০৬:৩৫ পি.এম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং টিকার মজুতে অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে, বর্তমানে শিশুরা প্রাণ ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে বর্তমানে সরকার জরুরি ভিত্তিতে রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন-এর করা জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
আখতার হোসেন দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রাদুর্ভাব, আইসোলেশন ও আইসিইউ সুবিধার অভাব এবং ৬ মাস বয়সে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আরও পড়ুন: দুর্গম দ্বীপে রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকদের আকাশ থেকে ঝাঁপ
ক্যাম্পেইন না হওয়ার এবং টিকার সংকটের কারণ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি চার বছর পরপর হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও বিগত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি। এর ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু টিকাদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে তাদের মধ্যেই হামের প্রাদুর্ভাব বেশি। এছাড়া পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, যার ফলে হামসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুতে মারাত্মক সংকট দেখা দেয়।
জরুরি টিকাদান কর্মসূচি এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, এখানে সাফল্যের হার ৯৬ শতাংশ। এছাড়া আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে অবশিষ্ট এলাকায় কর্মসূচি শুরু হবে।
হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ এবং ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআরবির মাধ্যমে মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবিত নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মাঠ পর্যায়ের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বলেন, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ মানুষ হাসপাতালে আইসোলেশন বা আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছে না। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ অব্যয়িত থেকে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনাকালীন সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে টিকার কোনো শর্টেজ না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের, যেমন বিশ্বব্যাংক এবং ইউনিসেফ-এর সাথে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন