বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৬:৩৫ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির, ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এমন একটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে যেখানে বিচার করার সময় নিরীক্ষিত হবে না, কে প্রেসিডেন্ট এবং কে সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের শাস্তিযোগ্য অপরাধে, প্রেসিডেন্টও কিন্তু শাস্তির আওতায় আসবেন। এখানে সকলের জন্য একই বিচার ও শাস্তির আওতা থাকবে এবং বিচারক তাদের রাজনৈতিক পরিচয় অনুযায়ী কাউকে বিচার করবেন না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে তিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব বক্তব্য প্রদান করেন।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, 'আমরা বসন্তের কোকিল নই; বিপদের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাই না। আমাদের বিপদের সময়ও দেশে থাকতে হবে, মাটি কামড়ে টিকে থাকতে হবে। ভবিষ্যতেও আমরা এদেশে থাকব। দেশবাসীর অন্তরে আমাদের ঠাঁই দরকার, অন্য কোনও দেশে আমাদের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ আমাদের যা দিয়েছে, সেটাই যথেষ্ট।'
দেশের পলাতক নেতাদের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'এদেশ থেকে তারা কেন চলে যায়? কারণ তারা নিজেদের তৈরি ফ্যাসিবাদের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে না। যারা মনে করে, এদেশ নিরাপদ নয় ও উন্নত নয়। কোন কারণে কি দেশ উন্নত হয়নি? তোমরা পালাক্রমে দেশের শাসন করেছ, তাহলে দেশকে উন্নত করো কেন?'
একটি বিশেষ দলের প্রতি মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বললেন, 'একদল মতলববাজ ও ধান্দাবাজ জাতিকে বিভক্ত করে, জাতির মধ্যে হিংসা ও প্রতিহিংসা সৃষ্টি করে। তারা কামড়ে কামড়ে সম্পদ লুট করেছে। রাজনীতি ব্যবসা নয়; রাজনীতি কোনো চাঁদাবাজি নয়। যুগের পর যুগ ধরে মানুষের মধ্যে বঞ্চনা করা হয়েছে। তাদের অনুভূতিকে দালালি করে ব্যবসা করেছে।'
নারীদের নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, 'যদি প্রয়োজন হয় তবে জীবন দেব, কিন্তু দেশের মায়েদের গায়ে আমি হাত দিতে দেব না। ঘর, রাস্তা এবং কর্মস্থলে তারা নিরাপদ থাকবে। কর্মস্থলে তারা মর্যাদার সঙ্গে কাজ করবেন। আমরা নারী জাতির জন্য এ নিশ্চয়তা প্রদান করব।'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়টি মরদেহ পোড়ানো ও এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা সহ মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে মামলার রায় আগামী বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।
একদিন আগে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোহাম্মদ মনোয়ার হোসাইন তামিম।
এর আগে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্যানেলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বে তিন সদস্যের গঠনকৃত প্যানেল মামলাটির রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। এই প্যানেলে অন্য দুই সদস্য হিসেবে বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর অন্তর্ভুক্ত আছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া একটি রহস্যজনক রোগের পেছনে নিপাহ ভাইরাস নয়, বরং বাদুড়বাহিত নতুন একটি ভাইরাস দায়ী এমন তথ্য উঠে এসেছে সর্বশেষ গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, আক্রান্তরা প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি)-এ সংক্রমিত হয়েছিলেন, যা মানুষের জন্য মারাত্মক স্নায়ুবিক ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
গবেষণায় জানানো হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের উপসর্গের মধ্যে ছিল জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ এবং স্নায়ুবিক সমস্যা। আক্রান্ত পাঁচজনই খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন যা বাদুড়ও খেয়ে থাকে এবং আগে নিপাহ সংক্রমণের একটি পরিচিত মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।
প্রাথমিকভাবে রোগটি নিপাহ ভাইরাসজনিত বলে ধারণা করা হলেও পরীক্ষায় দেখা যায়, কারও শরীরেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নেই। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর সবাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তিনজন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট ও হাঁটাচলার জটিলতায় ভুগছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়, যার সুনির্দিষ্ট স্নায়বিক কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই রোগের প্রকৃত কারণ প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি) একটি বাদুড়বাহিত ভাইরাস। গবেষকদের মতে, ভাইরাসটি জিনগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা জনগণকে খেজুর গাছ থেকে নামানো কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকার, রোগতত্ত্বীয় নজরদারি জোরদার, এবং দ্রুত গবেষণা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: ব্যক্তিগত সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামী আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগ তুলেছেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
তিনি বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন। এসময়ে তিনি রাষ্ট্রের ৩০ দফা ইশতেহারের ঘোষণা দেন।
এ ইশতেহারে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিয়াহর প্রাধান্য, পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্র সংস্কার, দুর্নীতি, দু:শাসন, এবং সন্ত্রাসবাদমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারীদের সমঅধিকার নয় বরং অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এছাড়া, রাষ্ট্র-সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সিন্ডিকেট ভাঙার এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যদি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় আসে, তবে ইশতেহারে উল্লেখিত সব দফা বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় নাম হিসাবে চিহ্নিত হলেন। তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দ্য ইকোনমি টাইমসের নামক একটি প্রতিবেদনে এই ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে।
মাস্কের ব্যক্তিগত কোম্পানি স্পেসএক্স এবং তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মূলক কোম্পানি এক্সএআই একীভূত হওয়ার পর এই উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের সর্বশেষ হিসাব মতে, এই একীভূত করার ফলে তাদের বাজারমূল্য বর্তমানে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
এই রাজস্বময় চুক্তির পর মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ইলন মাস্কের সম্পদ প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন তার মোট সম্পদের সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৮৫২ বিলিয়ন ডলারে। স্পেসএক্সে মাস্কের ৪২ শতাংশ মালিকানা ছিল, যার মূল্য ছিল ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক্সএআই-তে তার ৪৯ শতাংশ মালিকানা ছিল, যার মূল্য ১২২ বিলিয়ন ডলার। দুটো কোম্পানি এক হওয়ার পর নতুন প্রতিষ্ঠানে তার ৪৩ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত হয়েছে এবং এর বাজারমূল্য ৫৪২ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে স্পেসএক্স এখন মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে মূল্যবান অংশে পরিণত হয়েছে।
স্পেসএক্সের বাইরে মাস্কের কাছে ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭৮ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া টেসলা শেয়ার অপশন থেকে তার হাতে প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। এটি গত বছরেই মাস্কের দ্বিতীয় বৃহৎ একীভূতকরণ।
গত মার্চে তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি এক্সএআই এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-কে একীভূত করেছিলেন। এদিকে বাজার বিশ্লেষকরা মাস্কের এই অতি-মূল্যায়নে কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এখন মাস্কের সকল প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের অধীনে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষের দিকে স্পেসএক্স শেয়ার বাজারে আইপিও আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে এই কোম্পানিগুলো কঠোর নজরদারি মুখোমুখি হবে।
গত ডিসেম্বর মাসে, মাস্ক ৭০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করার পর প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নতুন উচ্চতায় পৌছেছেন। ইনফরমা কানেক্ট একাডেমির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদ যে গতিতে বাড়ছে, তাতে ২০২৭ সালের মধ্যে তিনি বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ