ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বাং

প্রেমের টানে দেশে একের পর এক বিদেশি: নেপথ্যে পাচারের ফাঁদ?


প্রেমের টানে দেশে একের পর এক বিদেশি: নেপথ্যে পাচারের ফাঁদ?

বিয়ে এবং প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে পাচারের একটি নতুন কৌশল সামনে এসেছে। গত সাত মাসে একই অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিক গ্রেফতার হয়েছেন। একই সঙ্গে ভালো চাকরি এবং উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নারীদের পাচারের ঘটনাও ঘটছে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। গত সাত-আট বছরে নির্যাতন, শোষণ এবং প্রতারণার শিকার হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজারের বেশি নারী।

২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর বিয়ে এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশি দুই নারীকে চীনে পাচারের চেষ্টার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুই চীনা নাগরিককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তাদের নাম হলো মে পেনগুই এবং তিয়ান জেংওয়েন। রানী আক্তার ও মালিনা মারাককে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে বিয়ে করে উন্নত জীবনের প্রলোভনে চীনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরে ওই দুই নারী বুঝতে পারেন, তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে চীনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তারা দুই চীনা নাগরিকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং যেতে অস্বীকৃতি জানান। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসলে দুই চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু

একই বছরের ৯ ডিসেম্বর একই কৌশলে আরেক নারীকে পাচারের সময় গ্রেফতার হন দুই চীনা নাগরিক ফ্যান গোউয়ে (২৭) ও ইয়াং জিকু (২৫)। চাঁদপুরের এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রথমে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের নজরে আসে। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এরপর ২০২৫ সালের ২৮ মে একই অভিযোগে আরও দুই চীনা নাগরিক হু জানজুন (৩০) ও জিয়াং লিজি (৫৪) গ্রেফতার হন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নারীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রামের সহজ-সরল নারীদের টার্গেট করে একটি চক্র তাদের পাচার করছে। এ ক্ষেত্রে চীনা নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বেশি দেখা যাচ্ছে। একাধিকবার গ্রেফতারের পরও চক্রটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে শুধু প্রেমের ফাঁদই নয়, ভালো চাকরি এবং উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়েও নারীদের মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে। সেখানে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারলে কেউ নানা উপায়ে দেশে ফিরতে পারছেন, আবার কেউ ফিরতেও পারছেন না। সম্প্রতি পাচারের শিকার এক নারী কম্বোডিয়া থেকে ফিরে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। গত প্রায় সাত-আট বছরে ৭০ হাজারের বেশি নারী নির্যাতন এবং শোষণের শিকার হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন।

আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে

চীনা নাগরিকদের ফাঁদ

চীনা নাগরিকদের গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগী নারীদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মানবপাচারকারী চীনা নাগরিকরা বাংলাদেশে এসে নিকুঞ্জ, উত্তরা কিংবা বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থান নেন। এরপর স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে গ্রামের মেয়েদের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় গড়ে তোলেন। তিন থেকে ছয় মাস যোগাযোগ রাখার পর তারা বাংলাদেশে এসে ওই তরুণীর গ্রামের বাড়িতে যান। নানা কৌশলে পরিবারের আস্থা অর্জন করে বিয়ের মাধ্যমে মেয়েদের চীনে নিয়ে যান অথবা নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে তাদের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেওয়া।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিতা রানী সূত্রধর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেশ কিছু দেশের মানবপাচারকারী চক্র স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় নারী পাচারের চেষ্টায় লিপ্ত। তারা মূলত গ্রামের সহজ-সরল নারীদের টার্গেট করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের চেষ্টা করে। তথ্য পেলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।’

ভালো চাকরি এবং উন্নত জীবনের প্রলোভন

আরও পড়ুন: বিএনপি ক্ষমতায় আসলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না

কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে কম্বোডিয়ায় পাচার করা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি নানা নির্যাতনের শিকার হন এবং সম্প্রতি দেশে ফিরে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা বেতনে কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে চাকরির প্রলোভন দেখান রাজবাড়ীর খাগজানা এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেল। এই চক্রে ছিলেন ফরিদপুরের মধুখালী এলাকার আনিসুর রহমান এবং গাজীপুরের বেলাল হোসেন।

ঋণের ফাঁদে ফেলেই ওই তরুণীকে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়। রুবেল একসময় ফরিদপুরের একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। গ্রামের কিস্তি সংগ্রহ করতে গিয়ে তার সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। পরে ওই তরুণী এনজিও থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন। কিস্তি বকেয়া পড়লে রুবেল তাকে কম্বোডিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, কম্বোডিয়ায় থাকা আনিসুর রহমানের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা মাসিক বেতনে চাকরি দেওয়া হবে। তবে সেখানে যেতে ৪ লাখ টাকা লাগবে।

প্রথমে রুবেল এনজিও থেকে ওই নারীকে ১ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেন। বাকি টাকা পরে দিতে হবে বলে জানান। এরপর পাসপোর্টসহ ১ লাখ টাকা আনিসুর রহমানের কাছে পাঠানো হয়। ধারদেনা করে আরও ২ লাখ টাকা আনিসুরের অ্যাকাউন্টে পাঠান ওই নারী। পরে রুবেল তার বাড়ি গিয়ে আরও ১ লাখ টাকা নেন। গত বছরের ১৮ আগস্ট ওই নারী কম্বোডিয়ায় যান।

আরও পড়ুন: প্রধান বিচারপতির এজলাসে আইনজীবীর আচরণ অনুচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত : আইনমন্ত্রী

তার অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর রুবেল বিমানবন্দরে তাকে রিসিভ করেন এবং জোর করে তার পাসপোর্ট এবং ডলার নিয়ে নেন। এরপর নিজের ভাড়া বাসায় ১০ দিন রেখে কলসেন্টারের কাজ শেখান। পরে তাকে একটি চীনা কোম্পানির কাছে ১ হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

প্রথম মাসে কিছু ডলার পেলেও পরের মাসের বেতন নিয়ে যান আনিসুর। পরে ওই কোম্পানি থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর আনিসুর তাকে আরেকটি কোম্পানিতে নিয়ে গিয়ে সহযোগী বেলালের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সেখানে তাকে মডেলিং করতে বলা হয়। রাজি না হওয়ায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দেশে ফিরতে চাইলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এজাহারে ওই নারী আরও উল্লেখ করেন, রুবেল এবং আনিসুর তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। পরে তিনি পালিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহায়তায় দেশে ফিরে আসেন।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে আমাদের টিম কাজ করছে।’

আরও পড়ুন: লেবার নেতা করবিনের দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সামরিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা হোক

সৌদি আরবেও একই চিত্র

কম্বোডিয়া থেকে ফিরে আসা নারীর মতো আরেক নারী সৌদি আরবে ‘টিস্যু কোম্পানিতে’ কাজ দেওয়ার নামে যৌন এবং মানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন।

২০২৫ সালে তিনি সৌদি আরবে যান। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর চাকরি পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। সেই সুযোগে দালাল চক্র তাকে একটি টিস্যু কোম্পানিতে কাজের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারণার মাধ্যমে তাকে যৌন কাজে বাধ্য করা হচ্ছে।

তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হতো। নিয়মিত মারধর, অমানবিক আচরণ এবং খাদ্যবঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়লেও কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন নির্যাতনের মধ্যে থাকার পর তিনি একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং পরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কয়েক মাস কারাভোগের পর দেশে ফিরে সন্তান জন্ম দেন।

আরও পড়ুন: নতুন প্রকল্পে সব জেলায় পৌঁছাচ্ছে রেল, বাড়ছে কোচ-লোকোমোটিভ

অভিবাসন খাতে কাজ করা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২৫ সালে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় দুই হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। আর ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ফিরেছেন এক হাজার নারী।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক জানিয়েছে, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতন, শোষণ অথবা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে বিদেশ থেকে প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে।

যা বলছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, ‘চীনা নাগরিকরা দেশে এসে বিয়ে বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে নারীদের চীনে নিয়ে যাচ্ছেন। দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশে গিয়ে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে যেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই নিশ্চয়তাও রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নানা উপায়ে নারীরা পাচারের শিকার হচ্ছেন। এক ধরনের কাজের কথা বলে বিদেশে নিয়ে গিয়ে অন্য কাজে বাধ্য করা হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ফিরছেন। এটি অবশ্যই উদ্বেগজনক।’

তার ভাষ্য, ‘একজন নারী বিদেশে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হলে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি না। এটাই আমাদের বড় দুর্বলতা। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, দেশে এসে হয়তো বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হয়; কিন্তু যারা নির্যাতন অথবা নিপীড়ন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা বিদেশে অবশ্যই যাবেন। তবে নার্সিংসহ অন্যান্য দক্ষ পেশায় প্রশিক্ষণ নিয়ে গেলে ঝুঁকি কমবে। শুধু গৃহকর্মী হিসেবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হলে হবে না, যারা এই নির্যাতনের জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা বিদেশে গিয়ে যেন পাচার অথবা নিপীড়নের শিকার না হন, সে জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুনে বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ৪,৮৯৮ ফৌজদারি ও ৩৫০ ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ এম


জুনে বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ৪,৮৯৮ ফৌজদারি ও ৩৫০ ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা পরিচালিত সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে ২০২৬ সালের জুন মাসে ৪৮৯৮টি ফৌজদারি এবং ৩৫০টি ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ডিএমপির বিজ্ঞ আইন কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ আতাউল হক জানান, গত জুন মাসে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ, তেজগাঁও বিভাগ, ওয়ারী বিভাগ, গুলশান বিভাগ, মিরপুর বিভাগ, রমনা বিভাগ, লালবাগ বিভাগ ও উত্তরা বিভাগ কর্তৃক মোট ৪,৮৯৮টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। এর মধ্যে ধৃত আসামির সংখ্যা হল ৮,৮৭৩ জন এবং কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ৫,৭৩৮ জন। অর্থদণ্ডের পরিমাণ ১৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ৬৫০ টাকা এবং নিলাম/বাজেয়াপ্তের পরিমাণ ৯২ হাজার ৪৩২ টাকা ছিল। জুন মাসে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগরে বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও ডিএমপি পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ২৪টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করা হলে জুন মাসে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর অধীনে দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ১২৮৩টি রয়েছে। এর মধ্যে আসামির সংখ্যা ১২৮৩ জন এবং নিষ্পত্তির জন্য মামলার সংখ্যা ৩৫০টি ছিল। আদায়কৃত অর্থদণ্ডের পরিমাণ ৬ লক্ষ ৬৮ হাজার ১০০ টাকা।

ডিএমপিতে কর্মরত বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধের বিচার তাৎক্ষণিক হওয়ায় মহানগরবাসীর মনে বিচার বিভাগ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসাথে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চারিত হচ্ছে, যা ঢাকা মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ এম


রাশিয়ার তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা

সেন্ট পিটার্সবার্গ, রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, সেখানে রাতভর ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আক্রান্ত স্থাপনাটি রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের রাজস্ব জোগানোর অন্যতম প্রধান উৎস ছিল।

ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুশ নৌঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে। শহরের গভর্নর আলেকসান্ডার বেগলভ সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি ব্যাপক ড্রোন হামলা হয়েছে, যা তিনি স্বীকার করছেন এবং তেল টার্মিনালে আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মতে, আক্রান্ত তেল টার্মিনালটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম, যেটির বার্ষিক ১২.৫ মিলিয়ন টন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রমাণ হিসাবে, ক্রনশতাঁতে অবস্থিত রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিও এই হামলার শিকার হয়েছে বলে কিয়েভ দাবি করেছে, যদিও রাশিয়া এই নৌঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

গভর্নর বেগলভ জানিয়েছেন, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং লেনিনগ্রাদ অঞ্চলজুড়ে ৭২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। হামলার পর তিনি শহরের পঞ্চাশ লাখের বেশি বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে রাখতে পরামর্শ দেন এবং মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেন।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শনিবার (৪ জুন) সকালে জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও এর আশপাশের যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, সেগুলো ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হামলার সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট না হলেও, জেলেনস্কির শেয়ার করা একটি ভিডিওতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ড্রোন উড়ে যেতে এবং পরবর্তীতে ওই এলাকা থেকে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ফুটতে দেখা গেছে, যা পরবর্তীতে বিবিসি নিশ্চিত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর দিকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে, যার ফলে রাশিয়ায় ব্যাপক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। কিয়েভের দাবি, এই হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ অচল হয়ে পড়েছে।

গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইউক্রেনীয় হামলার কারণে জ্বালানি সংকটের কথা বিরলভাবে স্বীকার করেছিলেন এবং শনিবার তিনি অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি নতুন বিলে স্বাক্ষর করেছেন।

এদিকে, যুদ্ধের মাঠের আরেকটি ঘটনায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ান্তিনিভকা রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সামরিক মুখপাত্র মেজর আন্দ্রি কোবালিভ জানিয়েছেন, শহরটি এখনো ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন যে, রুশ পদাতিক বাহিনীর ছোট ছোট দল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা লাইনের গভীরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল, যাদের চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হচ্ছে। এর আগে পুতিন দাবি করেছিলেন, গত জুনেই কোস্তিয়ান্তিনিভকা শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। পুতিনের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলেনস্কি তীব্র কটাক্ষ করে টেলিগ্রামে লিখেছেন, কোস্থিয়ান্তিনিভকা যদি সত্যিই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে পুতিন নিশ্চয়ই সেখানে এসে তার সাথে দেখা করতে এবং যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে কোনো সমস্যা বোধ করবেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো পুতিন কখনোই ফ্রন্ট লাইন অতিক্রম করবেন না, কারণ সত্য পুতিনের কথার চেয়ে অনেক আলাদা।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে যে তারা রাতভর এবং সকালে ইউক্রেনের ছোঁড়া ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। রুশ মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ২ জুলাই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং কোস্তিয়ান্তিনিভকাতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ‘বিপর্যয়কর ব্যর্থতা’ থেকে দেশের জনগণ ও বিদেশি দাতাদের মনোযোগ সরিয়ে নিতেই জেলেনস্কি এই হামলার নাটক করছেন। রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় ইউক্রেনের এই হামলা কখনোই অনুত্তরিত থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো।

সূত্র: বিবিসি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দখলদারদের বাধার মুখে খাল না কেটেই ফিরলেন এমপি-ডিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ এম


দখলদারদের বাধার মুখে খাল না কেটেই ফিরলেন এমপি-ডিসি

বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সরকারি দেলভাষানি খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে দখলদারদের বাধার মুখে উচ্ছেদ অভিযানটি প্রশাসন কর্তৃক স্থগিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খালটি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসা ব্যক্তিদের আবেদনের পর মাছ তুলে নেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের গোমতি এলাকায় দেলভাষানি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু হওয়ানো কথা ছিল। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ মোসা. আতিয়া খাতুন, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা উপস্থিত হন।

কিন্তু উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর আগেই সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন দখলদার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে খাল না কাটার অনুরোধ জানান। পরে ঘটনাস্থলে সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন পৌঁছালে তাদের কাছেও একই দাবি জানানো হয়।

দখলদারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, সরকারি খাল আটকে মাছ চাষে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন খাল কেটে দিলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের কাছে দ্রুত খাল দখলমুক্ত করার দাবি জানান।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করে দখলদারদের ১৫ দিনের সময় দেয়। এ সময়ের মধ্যে মাছ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর দাবি, তিনি খাল দখল করেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছর ধরে ছাত্রদল, যুবদল ও দলীয় লোকজন খালটি ভোগদখল করছে।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার আওতায় জেলার প্রাকৃতিক জলাধার ও খাল উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য কৃষকদের জন্য সেচের পানি নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক জলসম্পদ সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা।

তিনি আরো বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৌশলগত কারণে দেলভাষানি খালের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর নির্ধারিত সময় শেষ হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাট-২ সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, খাল খনন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচিত অংশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি খাল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি খালে মাছ চাষকারীরা অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তাদের আবেদনের পর মানবিক ও কৌশলগত দিক বিবেচনায় মাছ তুলে নেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে আইন অনুযায়ী খাল সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, বাগেরহাট জেলার ৭৫টি ইউনিয়নে ছোট-বড় কয়েকশ সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছেন। এতে পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, কৃষি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আটক

কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগে অভিযুক্ত খোকন (৫০)-কে আটক করেছে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কারণেই জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, গত ৩০ জুন ভোররাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজার এলাকার একটি কনফেকশনারি দোকানের সামনে ফুটপাতে এই ঘটনা ঘটে। তবে শনিবার (৪ জুলাই) সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টা ৮ মিনিটের দিকে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক মধ্যবয়সী নারীর কাছে সাদা শার্ট এবং লুঙ্গি পরিহিত একজন ব্যক্তি এসে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর অভিযুক্তটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কিছুক্ষণ পর বাজারের এক পাহারাদার ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীটিকে দেখতে পান।

ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুলিশ সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজারসংলগ্ন দুর্গাপুর এলাকার দুলা মিয়ার ছেলে খোকনকে (৫০) অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এবং একজন চিহ্নিত জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। পরে শনিবার সন্ধ্যায় জেলার বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করার পর তাঁকে রোববার কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হবে।

এদিকে, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:২৬
জোহর ১১:৫৭
আসর ০৪:২৩
মাগরিব ০৬:০৯
ইশা ০৭:২০
সূর্যোদয় : ০৫:৪৩ সূর্যাস্ত : ০৬:০৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%