ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বাং

বান্ধবীদের ‘গোপন ছবি’ প্রেমিককে পাঠানোর ঘটনায় শাস্তির দাবি ছাত্রশক্তির


বান্ধবীদের ‘গোপন ছবি’ প্রেমিককে পাঠানোর ঘটনায় শাস্তির দাবি ছাত্রশক্তির

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই-৩৬’ আবাসিক হলের এক ছাত্রী প্রেমিকের কাছে বান্ধবীদের গোপন ছবি পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তি।

শনিবার (৮ আগস্ট) সংগঠনটির শাখা আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান ও সদস্যসচিব ইফতেখার উদ্দিন মো. তামিমের যৌথ স্বাক্ষরে সাংবাদিকদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঘটনাটির দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু

আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে বিবৃতিতে কিছু দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা; ক্যাম্পাস এবং আবাসিক হলগুলোতে যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং, স্লাট-শেমিং এবং ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রচার প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া; প্রতিটি আবাসিক হলে প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও গোপনীয় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; এবং ছাত্রীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

এছাড়া, কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও তার অনুমতি ছাড়া ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার অথবা হয়রানির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে অভিযুক্ত যে ব্যক্তি হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ছাত্রশক্তি বিশ্বাস করে, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে তদন্তের নামে কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য বা পরিচয় প্রকাশ করে তাকে নতুন করে হয়রানির শিকার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর হল প্রশাসন এবং আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি সভা করে অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাকে তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও তদন্ত কমিটি জব্দ করেছে। এ ছাড়া, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যদি কারও কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা আগামী ৯ আগস্ট অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে প্রভোস্ট বরাবর লিখিতভাবে জমা দেওয়ার জন্য হলের সব আবাসিক ছাত্রীকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে

ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামানকে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তা বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে ধীরগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তা বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে ধীরগতি

বন্ধ কারখানা চালু করা এবং স্থবির অর্থনীতি চাঙ্গা করার লক্ষ্যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যে, নীতিসহায়তা এবং প্রণোদনা পেতে ব্যাংক বা সরকারের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহারের নতুন শর্তের জন্য বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, যদি আগাম মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং পরে সুবিধা না পাওয়া যায়, তাহলে ভুক্তভোগী গ্রাহকের জন্য আর কোনো আইনি সুরক্ষাকবচ থাকবে না।

চলতি বছরের মে মাসে, বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫টি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন এবং নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিছুদিন পর, খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ ‘এক্সিট পলিসি’ শিথিল শর্তে চালু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে গত ২৯ জুলাই, একটি প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায় যে, যেকোনো সুবিধার পূর্বশর্ত হিসেবে গ্রাহককে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে চলমান রিট পিটিশনসহ সব মামলা হলফনামার মাধ্যমে প্রত্যাহার করতে হবে।

এই শর্ত আরোপের ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহারের পর নীতিসহায়তা না মিললে উদ্যোক্তারা সরাসরি খেলাপিতে পরিণত হতে পারেন। আমরা চাই ব্যাংক পর্ষদে নীতিসহায়তার ফাইল অনুমোদিত হওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগে মামলা প্রত্যাহারের কাগজ জমা নেওয়ার নিয়ম করা হোক।’

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনকে যৌক্তিক মনে করছেন ব্যাংক নির্বাহীরা। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন জানিয়েছেন, আদালতে মামলা ও নীতিসহায়তার আবেদন একত্রে চলতে পারে না। যদি মামলা প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে আদালতে মামলার জট কমার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণও অনেকাংশে কমে যাবে।

ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নীতিসহায়তা বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগছে। তবে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্যাকেজগুলোর গতি অনেক ভালো। উভয় পক্ষ যদি সমঝোতার মানসিকতায় এগোতে পারেন, তবে খেলাপি ঋণ কমার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, দেশে চলমান বেসরকারি বিনিয়োগ খরার মধ্যে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪.৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, জিডিপি-বেসরকারি বিনিয়োগ অনুপাতও কমে ২১.৫৩ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব প্রণোদনা ও নীতিসহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসন করা হোক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে ইরান শর্ত আরোপ করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ পি.এম


হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে ইরান শর্ত আরোপ করেছে

ইরান শনিবার একাধিক পূর্বশর্ত ঘোষণা করেছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে, এসব শর্তের মধ্যে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণও রয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যাবশ্যক এ জলপথ খোলার সম্ভাব্য চুক্তি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে তেহরান কার্যত প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করেছে। ইরান প্রণালী দিয়ে চলাচলে টোল আদায়ের দাবি করছে এবং তাদের পছন্দের রুট এড়িয়ে চলতে চাওয়া জাহাজগুলোকে আক্রমণ করছে।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে প্রণালীতে অব্যাহত হামলা চলছে। মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে জুন মাসের সমঝোতায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওমানের সঙ্গে প্রণালী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। তবে তিনি আরো বলেন, হরমুজ পুনরায় খোলা ‘অন্য শর্ত ও জুন চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণের ওপর নির্ভরশীল’।”

শনিবার নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর প্রণালী খোলার জন্য একাধিক দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরান ও তার মিত্রদের (লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাক) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও আগ্রাসন বন্ধ করা, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানায়, হরমুজ পুনরায় খোলা ওমানের সঙ্গে আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তারা দাবি করেছে, ‘শত্রু ইরানের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য’।

পুনরায় হামলা :

হরমুজ দিয়ে চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইরান তাদের পছন্দের রুট এড়িয়ে চলা জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ জাহাজ, ৫ মাসে হরমুজ পাড়ি দিয়েছে মাত্র ১,৪৫৪টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ জাহাজ, ৫ মাসে হরমুজ পাড়ি দিয়েছে মাত্র ১,৪৫৪টি

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসের এই সময়কালে এই প্রণালী দিয়ে মোট ১৪৫৪টি জাহাজ চলাচল করেছে। যদিও স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে পোর্টওয়াচের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী হল পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।

যুদ্ধের শুরুতে তলানিতে যায় নৌচলাচল। যুদ্ধের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করত। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর অথবা আইআরজিসি প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিতেই জাহাজ চলাচল আরও কমে যায়।

আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মাত্র ২৭৮টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময়কালে প্রতিদিন গড়ে মাত্র সাতটি জাহাজ চলাচল করেছিল।

এরপর ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা ইরানের সমুদ্রবন্দরে অবরোধ আরোপ করা হয়, কিন্তু এর ফলে পরিস্থিতির বড় কোনো উন্নতি হয়নি। ১৩ এপ্রিল থেকে ১৭ জুন পর্যন্তও প্রতিদিন গড়ে সাতটি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করেছে।

সাময়িক সমঝোতার মাধ্যমে কিছুটা বৃদ্ধি পান জাহাজ চলাচল। ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়তে শুরু করে। ১৮ জুন থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬১৫টি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। এ সময়ে দৈনিক গড় জাহাজ চলাচল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩টিতে।

কিন্তু এই স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ আরোপ করার ফলে জাহাজ চলাচল আবারও কমে যায়। ১৫ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত শুধুমাত্র ৯৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে পেরেছে। এ সময়ে দৈনিক গড় নেমে এসেছে ১১টিতে।

যেসব জাহাজে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেলবাহী ট্যাঙ্কার, কনটেইনার জাহাজ, ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার, সাধারণ কার্গো ও রোল অন রোল অফ জাহাজ।

আল জাজিরার তৈরি উপাত্তভিত্তিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সংঘাতের পুরো সময়জুড়ে ট্যাঙ্কার ও কনটেইনার জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্য ছিল। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সামগ্রিকভাবে সব ধরনের জাহাজের সংখ্যা দ্রুত কমে গেছে।

যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা ও অবরোধের প্রভাবও জাহাজ চলাচলের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১ মার্চ চারটি ট্যাঙ্কারে হামলা, ২ মার্চ আইআরজিসির হরমুজ বন্ধের ঘোষণা, ২৫ জুন এভার লাভলি নামের কনটেইনার জাহাজে হামলা এবং জুলাইয়ের নতুন হামলা ও মার্কিন অবরোধের মতো ঘটনা সময়ের নৌচলাচলে প্রভাব ফেলেছে।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের এই বড় পতন শুধু সামুদ্রিক পরিবহন খাতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও যুদ্ধের প্রভাব কতটা বিস্তৃত হয়েছে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।

সূত্র: আলজাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরো এক বাংলাদেশিকে গু/লি করে হ/ত্যা করল বিএসএফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


আরো এক বাংলাদেশিকে গু/লি করে হ/ত্যা করল বিএসএফ

ব্যাপক সমালোচনার পরও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিয়মিত হত্যাকাণ্ড চলছেই। সর্বশেষ ঘটনা মো. তারা মিয়া (২০) নামে আরও এক বাংলাদেশির গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শনিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনার স্থল মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মুরইছড়া সীমান্তবর্তী এলাকায়।

নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মদা ইউনিয়নের মুরইছড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে তারা মিয়া সহ ৪-৫ জন বাংলাদেশি যুবক অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এই সময় বিএসএফের টহল দল তাদের গতিরোধ করতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য সহযোগীরা পালিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত তারা মিয়া সহ ৪-৫ জন যুবক ভারতীয় নাসির পাতার বিড়ি আনার জন্য ভারতের আনুমানিক ৫০০ গজ অভ্যন্তরে মাগুরুলী এলাকায় ঢুকে পড়েছিলেন।

বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেছেন, গুলির শব্দ শোনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তখন বিএসএফের পক্ষ থেকে গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:২৬
জোহর ১১:৫৭
আসর ০৪:২৩
মাগরিব ০৬:০৯
ইশা ০৭:২০
সূর্যোদয় : ০৫:৪৩ সূর্যাস্ত : ০৬:০৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%