ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বাং

দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় জাতীয় উদ্যান বন্ধ করেছে ইন্দোনেশিয়া


দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় জাতীয় উদ্যান বন্ধ করেছে ইন্দোনেশিয়া

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এর মধ্যেই কর্তৃপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের একটি জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার বরাতে খবর পাওয়া গেছে, জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মাউন্ট ব্রোমোর কাছে অবস্থিত ব্রোমো টেংগার সেমেরু ন্যাশনাল পার্কে সোমবার আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭৬ হেক্টর (৪৩৫ একর) এলাকা পুড়ে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে।

এ সম্পর্কে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। শনিবার রাতে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য ওই এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু

জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, এখন পর্যন্ত আগুনের ফলে কেউ আহত হয়নি এবং কোনো স্থাপনা বা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়নি।

তিনি রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, খাড়া ঢাল ও প্রবল বাতাসের কারণে যেসব এলাকায় স্থলপথে দমকলকর্মীদের পৌঁছানো কঠিন, সেসব এলাকায় আগুন নেভাতে দুটি ওয়াটার-বোম্বিং হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘স্থলপথে যেসব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেসব এলাকায় পৌছাতে এ অবস্থায় আকাশপথে অভিযান চালানো গুরুত্বপূর্ণ।’

২০২৩ সালে মাউন্ট ব্রোমোতে ৫০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে যায়। সে সময় বিয়ের আগে ছবি তোলার সময় এক দম্পতি একটি ফ্লেয়ার জ্বালালে সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।

আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে

আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, চলতি বছরে ইন্দোনেশিয়ায় আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মৌসুম দেখা দিতে পারে। এল নিনো নামক আবহাওয়াগত ঘটনার কারণে দাবানল ও খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। ২০২৩ সালের দাবানলে পুড়ে যাওয়া এলাকার তুলনায় এই পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘটনা, যা পৃথিবীজুড়ে বাতাসের গতি, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটায়। সাধারণত এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতে অপেক্ষাকৃত শুষ্ক আবহাওয়া দেখা যায়।

আরও পড়ুন: বিএনপি ক্ষমতায় আসলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পথে আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পথে আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আইআরল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের জয়ের পর ক্যারিবীয়দের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে গেছে।

ফলে, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে হতে পারে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে আফ্রিকা মহাদেশে।

দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে সহ-আয়োজক হিসেবে সরাসরি মূল পর্বে জায়গা পেয়েছে।

বাকি দলগুলোর মধ্যে আটটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে।

জিম্বাবুয়ে বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটে না থাকায় নবম স্থানে থাকা দলও সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে।

কিন্তু বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে ১০ নম্বরে। তাদের রেটিং ৭৭।

৯ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের রেটিং ৮৩, আর ৮ নম্বরে থাকা আফগানিস্তানের রেটিং ৯০।

বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত নবম স্থানে উঠতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

কিন্তু সেই পথ খুবই কঠিন।

নির্ধারিত সময়ের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি মাত্র দুটি ওয়ানডে রয়েছে।

প্রতিপক্ষ ভারত, আর দুই ম্যাচই হবে ভারতের মাটিতে।

ফলে, র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে নবম স্থানে ওঠা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যবধান ৬ রেটিং পয়েন্ট।

এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো ওয়ানডে নেই।

ফলে, তাদের রেটিং কমারও সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, ভারতকে দুই ম্যাচে হারালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে প্রয়োজনীয় রেটিং পয়েন্ট অর্জন করে বাংলাদেশকে টপকে যাওয়া কঠিন।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে দিয়েছে।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শুক্রবার আয়ারল্যান্ডকে ৯২ রানে হারিয়েছে আফগানিস্তান।

ম্যাচটিতে দুর্দান্ত বোলিং করে ৬ উইকেট নিয়েছেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান।

এই জয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ের অষ্টম স্থানে থাকা আফগানিস্তান সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।

অন্যদিকে, এই সিরিজ থেকে আয়ারল্যান্ডের সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে।

লড়াইয়ে টিকে থাকতে তাদের সিরিজটি ৫–০ ব্যবধানে জিততে হতো।

কিন্তু প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় সেই সম্ভাবনা আগেই শেষ হয়ে যায়।

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়।

২০১৯ ও ২০২৩—দুই বিশ্বকাপেই বাছাইপর্ব খেলতে হয়েছিল তাদের।

২০১৯ সালে বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল ক্যারিবীয়রা।

তবে ২০২৩ সালে জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে আর সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি তারা।

সুপার সিক্স পর্বে জিম্বাবুয়ে ও নেদারল্যান্ডসের কাছে হারের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও পরাজিত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সেই ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মূল পর্বে জায়গা না পাওয়ার লজ্জায় পড়েছিল দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।

এবারও যদি ভারতকে হারিয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ের সমীকরণ বদলাতে না পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তাহলে টানা তৃতীয়বারের মতো তাদের খেলতে হতে পারে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিরোধীদল হা/সি/নার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


বিরোধীদল হা/সি/নার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল

রংপুর, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিরোধীদল পূর্বের মতো ভূমিকা পালন করে শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে। তারা গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছে। তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান করা হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিও ধ্বংস করে দেয়।

আজ রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ৪ হাজার ছাত্র, নারী ও শিশুকে হতাহত করা হয়েছে। গত ১৭ বছরে লাখ লাখ মামলা, গুম ও হাজার হাজার খুনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই কারণে দেশের ঘুরে দাঁড়াতে এখন সময় লাগবে।

তিনি বলেন, সকল সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান করতে হবে।

বিরোধীদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা আগের হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন এবং সকল সংকটের সমাধান এখনই চান। তবে সংকট সমাধানের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। গুম, খুন ও নির্যাতনের রেকর্ডও এই সরকার করেছে। এখন দেশের মানুষ শান্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চান। তিনি এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের একটি বিরোধী দল রয়েছে, যে দলটি শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানাভাবে টেনে ধরার চেষ্টা করছে।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতিও পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। যখন আমদানি করা হয়, তখন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কথা বলতে পারতেন না, লিখতে পারতেন না। বর্তমানে তারা যা খুশি তাই লিখতে পারছেন। বিরোধীদল যে ভাষায় কথা বলে, তা গণতন্ত্র নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন কাজ শুরু করেছি এবং আমরা এগিয়ে যেতে চাই, দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা চাই। তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরানোর জন্য যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, সেই বাংলাদেশিরাও আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে লাভ শেয়ার বিডির নিজস্ব অর্থায়নে ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়। ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মধ্যে ২৫টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। লাভ শেয়ার বিডির চেয়ারম্যান জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সামু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এবং রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম), ৯ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মতো চলে যাবে, কিন্তু দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।’

 

আজ রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম জেলার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সংসদে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না এবং জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছরের বেশি সময় আগে; এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, এখন কাজ করার ও দেশ গড়ার সময়।’

 

দেশের প্রতিটি পরিবারের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, তাই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের পাশে থাকা। সুখে-দুঃখে দেশের মানুষের পাশে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, অসুস্থ মানুষদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তরুণ-যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’

 

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা তার বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলাতেও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।’

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড, যা সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি লবণ চাষীরাও পাবেন। লবণ চাষীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে लबণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণাও শিগগিরই দেওয়া হবে। যার ফলে লবণ চাষী ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।’

 

চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে আমি মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। বিশাল সমুদ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ। চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বহু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

 

স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পান।’

 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবে- সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।'

 

তিনি বলেন, আমরা এমন পরিকল্পনা নিচ্ছি, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা কিংবা বাসাবাড়ি- সব জায়গায় মানুষ যেন ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পায়, এবং গাড়ি-মোটরসাইকেলসহ সবকিছুতে মানুষ যেন সহজে গ্যাস পেতে পারে।

 

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চট্টগ্রামের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়দের ধৈর্য ধারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের চট্টগ্রাম থেকে আমরা দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছি- একটি অর্থ মন্ত্রণালয়, আরেকটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যে অঞ্চলের দুইজন ব্যক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ দুইটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এবার একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য, তা হলো জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমরা জনগণের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি তাতে আপনাদের সমর্থন থাকতে হবে। কারণ আমরা সবসময় বলি, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যতগুলো কর্মসূচি নিয়েছি সবগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি শ্রমিকের হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।’

 

তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করে প্রতিজ্ঞা করি যে বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।’

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এছাড়া বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন।

 

নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলায় ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার অভি/যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


ভোলায় ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার অভি/যোগ

ভোলার চরফ্যাশনে হেরিং বোন বন্ড (ইটের সলিং) সড়কের ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করার অভিযোগ উঠেছে এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। সড়কের ইটগুলো তুলে নেওয়ার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসা চৌমাথা থেকে দক্ষিণে ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা হেরিং বোন বন্ড নির্মাণের জন্য এলজিএসপি-৩-এর অর্থায়নে ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর পরবর্তী সময়ে মেসার্স সূচনা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজ বাস্তবায়ন করে।

তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর প্রকল্পের আওতায় ৬০০ ফুট রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৫৮ টাকা। এ কাজের তদারকি করছেন এওয়াজপুর ইউপি সচিব জামাল উদ্দিন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টিআর প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ওই হেরিং বোন বন্ড সড়কের ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, কয়েক দিন আগে এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জামাল উদ্দিন রাস্তাটি ভালোভাবে ইটের সলিং করার কথা বলে সড়কের ইটগুলো তুলে নিয়ে গেছেন। পরে ভেকু দিয়ে রাস্তায় কাদা-মাটি ফেলে চলে যায়। এ কারণে বর্তমানে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। তাদের দাবি, আগের হেরিং বোন বন্ড সড়কটি ভালো ছিল।

স্থানীয় জাফর বলেন, এওয়াজপুর ইউনিয়নের সচিব জামাল উদ্দিন এ সড়কের কাজ করেছেন। সেই কাজের দায়িত্ব আমি পালন করেছি। জামাল উদ্দিন পূর্বের ইটের সলিং তুলে কাদামাটি ফেলেছেন।

এওয়াজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল মান্নান বলেন, এই রাস্তাটি ২০২০-২১ অর্থবছরে ইটের সলিং করা হয়েছে। আমরা এলাকাবাসী ইটের সলিংয়ের ওপর দিয়ে চলাফেরা করেছি। পূর্বের ৬৬০ ফুট ইটের সলিং তুলে নিয়ে মাটি ফেলা হয়েছে। এখন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীদের চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটছে। তাই আমরা পূর্বের সলিং ফিরে পেতে চাই।

একই অভিযোগ করেছেন আবি আবদুল্লাহ ও জসিম মোল্লা। তারা বলেন, হেরিং বোন বন্ড নির্মাণের পর থেকে মানুষ সুন্দরভাবে চলাচল করতে পারত। কিন্তু ইটগুলো তুলে নেওয়ার কারণে এখন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইটের সলিং থাকাকালীন সময়ে এই রাস্তায় গাড়ি চলাচল করত। বর্তমানে হাঁটুসমান কাদামাটির কারণে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, বহু আগে রাস্তাটি কাঁচা ছিল। পরে বিগত সরকারের আমলে ইটের সলিং করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা দিয়ে সুন্দরভাবে চলাচল করা গেলেও বর্তমানে ইউপি সচিব জামাল উদ্দিন ভেকু দিয়ে ইট তুলে ট্রাকভর্তি করে নিয়ে গেছেন। তার পর রাস্তায় কাদামাটি ফেলে চলে গেছেন।

ইউপি সচিব জামাল উদ্দিন বলেন, আগের সলিং নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি ইটগুলো তুলে নিয়ে মাটি ফেলেছি।

ইটগুলো তুলে কাদা-মাটি ফেলতে পারেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন অবগত আছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে ইউপি সচিব যদি আমার বিষয়ে কিছু বলে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:২৬
জোহর ১১:৫৭
আসর ০৪:২৩
মাগরিব ০৬:০৯
ইশা ০৭:২০
সূর্যোদয় : ০৫:৪৩ সূর্যাস্ত : ০৬:০৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%