০৫:২৮ পি.এম
আম বাগানে সুমিষ্ট আনারস চাষের সাফল্য বরেন্দ্র জেলার অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে। আম বাগানের ফাঁকা জায়গাগুলি কাজে লাগিয়ে সাথী ফসল হিসেবে আনারস চাষ জেলার কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছে।
জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার পোরশা, সাপাহার ও পত্মীতলা উপজেলার মাটি দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া আনারস চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কম খরচে অধিক ফলন হওয়ায় আনারস চাষ এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আম গাছের মাঝে ফাঁকা জায়গাগুলোতে এমবি-২ ও হানিকুইন জাতের আনারস চাষ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আনারসের চারা প্রথমবার রোপণ থেকে ফল আসতে ১৫ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। অল্প জমিতে দুই ফসল পাওয়ায় কৃষকদের আয় ও জমির ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আনারস সরবরাহ করা হচ্ছে। কম খরচে একবার চারা লাগিয়ে টানা কয়েক বছর ফলন পাওয়া যায়। এখানকার আনারস অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু।
আরও পড়ুন: ভবানীগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনা সভা
পোরশা উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান সিদ্দিক জেলায় প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষে সফল হয়েছেন।
বাসসের সাথে আলাপকালে রায়হান সিদ্দিক বলেন, ‘২০২৪ সালে জেলার বদলগাছী হর্টিকালচার থেকে ৩০০০ আনারসের চারা বর্ষার সময় রোপণ করি। এরপর আর সেচ দিতে হয়নি। শুরু থেকে গাছের আগাছা পরিষ্কার ও দুই-একবার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। কোনো প্রকার খরচ ছাড়া এসব আনারস ধরেছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকার আনারস বিক্রি করেছি। আরো প্রায় এক লাখ টাকার আনারস বিক্রি করতে পারবো।’
তিনি বলেন, ‘আগামীতে আরও বড় পরিসরে আনারসের বাগান করবো। আমরা টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আনারস কিনে এনে এই জেলার চাহিদা পূরণ করে থাকি। আমের রাজধানীতে আনারসের চাষ হলে নিজেদের উৎপাদিত আনারস দিয়েই জেলার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।’
মান্দা থেকে আনারস দেখতে আসা দর্শনার্থী ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুস সোবহান বাসসকে বলেন, ‘আমি শুনেছি এ জেলায় প্রথম আনারসের চাষ হয়েছে তাই দেখতে এসেছি। রায়হান ভাই তার ক্ষেতের আনারস খাওয়ালেন। খুবই মিষ্টি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিজেও আনারসের চাষ করবো।’
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা সভার আয়োজন
দর্শনার্থী তাসনিম বলেন, ‘বরেন্দ্র জেলা নওগাঁয় যে আনারস চাষ হয় এটা আমি কখনো দেখিনি। আনারসের কথা শুনে এসেছি। খেয়ে দেখলাম। অসাধারণ স্বাদ। আমি ধারণা করিনি এখানকার আনারস এতটাই মিষ্টি হবে।’
ফল ব্যবসায়ী ইয়াছিন আলী বাসসকে বলেন, আমরা সারাবছর বিভিন্ন ফলের ব্যবসা করে থাকি। এ জেলায় প্রথম রায়হান ভাই আনারস চাষ করেছেন। আমরা কেনার জন্য এসেছি। ভালো ফলন হয়েছে। দামও ভালো।
রায়হানের বাগানে কর্মরত শ্রমিক মোতাহার মিয়া বলেন, এই আম বাগানে দীর্ঘদিন কাজ করছি। আম বাগানের পাশাপাশি আনারসের পরিচর্যা করি। এ জেলার মাটি আনারস চাষের জন্য বেশ উপযোগী।
পোরশা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামিরুল ইসলাম বলেন, আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে যে সুমিষ্ট আনারস চাষ করা যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রায়হান সিদ্দিক। তিনি জেলায় প্রথম আম বাগানের ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে আনারসের চাষ করেছেন। তার বাগানের গাছের গ্রোথ ভালো হয়েছে। তাই ফলগুলোও ভালো হয়েছে। এভাবে যদি জেলায় আম বাগানের পাশাপাশি আনারস চাষ করা যায়, তাহলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে জেলা পরিষদের নতুন ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে
তিনি বলেন, প্রথমবার আনারস ধরতে ১৫ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। এরপর থেকে প্রতি বছর আনারস ধরে। নতুন করে আর চারা লাগতে হয় না। বরং একটি গাছ থেকে চার পাঁচটি ক্রাউন পাওয়া যায়। সেগুলো চারা হিসেবে বিক্রি করা যায়। আবার অন্য জমিতেও লাগানো যায়।
তিনি জানান, কৃষি উদ্যোক্তা রায়হানকে কৃষিবিভাগ থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন