বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৫৪ পি.এম
ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুক্রবার শেষ হতে চলেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় পর্ব শ্রী-শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব। এর পূর্বে গত ১৬ জুলাই ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসবের সূচনা হয়েছিল।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগতের অর্থ হচ্ছে বিশ্ব এবং নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ্বর। তার অশেষ অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ সম্ভব হয়। জীব রূপে তাকেও আর জন্ম নিতে হয় না। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রা পালন করেন।
উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং মন্দিরে একাধিক মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে নানা মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্রী যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, ভাগবত আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ।
রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার বিকেলে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করতে যাচ্ছে। উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধনী উপলক্ষ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মেলা প্রাঙ্গণে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আলোচনা সভা শেষে উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজ।
পরে এখান থেকে দৃষ্টিনন্দন সাজে তিনটি বিশাল রথে জগন্নাথ দেব, শুভদ্রা ও বলরামের প্রতিকৃতিসহ শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রা বিভিন্ন স্থান অতিক্রম করে যেমন পলাশীমোড়, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, জাতীয় প্রেসক্লাব, মতিঝিল, শাপলা চত্বর, ইত্তেফাক মোড়, টিকাটুলি, রাজধানী সুপার মার্কেট এবং জয়কালী মন্দির হয়ে স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
সনাতনী রীতিতে প্রতিটি বছরে চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার সূচনা হয়। এটি পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির থেকে শুরু হয়। বাংলাদেশেও রথযাত্রা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি পবিত্র উৎসব হিসেবে পরিচিত। সাভারের ধামরাইয়ে এটি যশোমাধবের রথযাত্রা নামে পরিচিত। ভারতের ঊড়িষ্যা রাজ্যের যশোমাধবের রথযাত্রা এবং মহেশের জগন্নাথ দেবের রথযাত্রাও উপমহাদেশে বিখ্যাত। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে রথযাত্রার প্রচলন ব্যাপকভাবে বিদ্যমান।
এছাড়া বাংলাদেশের পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের জগন্নাথ জিউ ঠাকুর মন্দির, জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দির এবং শাঁখারীবাজার কমিটিসহ রাজধানীর অন্যান্য মন্দির ও দেশের বিভিন্ন মন্দিরে উল্টো রথ টানার উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : জেলার কাউখালী উপজেলার কৃষক কার্ড হালনাগাদের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার পিরোজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার দিনব্যাপী উপজেলার আমরাজুরী ইউনিয়নের আমরাজুরী, গন্তব্য ও রোঙ্গাকাঠি এই তিনটি ওয়ার্ডে চলমান তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওই তিনটি ওয়ার্ডে মোট ৯৪৩টি কৃষক পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করা হবে। যাতে সরকারি কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, বীজ, সার ও অন্যান্য সেবা আরও সহজে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করছেন।
এ কার্যক্রমে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার হালদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল হুদা রোমান, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি মো. ফারুক হোসেন ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলসহ কৃষি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে আমরাজুরী গ্রামের কৃষক নারায়ণ মণ্ডল বলেন, আগে অনেক সময় তথ্যের অসঙ্গতির কারণে বিভিন্ন সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে হতো। এবার বাড়িতে এসে তথ্য নেওয়ায় আমরা আশাবাদী। প্রকৃত কৃষকরাই সরকারি সুবিধা পাবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কৃষকদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারি কৃষি সহায়তা ও প্রণোদনা বিতরণ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
কৃষি অধিদপ্তর, পিরোজপুরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ যেন নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সেবা বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে তদারকি করছি। সরকারের কৃষিবান্ধব কর্মসূচির সুফল প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : একের পর এক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাসমূহের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে।
নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, রাজধানী নয়াদিল্লির প্রধান বিক্ষোভস্থলে অবস্থানরত জেন-জি প্রজন্মের পাঁচজন আন্দোলনকারী এএফপিকে জানিয়েছেন, কী কারণে তারা অনলাইনভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মোদি সরকারের জন্য এ আন্দোলন অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
‘দমিয়ে রাখা ক্ষোভ’
২১ বছর বয়সী মধু বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, যার ফলে ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়, সেটিই আন্দোলনের সূচনা ঘটায়।
তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস ছিল স্ফুলিঙ্গ, আর সিজেপি মানুষকে প্রতিবাদের একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে।’
তার ভাষায়, ‘কিন্তু এখন এটি শুধু শিক্ষা নয়, বেকারত্ব থেকে শুরু করে এই সরকারের আমলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকটসহ নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলার একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে।’
মধু মনে করেন, দীর্ঘদিনের দমিয়ে রাখা ক্ষোভই মানুষকে আন্দোলনে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, ‘অনেক দিন হলো সরকার আন্তরিকভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি।’
প্রতিবাদস্থল পরিষ্কার করতে করতে তিনি বলেন, তার বাবা-মা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই তিনি মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরে শুধু নিজের প্রথম নাম ব্যবহার করছেন।
‘কখনও কখনও নিজের ভয়কে জয় করতেই হয়,’ বলেন তিনি।
‘মন্ত্রীকে বরখাস্ত করুন’
২৩ বছর বয়সী আরোহি সিং উত্তরাঞ্চলের লখনউ থেকে রাতভর ট্রেনে চেপে দিল্লিতে এসেছেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ রয়েছে, তবে ফেরার কোনো টিকিট নেই।
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা বলেছেন, গিয়ে আমাদের উপস্থিতি জানান দাও।’
একটি বিউটি সেলুন পরিচালনাকারী আরোহি বলেন, ‘থাকার জায়গা নেই, কিন্তু সমস্যা নেই। অন্তত হাজারো মানুষের সঙ্গে আছি।’
তার পরিবারের জন্য এই আন্দোলন ব্যক্তিগতও বটে। তার ছোট বোন প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পুনরায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিলেও এবার আর উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘ওর প্রস্তুতির জন্য বাবা-মা কত টাকা খরচ করেছেন, আমি জানি। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর সে ভেঙে পড়েছিল।’
সরকার শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণে অনীহা দেখানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘একদিকে দেশের মানুষ, অন্যদিকে একজন মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কেন তাকে বরখাস্ত করতে পারছেন না?’
‘জবাবদিহি চাই’
২৮ বছর বয়সী করপোরেট কর্মী সাহিল সোমবার থেকে প্রতিদিনই কর্মস্থলে অসুস্থতার কথা বলে বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভানুধ্যায়ীদের পাঠানো শত শত খাবার বিতরণের সমন্বয় করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি এখানে এসেছি।’
শুধু প্রথম নাম প্রকাশ করতে ইচ্ছুক সাহিল বলেন, ‘আমি জবাবদিহি দাবি করতে এসেছি।’
তার মতে, আন্দোলনটি এখন শিক্ষার্থীদের দাবির গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শুরুটা ছিল শিক্ষা নিয়ে। এখন মানুষ নিজেদের বিভিন্ন সমস্যাও তুলে ধরছে।’
‘আশা’
মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট শহর থেকে আসা ১৭ বছর বয়সী প্রকৌশল শিক্ষার্থী কুনাল সূর্যবংশী বলেন, এই আন্দোলন তাকে এমন মানুষের সঙ্গে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস দেখাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বৈষম্যপূর্ণ দেশে বাস করি, যেখানে প্রায় প্রতিটি প্রতিবাদই কঠোরভাবে দমন করা হয়।’
তার ভাষায়, ‘আমি এমন কিছুর অংশ হতে এসেছি, যা হয়তো পরিবর্তন আনবে।’
তিনি আপাতত দিল্লিতেই থাকার পরিকল্পনা করেছেন। দিনে বিক্ষোভস্থলে থাকবেন, আর রাতে কাছের একটি শিখ মন্দিরে আশ্রয় নেবেন।
তিনি বলেন, ‘সেখানে জায়গা না পেলে ফুটপাতেও ঘুমাতে আমার সমস্যা নেই।’
মুখের অর্ধেক অংশ রুমাল দিয়ে ঢেকে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে শুধু একটাই জিনিস আছে- আশা।’
‘ভেঙে পড়া’ ব্যবস্থা
পাঞ্জাবের আইন শিক্ষার্থী ২৪ বছর বয়সী যুবরাজ স্পাইডারম্যানের মুখোশ পরে এলেও নিজের ক্ষোভ লুকাতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘আমরা নজরদারিনির্ভর একটি রাষ্ট্রে বাস হচ্ছি। রাষ্ট্র আমাদের দেখছে, তাই ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই।’
শুধু প্রথম নাম প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখানে না এলে সেটাই হতো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস।’
তার ভাষায়, ‘আমাদের প্রতিবাদ করতেই হবে। কারণ পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে, আর কিছু বিষয় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়েও বড়।’
যুবরাজ জানান, গত বছর তিনি যে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, সেটির প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন, তারপর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এরপর বলা হয়, পরের বার আবার চেষ্টা করুন।’
‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে অবশ্যই জবাবদিহি থাকতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনার চাটমোহরে ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারবিরোধী স্লোগান এবং নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৩১ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় এ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চাটমোহর থানায় মামলাটি দায়ের করেন মূলগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পূর্বটিয়ারতলা গ্রামের মৃত মিয়াজান সরকারের ছেলে মো. মজর আলী (৪৯)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মূলগ্রামের কায়েমখোলা মোড়ে আতার আলীর চায়ের দোকানে বসে ছিলেন মজর আলী। এই সময় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসযোগে একদল ব্যক্তি সেখানে এসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, বাদী এবং তার সাথে থাকা ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে পরপর দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ বিস্ফোরণের ফলে তারা প্রাণনাশের আশঙ্কায় পড়েন এবং এই ঘটনার ফলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল এবং মাইক্রোবাসযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে চাটমোহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ, চারটি বাজারের ব্যাগে রাখা আনুমানিক ৮ থেকে ১০ কেজি ইটের খোয়া এবং ১০ থেকে ১২টি বাঁশের লাঠি জব্দ করে।
মামলায় বেজপাড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন, হরিপুর গ্রামের মকবুল হোসেন, নৈউতিগাছা গ্রামের সাহেব আলী মাস্টার, জগতলা গ্রামের শরিফুল্লাহ সাচ্চু, নারিকেলপাড়া গ্রামের ওয়াহেদুল ইসলাম বকুলসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অজ্ঞাতনামা আরও কিছু ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলিউল রহমান মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়ে দেন যে, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নের পুর্ব নতুন পাড়া গ্রামে ১১ বছরের এক শিশুকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছরের নুর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার শিশুর দায়ের করা মামলায় মহিপুর থানা পুলিশ রাতে অভিযান চলাকালে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও শিশুর স্বজনদের কাছে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই নতুন পাড়া গ্রামের নিজ ঘরে শিশুটি তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। এ সময় শিশুর মা কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। এই অবস্থায় বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ ঘরে ঢুকে শিশুটির ওপর শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টা করে। এব্যাপারে শিশুটির ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে নুর মোহাম্মদ পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর নুর মোহাম্মদের পক্ষ থেকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি চক্র সালিশের আশ্বাস দিয়ে শিশুর পরিবারকে মামলা না করতে চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু ১৫ দিনেও তাদের সাথে কোনো সমাধান না হওয়ায় ২২ জুলাই কলাপাড়ার মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিম হোসেন বলেছেন, শিশুর দায়ের করা মামলায় নুর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ