১২:১৮ পি.এম
নিজেদের শর্ত অনুযায়ী ইরানকে চুক্তি সই করানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের পাশাপাশি একের পর এক চাপ দিয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় নতুন করে আবারও যুদ্ধ শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলা শুরু হলে ইরানের বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন এমন হুমকি প্রদান করছেন, তখনই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালিতে ১২টি যুদ্ধজাহাজ, ১০০টি বিমান এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সেন্টকমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায়।
প্রতিবেদন অনুসারে, সেন্টকম দাবি করছে, ইরানের বন্দরের এবং উপকূল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৪টি জাহাজ ‘পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে’ এবং তারা অবরোধ মেনে নিয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্গম দ্বীপে রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকদের আকাশ থেকে ঝাঁপ
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আবারও যুদ্ধ শুরুর জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত। তিনি এও বলেন, ইরানের এখন আর কোনও নৌবাহিনী নেই এবং এ কারণেই মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিট হেগসেথ বলেন, যতদিন প্রয়োজন, ততদিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ জারি রাখবে।
এরপর তিনি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান, তোমরা একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও সোনালি সেতুবন্ধন বেছে নিতে পারো এবং আমরা আশা করি, তোমরা ইরানের জনগণের স্বার্থে সেটিই করবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, কিন্তু ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তাহলে তাদের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত মার্কিন বোমা হামলার মুখামুখি হবে।
আরও পড়ুন: শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প
এর আগে, বুধবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে, তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, যদি তেহরান অবাধ্যতা অব্যাহত রাখে, তাহলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করা হবে।
ইরানের ক্ষমতাসীন নেতাদের উদ্দেশ্যে হেগসেথ বলেন, এটি কোনও সমান শক্তির লড়াই নয়। আপনারা কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরাচ্ছেন এবং কোথায় সরাচ্ছেন, তা আমাদের জানা আছে।
ব্রিফিংয়ের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, মার্কিন বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ইরানের পতাকাবাহী যেকোনও জাহাজ অথবা ইরানকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন যেকোনও জাহাজকে ধাওয়া করবে।
তিনি বলেন, অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী সব জাহাজকে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক করা হবে যে, যদি আপনারা এই অবরোধ না মানেন, তাহলে আমরা শক্তি প্রয়োগ করব। ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা—উভয় ক্ষেত্রেই এই অবরোধ কার্যকর করা হবে।
আরও পড়ুন: সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘সরিয়ে নেওয়া’ ইস্যুতে বক্তব্য দিলেন নেতানিয়াহু
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন