০৩:২২ পি.এম
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার কচুয়া ফেরিঘাটে সাংবাদিক এম এ আজিজ ও বিএনপি নেত্রী হাফসার কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার শুরু হয়েছে। ভিডিওটির ব্যাপারে বিভিন্ন দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানোর বিষয়ে তীব্র আপত্তি এসেছে দলটির কাঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে।
জামায়াতে ইসলামী মিডিয়া সেল জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তির পরিচয়, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা কর্মকাণ্ড যাচাই না করে জামায়াতে ইসলামী কিংবা দলের কোন সংগঠনের সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। একটি ভিডিওতে কাউকে দেখা যাওয়া কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পরিচয় থাকা দাবির ভিত্তিতে পুরো একটি দলকে দায়ী করার সুযোগ নেই বলে দলটি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
দলটির মিডিয়া সেল আরও বলেছেন, ‘প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ করা এবং সেই পরিচয়ের দায় একটি দলের ওপর চাপানো বিভ্রান্তিকর।’ ভিডিওটি কাদের দ্বারা ধারণ করা হয়েছে, তাদের পরিচয় কী, কী উদ্দেশ্যে তারা ভিডিও ধারণ করেছেন এবং ঘটনাটির সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে কি না—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর আগে জানা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু
এদিকে, ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে হাফসার বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। সমালোচকদের কিছু অংশ দাবি করছে, তার বক্তব্যের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে তাতে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। তবে, বক্তব্যের কোনো অংশ সত্য না মিথ্যা, তা নির্ধারণ করতে পূর্ণাঙ্গ ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, বিএনপির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, হাফসা বর্তমানে বিএনপির কোন কর্মী নন। তবে, এ বিষয়ে বিএনপির তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
কাঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী মিডিয়া সেলের ভাষ্য অনুসারে, একটি ঘটনার আংশিক ভিডিও অথবা কোনো ব্যক্তির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোর আগে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে যদি কোনো রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়ে থাকে, তাহলে তা জনগণের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতে ইসলামীকে বিতর্কিত করার বা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলকে জড়িয়ে দেওয়া গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক নয়। সত্য উন্মোচনে প্রয়োজন হলে ভিডিওটির উৎস, ধারণকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে নিয়ে আসার গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে
তারা বলছেন, জামায়াত কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় নিতে পারে না, যদি ওই ব্যক্তির সঙ্গে দলের সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকে। তাই প্রমাণ ছাড়া জামায়াতকে জড়িয়ে কোনো বক্তব্য কিংবা প্রচারণা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন