মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০২:৩১ এম
বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদ অভিযোগ করেছেন যে, নিজ দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তিনি জানায়, নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থীকে ‘অযোগ্য’ বলায় তাকে এই হেনস্তার সম্মুখীন হতে হয়।
এটি ঘটে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালী সদরের অশ্বদিয়া ইউনিয়নের বাল্যাকোট্টা এলাকায়। হাসনা মওদুদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পথসভায় বক্তব্য রাখছিলেন হাসনা। তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে, তিনি নোয়াখালী-৫ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামকে ‘অপরীক্ষিত, অযোগ্য ও অপরিচিত’ বলে অভিহিত করেন। এই মন্তব্য করার পরপরই উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন এবং কয়েকজন তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেন। পরে, ঐ সময় তার গাড়ি থেকে ধানের শীষের স্টিকার খুলে নেয়া হয়।
হেনস্তার বিষয়ে অভিযোগ করে হাসনা মওদুদ বলেন, ‘আমি আমেরিকান প্রবাসী কবিরের দাওয়াতে গিয়ে একটি পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলাম। সেখানে বিএনপির প্রার্থী ফখরুল ইসলামকে অযোগ্য বলার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা আমার সঙ্গে বেয়াদবি করে। এসব উচ্ছৃঙ্খল বাহিনীই এখন তারেক জিয়ার বিএনপি। তারা দলকে কোথায় নিয়ে গেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
অশ্বদিয়া ইউনিয়নে ধানের শীষের সমন্বয়ক আবু হাসান মো. নোমান জানান, ‘হাসনা মওদুদ আমাদের প্রয়াত নেতার স্ত্রী। উনাকে কে বা কারা হেনস্তা করেছে, তা জানি না। তবে শুনেছি, তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর বিরোধিতা করতে গিয়ে তারেক রহমানের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তার মাইক কেড়ে নিয়েছেন।’
২০২১ সালের ১৬ মার্চ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মারা যাওয়ার পর থেকে যে কোনো দলীয় কর্মকাণ্ডে হাসনা খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। তবে এবারের নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হন। কিন্তু মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। পরে, দলের অনুরোধে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বলে দাবি করেছেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনায় দেশের উন্নয়ন সাধনে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও জুলুমবাজদের রাজনীতি থেকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোটারদের সতর্ক করে ড. হামিদুর রহমান আযাদ উল্লেখ করেন, ‘বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কেন্দ্র দখল, হুমকি-ধমকি ও নির্বাচন প্রকৌশলের মাধ্যমে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা থেকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’ ভোটের দিন সকাল থেকে কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মহেশখালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাবেক এই এমপি বলেন, ‘মহেশখালী আগামী দিনে “ব্লু ইকোনমি”র কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমবে, পণ্যদ্রব্যের দাম কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে। এতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও মৎস্য রপ্তানির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘দেশে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে মেধা পাচার হচ্ছে। সৎ ও মেধাবী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাবে।’ নির্বাচিত হলে তিনি মহেশখালীতে বিদ্যমান গোষ্ঠীগত বিরোধের নিষ্পত্তি ও লবণ আমদানির পরিবর্তে রপ্তানির ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি করেন। নিজের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, শত কোটি টাকার কাজ করেও তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কোনো দুর্নীতির প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাজনীতি করে। মহেশখালী-কুতুবদিয়া স্বর্ণ নয়, হীরা। এ হীরার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সৎ, যোগ্য ও আমানতদার নেতা হিসেবে ড. হামিদুর রহমান আযাদের বিকল্প নেই।’
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনে ড. হামিদুর রহমান আযাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে তিনি জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবেন। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিন।’
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা এই অঞ্চলের মানুষের আস্থার প্রতীক। এমপি নয়, মন্ত্রী নির্বাচনের সুযোগ এসেছে; তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচিত ইসলামী বক্তা শাইখ আলী হাসান ওসামা বলেন, ‘ভোট একটি আমানত। ন্যায়বিচার, ইনসাফ, বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রকৃত শরিয়াহর চেতনা।’ তিনি উপস্থিত জনতাকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকের হোসেন, কক্সবাজার শহর জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী-২ আসনে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক মন্তব্য করেছেন, 'আমার মতো মাস্তান বাংলাদেশে নাই।' তিনি সতর্ক করে বলেন, 'আপনারা যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না, যদি জোটকে ভোট না দিয়ে কাপ-পিরিচের কাছে বিক্রি হন, সে হিসাব ১২ তারিখের পর হবে।'
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউনিয়নের আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ধানের শীষের জনসভায় তিনি এই কথাগুলো উল্লেখ করেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক আরও জানান, 'বিএনপির যারা বহিষ্কার হয়েছেন, তাদের উচিত ছিল স্বতন্ত্র বেঈমান প্রার্থীর পক্ষে ভোট না দেওয়া এবং ক্ষমা চেয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট করতে আসা। তাহলে হয়তো আমি তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে আপত্তি করতাম।'
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'যাদের বুকের মধ্যে ধানের শীষ বাজে, কিন্তু তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাপ-পিরিচে ভোট দিচ্ছেন, আল্লাহ আপনাদের ক্ষমা করবেন না।'
বিএনপির এই প্রার্থী অভিযোগ করেছেন যে, তার গাড়িতে হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমার গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে এর সঙ্গে সেনবাগের কোনো লোক জড়িত নয়। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও ফেনীর দাগনভূঁইয়া থেকে ২২ জন মাস্তান এনে আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। খবর পেয়ে আমার ১০ হাজার নেতাকর্মী মাঠে নেমেছে। আমি বলেছি, আমাকে মেরে আমার লাশের ওপর দিয়ে কাপ-পিরিচে হামলা করো।'
তিনি আরও দাবি করেছেন, 'আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ ২৮০ আসনে জয়ী হবে এবং তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাই স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন, তারা ধানের শীষের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাপ-পিরিচে ভোট দিতে পারেন না।'
উল্লেখ্য, নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। এখানে কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য ব্যবসায়ী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশীদ মন্তব্য করেছেন, জামায়াত একসময় আওয়ামী লীগের লুঙ্গির নিচে লুকিয়ে ছিল। বর্তমানে তারা বোরকার ভেতর প্রবেশ করেছে। জামায়াতে ইসলামীর বোরকা পরা নারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েদের পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করছে এবং ধর্মীয় দোহাই দিচ্ছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
হারুনুর রশীদ দাবি করেছেন, বিদেশি প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন চক্রান্ত চলছে। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ যেমন পিআর (সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি জানে না, ঠিক তেমনি গণভোটও বোঝে না; হ্যাঁ বা না বোঝে না। এ বিষয় নিয়ে আমরা অন্ধকারে রয়েছি।’
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিবের জুমার বয়ান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার খতিব ১০-১২ মিনিটের যে খুতবা দিয়েছেন, তা সমসাময়িক সময়ের জন্য শ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ বয়ান। তিনি বলেছেন, প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জেনে-শুনে-বুঝে যেতে হবে। শুধুমাত্র প্রার্থীর প্রতীক দেখে নয়, বরং প্রার্থীর চরিত্র, তিনি এলাকার উন্নয়নে সক্ষম কি না, এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে যার জন্য ভোট হল আপনার বিরাট বড় আমানত।’
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যারা চাইনিজ কুড়াল আর লাঠি দিয়ে হুঁশিয়ারি দিতে চায়, যারা অতীতে বহু হত্যা মামলার আসামি, তাদের বিষয়ে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্যের সমালোচনা করে সাবেক এই এমপি আরও বলেন, ‘জামায়াতের প্রার্থী বলেছে, বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা যেন প্রস্তুত থাকে। আগামী দিনে তারা জনগণের ভোটকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করছে।’
তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের তিন দিন আগে থেকে সজাগ ও সচেতন থাকবেন। প্রয়োজনে বাঁশের লাঠি কেটে থাকবেন। কোনো সন্ত্রাসীকে ভোট কেন্দ্রে আসতে দেবেন না।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনায় হারুন বলেন, ‘সরকার বাইরের এক বিশেষ শক্তির প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। এই সরকার দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি এসব সংস্কারে অংশ নিয়েছে এবং অনেক বিষয়ে একমত হয়েছে।’ ভোটের ফলাফল ১২ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তবিউল ইসলাম তারিফ, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক তসিকুল ইসলাম তসি, রানিহাটি ইউপি চেয়ারম্যান রহমত আলীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের ঘরে শান্তির পরিবেশ নেই।’ তিনি আরও বলেন, পুলিশ আমাদের বসতঘরে ঢুকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে বের করে ধরে নিয়ে যেত। সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা মনে করার পর এখনো শিউরে উঠি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণগোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগে জড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে গ্রেফতার করে চার মাস গুম করে রাখা হয়েছিল। আমরা গোপনে ভেবেছিলাম তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু চার মাস পর তাকে পেয়েছিলাম। আমার প্রতিটি ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল। আমি সাড়ে ১৬ বছর মানবেতর জীবন যাপন করেছি অর্ধশত মিথ্যা মামলার বোঝা নিয়েও।’
নুরুল ইসলাম বুলবুল আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন আমাদের ঘরেই ঘুমানোর সাহস ছিল না। পুলিশ আমাদের বসতঘরে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে যাকে পেয়েছিল, তাকে ধরে নিয়ে যেত। সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা হলো, বাবার মৃত্যুতে আমাকে জানাজায় অংশ নিতে দেয়নি। ভাইয়ের জানাজায় অংশ নেয়া গেলেও দাফন কাজ শুরুর আগেই ৬-৭টি পুলিশের গাড়ি আমার বাড়ির সামনে এসে হাজির হয়।’
দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও তিনি স্থানীয় জনগণের পাশে থেকে উঠে দাঁড়াতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, ‘আমি পরবর্তীতেও জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ অব্যাহত রাখব।’
ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আজিজসহ অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় বিএনপির ২৭ জন কর্মী নুরুল ইসলাম বুলবুলের হাত ধরে জামায়াতে যোগ দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ