বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:১৬ এম
নারীদের জীবনে একটি স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তনের নাম হলো মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া। সাধারণত এটি ৫০ থেকে ৫২ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। তবে এর আগে কয়েক বছর ধরে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তন সম্পর্কে আগে থেকেই জানলে এই সময়টিকে অনেক সহজভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
এই পরিবর্তনটি কীভাবে শুরু হয়?
মাসিক হঠাৎ করে বন্ধ হয় না। মাসিক বন্ধ হওয়ার পূর্বে বেশ কয়েক বছর ধরে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন শুরু হয়। এ সময় মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। কখনও বেশি, কখনও কম রক্তপাত হতে পারে। এই সময়টিকে মাসিক বন্ধের আগের ধাপ বলা হয়ে থাকে।
যখন টানা ১২ মাস মাসিক না হলে সেটিকে স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হওয়ার পর্যায় হিসেবে ধরা হয়। এর পরে শুরু হয় পরবর্তী জীবন পর্ব।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
এই সময় বিভিন্ন নারীর অভিজ্ঞতা একেকরকম হয়ে দেখা দিতে পারে। অনেকের উপসর্গ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা বেশ তীব্র হতে পারে।
সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এছাড়াও মানসিক পরিবর্তনের মধ্যেও থাকতে পারে—
কেন এই পরিবর্তন ঘটে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নারী হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। এর ফলে ডিম্বাশয় ধীরে ধীরে ডিম্বাণু তৈরি বন্ধ করে দেয়, ফলে মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের চিকিৎসা, ডিম্বাশয় অপসারণের অস্ত্রোপচার, বিকিরণ চিকিৎসা অথবা অন্য কোনো চিকিৎসাজনিত কারণে স্বাভাবিক সময়ের আগে মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?
যদি মাসিক অনিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি এসব লক্ষণ দেখা দেয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। একইসাথে একই ধরনের উপসর্গের অন্য কোনো কারণ আছে কি না তাও পরীক্ষা করা হতে পারে।
উপসর্গ কমানোর জন্য কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনে হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা, কিছু ওষুধ, শুষ্কতা কমানোর জন্য বিশেষ ময়েশ্চারাইজার অথবা সহবাসের সময় ব্যবহারের জন্য পিচ্ছিলকারী ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ অথবা হরমোন গ্রহন পরামর্শ দেওয়া হয় না।
জীবনযাপনে যেসব পরিবর্তন উপকারী
এই সময় কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করার মাধ্যমে উপসর্গ অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক বন্ধ হওয়া কোন রোগ নয়, বরং জীবনের একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন। তবে উপসর্গ তীব্র হলে অথবা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এর মাধ্যমে এই সময়টিও স্বাভাবিক এবং স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব।
সূত্র: হেলথ লাইন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি তুচ্ছ ঘটনার পর প্রাইভেটকার চালকের মারধরের ফলে রফিকুল নামে একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রাইভেটকার চালক নাদিমকে পুলিশ আটক করেছে।
২০২৩ সালের ২২ জুলাই বুধবার রাতে, রাত এগারোটায়, সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় রায়হান সিএনজি পাম্পের ভেতরে এই ঘটনার সুত্রপাত হয়।
নিহত অটোরিকশা চালক রফিকুল পটুয়াখালী জেলার ঘেরাখালী গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, সিএনজি পাম্পের ভেতরে প্রাইভেটকার ঢোকার সময় একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে। এর ফলে দুই যানবাহনের চালকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে রফিককে মারধর করে প্রাইভেটকার চালক নাদিম। এই মারধরের পর রফিক গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক রফিককে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সাহায্যে অভিযুক্ত প্রাইভেটকার চালক নাদিমকে আটক করে। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, অভিযুক্ত প্রাইভেটকার চালককে আটক করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই র্যাংক ব্যাজ পরানো হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
এর আগে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এম জে আরিফ বেগের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছিল যে, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত মোট তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা উপসাগরীয় দেশটির জন্য একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপনের সুযোগ প্রদান করে। এই খবরটি বিবিসির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ চুক্তিটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অতিরিক্তভাবে, জ্বালানি বিভাগ জানাচ্ছে, সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুটি চুক্তি একসঙ্গে কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ করার পাশাপাশি একাধিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
সৌদি সরকারও এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, এই চুক্তিটি দুই দেশের জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতার সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে। তারা বলেন, গত বছরের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজের ওয়াশিংটন সফরের পরই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও তা পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
চুক্তির ঘোষণা এমন সময় জারি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবে একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর উপরে, দুই দিন আগে ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের জীবন সংগ্রামের কাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ইকন বাবার দাফনের পর রাতে এটিএম বুথে ডিউটি দেন এবং পরদিন সকালে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন, যা অনেকের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। তবে তার জীবন সংগ্রামের সম্পর্কে ভাইরাল হওয়ার পর আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
ইকনের বাড়িতে গিয়ে তার সাথে এবং তার মামার সাথে কথা বলার মাধ্যমে জানা গেছে, ইকন শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা তার সহকর্মীরা কখনোই তাকে পরীক্ষার আগের রাতে ডিউটি করতে বাধ্য করেননি। বরং তার নিজের ইচ্ছায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বুথের শান্ত পরিবেশে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
জানা গেছে, পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার বই কেনার সামর্থ্য তার ছিল না। শুরুতে মোবাইল ফোনে পিডিএফ ডাউনলোড করে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। পরে এক সহপাঠীর কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো প্রস্তুত করেছেন।
ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জন্য উপার্জন করতেন। বড় ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব অনেকটা এসে পড়ে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করে তিনি পরিবারের ব্যয় বহন করতেন। এর মধ্যে বাবার মৃত্যু তার জীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে।
তবে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও এই তরুণ ভেঙে পড়েনি। স্বপ্ন দেখছে নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের, তাই সে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকে ইকনের স্বপ্ন ছিল একজন জজ অথবা ব্যারিস্টার হওয়া। অর্থনৈতিক সংকট ও পারিবারিক দুর্ভোগও তার স্বপ্নকে ম্লান করতে পারেনি।
স্থানীয়দের মতে, ইকনের এই সংগ্রাম কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গল্প নয়; এটি হাজারো সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তারা উল্লেখ করেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে ইকনের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।
স্থানীয়রা ইকনের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ