বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
১০:০২ পি.এম
কুমিল্লা, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী কুমিল্লা-৬ আসনের বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেবেন বলে জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাসসের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, "মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা সবচেয়ে জরুরি। আর এই মৌলিক চাহিদাকে পূরণ করতে হলে প্রথমে বেকারদের কর্মসংস্থান করতে হবে। এই কারণে সবার আগে বেকারদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সচেষ্ট হব।"
জাতীয় নির্বাচনে কুমিল্লা ৬ আসন থেকে বাসদ তার দলের প্রতীক মই নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি আসনের কনিষ্টতম প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হন এবং বর্তমানে বাসদের কুমিল্লা জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য। হলফনামায় তার পেশা শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা রয়েছে এবং তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। এটি তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রথম অভিজ্ঞতা, এবং তিনি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার পূণ্যমতি এলাকার উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। জন্ম তারিখ ২০০০ সালের ২০ নভেম্বর।
তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ, বাসসের কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা সংবাদদাতা।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কি?
কামরুন্নাহার সাথী: "একজন সংসদ সদস্যের মূল দায়িত্ব দেশের আইন প্রণয়ন করা। জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও আবাসনের জন্য অবিরাম চেষ্টা চলানো। পাশাপাশি বেকারদের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। নির্বাচিত হলে আমি সর্বপ্রথম বেকারত্ব দূর করার দিকে কাজ করবো।"
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় বরাদ্দকৃত অর্থ যাতে সর্বোচ্চ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হয়, সে উদ্দেশ্যেও কাজ করবেন।
"একজন তরুণ হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, নতুন ধারণা ও উদ্যম দেশের উন্নয়ন ঘটাতে সহায়ক হবে।" এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের বিশ্বাস অর্জনের ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
বাসস: নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কি?
কামরুন্নাহার সাথী: "আমরা নির্বাচনি আচরণবিধি পূর্ণরূপে মেনে চলার প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের কর্মী ও সমর্থকদেরও এই বিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।"
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কি?
কামরুন্নাহার সাথী: "এ বিষয়ে আমার দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।"
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
কামরুন্নাহার সাথী: "জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমি হতাশ। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এখনও হয়নি এবং কালো টাকার প্রভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। ভোটারদের প্রতি আমার আবেদনের বিষয় হলো, কালো টাকা, পেশি শক্তি ও ধর্মীয় সংকীর্ণতায় আটকে না গিয়ে আদর্শ ব্যক্তিদেরকে নির্বাচিত করুন। আমার আশা শ্রদ্ধেয় নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজন করবে, যাতে প্রতিটি ভোটার স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোট দিতে পারে।"
এ আসনের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর ওবায়দুল কবির মোহন (তারা মার্কা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ (হাতপাখা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মো. মনিরুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)-এর মো. আমির হোসেন ফরায়েজী (ছড়ি)।
আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও সেনানিবাস এলাকা নিয়ে কুমিল্লা ৬ আসন গঠিত। এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩২৫ জন, নারী ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৫৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ৭ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘এপস্টিন ফাইল্স’-এর বিষয়বস্তু দেখার পর কঙ্গনা গভীরভাবে বিস্মিত হয়েছেন। তিনি জানান, বিখ্যাত এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত বছর রিয়া চক্রবর্তী শেষ পর্যন্ত ক্লিনচিট পেয়ে যান। কিন্তু অভিনেত্রী বোঝেন, তার মনে হয় এই পৃথিবীটা সহ্য করার মতো নয়।
এমন অনুভূতি কেন হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এক হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যারা ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসবে, তারা অবশ্যই তাদের মা-বোন এবং সন্তানের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে আসবেন; কারণ তোমরা আর ফিরতে পারবে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ১২-দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফীর সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা যে বাংলাদেশের আন্দোলন গড়ে তুলছি, সেটি হবে দুর্নীতিমুক্ত। আমরা নির্বাচনের নামে চলমান এই খেলা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিছু দল ভোটারদের টাকা দিয়ে আসে, বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণ করে, বাড়িতে গাড়ি-রিকশা-সিএনজি পাঠাচ্ছে। অথচ, সাধারণ মানুষ নিজেদের টাকা খরচ করে আমাদের প্রোগ্রামে আসছে। আপনারা কি বুঝতে পারছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি কতোটা মারাত্মক!’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। গত দেড় বছরে মানুষের থেকে জমা করা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অর্থ এবার নির্বাচনে ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে। নবীনগরের বাসীরা আগামী ১২ তারিখে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এই চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবেন।’
প্রশাসন ও পুলিশের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘প্রশাসনের ভাইয়েরা, আপনারা তো দেখছেন, দিনে ভোট রাতে দেয়া হচ্ছে। মৃত ব্যক্তিরা এসে ভোট দিচ্ছে। সেই ফলাফলের ভিত্তিতে আপনারা ৫ আগস্ট ফলাফল পেয়েছেন। কিছু অগ্রগামী অফিসার আছেন, যারা বলেছেন, ‘আমরা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।’ কিন্তু কিছু লোভী ব্যক্তির উদ্ভব হয়েছে। প্রিয় পুলিশ ভাইয়েরা, আপনি বেনজীর, হারুন ও বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিন।’
গণমাধ্যমের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘তৃণমূলের সাংবাদিকরা আমাদের জানাচ্ছে, ভাই আমরা খবর পাঠাই, কিন্তু সেই খবর কাটিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে, মিডিয়া একটি দলের বন্দনা ও প্রশংসায় ব্যস্ত। কিসে যেন বর্বর মিডিয়া! বিএনপির প্রচারণা চলছে এবং গত ১৭ বছর ধরে তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে খলনায়ক হিসেবে ঘোষণা করেছে। আজ, তারা তার পদলেহনে ব্যস্ত।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মিডিয়ার মালিকেরা হচ্ছেন মুনাফিক। যদি আপনারা আগামী নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করেন, তবে জনগণ এবার মিডিয়াকে লাল কার্ড দেখাবে।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই নির্বাচন ১৪ শ শহীদের নির্বাচনের প্রতীক। এই নির্বাচন ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার নির্বাচনের সাক্ষী। এই নির্বাচনে ৩০ হাজার ছাত্র-জনতার আহত হবার ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে। এ নির্বাচন আমাদের রক্ত, ঘাম ও শ্রমের ভিত্তিতে হয়েছে। অনেক স্ত্রী তার স্বামী এবং অনেক মা তার সন্তান হারিয়েছেন। যদি আপনারা ইনসাফ চান তবে ১২ তারিখ পর্যন্ত কাজের ব্যাপারে অবহেলা করবেন না।’
নিজের এক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যাকে উঁচু করেন... ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কথা বলে চলেছেন! গত দেড় বছর আগে রোজার ঈদে এক বিএনপি নেতা আমার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে ছিল। তখন আমি কিছু বলিনি, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছিলাম। দেড় বছর পর আল্লাহর কি বিচার, এখন সেই নেতার ব্যানারটা লাগানোর ক্ষমতা নেই।’
নবীনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসেন আখন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফী এবং জোটের নানা স্তরের নেতৃবৃন্দ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ নুরুজ্জামান বাদল (৫১) এর জানাজা সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রার্থীর মৃত্যুতে আসনটির নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত (বাতিল) করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় শেরপুর শহরের পৌর পার্ক মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় জানাজা বিকাল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে পোড়াগর এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে বাদলকে দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা এ টি এম মাসুম, ড. সামিউল হক ফারুকী, শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান এবং জামায়াতের পার্টির জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মী, বিএনপি এবং এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই আলহাজ মাসুদুর রহমান জানান, পবিত্র শবে বরাতের নামাজ শেষ করার পর তিনি বাসায় ফিরে যান। রাতের খাবার খাওয়ার পর আবার নামাজের প্রস্তুতির সময় শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার আরো অবনতি হলে ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রার্থীর পারলে আসনটির নির্বাচন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আরপিও-এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচন বাতিল ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হবে কিন্তু ১২ তারিখের আগে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।’
আলহাজ নুরুজ্জামান বাদল শেরপুর-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু রাজনীতির অঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলেছে। আসনটির জমজমাট নির্বাচনী পরিবেশে একটি ভাটা পড়েছে।
মরহুমের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বাদলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বাদল ছিল আমার কাছের ছোট ভাই। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চার দলীয় জোটের আন্দোলন ও সংগ্রামে সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করেছি এবং তার অকালের প্রয়াণে আমরা শোকাহত।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ