ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বাং

গোসল করতে গিয়ে ফিরে আসা হলো না স্বামী-স্ত্রীর


গোসল করতে গিয়ে ফিরে আসা হলো না স্বামী-স্ত্রীর

নওগাঁয়ে খালে গোসল করতে নেমে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ঘটেছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে বদলগাছী উপজেলার কার্তিকাহার গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বেদবাড়িয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নুর ইসলাম (২২) এবং তার স্ত্রী বদলগাছীর কার্তিকাহার গ্রামের শাহিনের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৮)।

আরও পড়ুন: ভবানীগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনা সভা

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে নুর ইসলাম ও সুমাইয়া এক সাথে কার্তিকাহার গ্রামের পাশের একটি খালে গোসল করতে যান। প্রথমে নুর ইসলাম খালে পানিতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে নুর ইসলাম ফিরে না আসায় তার স্ত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্বামীর জীবন রক্ষার জন্য এক পর্যায়ে সুমাইয়াও পানিতে ঝাঁপ দেন। এরপর পানির প্রবল স্রোতে দুজনেই তলিয়ে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে খালে নেমে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তারা দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। নিহতদের পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। জানানো মতে, স্বজনরা সেখানে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা সভার আয়োজন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১০০ শয্যার আবাসন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১০০ শয্যার আবাসন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা

বিদেশগামী কর্মীদের জরুরি প্রয়োজনে রাত্রিযাপন ও অবস্থানের সুবিধার্থে হজ ক্যাম্পে পৃথকভাবে ১০০ শয্যার আবাসন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর আশকোনাস্থ ‘হজ্জ ক্যাম্প’ পরিদর্শন করেন। এই সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের সুবিধার্থে বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত ‘ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার’-এ ৪৯ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যে কোনো সংকটকালীন মুহূর্তে কিংবা আকস্মিক ফ্লাইট বাতিল হলে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটে হজ্জ ক্যাম্পে আরও একশ শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ৫০টি এবং নারীদের জন্য পৃথক ৫০টি বেড থাকবে। এই উদ্যোগের সার্বিক অর্থায়ন করবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড’।

বর্তমান সরকারের প্রবাসীবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। যুদ্ধবিগ্রহ অথবা বৈরী আবহাওয়াসহ নানা কারণে অনেক সময় ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হয়। এমন মুহূর্তে বিমানবন্দরে প্রবাসীরা যে আবাসন সংকটে পড়েন, হজ্জ ক্যাম্পে এই শয্যা ব্যবস্থা প্রবাসীদের সেই দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব করবে।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং হজ্জ ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন্দ্রীয় মাঠ ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা ডিআইইউর, বহিরাগতদের খেলায় নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


কেন্দ্রীয় মাঠ ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা ডিআইইউর, বহিরাগতদের খেলায় নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বহিরাগতদের খেলাধুলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সেন্টার। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদি কোন শিক্ষার্থী এই নির্দেশনা অমান্য করে কোনো বহিরাগতকে মাঠে খেলার সুযোগ প্রদান করে, তাহলে সেই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে ডিআইইউ স্পোর্টস সেন্টারের গ্রুপে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছেন স্পোর্টস সেন্টারের পরিচালক এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তাহজীব উল ইসলাম।

এ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, "সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন এমন বন্ধু বা পরিচিতজনকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এনে খেলাধুলার সুযোগ দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।" তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ শুধুমাত্র ডিআইইউর শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত, সুতরাং বহিরাগতদের সেখানে খেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তিনি আরও জানান, "ভবিষ্যতে যদি কোনো শিক্ষার্থী তার পরিচিত, বন্ধু, বড় ভাই, ছোট ভাই অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন এমন কাউকে মাঠে খেলার সুযোগ দেন এবং এর প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।"

শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি এই বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "যদি কেউ এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পেয়ে থাকে, তাহলে তা স্পোর্টস সেন্টারের পরিচালক বা উপপরিচালকের কাছে জানাতে পারবেন।" ভবিষ্যতে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সকল শিক্ষার্থীর সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে বাড়ছে শঙ্কা, বন্দরে জারি ৩ নম্বর সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে বাড়ছে শঙ্কা, বন্দরে জারি ৩ নম্বর সতর্কতা

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় মৌসুমী নিম্নচাপেপরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসাথে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত আবহওয়া সম্পর্কিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় (২০.৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) মৌসুমী নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এটি অবস্থান করছিল। এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আরো ঘণীভূত হতে পারে।

এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া চলে আসতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটার-এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলার পাশাপাশি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিং মাছ চাষে বাড়ছে জনপ্রিয়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


শিং মাছ চাষে বাড়ছে জনপ্রিয়তা

দেশে শিং মাছ চাষ এর জনপ্রিয়তা এবং লাভজনকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খেতে সুস্বাদু এবং সহজপাচ্যসহ উচ্চমানের প্রচুর আমিষ থাকায় শিং মাছের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। শিং মাছ চাষের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এটি কম জায়গায় এবং অধিক ঘনত্বে চাষ করা সম্ভব। ফলে ফলস্বরূপ, বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক এ মাছ চাষে চাষিদের আগ্রহ ক্রমবর্ধমান।

চাষিদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ৫০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে দেশি শিং মাছ চাষ করে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত মৎস্য চাষিরা আধা নিবিড় চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করে শিং মাছ চাষ করেন। এই পদ্ধতিতে তারা তুলনামূলক বেশি মুনাফা লাভ করেন।

দেশের শিং মাছের পোনা উৎপাদনের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধলা এলাকা। সেখানে থেকে মাছের পোনা সংগ্রহ করে চাষিরা নির্ধারিত পুকুর বা জলাশয়ে চাষ শুরু করেছেন। তাছাড়া কুমিল্লা, যশোর, নরসিংদী, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলেও বর্তমানে শিং মাছের চাষ হচ্ছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলা গ্রামের মাছ চাষিরা দেশি শিং মাছ চাষ করে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করেছেন। এক শতাংশের একটি ক্ষুদ্র পুকুরে শিং মাছ চাষ করে প্রতি ৬ মাস অন্তর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করার নজির স্থাপন করেছেন।

মাছ চাষকে কেন্দ্র করে ধলায় গড়ে উঠেছে ৩৫টি মৎস্য হ্যাচারি এবং কমপক্ষে ৫০০ পরিবার মাছ চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মাছ চাষ করে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৬ জন মৎস্য চাষি।

আজিম উদ্দিন, ধলা গ্রামের একজন মাছ চাষি, মাছ চাষ করে পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন এবং রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে তার ৩০টি পুকুরে মাছ চাষ করা হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, এক শতক জায়গায় কার্প জাতীয় মাছ ৫০ থেকে ৬০টি চাষ করা যায়, তবে তুলনামূলকভাবে অল্প জায়গায় শিং মাছ চাষ করে অনেক বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।

মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত ধলার যুবক অজিৎ বর্মণ বলেছেন, লেখাপড়ার পাশাপাশির তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছের পোনা সরবরাহ করেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জলাশয় খালি পড়ে আছে। সেসব জলাশয়ে অন্তত ৬ মাস শিং মাছ চাষ করে অনেক বেকার যুবক আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে।

দুইজন মাছ চাষি জানান, বর্তমান বাজারে ১ দশমিক ৫ বা ২ ইঞ্চির প্রতিটি শিং মাছের দাম ৩ টাকা। সে অনুযায়ী, ৫০ হাজার শিং মাছের পোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সঠিকভাবে খাবার এবং যত্ন নেওয়া হলে ৫ থেকে ৬ মাস পরে প্রতিটি শিং মাছের ওজন ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম হয়ে যায়, অর্থাৎ ৬ মাস পর ২০ থেকে ২৫টি শিং মাছের ওজন এক কেজি হতে পারে।

ধলার মাছ চাষিদের তথ্যানুসারে, যদি কোনো জলাশয়ে ৫০ হাজার শিং মাছ চাষ করা হয়, তাহলে কমপক্ষে ৪৮ হাজার শিং মাছ টিকে থাকে। ৬ মাস পর ৪৮ হাজার শিং মাছের মোট ওজন দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২০ কেজি। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি শিং মাছের পাইকারি বিক্রয় মূল্য ৫০০ টাকা। তাই ১ হাজার ৯২০ কেজি মাছের বিক্রয় মূল্য হয় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এদিকে, ৪৮ হাজার মাছের জন্য ৬ মাসে সর্বাধিক ৪ টন খাবার প্রয়োজন হয়। যদি প্রতি টন মাছের খাবারের খুচরা মূল্য ৫০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ৪ টন খাবারের মোট দাম দাঁড়ায় ২ লাখ টাকা। কোনো জলাশয়ে ৬ মাস ধরে ৪৮ হাজার শিং মাছ চাষ করতে গেলে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ হয়ে থাকতে পারে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিলে, ৫০ হাজার শিং মাছ চাষ করে প্রতি ৬ মাসে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

সাধারণ হিসেব অনুযায়ী, এক শতাংশ জায়গায় ১ হাজার শিং মাছ চাষ করা সম্ভব। ৫০ হাজার শিং মাছ চাষ করার জন্য একটি ৫০ শতাংশের পুকুর বা জলাশয় প্রয়োজন হবে, যা থেকে বছরে অনুমান ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

কই, শিং এবং ঢেলাসহ দেশীয় ও হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন ছোট মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর সাবেক পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এইচ এম কোহিনুর।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই মৎস্য বিজ্ঞানী শিং মাছ চাষের সম্ভাবনা ও পদ্ধতি সম্পর্কে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের সঙ্গে বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, শিং মাছ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাছ। এ মাছে ফ্যাট বা তেলের পরিমাণ কম এবং সহজপাচ্য উচ্চমানের প্রচুর আমিষ থাকায় সবার মধ্যে বরাবরই বিশেষ করে রোগীদের মধ্যে এ মাছের ব্যাপক চাহিদা ও কদর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জিয়ল মাছের চাহিদা অন্য মাছের চেয়ে আরও কিছুটা বেশি। সাধারণত মৎস্য চাষিরা আধা নিবিড় চাষ পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষ করে থাকে। এই পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষে অধিক লাভ হয়ে থাকে। ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে অনেক চাষি বিএফআরআই-এর কারিগরি সহযোগিতায় শিং মাছের নিবিড় চাষে আকর্ষণীয় লাভ পেয়েছেন।

ড. এ এইচ এম কোহিনুর বলেন, শিং মাছের নিবিড় চাষের জন্য ২০ থেকে ৬০ শতাংশ আয়তনের ছায়াযুক্ত পুকুর নির্বাচন করা যেতে পারে, যেখানে বছরে কমপক্ষে ৭-৮ মাস ১ থেকে ১.৫ মিটার পানি থাকতে হবে। শিং মাছ নিবিড় চাষের জন্য প্রথমেই পুকুরটি ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। পুকুরের তলদেশের পচা কাদা অপসারণ করে ৭ দিন রৌদ্রে শুকাতে হবে। এর পর তলা থেকে ক্ষতিকারক জীবাণু ধ্বংস করতে হবে এবং প্রতি শতাংশে ১৫ থেকে ২০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার ভালোভাবে ছিটিয়ে ৩ থেকে ৫ দিন পর পুকুরকে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ১ মিটার পরিমাণ পূর্ণ করতে হবে।

পানি পূর্ণ হওয়ার পর শতাংশ প্রতি শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ কেজি কলিচুন পানিতে মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করে পুকুরে প্রয়োগ করতে হবে। চুন প্রয়োগের ৩ দিন পরে পোনা মজুদের ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিং মাছের পোনা পরিবহনকালে মৃত্যুর ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে, সেক্ষেত্রে পোনা পরিবহনের সময় প্লাস্টিক ড্রাম ব্যবহার করাই উত্তম।

তিনি বলেন, দূরত্ব অনুযায়ী প্রতি ড্রামে ৭ থেকে ৯ সেন্টিমিটার আকারের ২ থেকে ৩ কেজি পোনা অথবা ১ হাজার থেকে দেড় হাজার পোনা পরিবহন করা সম্ভব। এভাবে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার সময় দূরত্বে নির্বিঘ্নে পোনা পরিবহন করা যেতে পারে।

শিং মাছের নিবিড় চাষ ব্যবস্থাপনায় প্রতি শতাংশে ৬ হাজার সুস্থ্য-সবল এবং গুণগত মানসম্পন্ন পোনা প্রস্তুতকৃত পুকুরে মজুদ করা যেতে পারে। পোনা পুকুরে মজুদের সময় অবশ্যই পোনা ভর্তি পাত্রের পানির তাপমাত্রা ও পুকুরের পানির তাপমাত্রা সমান রাখতে হবে এবং ভালোভাবে অভ্যস্থকরণ বা কন্ডিশনিং করতে হবে। পোনা মজুদের পরের দিন থেকে প্রাণিজ প্রোটিন (৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ) সমৃদ্ধ সম্পূরক খাদ্য মাছের দেহ ওজনের শতকরা ১৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে প্রয়োগ করা উচিত। সম্পূরক খাদ্যটি দুই ভাগে বিভক্ত করে সন্ধ্যার আগে ও সূর্য উদিত হওয়ার আগে প্রয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক বলেন, শিং মাছের জন্য নিয়মিতভাবে পুকুরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পানির গভীরতা ৪ থেকে ৫ ফুটের মধ্যে রাখতে হবে। প্রতি ১৫ দিন পরপর শিং মাছের নমুনায়ন করে সম্পূরক খাদ্যের পরিমাণ নির্ধারণ এবং পোনা মজুদের এক মাস পর হতে প্রতি ১৫ দিন অন্তর শতাংশ প্রতি ১০০ গ্রাম চুন ও পরবর্তী ১৫ দিন পর ৪০০ গ্রাম লবণ প্রয়োগ করতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ দিন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা আবশ্যক।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত পোনা মজুদের সাত মাস পর মাছ আহরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সময়ে মাছের গড় ওজন ৫৫ থেকে ৬৫ গ্রাম হয়ে থাকে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ৫০ শতাংশ পুকুর থেকে ৭ মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার কেজি শিং উৎপাদন করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে শিং মাছের নিবিড় চাষে ৫০ শতাংশ পুকুরে চার লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় করে এক ফসলে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:২৬
জোহর ১১:৫৭
আসর ০৪:২৩
মাগরিব ০৬:০৯
ইশা ০৭:২০
সূর্যোদয় : ০৫:৪৩ সূর্যাস্ত : ০৬:০৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%