শুক্রবার, ২৩শে জানুয়ারী, ২০২৬ ইং
১২:২৯ পি.এম
ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী সকল নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড রূপে কাজ করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়, বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ মন্তব্য করেন অধ্যাপক ইউনূস।
সাক্ষাৎকালে দুই পক্ষের মধ্যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, শ্রম আইনের পরিবর্তন, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, যথাযথ ও স্বচ্ছ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগীরাও এ কাজে অংশগ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি উৎসবের মতো নির্বাচন হবে, যে নির্বাচন ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড তৈরি করবে। আসুন, আমরা আশাবাদী থাকি।’
অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন এবং উপস্থিত প্রতিবেদকদের জানান, আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি এসময় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তাঁর সঙ্গ কাজ করতে চান। তিনি গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার নিয়ে প্রশংসা করেন এবং নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টা তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চলমান বাণিজ্য আলোচনা দ্বারা আরো শুল্ক হ্রাস হতে পারে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা গতিকে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি কৃষিপণ্য এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরে থাকা এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত।
তিনি বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সেতু হিসেবে উল্লেখ করেন, এবং বলেন, আসিয়ানের সদস্যপদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সংস্থাটির সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও অর্থনীতি আরও কাছাকাছি আসতে পারে।
আশা ব্যক্ত করে বলেন, আগামী সরকার এসব উদ্যোগ এগিয়ে নেবে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশে মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
এ সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে একনায়ক বলে বিবেচনা করেছেন। তিনি সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) ভাষণের পর একটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, 'আমরা একটি ভালো ভাষণ দিয়েছি এবং ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। সাধারণত তারা বলে যে আমি একজন ভয়াবহ একনায়ক ধরনের মানুষ, হ্যাঁ আমি একজন স্বৈরশাসক। কিন্তু মাঝে মাঝে আপনাদের একজন একনায়কের প্রয়োজন হয়!'
এই মন্তব্যটি এসেছে এমন একটি সময়ে যখন তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন যে, তার বক্তব্যগুলি কোনো রক্ষণশীল বা উদারপন্থী আদর্শের ভিত্তিতে নয়, বরং 'সাধারণ জ্ঞান' বা কমন সেন্সের ভিত্তিতে তৈরি। তবে, ট্রাম্প এই প্রথম নিজেকে একনায়কের সঙ্গে তুলনা করছেন না।
২০২৫ সালের আগস্টে তিনি ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 'অনেকেই বলছে যে আমরা হয়তো একজন একনায়ককেই পছন্দ করি। তবে আমি একনায়ক হতে পছন্দ করি না। আমি কেবল অসাধারণ সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন একজন বুদ্ধিমান মানুষ।'
ট্রাম্পের একনায়ক সুলভ আচরণের উদাহরণ হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরশাসকদের প্রতি তার প্রশংসার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বারবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে 'খুবই বুদ্ধিমান' এবং 'শক্তিশালী নেতা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি তিনি ২০২২ সালে ইউক্রেনে পুতিনের আক্রমণকে 'চমৎকার' বলে প্রশংসাও করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক কিছু উত্তেজনার পর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগের কঠোর অবস্থান থেকে নমনীয়তা দেখিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবেন না এবং বিরোধী দেশগুলোর উপর শুল্ক আরোপের হুমকিও প্রত্যাহার করছেন। এর পরিবর্তে, তিনি আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটির জন্য একটি কাঠামোগত চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন। ট্রাম্পের এই সুর নরম হওয়ার ফলে আটলান্টিক মহাসাগরের দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, কিন্তু ইউরোপ ও কানাডার নেতাদের মধ্যে এখনও তার 'একনায়ক' সুলভ মন্তব্য ও অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারে গভীর সংশয় রয়ে গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছোট্ট চরিত্র দিয়ে অভিনয়জীবনের শুরু, সিনেমার ভাষায় যাকে বলে ‘এক্সট্রা’। ‘রতন লাল বাঙালি’ নামের সেই সিনেমায় পর্দায় হাজির হয়েছিলেন একজন পকেটমারের চরিত্রে। পরবর্তীতে ‘শিলালিপি’-তে একটি গানের দৃশ্যে অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে সম্মানী পেয়েছিলেন ২০ টাকা। সেই সম্মানীই বাড়িয়ে দেয় তার আস্থা আর উৎসাহ। কেউ ভাবতে পারেননি, সময়ের পরিক্রমায় অভিনয়ের আকাশের উজ্জ্বল তারা হয়ে জ্বলজ্বল করবেন তিনি। আজ এই কিংবদন্তির জন্মবার্ষিকী।
১৯৪১ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার নাকতলা এলাকার জমিদার বংশে তার জন্ম। তিন ভাইবোনের মধ্যে ছিলেন সবার ছোট। সচ্ছল পরিবেশে বেড়ে ওঠা ছেলেটির অভিনয়ের বীজ রোপিত হয়েছিলো স্কুলজীবনেই। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন এক শিক্ষকের অনুরোধে মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন তিনি। সুদর্শন চেহারা আর স্বাভাবিক অভিনয়গুণে প্রথমেই নজর কাড়েন। এরপর থিয়েটারপাড়া ঘুরে ঘুরে মঞ্চে অভিনয় করতে থাকেন। সে সময়ই মাথায় ঢুকে পড়ে ‘সিনেমার ভূত’।
সিনেমার নেশায় পাড়ি জমান তৎকালীন বম্বেতে, কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। কলকাতায় ফিরে দেখা খায়রুন্নেসার সঙ্গে, যিনি তার জীবনে এসেছিলেন ‘লক্ষ্মী’ হয়ে। যখন বিয়ে করলেন তখন সবে ২০-এর যুবক রাজ্জাক। বছর পার না হতেই জন্ম হয় এক পুত্রসন্তানের। এর পরের বছরই শুরু হয় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। জন্মভূমি ছেড়ে পূর্ব বাংলায় আসতে বাধ্য হন রাজ্জাক। স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে ওঠেন ৮০ টাকা মাসিক ভাড়ায় কমলাপুরের একটি বাসায়। দেশান্তরিত হলেও নিজের স্বপ্ন ছাড়েননি। ঢাকায় থিয়েটার ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের মানুষদের খুঁজে বেড়ান তিনি।
নির্মাতা আব্দুল জব্বার খানের সঙ্গে পরিচয় রাজ্জাকের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার সহায়তায় কামাল আহমেদের ‘উজালা’ সিনেমায় সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে প্রবেশ করেন রাজ্জাক। কমলাপুর ছেড়ে থিতু হন ফার্মগেটে। এরমধ্যেই ঘরে আসে আরও এক সন্তান। জীবিকার তাগিদে শুরু করেন টিভি নাটকে অভিনয়। সপ্তাহে পেতেন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মাসিক খরচ ছিলো ৬০০ টাকা। সেই অল্প আয়ে বাচ্চাদের দুধ জোগাড় করতেই সব টাকা ব্যয় হয়ে যেত। মাঝেমধ্যেই উপোস থাকতেন স্বামী-স্ত্রী। ধীরে ধীরে নিজের মেধা, পরিশ্রম আর অভিনয়দক্ষতায় জায়গা করে নেন মূলধারার সিনেমায়।
১৯৬৫ সালে ‘আখেরি স্টেশন’ সিনেমায় সহকারী স্টেশনমাস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক। ঢাকার সিনেমায় সেটিই তার প্রথম অভিনয়। এরপর আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে ছোটখাটো চরিত্রে দেখা মেলে তার। অতঃপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ সিনেমায় প্রথমবার নায়ক হিসেবে দর্শকের সামনে আসেন রাজ্জাক। এককালের ‘এক্সট্রা’ রাজ্জাক রাতারাতিই পেয়ে যান তুমুল জনপ্রিয়তা। ‘জীবন থেকে নেয়া’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে আরও দৃঢ় করেন নিজের অবস্থান।
সত্তর ও আশির দশকে রাজ্জাক হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত নায়ক। ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘রংবাজ’, ‘স্বরলিপি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’- এমন অসংখ্য কালজয়ী সিনেমার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রকে পৌঁছে দেন নতুন উচ্চতায়। তার রোমান্টিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন দর্শককুল। হয়ে উঠেন বাংলার সিনেমার মুকুটহীন সম্রাট।
শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, পরিচালনা করেছেন ১৬টি চলচ্চিত্র। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায়, শিল্প ও গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি এবং যারা ফ্যাসিবাদের সমর্থক, তারাই গণভোটের ‘হ্যাঁ’-এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সক্ষম। যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, তারা গণমানুষের প্রতিপক্ষ এবং গণভোট সম্পর্কে তাদের আলাদা চিন্তাভাবনা রয়েছে। দেশের জনগণ এবং জনতার প্রবাহ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রংপুর সফরে এসে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশকে মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে এসেছে। জুলাই মাসে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ আমরা স্মরণ করি। জুলাইয়ে আমরা তাদের সঙ্গে রাস্তায় ছিলাম। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ফল চাচ্ছি।
তিনি উল্লেখ করেন, রংপুরের প্রশাসনের সঙ্গে গণভোট বিষয়ে আলোচনা করব। যারা দেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানোর জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের চেতনার ভিত্তিতে জুলাই সনদ তৈরি করা হয়েছে। তাই জুলাই সনদের সমর্থনে গণভোট হচ্ছে। শত বছরে একটি জাতির জীবনে এমন সুযোগবার্তা অহরহ আসে না। একইসঙ্গে সাধারণ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক খৃষ্টফার হিমেল রিছিলসহ অন্যান্য প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল 'বোর্ড অব পিস' বা 'শান্তি পর্ষদ'।
বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ৫৬তম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে ট্রাম্প এই সনদে স্বাক্ষর করেন। এই উপলক্ষে ১৯টি দেশের নেতাও সনদে সই করেছেন। ট্রাম্প নিজে এই সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
'শান্তি পর্ষদে' যোগদানকারী দেশের তালিকা উল্লেখযোগ্য:
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সনদ স্বাক্ষরের মাত্রায়, ট্রাম্পের পাশে ১৯ দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্পের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র—হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মиле। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি শক্তি যেমন তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব এবং কাতারও এই পর্ষদে অংশগ্রহণ করেছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়াও শামিল হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প মজা করে উল্লেখ করেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই জনপ্রিয় নেতা, তবে কিছু নেতার জনপ্রিয়তা তেমন নেই। জীবন এভাবেই সামনে এগিয়ে যায়।
সাক্ষরকারী ১৯ দেশের নেতাদের মধ্যে রয়েছে: আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মাইলি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, বাহরাইনের আমির শেখ ইসা বিন সালমান আল খলিফা, বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রোজেন ঝেলিয়াজকভ, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, জর্ডানের উপ-প্রধানমন্ত্রী আয়মান সাফাদি, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ, কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভজোসা ওসমানী, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী গম্বোজাভিন জানদানশাতার, মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নির্বাহী পরিচালক খালদুন আল মুবারক এবং উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরোমোনোভিচ মিরজিওয়েভ।
এই শান্তি পর্ষদের সদস্য সংখ্যা এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে ট্রাম্প আশাবাদী যে ৫০টিরও বেশি দেশ এই পর্ষদে যুক্ত হতে পারে। একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আরও ৩৫টি দেশ এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেক দেশের প্রতিনিধি অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দেখা যায়নি।
মিশরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তিনি অনুষ্ঠানে ছিলেন না। ট্রাম্প জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন পর্ষদে অংশ নিতে সম্মত হয়েছেন, তবে পুতিন এখনও আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করছেন।
যেসব দেশ এখনও শান্তি পর্ষদে যোগ দেয়নি তা হলো:
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্র ও পশ্চিমা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের পর্ষদে যোগ দিতে আপত্তির স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র বাদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) এর মধ্যে কেউই এখনো শান্তি পর্ষদে অংশগ্রহণ করেনি।
এতে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স—মার্কিন প্রধান মিত্ররা—এই উদ্যোগটিকে নিয়ে সন্দিহান। ফ্রান্স ব্যাখ্যা দিয়েছে যে তারা যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য বলেছে, আপাতত তারা যোগ দিতে পারছে না।
চীন এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, 'ফিলিস্তিনি জনগণকে সহায়তার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবরুদ্ধ রুশ সম্পত্তি থেকে একশো কোটি ডলার দেওয়ার প্রসঙ্গ বিবেচিত হতে পারে।'
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্তব্য করেছেন, পুতিনের সাথে একসাথে কাজ করার বিষয়ে তিনি কল্পনাও করতে পারেন না। গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পাওয়া 'বোর্ড অব পিস' যাত্রা করছে।
কিন্তু সংস্থাটির মুখপাত্র রোলান্ডো গোমেজ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র ওই প্রেক্ষাপটেই পর্ষদের সঙ্গে জাতিসংঘের অংশগ্রহণ সীমাবদ্ধ থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ