মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০২:২৫ এম
ফেনী-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মন্তব্য করেছেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের নেতা শেখ হাসিনা পাশের দেশে বসে আরও উঁচু স্বরে হুঙ্কার দিচ্ছেন। তিনি সব পলাতক নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দেশের শান্তি বিনষ্টের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনী শহরে তার নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।
গণভোটের বিষয়ে মঞ্জু বলেছেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” জেতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। যদি দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হয়, তবে “হ্যাঁ” পেয়ে সব রাজনৈতিক দলই লাভবান হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সুর ধরেই বেশ কিছু রাজনৈতিক দল “না” ভোট টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণকে গণভোটে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাদের গণহত্যায় জড়িত, তাদের বিচার দাবি করছে জনগণ। দায়মুক্তি না পেলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা কখনো সম্ভব নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও সমান সুযোগ নিশ্চিত না হওয়ার কথা জানান। নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য তিনি এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন। বিভিন্ন জায়গায় নারী ভোটারদের হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান, তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের দিকে সারা বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে।’
মঞ্জু জানান, সন্ত্রাসের দাগ মুছে দিয়ে ফেনীকে শান্তির শহরে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। তিনি ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদীর বল্লামুখা বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের বরাদ্দ সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা রক্ষায় ঈগল প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। চিকিৎসা কলেজ, বিমানবন্দর ও ক্যান্টনমেন্ট গঠনের পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে।
এ সময় ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান, এবি পার্টি ফেনীর আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্লাহ, খেলাফত মজলিসের ফেনী জেলা আমির মাওলানা মোজাফফর আহমদ জাফরী, এনসিপি ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকতসহ জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘যদি আমি নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারি, তাহলে আমি মোংলা বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য পুনরুদ্ধার করব। চট্টগ্রামের সাথে তাল মিলিয়ে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। শ্রমিকদের জন্য এবং পরিবেশবান্ধব এই এলাকার নির্মাণে মনোযোগ দেওয়া হবে এবং সুন্দরবনকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করা হবে। আমি জানাতে চাই যে, আমি বেঁচে থাকা অবস্থায় সংখ্যালঘুদের প্রতি কোনও ক্ষতি সাধন করা যাবে না। আমি হিন্দু, মুসলিম এবং খ্রিস্টান সকল সম্প্রদায়কে একত্রিত করে শান্তি ও উন্নয়নের একটি সমাজ গড়ে তুলবো।’
তিনি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে মোংলা পৌর শহরের ঈদগাহ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা ব্যক্ত করেন।
ভোটার ও দলের নেতাকর্মীদের তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সকলেই সতর্ক থাকবেন, কেন্দ্রে যাতে কেউ জাল ব্যালট এবং সিল নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে। ভোট দেওয়ার পর গণনা শেষে ফলাফল নিয়ে আপনাদের বাড়ি ফিরতে হবে। যদি ভোটকেন্দ্রে কেউ জালিয়াতি করার চেষ্টা করে, তবে তাকে ধরে প্রশাসনের হাতে তুলে দিন।’
জনসভায় মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী সভাপতিত্বের পাশাপাশি অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, মোংলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রুস্তুম আলী এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল হালিম খোকন। সভার শেষে পৌর শহরে নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে একটি গণমিছিল বের করা হয়।
অন্যদিকে, সোমবার বিকেলে থানার হেলিপ্যাড মাঠে নির্বাচনী সময়ের শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত করেছেন মোংলা-রামপাল আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ।
সেখানে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াত ঘের লুট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং চাঁদাবাজি করে না। যারা নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তারা কীভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারবে? আওয়ামী লীগের সময়ে যারা নিজেদের দলের সুরক্ষা দিতে পারেনি, তারা আবার কিভাবে ভোট চাইবে? জামায়াত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পেরেছে, তাই আমাদের দেশ পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ভোট দিয়ে জামায়াতকে নির্বাচিত করবেন এবং মনে রাখবেন ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ইনশাআল্লাহ।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীকে ‘জাতীয় প্রতারক দল’ উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভোটের জন্য জামায়াত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার কাজ করছে, তারা জান্নাত বিক্রি করছে। তাই ‘জান্নাত পার্টি’ থেকে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া বাস টার্মিনালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য বিএনপির একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ৩১ দফার ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে গণতান্ত্রিকভাবে সংস্কার করা হবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে এবং দেশের সব সেক্টরে কমিশন গঠন করে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে। সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়িত করা হবে।’
এই সাবেক প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সহজ ভাষায় বললে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়। মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানবাধিকার আদায়ের জন্য আর যেন কাউকে রক্ত দিতে না হয়, সে উদ্দেশ্যে এই সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
তরুণদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা রক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছেন একটি বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য। আমরা একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্রের জন্য আর কাউকে জীবন দিতে হবে না।’
ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করতে অনুরোধ জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাস এই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাস, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাস। আগামী ১২ তারিখে আপনারা সবাই বিনা দ্বিধায় ধানের শীষে ভোট দেবেন। ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। ইনশাআল্লাহ জনগণের বিজয় নিশ্চিত হবে, কারণ বিএনপির সরকার মানেই জনগণের সরকার।’
এর আগে দুপুর থেকেই চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। ঢাকঢোল, স্লোগান এবং নাচ-গানে মুখরিত হয়ে ওঠে বাস টার্মিনাল এলাকা। বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেককে আশপাশের ভবনের ছাদ ও বিলবোর্ডের কাঠামোতে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
বিকেল ৫টার দিকে মঞ্চে ওঠেন সালাহউদ্দিন আহমদ। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানালে নেতাকর্মীরা তাকে করতালি ও স্লোগানে স্বাগত জানান। জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদ এবং তাদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদ অভিযোগ করেছেন যে, নিজ দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তিনি জানায়, নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থীকে ‘অযোগ্য’ বলায় তাকে এই হেনস্তার সম্মুখীন হতে হয়।
এটি ঘটে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালী সদরের অশ্বদিয়া ইউনিয়নের বাল্যাকোট্টা এলাকায়। হাসনা মওদুদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পথসভায় বক্তব্য রাখছিলেন হাসনা। তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে, তিনি নোয়াখালী-৫ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামকে ‘অপরীক্ষিত, অযোগ্য ও অপরিচিত’ বলে অভিহিত করেন। এই মন্তব্য করার পরপরই উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন এবং কয়েকজন তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেন। পরে, ঐ সময় তার গাড়ি থেকে ধানের শীষের স্টিকার খুলে নেয়া হয়।
হেনস্তার বিষয়ে অভিযোগ করে হাসনা মওদুদ বলেন, ‘আমি আমেরিকান প্রবাসী কবিরের দাওয়াতে গিয়ে একটি পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলাম। সেখানে বিএনপির প্রার্থী ফখরুল ইসলামকে অযোগ্য বলার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা আমার সঙ্গে বেয়াদবি করে। এসব উচ্ছৃঙ্খল বাহিনীই এখন তারেক জিয়ার বিএনপি। তারা দলকে কোথায় নিয়ে গেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
অশ্বদিয়া ইউনিয়নে ধানের শীষের সমন্বয়ক আবু হাসান মো. নোমান জানান, ‘হাসনা মওদুদ আমাদের প্রয়াত নেতার স্ত্রী। উনাকে কে বা কারা হেনস্তা করেছে, তা জানি না। তবে শুনেছি, তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর বিরোধিতা করতে গিয়ে তারেক রহমানের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তার মাইক কেড়ে নিয়েছেন।’
২০২১ সালের ১৬ মার্চ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মারা যাওয়ার পর থেকে যে কোনো দলীয় কর্মকাণ্ডে হাসনা খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। তবে এবারের নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হন। কিন্তু মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। পরে, দলের অনুরোধে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বলে দাবি করেছেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনায় দেশের উন্নয়ন সাধনে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও জুলুমবাজদের রাজনীতি থেকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোটারদের সতর্ক করে ড. হামিদুর রহমান আযাদ উল্লেখ করেন, ‘বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কেন্দ্র দখল, হুমকি-ধমকি ও নির্বাচন প্রকৌশলের মাধ্যমে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা থেকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’ ভোটের দিন সকাল থেকে কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মহেশখালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাবেক এই এমপি বলেন, ‘মহেশখালী আগামী দিনে “ব্লু ইকোনমি”র কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমবে, পণ্যদ্রব্যের দাম কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে। এতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও মৎস্য রপ্তানির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘দেশে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে মেধা পাচার হচ্ছে। সৎ ও মেধাবী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাবে।’ নির্বাচিত হলে তিনি মহেশখালীতে বিদ্যমান গোষ্ঠীগত বিরোধের নিষ্পত্তি ও লবণ আমদানির পরিবর্তে রপ্তানির ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি করেন। নিজের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, শত কোটি টাকার কাজ করেও তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কোনো দুর্নীতির প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাজনীতি করে। মহেশখালী-কুতুবদিয়া স্বর্ণ নয়, হীরা। এ হীরার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সৎ, যোগ্য ও আমানতদার নেতা হিসেবে ড. হামিদুর রহমান আযাদের বিকল্প নেই।’
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনে ড. হামিদুর রহমান আযাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে তিনি জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবেন। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিন।’
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা এই অঞ্চলের মানুষের আস্থার প্রতীক। এমপি নয়, মন্ত্রী নির্বাচনের সুযোগ এসেছে; তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচিত ইসলামী বক্তা শাইখ আলী হাসান ওসামা বলেন, ‘ভোট একটি আমানত। ন্যায়বিচার, ইনসাফ, বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রকৃত শরিয়াহর চেতনা।’ তিনি উপস্থিত জনতাকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকের হোসেন, কক্সবাজার শহর জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ