ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বাং

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে বাড়ছে শঙ্কা, বন্দরে জারি ৩ নম্বর সতর্কতা


বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে বাড়ছে শঙ্কা, বন্দরে জারি ৩ নম্বর সতর্কতা

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় মৌসুমী নিম্নচাপেপরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসাথে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত আবহওয়া সম্পর্কিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় (২০.৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) মৌসুমী নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এটি অবস্থান করছিল। এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আরো ঘণীভূত হতে পারে।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু

এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া চলে আসতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটার-এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলার পাশাপাশি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিং মাছ চাষে বাড়ছে জনপ্রিয়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


শিং মাছ চাষে বাড়ছে জনপ্রিয়তা

দেশে শিং মাছ চাষ এর জনপ্রিয়তা এবং লাভজনকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খেতে সুস্বাদু এবং সহজপাচ্যসহ উচ্চমানের প্রচুর আমিষ থাকায় শিং মাছের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। শিং মাছ চাষের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এটি কম জায়গায় এবং অধিক ঘনত্বে চাষ করা সম্ভব। ফলে ফলস্বরূপ, বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক এ মাছ চাষে চাষিদের আগ্রহ ক্রমবর্ধমান।

চাষিদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ৫০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে দেশি শিং মাছ চাষ করে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত মৎস্য চাষিরা আধা নিবিড় চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করে শিং মাছ চাষ করেন। এই পদ্ধতিতে তারা তুলনামূলক বেশি মুনাফা লাভ করেন।

দেশের শিং মাছের পোনা উৎপাদনের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধলা এলাকা। সেখানে থেকে মাছের পোনা সংগ্রহ করে চাষিরা নির্ধারিত পুকুর বা জলাশয়ে চাষ শুরু করেছেন। তাছাড়া কুমিল্লা, যশোর, নরসিংদী, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলেও বর্তমানে শিং মাছের চাষ হচ্ছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলা গ্রামের মাছ চাষিরা দেশি শিং মাছ চাষ করে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করেছেন। এক শতাংশের একটি ক্ষুদ্র পুকুরে শিং মাছ চাষ করে প্রতি ৬ মাস অন্তর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করার নজির স্থাপন করেছেন।

মাছ চাষকে কেন্দ্র করে ধলায় গড়ে উঠেছে ৩৫টি মৎস্য হ্যাচারি এবং কমপক্ষে ৫০০ পরিবার মাছ চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মাছ চাষ করে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৬ জন মৎস্য চাষি।

আজিম উদ্দিন, ধলা গ্রামের একজন মাছ চাষি, মাছ চাষ করে পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন এবং রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে তার ৩০টি পুকুরে মাছ চাষ করা হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, এক শতক জায়গায় কার্প জাতীয় মাছ ৫০ থেকে ৬০টি চাষ করা যায়, তবে তুলনামূলকভাবে অল্প জায়গায় শিং মাছ চাষ করে অনেক বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।

মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত ধলার যুবক অজিৎ বর্মণ বলেছেন, লেখাপড়ার পাশাপাশির তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছের পোনা সরবরাহ করেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জলাশয় খালি পড়ে আছে। সেসব জলাশয়ে অন্তত ৬ মাস শিং মাছ চাষ করে অনেক বেকার যুবক আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে।

দুইজন মাছ চাষি জানান, বর্তমান বাজারে ১ দশমিক ৫ বা ২ ইঞ্চির প্রতিটি শিং মাছের দাম ৩ টাকা। সে অনুযায়ী, ৫০ হাজার শিং মাছের পোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সঠিকভাবে খাবার এবং যত্ন নেওয়া হলে ৫ থেকে ৬ মাস পরে প্রতিটি শিং মাছের ওজন ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম হয়ে যায়, অর্থাৎ ৬ মাস পর ২০ থেকে ২৫টি শিং মাছের ওজন এক কেজি হতে পারে।

ধলার মাছ চাষিদের তথ্যানুসারে, যদি কোনো জলাশয়ে ৫০ হাজার শিং মাছ চাষ করা হয়, তাহলে কমপক্ষে ৪৮ হাজার শিং মাছ টিকে থাকে। ৬ মাস পর ৪৮ হাজার শিং মাছের মোট ওজন দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২০ কেজি। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি শিং মাছের পাইকারি বিক্রয় মূল্য ৫০০ টাকা। তাই ১ হাজার ৯২০ কেজি মাছের বিক্রয় মূল্য হয় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এদিকে, ৪৮ হাজার মাছের জন্য ৬ মাসে সর্বাধিক ৪ টন খাবার প্রয়োজন হয়। যদি প্রতি টন মাছের খাবারের খুচরা মূল্য ৫০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ৪ টন খাবারের মোট দাম দাঁড়ায় ২ লাখ টাকা। কোনো জলাশয়ে ৬ মাস ধরে ৪৮ হাজার শিং মাছ চাষ করতে গেলে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ হয়ে থাকতে পারে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিলে, ৫০ হাজার শিং মাছ চাষ করে প্রতি ৬ মাসে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

সাধারণ হিসেব অনুযায়ী, এক শতাংশ জায়গায় ১ হাজার শিং মাছ চাষ করা সম্ভব। ৫০ হাজার শিং মাছ চাষ করার জন্য একটি ৫০ শতাংশের পুকুর বা জলাশয় প্রয়োজন হবে, যা থেকে বছরে অনুমান ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

কই, শিং এবং ঢেলাসহ দেশীয় ও হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন ছোট মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর সাবেক পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এইচ এম কোহিনুর।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই মৎস্য বিজ্ঞানী শিং মাছ চাষের সম্ভাবনা ও পদ্ধতি সম্পর্কে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের সঙ্গে বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, শিং মাছ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাছ। এ মাছে ফ্যাট বা তেলের পরিমাণ কম এবং সহজপাচ্য উচ্চমানের প্রচুর আমিষ থাকায় সবার মধ্যে বরাবরই বিশেষ করে রোগীদের মধ্যে এ মাছের ব্যাপক চাহিদা ও কদর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জিয়ল মাছের চাহিদা অন্য মাছের চেয়ে আরও কিছুটা বেশি। সাধারণত মৎস্য চাষিরা আধা নিবিড় চাষ পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষ করে থাকে। এই পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষে অধিক লাভ হয়ে থাকে। ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে অনেক চাষি বিএফআরআই-এর কারিগরি সহযোগিতায় শিং মাছের নিবিড় চাষে আকর্ষণীয় লাভ পেয়েছেন।

ড. এ এইচ এম কোহিনুর বলেন, শিং মাছের নিবিড় চাষের জন্য ২০ থেকে ৬০ শতাংশ আয়তনের ছায়াযুক্ত পুকুর নির্বাচন করা যেতে পারে, যেখানে বছরে কমপক্ষে ৭-৮ মাস ১ থেকে ১.৫ মিটার পানি থাকতে হবে। শিং মাছ নিবিড় চাষের জন্য প্রথমেই পুকুরটি ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। পুকুরের তলদেশের পচা কাদা অপসারণ করে ৭ দিন রৌদ্রে শুকাতে হবে। এর পর তলা থেকে ক্ষতিকারক জীবাণু ধ্বংস করতে হবে এবং প্রতি শতাংশে ১৫ থেকে ২০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার ভালোভাবে ছিটিয়ে ৩ থেকে ৫ দিন পর পুকুরকে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ১ মিটার পরিমাণ পূর্ণ করতে হবে।

পানি পূর্ণ হওয়ার পর শতাংশ প্রতি শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ কেজি কলিচুন পানিতে মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করে পুকুরে প্রয়োগ করতে হবে। চুন প্রয়োগের ৩ দিন পরে পোনা মজুদের ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিং মাছের পোনা পরিবহনকালে মৃত্যুর ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে, সেক্ষেত্রে পোনা পরিবহনের সময় প্লাস্টিক ড্রাম ব্যবহার করাই উত্তম।

তিনি বলেন, দূরত্ব অনুযায়ী প্রতি ড্রামে ৭ থেকে ৯ সেন্টিমিটার আকারের ২ থেকে ৩ কেজি পোনা অথবা ১ হাজার থেকে দেড় হাজার পোনা পরিবহন করা সম্ভব। এভাবে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার সময় দূরত্বে নির্বিঘ্নে পোনা পরিবহন করা যেতে পারে।

শিং মাছের নিবিড় চাষ ব্যবস্থাপনায় প্রতি শতাংশে ৬ হাজার সুস্থ্য-সবল এবং গুণগত মানসম্পন্ন পোনা প্রস্তুতকৃত পুকুরে মজুদ করা যেতে পারে। পোনা পুকুরে মজুদের সময় অবশ্যই পোনা ভর্তি পাত্রের পানির তাপমাত্রা ও পুকুরের পানির তাপমাত্রা সমান রাখতে হবে এবং ভালোভাবে অভ্যস্থকরণ বা কন্ডিশনিং করতে হবে। পোনা মজুদের পরের দিন থেকে প্রাণিজ প্রোটিন (৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ) সমৃদ্ধ সম্পূরক খাদ্য মাছের দেহ ওজনের শতকরা ১৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে প্রয়োগ করা উচিত। সম্পূরক খাদ্যটি দুই ভাগে বিভক্ত করে সন্ধ্যার আগে ও সূর্য উদিত হওয়ার আগে প্রয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক বলেন, শিং মাছের জন্য নিয়মিতভাবে পুকুরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পানির গভীরতা ৪ থেকে ৫ ফুটের মধ্যে রাখতে হবে। প্রতি ১৫ দিন পরপর শিং মাছের নমুনায়ন করে সম্পূরক খাদ্যের পরিমাণ নির্ধারণ এবং পোনা মজুদের এক মাস পর হতে প্রতি ১৫ দিন অন্তর শতাংশ প্রতি ১০০ গ্রাম চুন ও পরবর্তী ১৫ দিন পর ৪০০ গ্রাম লবণ প্রয়োগ করতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ দিন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা আবশ্যক।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত পোনা মজুদের সাত মাস পর মাছ আহরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সময়ে মাছের গড় ওজন ৫৫ থেকে ৬৫ গ্রাম হয়ে থাকে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ৫০ শতাংশ পুকুর থেকে ৭ মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার কেজি শিং উৎপাদন করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে শিং মাছের নিবিড় চাষে ৫০ শতাংশ পুকুরে চার লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় করে এক ফসলে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রেল কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রেল কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা

বাংলাদেশ রেলের কর্মকর্তা মামুন মিয়াকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রেমিকা বিউটি আক্তারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন, কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

গত ১৪ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপপরিদর্শক তারেক হাসান তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৬ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, এক বছর আগে মামুনের সাথে বিউটির ননদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ঘটে। পরে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রায়ই দেখা করতে থাকে। বিষয়টি জানত না মামুনের পরিবার। শুক্রবার চিকিৎসার কথা বলে বিউটি ঢাকায় আসে। মহাখালীর টিবি গেট এলাকায় একটি রুম ভাড়া নেয়। মামুনকে সেখানে আসতে বলে দেখা করার জন্য।

গত ১১ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মামুন সেখানে যায়। বিউটি বিয়ে করার জন্য তাকে চাপ দেয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে বিউটি দুপুর দেড়টার দিকে ফল কাটার ছুরি দিয়ে মামুনের গোপনাঙ্গে আঘাত করে। একই সঙ্গে পেটেও ছুরি মারে। মামুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মামুন মারা যায়।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. শমসের আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ১২ জুলাই বিউটিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে পেপেঁ চাষে সুমনের সংগ্রামী জীবন নতুন করে দাঁড়িয়ে উঠেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


বরিশালে পেপেঁ চাষে সুমনের সংগ্রামী জীবন নতুন করে দাঁড়িয়ে উঠেছে

বাবুগঞ্জ উপজেলার সংগ্রামী যুবক আবু বকর সিদ্দিকী সুমন, যিনি একজন সফল উদ্যোক্তার তকমা নিয়ে পরিচিত, তার সংগ্রামের গল্প এক অনুপ্রেরণা। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সংগ্রাম করতে করতে, আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি জীবনে কখনো রেলওয়ের চাকরি, কখনো রংমিস্ত্রি আবার কখনো দিনমজুরের কাজ করেছেন।

বর্তমান সময়ে, তিনি শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং হাজারো যুবককে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যুবক, শিক্ষার্থী, বেকার ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে ইতিমধ্যে তিনি দুই হাজারেরও বেশি কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

অভাবের কারণে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে পড়াশোনা বন্ধ করে রেলওয়ে চাকরি গ্রহণ করেন বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকী সুমন। চাকরির পর তিনি ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বিদেশে, বিশেষত লেবাননের বৈরুতে যান। তবে যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে তিনি সিরিয়া ও ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন দেশ ঘুরে ১৭ মাস পর দেশে ফিরতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ঢাকার ফকিরাপুলে কখন রংমিস্ত্রি এবং কখন দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন।

২০২১ সালে মাছ চাষের জন্য ঋণগত কারণে তৎকালীন বাবুগঞ্জের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুজ্জামানের নির্দেশনায়, মাছের পাশাপাশি তিনি পেঁপে চাষ শুরু করেন। মৎস্য অধিদপ্তরের ৫০ হাজার টাকা সহায়তায় তিনি চাষে হাত দেন। শুরুতে ব্যর্থ হলেও পরে গাজীপুর থেকে উন্নতমানের পেঁপের বীজ এনে নিজেই চারা উৎপাদন শুরু করেন।

২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রযুক্তি শেখার পর নিজের পতিত জমিতে আধুনিক পেঁপে বাগান গড়ে তোলেন। বর্তমানে ১ একর ৪৮ শতক জমি এবং তিনটি মাছের ঘেরের পাড়জুড়ে প্রায় ১ হাজার ২৫০টি পূর্ণবয়স্ক পেপেঁ গাছ দাঁড়িয়ে আছে। বাগানে শাহী, কাশ্মীরি ও টপ লেডি জাতের পেঁপে চাষ করা হয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে চার থেকে পাঁচ মণ পর্যন্ত ফল উৎপন্ন হয়। তার বাগানে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি ওজনের একটি পেঁপেও উৎপাদিত হয়েছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে সুমন কাঁচা ও পাকা মিলিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকার পেঁপে এবং ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার পেঁপের চারা বিক্রি করেছেন। এতে তার লাভ হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা। গত মৌসুমে সুমন প্রায় ১৫ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। চলতি মৌসুমে কাঁচা ও পাকা মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির প্রত্যাশা করছেন। এছাড়াও চলতি বছরের শুরুতে পেঁপের চারা বিক্রি করে প্রায় ৭ লাখ টাকা লাভ করেছেন।

চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও তার এসেছে ধারাবাহিক সাফল্য। ২০২৩ সালে ছয় হাজার চারা বিক্রির মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়, তবে ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ হাজারে। ২০২৫ সালে চারা বিক্রির সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখে পৌঁছায়। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝেও ২০২৬ সালে ছয় লাখ চারা উৎপাদন ও বিক্রি করেছেন তিনি।

আগামী বছরে সারাদেশে ২০ লাখ চারা বিক্রির লক্ষ্য স্থির করে তিনি ইতিমধ্যেই একটি আধুনিক পলি হাউজ নির্মাণ করেছেন। প্রতিটি চারায় খরচ বাদ দিয়ে প্রায় পাঁচ টাকা লাভ হয় বলে জানান তিনি। শুধু পেঁপে নয়, মাছের ঘেরের পাড়ে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, চিচিঙা, ধুন্দুল, করলা ও বরবটি সহ বিভিন্ন সাথী ফসলও চাষ করছেন। পুকুরপাড়ে মাচা পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করেও বছরে অতিরিক্ত কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন।

সাফল্যের কথা তুলে ধরে সুমন বাসস’কে বলেন, “আমাদের দেশে কৃষিই হতে পারে বেকারত্ব দূর করার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। মাত্র কয়েকটি গাছই বদলে দিতে পারে একজন বেকার চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীর জীবন।”

তিনি জানান, “আমি চাই বেকার যুবক ও শিক্ষার্থীরা কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করুক। একজন শিক্ষার্থী যদি পড়াশোনার পাশাপাশি মাত্র ২৫টি উন্নত জাতের পেঁপে গাছ লাগিয়ে সঠিক পরিচর্যা করেন, তাহলে একটি মৌসুমেই প্রায় এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। অন্যের চাকরির অপেক্ষায় না থেকে বাড়ির পতিত জমিকে কাজে লাগাতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার ট্রেনিং সেন্টারে বিনা মূল্যে পেঁপে চাষের প্রশিক্ষণ দিই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এসে প্রশিক্ষণ নিয়ে সফল উদ্যোক্তা হচ্ছেন।

অল্প জমিতে বেশি ফলন উৎপাদনের স্বীকৃতি হিসেবে দেশ-বিদেশ থেকে সাতটি সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নেপাল থেকে কৃষি সম্মাননা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, ভারতের মহাত্মা গান্ধী ও মাদার তেরেসা সম্মাননাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে।

বায়লাখালী গ্রামের তরুণ সফিকুল ইসলামের সঙ্গে আলাপকালে জানান, “সুমন ভাই নিজে সফল হওয়ার পর এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার কাছে প্রশিক্ষণ নিতে আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে চারা নিয়ে সফলভাবে পেঁপে চাষ করছেন।”

বাবুগঞ্জের আসলাম উদ্দিন বলেন, “আমি তার কাছ থেকে উন্নত জাতের চারা নিয়ে চাষ করে সফল হয়েছি। এটা আমার নতুন আয়ের উৎস সৃষ্টি করেছে।”

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বাসস’কে বলেন, “আমরা একাধিকবার তার বাগান পরিদর্শন করেছি। তিনি একজন পরিশ্রমী ও উদ্যমী কৃষি উদ্যোক্তা। উন্নতমানের পেঁপের চারা উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি কৃষকদের সহায়তা করছেন। তার এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয়। তাকে অনুসরণ করে অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষে এগিয়ে এলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে বাড়ছে ডিপ টিউবওয়েলের ব্যবহার, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


রাজধানীতে বাড়ছে ডিপ টিউবওয়েলের ব্যবহার, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান পানির তীব্র সংকট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি সঠিকভাবে না পেলেও তাদেরকে অতিরিক্ত ওয়াসার বিল গুনতে হচ্ছে। সংকট থেকে মুক্তি পেতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ডিপ টিউবওয়েল বসানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাময়িক সমাধানের ফলে ভবিষ্যতে আরো বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে।

সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ওয়াসার লাইনে পর্যাপ্ত পানি নেই। অনেক এলাকা এমনকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও এক বালতিও পানি পায়নি।

পানির লাইনে পানি না এলেও মাস শেষে পুরো ওয়াসার বিল দিতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, পানি না এলেও তাদের বড় অংকের বিল দিতে হচ্ছে। তারা প্রশ্ন করছেন, পানি ছাড়া এত টাকা বিল আসে কীভাবে! তাই বাধ্য হয়ে কোথাও যৌথ উদ্যোগে, আবার কোথাও ব্যক্তিগত অর্থায়নে ডিপ টিউবওয়েল বসানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবির ভিত্তিতে, একটি ডিপ টিউবওয়েল বসাতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার খরচ হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়াই এসব গভীর নলকূপ বসানোর অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সংকটের মূল কারণ দূর না করে ডিপ টিউবওয়েল বসানো হলে, তা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নেমে যেতে পারে। এতে করে ভবিষ্যতে পানির সংকটের পাশাপাশি নগর অবকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়বে।

বিআইপির নগর পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেছেন, ডিপ টিউবওয়েলগুলো ওয়াসার উদ্যোগে হচ্ছে এবং পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও বসানো হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো হবে যদি ঢাকা ওয়াসা তাদের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি পরিচালনা করে এবং কোনো ব্যক্তি মালিকানায় ডিপ টিউবওয়েলের অনুমতি না দেয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, যে এলাকায় বেশি এলোমেলোভাবে ডিপ টিউবওয়েল হবে, সেই এলাকায় ভূমিকম্প বা অন্য কোনো দুর্যোগ হলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নকাজ চলছে। নিয়মের বাইরে ডিপ টিউবওয়েল বসানো হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:২৬
জোহর ১১:৫৭
আসর ০৪:২৩
মাগরিব ০৬:০৯
ইশা ০৭:২০
সূর্যোদয় : ০৫:৪৩ সূর্যাস্ত : ০৬:০৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%