মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০২:০৮ এম
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির বরখাস্ত নেতা জাকারিয়া পিন্টু বলেছেন, নির্বাচনে যা-ই ঘটে, জয় কিংবা পরাজয়, নির্বাচনের পর গায়ের জোরে হলেও তিনি বিএনপির রাজনীতি চালিয়ে যাবেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঈশ্বরদী বাজারের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন।
নিজেকে শহীদ জিয়ার সৈনিক দাবি করে জাকারিয়া পিন্টু জানান, 'আমি গায়ের জোরেই এই দল করেছি। প্রতিপক্ষ কখনোই আমাকে কাজ করতে দেয়নি, আমি গায়ের জোরে এগিয়েছি এবং আমি গায়ের জোরেই চলব; এটা তারেক রহমানও জানেন। তাই, এই দলে আমার অধিকার আছে এবং আমি এটা চালিয়ে যাব।'
নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, 'এই নির্বাচনে যেখানেই গিয়েছি, সেখানেই বিশাল সাড়া পেয়েছি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম থেকে আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমি নিশ্চিত যে আমি নির্বাচনে জয়ী হব। কিন্তু ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও তার দল ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন করছে। আমি এই বিষয়গুলো প্রশাসনের নজরে আনার কাজ করেছি।'
এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আটঘরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ফারুক আহমেদ খান, পাকশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকিউল ইসলাম তপন সরদার, দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম কেনেডি মালিথাসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
স্মরণ করা যেতে পারে, পাবনা-৪ আসনে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার কারণে জাকারিয়া পিন্টুকে বিএনপির সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে। তিনি পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় তার ফাঁসির সাজা হয়েছিল, তবে ৫ আগস্টের পর তিনি মুক্তি পান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ধানের শীষ নির্বাচিত হলে ময়মনসিংহ সদরে কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি থাকবে না; এই প্রতিশ্রুতিটি দিলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনী শেষ প্রচার মিছিলে ডাকা সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভোটারদের কাছে আবু ওয়াহাব আকন্দ জানান, ‘এবারের নির্বাচন শুধু সদরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, পুরো জাতির জন্য তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সুতরাং বিভেদের পতন ঘটিয়ে ধানের শীষে ভোট প্রদান করুন এবং তারেক রহমানকে দেশ গড়ার কাজে সহযোগিতা করুন।’
প্রশাসনের প্রতি এক আবেদন জানিয়ে তিনি বললেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের ন্যায় ময়মনসিংহের স্থানীয় প্রশাসন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করবে, এই আশা করছি। একইসাথে সদরবাসীর প্রতি আমার প্রত্যাশা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে অবহেলিত সদর আসনের উন্নয়নে সহায়তা করবেন।’
সমাবেশে থাকার পর ধানের শীষের পক্ষে একটি বৃহৎ প্রচার মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সার্কিট হাউস মাঠ থেকে শুরু হয়ে টাউন হল, জিলা স্কুল মোড়, নতুন বাজার ও চরপাড়া এলাকা প্রদক্ষিণের পর পলিটেকনিক মাঠে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ধানের শীষের প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ নিজেই।
এ সময় মিছিলে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক আকন্দ লিটনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচন সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণার আগে ভোটকেন্দ্রকে রক্ষার জন্য পাহারার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ধানের শীষের ভোট যেন কেউ চুরি করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো জানান তিনি।
বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমার আব্বা দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি তার কাজের বিনিময়ে কখনও কিছু প্রত্যাশা করেননি। তবে, তিনি পেয়েছেন আপনারা যেমন অপরিসীম ভালোবাসা। আমি সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। আমি আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই।’
ভোটারদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বোন ও সন্তান। আমার শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত, আল্লাহ আমাকে যতদিন জীবনদানে সাহায্য করেন, আমি আপনাদের পাশে আছি, থাকব। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ করে দেন।’
এ সময় তিনি দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দিলে আমি সবকিছু করতে সক্ষম হব।’
এছাড়া, তিনি এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ, বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল স্থাপন এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এর আগে, দুপুর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। একপর্যায়ে হাজারো নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। তবে তাদের থামাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে ৫ লাখ ইয়াবা আটক করা হয়েছে, যার অভিজ্ঞানমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
চলমান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজকর্ম ছড়িয়ে পড়েছে। এই সময় মিয়ানমার থেকে ভারি মাদক চালান এনে পাচারের চেষ্টা করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
নৌবাহিনী জানায়, তারা নাফ নদী ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালানকে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা করছিল। এই চালানটি হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া ব্রিজ এলাকার মাধ্যমে উলুচামারী দিকে নিয়ে আসার প্রস্তুতি হয়েছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফের নাটমুড়াপাড়ায় নৌবাহিনীর একটি বিশেষ দল কৌশলগত অবস্থানে ছিল। পাচারকারীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে রুট পরিবর্তন করে চৌধুরীপাড়া খালের দক্ষিণ পাশ ধরে এগিয়ে যেতে থাকে।
নৌবাহিনী দ্রুত কৌশল পরিবর্তন করে। খালের উত্তর পাশে থেকে ধাওয়া করার সময় পাচারকারীরা বস্তাভর্তি ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সোমবার বিকেলে টেকনাফ কন্টিনজেন্ট অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে টেকনাফ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এস এম জাহিদ হোসাইন জানান, ‘দেশজুড়ে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপকূলীয় ও সীমান্ত অঞ্চলে মাদকমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নির্বাচনের সময় সীমান্তের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বেড়ে গেলেও, মাদক পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনী-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মন্তব্য করেছেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের নেতা শেখ হাসিনা পাশের দেশে বসে আরও উঁচু স্বরে হুঙ্কার দিচ্ছেন। তিনি সব পলাতক নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দেশের শান্তি বিনষ্টের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনী শহরে তার নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।
গণভোটের বিষয়ে মঞ্জু বলেছেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” জেতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। যদি দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হয়, তবে “হ্যাঁ” পেয়ে সব রাজনৈতিক দলই লাভবান হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সুর ধরেই বেশ কিছু রাজনৈতিক দল “না” ভোট টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণকে গণভোটে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাদের গণহত্যায় জড়িত, তাদের বিচার দাবি করছে জনগণ। দায়মুক্তি না পেলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা কখনো সম্ভব নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও সমান সুযোগ নিশ্চিত না হওয়ার কথা জানান। নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য তিনি এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন। বিভিন্ন জায়গায় নারী ভোটারদের হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান, তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের দিকে সারা বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে।’
মঞ্জু জানান, সন্ত্রাসের দাগ মুছে দিয়ে ফেনীকে শান্তির শহরে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। তিনি ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদীর বল্লামুখা বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের বরাদ্দ সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা রক্ষায় ঈগল প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। চিকিৎসা কলেজ, বিমানবন্দর ও ক্যান্টনমেন্ট গঠনের পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে।
এ সময় ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান, এবি পার্টি ফেনীর আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্লাহ, খেলাফত মজলিসের ফেনী জেলা আমির মাওলানা মোজাফফর আহমদ জাফরী, এনসিপি ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকতসহ জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ