০৫:৩৭ পি.এম
একটি শিশু শিক্ষার্থী অনবরত কান্না করে যাচ্ছিল। শিক্ষকের ছিল একটি প্রচণ্ড হাসি, যখন সে বার বার শিশুটির মুখে বেত ঢুকিয়ে দিচ্ছিল। এরপর সেই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে শিক্ষক লিখলেন ‘পিচ্চি পোলাপানরে কান্না করাইতে ভালোই লাগে’। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে, শিক্ষকের এক ভিডিও পোস্টে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের দারুল উলুম কোরআন মাদ্রাসায় এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেন। রবিবার (১৯ জুলাই) পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি বলে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। তিনি ওই মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক ছিলেন এবং সম্প্রতি এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। প্রায় আড়াই মাস আগে তাকে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। জানা গেছে, তিনি টিকটক ও রিলস ‘আসক্ত’ ছিলেন।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু
এদিকে, বর্তমানে ওই মাদ্রাসাটি বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকের পোস্ট করা শিশুটির কান্নার ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ‘কান্নারত এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায়। হাত দিয়ে বেতটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষকের থামার কোন চেষ্টাই করা হয়নি। ভিডিওতে শিক্ষকের হাসিও শোনা যায়’। ১৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই শিক্ষক ভিডিওটি মুছে ও অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দেন।
অন্যদিকে, শনিবার (১৯ জুলাই) ফেসবুকে লাইভে এসে শিক্ষকের দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইমরান টিকটক ও রিলস আসক্ত ছিলেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নজরে আসে এবং অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রায় দুই মাস আগে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি চাকরিতে থাকাকালীন ধারণ করে পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন। শুরু থেকেই তার আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভনমূলক আচরণ এবং অকারণে শাস্তি প্রদানের অভিযোগ উঠে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে ইমরানকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু তিনি কারো কথাই শুনতেন না। এই কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষক রায়পুরে নেই। প্রায় এক মাস ধরে মাদ্রাসাটিও বন্ধ রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন