বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারী, ২০২৬ ইং
১০:৫৯ এম
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও নাগরিক সমাজের উজ্জ্বল কর্মী এম হাফিজ উদ্দিন খানের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা এক শোকবার্তায় মরহুমের দীর্ঘ কর্মময় জীবনে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে তার অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
ড. ইউনূস বলেন, ‘এম হাফিজ উদ্দিন খান ছিলেন একজন সৎ, প্রজ্ঞাবান ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রকর্মী। রাষ্ট্রসেবায় তাঁর নিষ্ঠা ও নৈতিকতা আমাদের জন্য এক অনুকরণীয় নজির হয়ে থাকবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি আমার একজন সহপাঠী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। জীবনের নানা সময় তার প্রজ্ঞা, মানবিকতা এবং স্পষ্টভাষিতা আমাকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর মৃত্যুতে আমি একজন বিশ্বস্ত সহকর্মী এবং বন্ধুকে হারালাম।’
ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন যে, হাফিজ উদ্দিন খান কর্মজীবনে যে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতা দেখিয়েছেন, এবং যে ভূমিকা রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রেখেছেন, তা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
হাফিজ উদ্দিন খান গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অর্থ ও পরিকল্পনাসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভূমি এবং কৃষিজমির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় শাস্তির বিধান নিয়ে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬’ প্রবর্তন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি গত ১৯ জানুয়ারি এ অধ্যাদেশ জারি করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাগুলোতে এ অধ্যাদেশ কার্যকর হবে না।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া ভূমির জোন পরিবর্তন করলে শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড কিংবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। কৃষিভূমি অনুমতি না নিয়ে অকৃষি কাজে ব্যবহার করলে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ নগদ অর্থদণ্ড হতে পারে।
জলাধার, জলাভূমি বা কৃষিভূমিতে অবকাঠামো নির্মাণ বা বাণিজ্যিক আবাসন স্থাপন করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা চার লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। কৃষিভূমির উপরের মাটির ক্রয়-বিক্রয় অথবা পরিবহন করলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হয়ে থাকে।
বিশেষ কৃষি অঞ্চলের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও, ব্যবহৃত ভূমির প্রকৃতি পুনরুত্থানের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নজরে রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে যেসব অপরাধ উল্লেখ করা হয়েছে তা অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং অ-আপসযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কার্যত, এ ধরনের অপরাধের জন্য প্রচলিত আইনের আওতায় বিগত শাস্তি বিধান অনুসরণ করা হবে।
বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে ভূমিকে ১৮টি জোনে বিভক্ত করে একটি জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। সরকার দেশের সার্বিক ভূমি ব্যবহারের আধুনিকায়ন নিশ্চিত করবে এবং বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করবে।
ম্যাপ তৈরির সময় উপযুক্ত গবেষণা এবং ডাটাবেজ গঠন করা হবে এবং শর্তের প্রয়োজনে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে, কৃষিভূমির সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কৃষি অঞ্চলের গঠন অপরিহার্য। ভিন্নভাবে কৃষিজমি ব্যবস্থাপনা করা যাবে না। এতে করে ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হতে পারে।
অধিকার কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কৃষিজমিতে অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকবে, এবং কৃষিজমির জন্য যেকোনো অবকাঠামো তৈরির জন্য পূর্ব অনুমতির প্রয়োজন হবে।
এই অধ্যাদেশের লক্ষ্য হলো, কৃষিজমি সুরক্ষা এবং পরিবেশের উপর প্রভাব কমানো, যাতে করে জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষিত থাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সিলেটের আলীয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় ড্রোন উড়ানোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (ডিসি) সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানিয়েছেন, জনসভা চলাকালীন নিরাপত্তার কারণে ড্রোন উড়ানোর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া BNP জনসভায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ড্রোন উড়াতে পারবে না। যদি কেউ নিষেধাজ্ঞা লংঘন করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বেলা ১১টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। জনসভাটি ঘিরে সিলেট নগরীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার ঘটেছে।
মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসভা সম্পর্কিত মাঠ ও পরিবেশে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে জনসভার আয়োজন সম্পন্ন করতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট থেকে বিএনপির এই জনসভাকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই সনদের ওপর গণভোট হবে। নির্বাচনের আমেজ দেশজুড়ে বিরাজমান; প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা জোরদারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে, সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে দেশের সব নাগরিক নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং অবাধে মতপ্রকাশের সুযোগ পান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক জানান। তিনি বলেন, 'নির্বাচন আয়োজনকে উৎসাহিত করি। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি যে, নির্বাচনের সময় এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিতকরা জরুরি, যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে।'
এদিকে, আসন্ন এই জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে চলেছে কমনওয়েলথ। দলটির নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো-আদো। তার সঙ্গে দলে বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনার বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের একটি দল এই পর্যবেক্ষক দলের সহায়তা করবে, যার নেতৃত্ব দেবেন লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।
কমনওয়েলথের এই দলের ম্যান্ডেট হলো নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করা এবং সেই অনুযায়ী একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন প্রদান করা। তারা বাংলাদেশের জাতীয় আইনসহ প্রতিশ্রুত মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিবেদন দেবে।
মিশন শেষে পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে, এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ, কমনওয়েলথের সমস্ত সরকার ও সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুলাই ও আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই শুনানিটি পরিচালনা করবে।
উল্লেখ্য, ওবায়দুল কাদের ছাড়া আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন এবং শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন। ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগও পড়া হয়। এছাড়া অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ দেওয়ার, উসকানি এবং প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিচার শুরুর জন্য অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন প্রসিকিউশন। পরে পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান।
গত ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ করে ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনের জন্য সাত আসামির আত্মসমর্পণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা উপস্থিত হননি। পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর তাদের গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে আনার কথা ছিল। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে কাউকে খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৮ ডিসেম্বর আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-২। একই দিনে সকালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
এইদিকে, জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গঠিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিভিউ শুনানি করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক-বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে এই মামলায়। গত সোমবার গুমের শিকার হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ