সোমবার, ২ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০২:৫৫ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রীসংস্থার নেত্রীরা দাবি করেছেন যে, নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে বিএনপি ও ছাত্রদল নারীদের প্রতি হেনস্তা চালাচ্ছে। তারা জানান, ক্রমাগত নির্যাতন এবং সহিংসতার পাল্টা জবাব নারীরা ব্যালটের মাধ্যমে দেবেন।
এ বিষয়ে তারা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের সামনে বক্তৃতা প্রদান করেন।
নেত্রীরা জানান, রাজনীতির মঞ্চে নির্বাচনী প্রচারণার নামে নারীদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীরা পেশীর শক্তি ব্যবহার করে নারীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করছে। তবে, বড় একটি রাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
গাজীপুর, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নারীদের ওপর হামলা ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তারা বলেন, এর ফলে পুরো জাতির জন্য একটি লজ্জা ছাড়া আর কিছু নেই। এছাড়াও প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা সম্পর্কে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাবে। তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণের জন্য একটি নতুন বাংলাদেশ আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন।
এদিন দুপুর ১২টার পর জামায়াত ইসলামী আমির ড. শফিকুর রহমান সমাবেশে উপস্থিত হন এবং বক্তব্য প্রদান করেন। সকালে তিনি মহেশখালীতে জনসভা করেও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা রাজা-রাজত্বের পক্ষে নই। দেশের সকলের জন্য ন্যায়-বিচার গ্রহণযোগ্য, অপরাধ করলে বিচার নিশ্চিত হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি আমরা নিজেদেরকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করবো এবং জনগণকে এ সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করবো। যদি আমরা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিই, তাহলে কক্সবাজার আলোকিত হবে।’
জামায়াত আমিরের মতে, ‘কক্সবাজার একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। যদি এখানকার প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ ভালোভাবে কাজে লাগে, তাহলে এটি দেশের একটি উন্নয়নকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তাই ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে নেতৃত্ব প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলি অন্তত সময় পর্যন্ত আমরা রক্ষার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’
এ সময় তিনি প্রতিটি আসনের প্রার্থীকে জনগণের কাছে পরিচিত করে দেন এবং যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। এই বাংলাদেশ তৈরি হচ্ছে তোমাদের জন্য।’
নির্বাচনের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘এই নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং জাতির এক নতুন দিগন্তের প্রবর্তনের নির্বাচন। এটি হবে জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন পূরণের নির্বাচন এবং মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ।’
তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারিকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেশের জনগণ তাঁদের মতামত প্রকাশ করবে।’
মহেশখালীতে জনসভায় ড. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চান না। আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলেই সেটি প্রকৃত বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’
সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার উদ্বোধন হয়।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন: কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-০৪ আসনের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি মো. সিগবাতুল্লাহ সিফাত, ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. পারভেজ।
মহেশখালী ও কক্সবাজার শহরের জনসভা শেষে জামায়াত আমির চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার পদুয়ায় জনসভায় যোগ দিতে রওয়ানা দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারচর ইউনিয়নের পোড়াগাছা এলাকায় ৯৫টি ককটেল এবং দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে অভিযানের সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৫৫ মিনিট থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পোড়াগাছার বেপারীকান্দি গ্রামের কাছে অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। এ অভিযানে নাসির উদ্দিন বাচ্চু পেদার (৫৫) বাড়িতে তল্লাশি করে চার বালতি ককটেল উদ্ধার করা হয়। বাচ্চু পেদার দেওয়া তথ্যে অনুযায়ী, তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের পাশে এক কক্ষে এবং একই বাড়ির অন্য একটি ঘর থেকে মোট ৯৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আটটি টেঁটা ও তিনটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় যৌথবাহিনী নাসির উদ্দিন বাচ্চু পেদা, তার ছেলে মেহেদী হাসান পেদা (৩০), এবং রনি পেদাকে (২৫) আটক করে। উদ্ধার হওয়া ককটেল, দেশীয় অস্ত্র এবং আটককৃত তিন ব্যক্তিকে সোমবার সকালে নড়িয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আইনি কার্যক্রম চলছে এবং অভিযানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, নারীরা বিএনপিকে ভালোবাসে। কারণ বিএনপি নারীদের সম্মান, অধিকার ও ক্ষমতায়নে সবসময় বিশ্বাসী।
তিনি আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
সেলিমা রহমান উল্লেখ করেন, নারীরা সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী। কোনো দেশে নারী সমাজকে অবমূল্যায়ন করে উন্নতি লাভ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ধর্মের নামে একটি শ্রেণি নারী সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে, যা একান্তই উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, আজকের এই প্রতিবাদ কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক প্রতিবাদ।
তিনি আরও জানান, আজ নারীদের বিরুদ্ধে যে অবমাননাকর বক্তব্য ও নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হচ্ছে, তার প্রতিবাদ হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির এই নেত্রী মন্তব্য করেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রথমবার নারীর সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু আজ আবার নারীকে পিছনে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
সেলিমা রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারী সমাজকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করেছিলেন, এবং তিনি মনে করতেন, মা ও মাতৃভূমি সমান পবিত্র। সেই বিশ্বাস থেকে নারী সমাজকে রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির শাসনামলে গ্রামীণ নারীরা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। নারীরা এখন সংসদ, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সহ বিভিন্ন খাতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরও উল্লেখ করেন, আজ যারা নারীদের বাইরে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন, তারা ভুলে যাচ্ছেন—এই দেশের লাখো নারী পরিবারের ভরণপোষণের জন্য সম্মানের সঙ্গে বাইরে কাজ করে সমাজের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।
তিনি বলেন, নারীদের ভোটের সময় সম্মান দেখিয়ে পরে তাদের নিয়ে কটূক্তি চালানো রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। নারীরা BNP'কে ভালোবাসে, কারণ BNP কখনো নারী সমাজকে অসম্মান করেনি।
সেলিমা রহমান স্পষ্ট করেন, নারীরা শুধু পরিবারের সদস্য নয়, তারা এই দেশের সম্পদ। নারী সমাজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে।
এসময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ সহ দলের কেন্দ্রীয় এবং মহানগর পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষ করার জন্য কোনো অনুমোদন নেই। ফলে, এধরনের পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষ কিংবা সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের এমন তথ্য সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু সময় আগে বিভিন্ন সংবাদপত্র, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইলিশ মাছের ইনডোর বা কৃত্রিম পরিবেশে চাষ বিষয়ে আলোচনা এবং তথ্য ছড়িয়েছে, যা পর্যালোচনা করেছে মন্ত্রণালয়।
এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ প্রযুক্তির রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) ব্যবহার করে ইনডোর ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ চাষের বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সভাপতিত্ব করেন এবং মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ইলিশ মাছ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। এটি দেশের নদী এবং উপকূলীয় পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, ঐতিহ্য এবং বিপুলসংখ্যক জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবিকার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ইলিশের উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা মূলত প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র এবং নদীনির্ভর পরিবেশের ওপর নির্ভর করে, এ কারণে যেকোনো উদ্যোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নীতিনির্ভর।
আলোচনার পর জানা যায় যে, বর্তমানে আরএএস বা অন্য কোনো ইনডোর, নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষের জন্য সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেই। তাই, এ ধরনের পদ্ধতিতে ইলিশ চাষ করার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইলিশ সম্পর্কিত কোনো গবেষণা, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ বা প্রযুক্তিগত কার্যক্রম অবশ্যই বিদ্যমান আইন, নীতিমালা এবং জাতীয় স্বার্থের আলোকে পরিচালিত হওয়ার প্রয়োজন এবং সরকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন লাগবে।
এ বিষয়ে সরকার জনগণসহ সকল পক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব থেকে দূরে থেকে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ