বের হয়ে গেছে। সেখানে কোনো সংযোগ সড়ক নেই এবং নেই কোনো ঘাট। বর্ষার দিনে এই ভবনটিতে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো নৌকা, সাঁতার অথবা কোমরপানি ভেঙে হাঁটা।

এটিই খাগালিয়াসহ আশপাশের চার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভরসা। কিন্তু বছরের চার থেকে পাঁচ মাস যখন হাওরে পানি জমে, তখন এই সেবাদাতা ভবনটি নিজেই যেন অসহায় হয়ে পড়ে থাকে।

ক্লিনিকের দিকে কোমরপানি ভেঙে যাওয়ার পথে দেখা মেলে ৭৫ বছর বয়সী রূপচাঁন বিবির। খাগালিয়া গ্রামের এই প্রবীণ নারী আক্ষেপ করে বলেন, ‘গত সপ্তাহে এই হাসপাতালে আইছিলাম গ্যাস্টিকের বড়ি নিতাম। কিন্তু কোমরসমান পানি ভাইঙা হাসপাতালে আইতে অইছে। ওষুদ নিয়্যা যাওনের সময় পানির নিচে কিছু একটা কামড় দিছে। হের পর থেইক্যা পাওডা (পা) ফুইল্যা ঢোল অইয়া আছে। সাতদিন ধইরা পাও লইয়া কষ্ট করতাছি। শরীর ভালা করতে হাসপাতালে গিয়া অহন আমি নিজেই আধমরা।’

রূপচাঁন বিবির মতো দুর্দশা এই অঞ্চলের অন্তত চার গ্রামের মানুষেরও। শুকনো মৌসুমে গ্রামের মেঠো আইল দিয়ে হাঁটা গেলেও বর্ষায় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন।

খাগালিয়ায় এই ক্লিনিকে ২২ ধরনের প্রাথমিক ওষুধ ও সেবা দেওয়া হয়। একজন সিএইচসিপি প্রতিদিন এবং সপ্তাহে এক দিন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা এখানে বসেন। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৮০ জন রোগী এলে, বর্ষায় তা নেমে আসে ১০-২০ জনে। মূলত সাপ ও জোয়ারের পানির আতঙ্কে মানুষ এখন ক্লিনিকবিমুখ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেক (৫০) বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার নাতিরে নিয়া গেছিলাম। টেবিলের তলে দেহি এক হাত লম্বা সাপ ফুটবলের মতো গোল অইয়া রইছে। ভয়ে ওষুদ না নিয়াই ফিরা আইছি।’

আমেনা বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘বন্যার সময় ছয় মাস হাসপাতাল পানির নিচে থাকে। আমরা মহিলা মানুষ ইচ্ছা করলেই পানি দিয়া আইতে পারি না। বাড়িতে ছোড দুইডা পোলা জ্বরে ভুগতাছে। কিন্তু পানির কারণে আইতে পারি না।’

যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় গত বছর বর্ষায় মাঝরাতে প্রসব বেদনা উঠলে খাগালিয়া গ্রামের রাফিয়া বেগমকে (২৫) নৌকায় করে সদরে নেওয়ার পথে নৌকা ডুবে বিপত্তি ঘটে। অল্পের জন্য মা ও শিশু রক্ষা পেলেও সেই আতঙ্ক এখনও কাটেনি গ্রামবাসীর। যদি এই ক্লিনিক সচল থাকতো, তবে তাদের ১৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হতো না।

বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ছে। ভেতরে প্রবেশ করতেই কয়েকটি ইঁদুর দৌড়ে পালানোর দৃশ্য চোখে পড়ে। বেলা ১১টার দিকে দেখা মেলে কয়েকজন নারী কোমরপানি পেরিয়ে ক্লিনিকে আসছেন। আবার কেউ আসছেন নৌকায় করে।

ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো. আরিফ রহমান বলেন, কখনও নৌকা পাই, কখনও পাই না। নৌকা না পেলে সাঁতরে আসতে হয়। ক্লিনিকে ঢোকার আগে লাঠি দিয়ে মেঝেতে শব্দ করতে হয় যাতে সাপ চলে যায়। ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েকটি পিলার ফেটে রড বের হয়ে গেছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ওষুধ এবং ফাইলপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিবেশে নিরাপদ সেবা দেওয়া কঠিন।

১৯৯৮ সালে এই অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে সরকার উদ্যোগ নেয়। ২০১১ সালে স্থানীয় একজন ব্যক্তির দান করা নিচু জমিতে ভবনটি তৈরি হয়। তবে এক যুগের প্রতিষ্ঠার পরও যাতায়াতের জন্য কোনো রাস্তা তৈরি হয়নি।

ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুবেল মিয়া বলেন, ক্লিনিকের রাস্তাটি করার জন্য আমরা একাধিকবার পরিষদ থেকে প্রকল্প নিয়েছি। কিন্তু জমিটি নিচু হওয়ায় পরিষদের সীমিত বাজেটে এটি সম্ভব হচ্ছে না।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খাগালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভৌগোলিক অবস্থানটি প্রতিকূল। বর্ষায় যাতায়াতের সমস্যার কথা চিন্তা করে সেখানে একটি উঁচুপথ নির্মাণ এবং ভবনটি আরও উঁচুতে পুনর্নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত সীমিত সম্পদের মধ্যেই আমাদের কর্মীরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় বিমানবন্দর নির্মাণ নিয়ে আবারও আশা সৃষ্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


খুলনায় বিমানবন্দর নির্মাণ নিয়ে আবারও আশা সৃষ্টি

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকা খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে চীন আবারও আগ্রহ দেখিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) একটি প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এর পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানকে একটি চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চিঠিতে চারটি পৃথক পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো একটি পদ্ধতি গ্রহণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়টিকে ইতিবাচক বলা হচ্ছে এই অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের কাছে। তাদের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৎস্য শিল্প ও পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

প্রায় ৩০ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুলনা-মোংলা জাতীয় মহাসড়কের পাশে বাগেরহাট, খুলনা ও মোংলার সমদূরত্বে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সে সময় প্রকল্পের জন্য ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের কাজ দীর্ঘকাল ধরে স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আরও ৫০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং আংশিক ভূমি ভরাটের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

যদিও তৎকালীন সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেও কোনো বিদেশি কোম্পানি বা দেশ এতে বিনিয়োগে আগ্রহ না দেখানোর কারণে নির্মাণ কাজ আর এগোয়নি।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা জানান, গত মাসে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে চীনের কোম্পানি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা এলাকাটি পরিদর্শন করেছি এবং আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়ার জন্য বলেছি। গত ৩০ জুলাই তারা বেবিচক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে। এখন বেবিচক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে।

চীনা কোম্পানির চিঠিতে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সরকার টু সরকার (জিটুজি) ভিত্তিক সহজ ঋণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) তৈরির, পরিচালনার এবং চুক্তি শেষে হস্তান্তর (বিওটি) সহ নকশা তৈরি, মালপত্র কেনা, নির্মাণ ও অর্থায়ন পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ আছে, পারস্পরিক আলোচনা মাধ্যমে প্রPreferred পদ্ধতিটি নির্ধারণ করা যাবে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। বিশেষভাবে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্লু ইকোনমি, ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, পণ্য পরিবহন এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর নির্মাণে চীন সরকার ইতিমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সেই সূত্রে চীনা প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আসাদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের অভাবে বিদেশি ক্রেতা ও আমদানিকারকরা খুলনায় আসতে চান না। খুলনায় একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম রয়েছে, কিন্তু বিমানবন্দর অনুপস্থিত থাকার কারণে বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো এখানে অনুষ্ঠিত হয়নি। মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সুন্দরবনের মতো পর্যটন কেন্দ্রের কারণে খুলনার কাছে একটি বিমানবন্দর অত্যন্ত প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:২৬
জোহর ১১:৫৭
আসর ০৪:২৩
মাগরিব ০৬:০৯
ইশা ০৭:২০
সূর্যোদয় : ০৫:৪৩ সূর্যাস্ত : ০৬:০৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%