ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বাং

রোজ খাচ্ছেন মাল্টিভিটামিন? জানুন সত্যিই কতটা উপকারী


রোজ খাচ্ছেন মাল্টিভিটামিন? জানুন সত্যিই কতটা উপকারী

শরীর সুস্থ রাখতে অনেকেই প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন খেয়ে থাকেন। অনেকের ধারণা, এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে, হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকে এবং বয়সের সঙ্গে স্মৃতিশক্তিও ঠিক থাকে। তবে গবেষণা বলছে, মাল্টিভিটামিন নিয়ে এমন ধারণার পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাল্টিভিটামিন খাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের খাদ্যাভ্যাস মূল্যায়ন করা। প্রতিদিনের খাবার থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া গেলে আলাদা করে মাল্টিভিটামিনের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

এ পর্যন্ত হওয়া কয়েকটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মাল্টিভিটামিন খেলে হৃদ্‌রোগ বা মানসিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে—এমন প্রমাণ মেলেনি। কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট বয়সী মানুষের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিতে সামান্য ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেলেও, সব গবেষণায় একই ফল পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু

আরও একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন খেলেও মৃত্যুঝুঁকি কমে না। তাই শুধু সুস্থ থাকার আশায় নিয়মিত মাল্টিভিটামিন খাওয়ার আগে প্রয়োজন ও উপকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে কোনো ভিটামিনের ঘাটতি আছে কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে নেওয়াই ভালো। পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এছাড়া প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় কোনো ভিটামিন খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ভিটামিন এ ও ভিটামিন ই বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মাল্টিভিটামিনকে সুস্থ থাকার একমাত্র ভরসা না করে, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে

সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেহাল দশা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


বেহাল দশা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর  কমিউনিটি ক্লিনিকের

বেহাল দশা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের। চারদিকে থইথই পানি। এর মাঝখানে কংক্রিটের পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ণ ভবন। বেশ কিছু পিলারের পলেস্তারা খসে পড়ে, ফলে রড বের হয়ে গেছে। সেখানে কোনো সংযোগ সড়ক নেই এবং নেই কোনো ঘাট। বর্ষার দিনে এই ভবনটিতে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো নৌকা, সাঁতার অথবা কোমরপানি ভেঙে হাঁটা।

এটিই খাগালিয়াসহ আশপাশের চার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভরসা। কিন্তু বছরের চার থেকে পাঁচ মাস যখন হাওরে পানি জমে, তখন এই সেবাদাতা ভবনটি নিজেই যেন অসহায় হয়ে পড়ে থাকে।

ক্লিনিকের দিকে কোমরপানি ভেঙে যাওয়ার পথে দেখা মেলে ৭৫ বছর বয়সী রূপচাঁন বিবির। খাগালিয়া গ্রামের এই প্রবীণ নারী আক্ষেপ করে বলেন, ‘গত সপ্তাহে এই হাসপাতালে আইছিলাম গ্যাস্টিকের বড়ি নিতাম। কিন্তু কোমরসমান পানি ভাইঙা হাসপাতালে আইতে অইছে। ওষুদ নিয়্যা যাওনের সময় পানির নিচে কিছু একটা কামড় দিছে। হের পর থেইক্যা পাওডা (পা) ফুইল্যা ঢোল অইয়া আছে। সাতদিন ধইরা পাও লইয়া কষ্ট করতাছি। শরীর ভালা করতে হাসপাতালে গিয়া অহন আমি নিজেই আধমরা।’

রূপচাঁন বিবির মতো দুর্দশা এই অঞ্চলের অন্তত চার গ্রামের মানুষেরও। শুকনো মৌসুমে গ্রামের মেঠো আইল দিয়ে হাঁটা গেলেও বর্ষায় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন।

খাগালিয়ায় এই ক্লিনিকে ২২ ধরনের প্রাথমিক ওষুধ ও সেবা দেওয়া হয়। একজন সিএইচসিপি প্রতিদিন এবং সপ্তাহে এক দিন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা এখানে বসেন। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৮০ জন রোগী এলে, বর্ষায় তা নেমে আসে ১০-২০ জনে। মূলত সাপ ও জোয়ারের পানির আতঙ্কে মানুষ এখন ক্লিনিকবিমুখ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেক (৫০) বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার নাতিরে নিয়া গেছিলাম। টেবিলের তলে দেহি এক হাত লম্বা সাপ ফুটবলের মতো গোল অইয়া রইছে। ভয়ে ওষুদ না নিয়াই ফিরা আইছি।’

আমেনা বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘বন্যার সময় ছয় মাস হাসপাতাল পানির নিচে থাকে। আমরা মহিলা মানুষ ইচ্ছা করলেই পানি দিয়া আইতে পারি না। বাড়িতে ছোড দুইডা পোলা জ্বরে ভুগতাছে। কিন্তু পানির কারণে আইতে পারি না।’

যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় গত বছর বর্ষায় মাঝরাতে প্রসব বেদনা উঠলে খাগালিয়া গ্রামের রাফিয়া বেগমকে (২৫) নৌকায় করে সদরে নেওয়ার পথে নৌকা ডুবে বিপত্তি ঘটে। অল্পের জন্য মা ও শিশু রক্ষা পেলেও সেই আতঙ্ক এখনও কাটেনি গ্রামবাসীর। যদি এই ক্লিনিক সচল থাকতো, তবে তাদের ১৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হতো না।

বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ছে। ভেতরে প্রবেশ করতেই কয়েকটি ইঁদুর দৌড়ে পালানোর দৃশ্য চোখে পড়ে। বেলা ১১টার দিকে দেখা মেলে কয়েকজন নারী কোমরপানি পেরিয়ে ক্লিনিকে আসছেন। আবার কেউ আসছেন নৌকায় করে।

ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো. আরিফ রহমান বলেন, কখনও নৌকা পাই, কখনও পাই না। নৌকা না পেলে সাঁতরে আসতে হয়। ক্লিনিকে ঢোকার আগে লাঠি দিয়ে মেঝেতে শব্দ করতে হয় যাতে সাপ চলে যায়। ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েকটি পিলার ফেটে রড বের হয়ে গেছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ওষুধ এবং ফাইলপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিবেশে নিরাপদ সেবা দেওয়া কঠিন।

১৯৯৮ সালে এই অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে সরকার উদ্যোগ নেয়। ২০১১ সালে স্থানীয় একজন ব্যক্তির দান করা নিচু জমিতে ভবনটি তৈরি হয়। তবে এক যুগের প্রতিষ্ঠার পরও যাতায়াতের জন্য কোনো রাস্তা তৈরি হয়নি।

ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুবেল মিয়া বলেন, ক্লিনিকের রাস্তাটি করার জন্য আমরা একাধিকবার পরিষদ থেকে প্রকল্প নিয়েছি। কিন্তু জমিটি নিচু হওয়ায় পরিষদের সীমিত বাজেটে এটি সম্ভব হচ্ছে না।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খাগালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভৌগোলিক অবস্থানটি প্রতিকূল। বর্ষায় যাতায়াতের সমস্যার কথা চিন্তা করে সেখানে একটি উঁচুপথ নির্মাণ এবং ভবনটি আরও উঁচুতে পুনর্নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত সীমিত সম্পদের মধ্যেই আমাদের কর্মীরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় বিমানবন্দর নির্মাণ নিয়ে আবারও আশা সৃষ্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


খুলনায় বিমানবন্দর নির্মাণ নিয়ে আবারও আশা সৃষ্টি

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকা খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে চীন আবারও আগ্রহ দেখিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) একটি প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এর পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানকে একটি চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চিঠিতে চারটি পৃথক পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো একটি পদ্ধতি গ্রহণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়টিকে ইতিবাচক বলা হচ্ছে এই অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের কাছে। তাদের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৎস্য শিল্প ও পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

প্রায় ৩০ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুলনা-মোংলা জাতীয় মহাসড়কের পাশে বাগেরহাট, খুলনা ও মোংলার সমদূরত্বে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সে সময় প্রকল্পের জন্য ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের কাজ দীর্ঘকাল ধরে স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আরও ৫০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং আংশিক ভূমি ভরাটের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

যদিও তৎকালীন সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেও কোনো বিদেশি কোম্পানি বা দেশ এতে বিনিয়োগে আগ্রহ না দেখানোর কারণে নির্মাণ কাজ আর এগোয়নি।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা জানান, গত মাসে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে চীনের কোম্পানি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা এলাকাটি পরিদর্শন করেছি এবং আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়ার জন্য বলেছি। গত ৩০ জুলাই তারা বেবিচক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে। এখন বেবিচক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে।

চীনা কোম্পানির চিঠিতে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সরকার টু সরকার (জিটুজি) ভিত্তিক সহজ ঋণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) তৈরির, পরিচালনার এবং চুক্তি শেষে হস্তান্তর (বিওটি) সহ নকশা তৈরি, মালপত্র কেনা, নির্মাণ ও অর্থায়ন পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ আছে, পারস্পরিক আলোচনা মাধ্যমে প্রPreferred পদ্ধতিটি নির্ধারণ করা যাবে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। বিশেষভাবে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্লু ইকোনমি, ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, পণ্য পরিবহন এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর নির্মাণে চীন সরকার ইতিমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সেই সূত্রে চীনা প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আসাদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের অভাবে বিদেশি ক্রেতা ও আমদানিকারকরা খুলনায় আসতে চান না। খুলনায় একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম রয়েছে, কিন্তু বিমানবন্দর অনুপস্থিত থাকার কারণে বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো এখানে অনুষ্ঠিত হয়নি। মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সুন্দরবনের মতো পর্যটন কেন্দ্রের কারণে খুলনার কাছে একটি বিমানবন্দর অত্যন্ত প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কীর্তন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নৌকাডুবি, নি খোঁ জ ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৩ পি.এম


কীর্তন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নৌকাডুবি, নি খোঁ জ ৪

সুনামগঞ্জে কীর্তন থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি নৌকা ডুবে গিয়ে ৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতের সাড়ে ৩টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার মইয়ার হাওরের বালুচর নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন জগন্নাথপুর পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার মৃত জগিন্দ্র দেব নাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেব নাথ (৩০), একই এলাকার মৃত সুবল দেব নাথের ছেলে সত্যেন্দ্র নাথ সতী (৬৫), মৃত অনিল দেব নাথের দুই ছেলে অরুণ দেবনাথ (৪০) এবং অধীর দেবনাথ (৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পূর্ব ভবানীপুর এলাকার ১০ জন ব্যক্তি নৌকাযোগে পার্শ্ববর্তী ভরাউট এলাকায় হিন্দুধর্মীয় এক কীর্তন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে থেকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফেরার সময় মইয়ার হাওরের বালুচর নামক স্থানে তাদের নৌকাটি ডুবে যায়।

ঘটনার সময় নৌকায় থাকা ১০ জনের মধ্যে ৬ জন সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, এখন পর্যন্ত ৪ জন ব্যক্তির কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড, চাঁদা না দিলেই হা মলা-ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১০ পি.এম


মিরপুরে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড, চাঁদা না দিলেই হা মলা-ভাঙচুর

রাজধানীর মিরপুরে আবারও আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। 'ফোর স্টার গ্রুপ' নামে পরিচিত একটি চক্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর এবং অর্থ ছাড়াই জমি দখল করতে গিয়ে এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটাচ্ছে। গত ছয় মাসে মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজির ঘটনায় মোট ৩৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। এ অপরাধ পরিস্থিতির বৃদ্ধি স্বীকার করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মিরপুরের বেশিরভাগ শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে অবস্থান করায় তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের সহায়তা নিতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গত ২৭ জুলাই রাত প্রায় আড়াইটার দিকে পল্লবীর মদিনা নগর আবাসিক এলাকায় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্লটে হামলা চালায় ৬ থেকে ৭ জন কিশোর গ্যাং সদস্য। স্থানীয় কর্মীদের চিৎকার শুনে মালিক এবং পাশের স্থানীয়রা এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়, যাওয়ার সময় তারা দেখে নেওয়ার হুমকিও দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ছয়-সাতজন নারীকে গরু পেটানোর মতো মারধর করে। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনও ছিনতাই করা হয় এবং চাপাতি দিয়ে আক্রমণ করা হয়।

এর ঠিক ১২ ঘণ্টা পরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাসায় হামলা করে। বাসার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে না পেরে দুই নিরাপত্তাপ্রহরীকে চাপাতি দিয়ে গুরুতর আহত করে। নিরাপত্তাপ্রহরী জানান, বাসার ভেতরে ঢুকে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

প্রতিষ্ঠানের মালিক অভিযোগ করেন, ফোর স্টার গ্রুপের সন্ত্রাসী মুক্তার দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা চেয়ে ফোনে হুমকি দিচ্ছিল। মুক্তার নিজেকে পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছে, ‘তোদের অনেক সম্পত্তি আছে, টাকা দিবি না? আমরা কীভাবে খাব? দিতে হবেই।’

আসন্ন স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সন্ত্রাসীদের অত্যাচারের কারণে এলাকায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা জটিল হয়ে পড়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এসব ঘটনার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, আগে যারা এসব অপরাধ করছিল, তারাই এখনো একইভাবে তাদের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা কার আশ্রয়ে এসব হামলা চালাচ্ছে, সেটিও জানার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

মদিনা নগর থেকে একটু দূরে পল্লবীর বাউনিয়াবাধ এলাকায় ২২ জুলাই সন্ত্রাসীরা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সুমাইয়া কসমেটিকসে হামলা করে। এরপর থেকে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। পুলিশকে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে সবাই আতঙ্কে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

একই দিন পলাশনগরে ৫ থেকে ৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্য একটি গরুর খামারের ছবি তুলে চলে যায়। পরদিন গভীর রাতে তারা আবার ফিরে এসে অস্ত্রের মুখে খামারের মালিকের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদার দাবি করে। টাকা না পেয়ে হামলা চালায়।

এছাড়া ৭ জুলাই একই এলাকায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি কিশোর গ্যাং একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলা করেছিল ও লুটপাট চালায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি করে আসছে এবং তারা হুমকি দিয়ে বলছে, এলাকায় থাকতে হবে অথবা ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে – না হলে কিছুই টিকবে না।

ফোর স্টার গ্রুপের একের পর এক অপরাধের কারণে পুরো মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ছয় মাসে শুধু চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত মামলার সংখ্যা ৩৩টি। আর সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পরিমাণও কম নয়।

চাঁদা না দিলে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর এবং টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোসহ জমি দখলের মতো অপরাধের কারণে মিরপুরের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। অনেক সময় এক সঙ্গে ১০০ থেকে ১৫০ জন হামলায় অংশ নিলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে হাতে গোনা কয়েকজন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন সন্ত্রাসীদের ধরতে পারছে না, নাকি সব কিছু জেনে নিয়েও ব্যবস্থা নিচ্ছে না?

ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বাতেন স্বীকার করেছেন, তার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ, র‌্যাব এবং স্থানীয়দের সমন্বয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা অবস্থার যে উন্নতি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। একই সঙ্গে পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বেড়েছে। মানুষের পুলিশের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং পুলিশকে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে কাজ করতে হবে।

তবে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মিরপুরের বেশিরভাগ শীর্ষ সন্ত্রাসী বর্তমানে বিদেশে বসবাস করছেন এবং তারা তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে অপরাধ করছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কিছুটা সময় লাগছে। ডিএমপির পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির বলেন, যারা আগে পল্লবীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাত, তারা এখন বিদেশে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তারা তাদের অনুসারীদের দিয়ে দোকানপাটে হামলা ও চাঁদাবাজি করাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আগের মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

চাঁদাবাজি ও খুনের মতো অপরাধের পাশাপাশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সন্ত্রাসীদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:২৬
জোহর ১১:৫৭
আসর ০৪:২৩
মাগরিব ০৬:০৯
ইশা ০৭:২০
সূর্যোদয় : ০৫:৪৩ সূর্যাস্ত : ০৬:০৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%