মঙ্গলবার, ৩ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৯:৪৪ এম
গ্রিন টি একটি কম ক্যালরির পানীয়, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো পরিবেশের দূষণ, ধূমপান ইত্যাদি কারণে সৃষ্ট কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে সহায়ক। খাদ্যতালিকায় গ্রিন টি অন্তর্ভুক্ত করলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণ বৃদ্ধি পায়, তবে সঠিক সময়ে পান করলে এর সুবিধা আরও বেশি পাওয়া যায়। চলুন, গ্রিন টি পান করার আদর্শ সময়গুলো জানি।
নাস্তার ১–২ ঘণ্টা পর
গ্রিন টিতে পাওয়া ক্যাটেচিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উদ্ভিদজাত খাবারের নন-হিম আয়রের সাথে যোগাযোগ করে আয়রনের শোষণ কমাতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, খাবার খাওয়ার ১ ঘণ্টা পর চা পান করলে এই প্রভাবের মাত্রা ৫০% পর্যন্ত কমে যায়।
দীর্ঘ সময়ে সকাল বা বিকেল
এই সময়ে অনেকের মধ্যে ক্লান্তি ও মনোযোগের অভাব দেখা যায়। গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন এবং এল-থিয়ানিন সাময়িকভাবে মনোযোগ, সতর্কতা ও মানসিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
খাবারের সাথে (যদি আয়রন সমস্যা না থেকে থাকে)
গ্রিন টি কম ক্যালরির ফলে খাবারের সাথে একটি উপযুক্ত পানীয় হিসেবে কাজ করে। কফির তুলনায় এটি কম ক্যাফেইনযুক্ত, যেখানে এক কাপ কফিতে প্রায় ৯২ মি.গ্রা. ক্যাফেইন থাকে, সেখানে গ্রিন টিতে মাত্র ৩০ মি.গ্রা.।
কখন গ্রিন টি এড়ানো উচিত
১। ঘুমানোর আগে
গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকায় এটি ঘুমের মানকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে, বিশেষত যারা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল। এই সময়ে ক্যাফেইনমুক্ত চা, যেমন ক্যামোমাইল, রুইবোস বা পুদিনা চা খাওয়াই ভালো।
২। নন-হিম আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের আশেপাশে
পালং শাক, ডাল, বিনস, টোফু বা ফোর্টিফাইড সিরিয়াল জাতীয় খাবারের সাথে গ্রিন টি পান করলে আয়রনের শোষণ হ্রাস পেতে পারে। তাই এসব খাবারের ১ ঘণ্টা আগে ও পরে গ্রিন টি এড়ানো উচিৎ।
৩। আয়রন সাপ্লিমেন্টের সাথে
গ্রিন টি আয়রন সাপ্লিমেন্ট থেকে আয়রন শোষণকে বাধা দেয়। তাই এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সময় গ্রিন টি না খাওয়াই উত্তম।
৪। ব্যায়ামের আগে
যদিও ক্যাফেইন কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক, তবে গ্রিন টিতে এর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। তাই ব্যায়ামের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য এটি সবসময় উপযুক্ত নয়, তবে চাইলে পান করা যেতে পারে।
গ্রিন টি থেকে সর্বাধিক উপকার পাওয়ার উপায়
১। সঠিক সংরক্ষণ
গ্রিন টি বাতাস-রোধী পাত্রে, শীতল, শুকনো এবং অন্ধকার স্থানে সংরক্ষণ করুন। এতে এর স্বাদ, সুবাস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভালোভাবে রক্ষা হয়।
২। সঠিক তাপমাত্রা এবং সময়ে প্রস্তুত করা
গ্রিন টি তৈরির সময়ে পাতার মান, পানির তাপমাত্রা এবং ভিজানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সর্বাধিক সুবিধা পাওয়ার জন্য ৮০–৮৫° সেলসিয়াস (১৭৬–১৮৫° ফারেনহাইট) গরম পানিতে ৫–১০ মিনিট চা পাতা ভিজিয়ে রাখুন।
সূত্র: হেলথ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় খিলগাঁওয়ে এক প্রাইভেটকারের ধাক্কায় শাহিন (৪৮) নামে এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই প্রাইভেটকার এবং চালককে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বাজারের সাফিয়া কার সেন্টারের বিপরীত পাশে রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সাতাক গ্রামে অবস্থিত। তার বাবার নাম মো. আলাউদ্দিন। তিনি মেরাদিয়া পোড়াবাড়িতে বাস করছিলেন।
এ বিষয়ে খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনয় চন্দ্র পাল জানান, রাতে শাহিন রিকশা চালাচ্ছিলেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে দ্রুত গতির একটি প্রাইভেটকার পেছন থেকে রিকশাটিতে আঘাত করে। এতে রিকশার চালক গুরুতর আহত হয়ে ফুটপাতে পড়ে যান। খবর পেয়ে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসক রাত ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসআই আরও জানিয়েছেন, প্রাইভেটকারের চালককে আটক করা হয়েছে এবং গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শ্যামপুর খন্দকার রোডে ঘটে গেছে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যেখানে ট্রান্সপোর্টের এক কর্মচারীকে ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে আঘাত করে ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। মো. গোলাম কিবরিয়া (৪৫) নামের ওই কর্মচারী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
এটি ঘটে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে, শ্যামপুর খন্দকার রোডের শেখ কামাল স্কুলের সামনে।
আহতের সহকর্মী মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, কিবরিয়া বংশাল বোরাক ট্রান্সপোর্টের একজন কর্মচারী এবং তার বাড়ি শ্যামপুর আলমবাগে। রাতে চট্টগ্রাম থেকে ট্রান্সপোর্টের মালামাল ঢাকায় আসে এবং কিবরিয়া সেগুলো আনলোড করে গাড়ি ভাড়া দিয়ে পরে রিকশা করে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি যখন শ্যামপুর খন্দকার রোডের শেখ কামাল স্কুলের সামনে পৌঁছান, তখন তিনজন ছিনতাইকারী তার রিকশার গতি রোধ করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিচ্ছে। বাধা দিতে গেলে ছিনতাইকারীরা কিবরিয়ার বাম হাতে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ছিনতাইয়ের পর খবর পেয়ে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে ভোর পাঁচটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে কিবরিয়া জরুরি বিভাগের চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকদের তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানিয়েছেন, কিবরিয়া বর্তমানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শ্যামপুর থানার পুলিশকে এ ঘটনার বিষয়ে অবগত করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ম্যাচের আগেই ছড়িয়ে পড়ে একটি খবর, যে আল নাসরের তারকা রোনালদো ম্যাচ বয়কট করতে যাচ্ছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আল রিয়াদের বিপক্ষে তিনি খেলেননি। তবে তার দলের জয় নিশ্চিত হয়েছে।
সৌদি প্রো লিগে রোনালদোর অনুপস্থিতিতেও আল নাসর আল রিয়াদকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে। একমাত্র গোলটি করেন সাদিও মানে।
কোচ জর্জ জেসুস রোনালদোকে বাদ দিয়ে স্কোয়াড গঠন করেন। সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে মাঠে ছিলেন আবদুর রহমান ঘারিব। আল নাসর শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের মাঠে প্রবল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপস্থাপন করতে থাকে।
১৪ মিনিটে মানে আল রিয়াদের উপর দারুণ আক্রমণ করে। কিন্তু আল রিয়াদের গোলকিপার মিলান বরিয়ান শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়ে তোলেন। কিছুক্ষণ পর ফেলিক্সের দূরপাল্লার শটও বিফলে যায়।
ম্যাচের ৪০ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন মানে। তিনি বক্সের মাঝ থেকে অসাধারণ ফিনিশ করে জালের দেখা পান। এই গোলে আল নাসর এগিয়ে যায় এবং জয়ের অনুভূতি লাভ করে। দ্বিতীয়ার্ধে আল রিয়াদ সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়। কিন্তু শেষের দিকে একাধিক সুযোগ তৈরি করার পরও তাদের সফলতা মেলেনি।
এদিকে, আল নাসরের টানা ৫ ম্যাচে জয় হাসিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। তারা ১৯ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে এক ম্যাচ বেশি খেলে শীর্ষে রয়েছে আল হিলাল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আলোচিত ও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচার, ক্ষমতাবানদের মধ্যে রহস্যময় সম্পর্ক এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বেই কারাগারে মৃত্যুর কারণে তার নাম আজও আন্তর্জাতিক আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।
২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের এক উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে এপস্টেইন মারা যান। সেই সময় তিনি জামিনের সুযোগ ছাড়া যৌন পাচারের মামলায় বিচারাধীন ছিলেন। যদিও কারা কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করেছে, তবে এই বিষয়ে সন্দেহ ও বিতর্ক এখনও বিদ্যমান রয়েছে।
এক দশক পূর্বে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এপস্টেইন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাকে আজীবন 'লেভেল থ্রি' যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন করে, যা পুনরায় অপরাধ করার উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে।
নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এপস্টেইন ১৯৭০-এর দশকে অভিজাত ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। সেখান থেকে ওয়াল স্ট্রিটে প্রবেশ করে বেয়ার স্টার্নসের অংশীদার হন তিনি। পরবর্তীতে ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কো’ নামে নিজস্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি অসাধারণ সম্পদ সঞ্চয় করেন, যা একসময় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করত।
এপস্টেইন অল্প সময়ের মধ্যে ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক এবং নিউ মেক্সিকোতে বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিক হন এবং তিনি রাজনীতিক, শিল্পী ও ধনকুবেরদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
এপস্টেইনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, এবং প্রিন্স অ্যান্ড্রু। যদিও অভিযোগ করা হয় এসব সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়।
বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাথে তার সম্পর্ক আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। এপস্টেইনের এক অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে দাবি করেন, ১৭ বছর বয়সে তাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যা অ্যান্ড্রু অস্বীকার করেন। তবে ২০২২ সালে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তিনি মামলা নিষ্পত্তি করেন।
২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় একাধিক কিশোরীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। তদন্তে ৫০ জন ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য পাওয়া যায়, কিন্তু ২০০৮ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি বিতর্কিত সমঝোতা স্বাক্ষর করে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ঝুঁকি এড়িয়ে যান। তিনি কেবল ১৮ মাসের সাজা পান, যার বেশিরভাগ সময়ও ‘ওয়ার্ক রিলিজ’ সুবিধায় কাটান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিয়ামি হেরাল্ড এই চুক্তিকে ‘শতাব্দীর সমঝোতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
২০১৯ সালে নতুন করে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর, এপস্টেইনকে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারেকশনে রাখা হয়, কিন্তু বিচার শুরুর আগেই তার মৃত্যু ঘটে, যা বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দেয়।
এপস্টেইনের মৃত্যুর পরে তার সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল গ্রেপ্তার হন। ২০২১ সালে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পান। আদালতে ম্যাক্সওয়েল বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় হওয়াই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুতাপ।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পাস হলেও এখনও সব নথি প্রকাশ হয়নি। মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দল দাবি করছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অকারণে গোপন রাখা হয়েছে। এপস্টেইনের বিচার কখনো সম্পন্ন হলে না হলেও, তার কেলেঙ্কারি এবং প্রশ্নবিদ্ধ সম্পর্ক বিশ্ব রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থায় গভীর ছাপ রেখেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ