ঢাকা সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে সফর, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ইং ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩২বাং
সিএনএনের বিশ্লেষণ

ইরান পরমাণুমুক্ত হলে যুদ্ধের উদ্দেশ্য কি ছিল


ইরান পরমাণুমুক্ত হলে যুদ্ধের উদ্দেশ্য কি ছিল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার সূচনা করার আগে ঘোষণা করেছিলেন, যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি হলো বিশ্বের জন্য একটি অনিবার্য হুমকি। দীর্ঘ চার মাসের যুদ্ধ চলার পর, ট্রাম্প হঠাৎ করে সম্পূর্ণ বিপরীত সুরে কথা বলতে শুরু করেছেন। আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বারবার দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে অনেক বড় একটি সফলতা, কারণ ইরানকে সম্পূর্ণ পরমাণুমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু সামগ্রী এখন এত গভীর মাটির নিচে বা পাহাড়ের খাদে চাপা পড়েছে, যে সেগুলো উদ্ধার করা মানুষের পক্ষে কার্যত অসম্ভব। মার্কিন স্যাটেলাইটগুলো ওইসব জায়গাগুলোতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে, যার ফলে ইরানের পক্ষে আবার কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ নেই। এমনকি এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, পরোক্ষভাবে ইরানের পরমাণু সামগ্রী এখন আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আমেরিকার বাইরে অন্য কেউ সেখানে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে না।

সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এসব দাবির কোনও যুক্তিপূর্ণ ভিত্তি নেই এবং এগুলো সম্পূর্ণ স্ববিরোধী। যুদ্ধ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, তিনি দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা মোটেও অবশিষ্ট নেই। যদি এটাই সত্যি হয়, তবে ঠিক দুই সপ্তাহ পর ফেব্রুয়ারিতে আবার কোন অনিবার্য হুমকির কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

আরও পড়ুন: বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে নতুন আলোচনা, ফখরুলের সঙ্গে আরও একটি নাম এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু সামগ্রী মার্কিন হেফাজতে আনা এবং তেহরানকে একটি কঠোর স্থায়ী চুক্তিতে বাধ্য করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। গত ৭ এপ্রিল প্রথম যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে, গত তিন মাস ধরেই মার্কিন প্রশাসন একটি পরমাণু চুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যদি মাটির নিচে পারমাণবিক সামগ্রী চাপা পড়াই যথেষ্ট হয় এবং ইরান ইতিমধ্যে পরমাণুমুক্ত হয়ে থাকে, তবে কেন গত তিন মাস ধরে ওয়াশিংটন চুক্তির জন্য সময় ও অর্থ ব্যয় করেছে? ট্রাম্পের এই স্ববিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায়, যুদ্ধের সূচনা এবং এর ধারাবাহিকতা– সবকিছুই ছিল এক মিথ্যা অজুহাতের ভিত্তিতে।

ব্যর্থতা ঢাকতেই কি এই নতুন চাল?

প্রকৃত ঘটনা হলো, ইরানের সঙ্গে কোনো কার্যকরী চুক্তি করা ট্রাম্পের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন যে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন জনগণের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অবস্থান আরও সংকটের মুখে পড়বে।

সুতরাং, কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে প্রত্যাহার করার জন্য তিনি আজ থেকেই প্রস্তুতি করছে। তিনি মার্কিন জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, আমেরিকা যুদ্ধে জয়ী হয়েছে এবং যুদ্ধের শুরুতেই যে উদ্দেশ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা অর্জিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের বাদাখশানে বেড়েছে সোনা উত্তোলনের কাজ

যুদ্ধের পরিণতির বিষয়টি হলো, এটি শুধু ক্ষতির কারণ। ট্রাম্প তাঁর এই সামরিক অভিযানকে বিশাল সাফল্য হিসেবে প্রচার করলেও, বাস্তবে এই যুদ্ধের ফলাফল বিশ্বের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও ক্ষতিকর হয়েছে। এই অর্থহীন সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র ধাক্কা এবং মন্দার মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এছাড়া, বড় ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ হলো, এই যুদ্ধের ফলে ইরান শক্তি প্রদর্শন করেছে। তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছে, যা আগে কখনো এত স্পষ্ট ছিল না। হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের একক আধিপত্য মধ্যপ্রাচ্য ও গোটা বিশ্বের তেল বাণিজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করেছে। এর ফলে, ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, বরং এটি বিশ্বকে একটি চরম অর্থনৈতিক এবং সামরিক অনিরাপত্তার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কানাডার আলবার্টায় দুটি টর্নেডোর আক্রমণ, ব্যাপক ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৬ পি.এম


কানাডার আলবার্টায় দুটি টর্নেডোর আক্রমণ, ব্যাপক ক্ষতি

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের মধ্যাঞ্চলে যখন একটি শক্তিশালী ঝড়ও তৈরি হচ্ছিল, তখন সেখানে সৃষ্টি হওয়া দুটি টর্নেডোর ফলে অন্তত তিনজন আহত হন। এই আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। টর্নেডোর আক্রমণে একটি প্রাদেশিক পার্কের ক্যাম্পগ্রাউন্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি হয়েছে।

কানাডার আবহাওয়া সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা (ইসিসিসি) বৃহস্পতিবার জানায়, বুধবার রাতে পূর্ব আলবার্টার এডগার্টন এবং ডিলবেরি লেক প্রভিন্সিয়াল পার্ক এলাকায় পৃথক দুটি টর্নেডো আঘাত করে।

ডিলবেরি লেক প্রভিন্সিয়াল পার্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এডমন্টন শহর থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই পার্কের ক্যাম্পগ্রাউন্ডে টর্নেডোর আক্রমণে অসংখ্য গাছ উপড়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। পার্কটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পরপর পুলিশ, দমকল ও জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন। আলবার্টা ইমার্জেন্সি হেলথ সার্ভিসেস (ইএইচএস) জানায়, আহত তিনজনকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজনের আঘাত গুরুতর।

রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানায়, ডিলবেরি লেক প্রভিন্সিয়াল পার্কের ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থানরত সকলকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি নেই। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে নিকटবর্তী চভিন রিক্রিয়েশন সেন্টারে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ এবং ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কার্যক্রম শুরু করেছে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলাকাজুড়ে এখনো বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি বিদ্যমান। তাই বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামপুরে এমপি ও বিএনপি নেতার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২২ পি.এম


ইসলামপুরে এমপি ও বিএনপি নেতার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাবের ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামপুর ডাকবাংলোতে নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক পরামর্শ সভার সময় এই ঘটনা ঘটে।

ইসলামপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাব জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবু গত সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার বড় মেয়ে নাফিসা শাফিস বিন্তী এককভাবে এমপি ও দলীয় স্থানীয় নেতাদের ওপর খবরদারি করে আসছিলেন। উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হওয়ার সুবাদে, তিনি ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ, টিআর, কাবিখা, খাল খনন থেকে শুরু করে সরকারি সকল বরাদ্দ বণ্টনে একক আধিপত্য চালিয়ে আসছিলেন। এই কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

তিনি বলেছেন, শুক্রবার উপজেলার মলমগঞ্জ মডেল কলেজে একটি মতবিনিময় সভা ছিল। এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এমপি কন্যার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কর্মী সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ডাকবাংলোতে নতুন ইউএনও ও ওসি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পরামর্শ সভা করার সময় হঠাৎ এমপির মেয়ে বিন্তীর কর্মী সমর্থকরা ইসলামপুর ডাকবাংলোতে থাকা তার ব্যবহৃত এক্স নোয়া গাড়িটি ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে সেখানে থাকা এমপির একটি নোয়া গাড়িও তারা ভুলবসত ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন ইউএনওর যোগদান উপলক্ষে পরিচিত সভার উদ্দেশ্যে তিনি ডাকবাংলোতে পরামর্শ সভা করছিলেন। এসময় ডাকবাংলোতে থাকা তার গাড়িটি কে বা কারা ভাঙচুর করে।

তিনি জানান, ঘটনার পর তিনি ওসিকে তার ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি থানায় নিয়ে যেতে বলেন এবং তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন এমপি জানান, ঘটনাটি শোনার পর বিস্তারিত জানার জন্য তিনি এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুকে ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু এমপি তার ফোন রিসিভ করেননি।

তিনি বলেন, ঘটনার বিস্তারিত জানার পর পরবর্তীতে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, এমপি ও দলের সাধারণ সম্পাদকের দুটি গাড়িই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে। দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে ড্রোন ইউনিট তৈরি করছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে ড্রোন ইউনিট তৈরি করছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ দেশের বিপুল পরিমাণে নজরদারি জোরদার করতে এবং অভিযানে গতি আনতে প্রতিটি রাজ্যে ড্রোন ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই ড্রোন ইউনিটগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি রাজ্যের প্রয়োগকারী বিভাগে দক্ষ ড্রোন অপারেটর প্রস্তুত রাখার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

২০২১ সালে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির উদ্দেশ্যে কয়েকটি ছোট ড্রোন কেনার মাধ্যমে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের শুরু ঘটে। ২০২৪ সালে ক্রমবর্ধমান অভিযানিক প্রয়োজন মেটাতে আরও ড্রোন যুক্ত করে এর সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

বর্তমানে, এই ড্রোনগুলো দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযান ও তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করছে। কর্মকর্তারা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযানের সময় আকাশ থেকে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দুর্গম এলাকার তথ্য সংগ্রহ এবং অভিবাসন ডিপো থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামিসহ যেকোনো পলাতক সন্দেহভাজনদের অবস্থান সহজে শনাক্ত করছে।

এটি আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের শারীরিক ঝুঁকির আশঙ্কা কমানোর পাশাপাশি অভিযানগুলোর সার্বিক কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করেছে।

ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে এই ড্রোনগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে এর লক্ষ্যবস্তু এলাকার ম্যাপ তৈরিসহ আরও উন্নত কাজ করতে সক্ষম হবে।

প্রযুক্তিগত এই সুবিধার ফলস্বরূপ, বর্তমানে যেকোনো অভিযানে অপরাধী আটকের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং প্রয়োজন পড়লে সামনে ড্রোন ও প্রশিক্ষিত পাইলটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ বছরে ছয়বার গ্রেপ্তার, তবুও থামেনি মাদক কারবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৭ পি.এম


১০ বছরে ছয়বার গ্রেপ্তার, তবুও থামেনি মাদক কারবার

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থেকে ২০১৬ সালের ১৮ মে মো. রবিন নামের এক যুবককে ৫১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা হয়ন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান কামরাঙ্গীরচর থানার তৎকালীন এসআই হিমায়েত হোসেন। এক মাসের মধ্যে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে ১৮ জুন রবিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। তবে গত ১০ বছরে মাদক ও অন্যান্য অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে ছয়বার গ্রেপ্তার হলেও পাল্টাননি রবিন। 

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। অভিযোগপত্রে ১০ জন সাক্ষী করা হলেও কেবল বাদী একা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ বাকি ৯ জনই সাক্ষ্য দিতে আদালতে যাননি। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত ৬ মে প্রমাণের অভাবে রবিনকে খালাস দেন ঢাকার একটি আদালত।

রায় ঘোষণার পর রবিন সম্পর্কে তথ্য খুঁজেছে সমকাল। রবিন পেশাদার মাদক বিক্রেতা। কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করেন। তিনি নিজেও মাদক সেবন করেন। একাধিকবার মাদকসহ গ্রেপ্তার হলেও ওই পথ থেকে ফেরেননি তিনি। ২০১৬ সালের ১৮ মে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুদিন পর রবিন জামিনে বের হয়ে ফের একই পথে হাঁটেন। আদালতে যখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাঁর বিচার চলমান তখনও তিনি মাদক কেনাবেচা করেন এবং ওই মামলায় খালাস হওয়ার আগে মাদকসহ আরও তিনবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১০ মে ও ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই মারামারিসহ বিভিন্ন মামলায় আরও দুবার গ্রেপ্তারের পর কারাভোগ করতে হয় তাঁকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রবিনের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার আটিপাড়া এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন তিনি কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বাস করেন। তবে যতবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, ততবারই জামিনে বেরিয়ে বাসা বদল করেছেন। এক মহল্লা থেকে আরেক মহল্লায় বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক কারবার করেন। ২০১৬ সালে যখন ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন, তখন তার বাসা ছিল কামরাঙ্গীরচরেরর চাঁন মসজিদ রোডে। জামিনে বেরিয়ে সেই বাসা ছেড়ে একই থানার খলিফাঘাট এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে একাধিকবার বাসা বদল করেন তিনি। 

কামরাঙ্গীরচর থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আবার পুলিশের গ্রেপ্তার হন রবিন। এদিন রাত সাড়ে ১১টায় কামরাঙ্গীরচর মুনসুরবাগ এলাকায় রবিন এবং তাঁর সহযোগী মাকসুদুর রহমান ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের আটক করে তল্লাশি করে। এ সময় রবিনের কাছ থেকে একশ গ্রাম গাঁজা ও মাকসুদুরের কাছে ১৫ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রবিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয় কামরাঙ্গীরচর থানায়। ওই মামলায় কারাগারে যান তারা। জামিনে মুক্ত হয়ে রবিন আবার মাদক কেনাবেচা শুরু করেন। 

দেড় বছরের ব্যবধানে ফের মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয় তাঁকে। ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচরের রনি মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এবারও বেশিদিন কারাভোগ করতে হয়নি। জামিনে বেরিয়ে আসেন। একই পথে পা বাড়ান তিনি। ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারিতে আবার গ্রেপ্তার হন। এদিন কামরাঙ্গীরচরের কুড়ারঘাট এলাকা থেকে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাকে। এই মামলায় কারাগারে যান তিনি।
কামরাঙ্গীরচর থানার দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি মাদক মামলা তদন্ত শেষে রবিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

গত ৬ মে যে মামলায় রবিন খালাস পেয়েছেন, সেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমকাল। তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেও কেন সাক্ষ্য দেননি তা জানতে চাওয়া হয় এসআই হিমায়েত হোসেনের কাছে। তিনি বলেন, কামরাঙ্গীরচর থানা থেকে তিনি কদমতলী থানায় বদলি হন, এরপর সিলেটে। বর্তমানে শরীয়তপুর জেলায় কর্মরত। তিনি বলেন, অনেক মামলায় তো সাক্ষ্য দিয়েছি। রবিনের বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষ্য দিয়েছি কিনা মনে নেই। 

তাঁকে জানানো হয়, আদালতের নথি অনুযায়ী এই মামলায় সাক্ষ্য দেননি। জবাবে বলেন, নথি ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি গোলাম ফারুক বলেন, রবিন চিহ্নিত মাদক কারবারি। একাধিকবার মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছে। প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে আবার একই কাজ করে রবিন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে সফর, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:১০
জোহর ১২:০৫
আসর ০৪:৪০
মাগরিব ০৬:৩৬
ইশা ০৭:৫২
সূর্যোদয় : ০৫:৩১ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%