০১:১৯ পি.এম
ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া এবং জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
তারা বলেছেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই। কেননা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনও ভ্যাকসিন নেই, সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর ওষুধও নেই। তবে আমাদের চারপাশে মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এই কারণে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি চারপাশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু ইস্যুতে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা। এজন্য সর্বপ্রথম জনসচেতনতা বৃদ্ধি খুবই প্রয়োজন। কারণ এডিস মশার উৎপত্তিস্থল আমাদের বাড়ির ভেতর, বাইরে, ছাদ এবং বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি। তাই আমাদের উচিত বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার রাখা। বাড়ির আনাচে-কানাচে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্রগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু
তারা উল্লেখ করেছেন, ব্যবহারযোগ্য পাত্র যেমন- ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচে পানি ভর্তি পাত্রে যেন কোনোভাবেই একনাগাড়ে পাঁচ দিন বা তার বেশি পানি জমে না থাকে। মূলত এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৪ হাজার ১৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এ যাবৎ মোট ১৭ হাজার ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে নয়, শুরু হতে হবে মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় জনসমাজ থেকে। রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে
তিনি বলেন, বৃষ্টিকে যদি আমরা ডেঙ্গুর জন্য শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখি, তাহলে সংকট আরও গভীর হবে। কিন্তু বৃষ্টির পর যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যায়, তাহলে ডেঙ্গুর এই বার্ষিক দুর্ভোগ থেকে দেশকে ধীরে ধীরে মুক্ত করা সম্ভব।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশে রয়েছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকল মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া এবং শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এছাড়া ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা বুঝে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেওয়া উচিত। ডেঙ্গু জ্বরের মূল চিকিৎসা হলো শরীরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাপনা। পানির পাশাপাশি ফলের রস, স্যুপ, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত প্রভৃতি তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্র হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। এডিস মশা স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেইসঙ্গে বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: বিএনপি ক্ষমতায় আসলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন