১১:৩৯ পি.এম
রাজধানীতে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা চলমান রয়েছে। এবারের মেলায় প্রায় আড়াই হাজার গাছের প্রজাতি স্থান পাচ্ছে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মেলায় উপস্থিত ৪০ বছর বয়সী একটি দৃষ্টিনন্দন বনসাই গাছ। এই গাছটির মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হিসাবে ধার্য করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার, ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলার উদ্বোধন করেন। এই মেলা আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় মোট ১২০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে ২২টি ডাবল নার্সারি স্টল, ৪৭টি সিঙ্গেল নার্সারি স্টল, ১৪টি নন-নার্সারি স্টল এবং ১০টি সরকারি নার্সারি স্টল বিদ্যমান। এছাড়া দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য এখানে বন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ, তথ্যকেন্দ্র, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, বয়স্কদের বিশ্রামকক্ষ ও মিডিয়া কর্নারের ব্যাবস্থা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু
এই মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দেশি-বিদেশি বৈচিত্র্যময় ফল, ফুল, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা। বিশেষ করে এতে ইনডোর প্ল্যান্ট বা ঘরের ভেতরে আবদ্ধ জায়গার জন্য উপযোগী গাছগুলোর সুন্দর সাজসজ্জা রয়েছে।
বিভিন্ন নার্সারি এবারের মেলায় প্রায় আড়াই হাজার প্রজাতির চারা ও গাছ প্রদর্শন করার জন্য নিয়ে এসেছে। বিক্রেতারা প্রজাতি ও গাছের বয়স অনুসারে দাম হাঁকছেন ১০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে নান্দনিক বনসাই বা বামন গাছ স্থান করে নিয়েছে, যেখানে ৪০ বছরের পুরোনো বনসাইন উপস্থিত রয়েছে। এসব বনসাইয়ের মূল্য প্রকারভেদে ৬ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৮০ হাজার পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কিংশুক নার্সারির স্টলে প্রদর্শিত ৪০ বছর বয়সী একটি পটোকারপাস বনসাইয়ের দাম ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে।
এছাড়াও মেলায় রয়েছে প্রায় এক হাজার প্রজাতির শোভাবর্ধনকারী গাছ ও পাতাবাহার, যেখানে ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে জনপ্রিয় সানসেভেরিয়া, পিটুনিয়া, অ্যানথুরিয়াম, অ্যাগলোনিমা, লাকি ব্যাম্বো, হুপারজিয়া, এয়ার প্ল্যান্ট এবং হোয়া সহ নানা ধরনের চারা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে
দর্শনার্থীদের ভিড় বেশিরভাগই বাহারি ও দুর্লভ প্রজাতির আমগাছের চারাকে কেন্দ্র করে হয়ে উঠেছে। ডিসি নার্সারি, হোসেন নার্সারি, ব্র্যাক নার্সারিসহ বিভিন্ন স্টলে বিক্রেতারা দেশি-বিদেশি বৈচিত্র্যময় আম গাছের সংগ্রহ নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে আলফানসো, থাইল্যান্ডের হানিডিউ, চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ‘আপেল ম্যাঙ্গো’, ভারতের তোতাপুরি, ব্রুনাইয়ের কিং অব ব্রুনেই, পাকিস্তানের আনোয়ার-আতুল, নূরজাহান, পুসএসনরিমা, পুসসুরাইয়া, লালিমা ও ম্যাটটাস তোতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মেলায় সাদ্দাম নামের একজন বিক্রেতা জানান, হানিডিউ ও আপেল ম্যাঙ্গোর প্রতিটি চারার দাম ৩০ হাজার টাকা। হানিডিউ আমের আঁটি পাতলা এবং মিষ্টি, যার প্রতিটির ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হয়। অন্যদিকে, আপেল ম্যাঙ্গো খেতে অত্যন্ত মিষ্টি ও কচকচে।
মেলায় অংশগ্রহণ করা গাছের ফেরিওয়ালার সত্ত্বাধিকারী নিরব আহমেদ বলেন, ‘মেলা শুরুর পর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, তবে বৃষ্টি কমলেই ক্রেতা-দর্শনার্থীরা আসছে। তারা মেলা ঘুরে দেখছেন এবং কিছু বিক্রিও হচ্ছে। আশা করি, এবারের মেলা গতবারের চেয়েও ভালো হবে। তবে কয়েকদিন গেলে মেলা পুরোপুরি জমতে শুরু করবে।’
বন অধিদপ্তর থেকে মেলায় নিযুক্ত বন সংরক্ষক মো. ওমর ফারুক সময় সংবাদকে জানান, ‘মেলা শুরুর পর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, তবে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ভালো হবে।’
আরও পড়ুন: বিএনপি ক্ষমতায় আসলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না
এছাড়া সরকারের ‘সবুজ বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান, সেটি কার্যকর করতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আমের পাশাপাশি মেলায় বিদেশি ফলের মধ্যে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন, ব্রাজিলের জাবুটিকাবা, মালয়েশিয়ার ডুরিয়ান, রামবুটান, ম্যাঙ্গো স্টিম এবং থাইল্যান্ডের সুগন্ধি নারকেলের পাশাপাশি দেশি বারি-২ জাতের দ্রুত ফলনশীল নারকেল গাছের চারাও পাওয়া যাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা গাছপাগল মানুষ ও গৃহিণীরা মেলা ঘুরে তাদের পছন্দের চারা সংগ্রহ করছেন।
রাজধানীর সেনপাড়া পর্বতা থেকে মেলায় আসা গৃহিণী কাশগায় জান্নাত জানান, তাঁর বাসায় আগে থেকেই নানা প্রজাতির শোভাবর্ধনকারী ও ফলের গাছ বিদ্যমান। প্রতিবছর তিনি এই মেলার জন্য অপেক্ষা করেন এবং নতুন কী প্রজাতির গাছ এসেছে তা জানতে মুখিয়ে থাকেন। মেলা ঘুরে ইতোমধ্যে তিনি বেশ কিছু চারা কিনেছেন এবং পছন্দমতো আরও চারা কিনতে আবারও মেলায় আসার পরিকল্পনা করেছেন।
ধানমন্ডি থেকে স্বামীর সঙ্গে মেলায় আসা আরেক গাছপাগল গৃহিণী সন্ধি। তিনি সমস্ত ধরনের গাছের প্রতি ভালো ধারণা রাখেন। তিনি জানান, মূলত নতুন গাছের ধারণা নিতেই তিনি মেলায় এসেছেন। মেলা ঘুরে কিছু গাছ ইতোমধ্যে কিনেছেন এবং পুনরায় মেলায় আসবেন।
আরও পড়ুন: প্রধান বিচারপতির এজলাসে আইনজীবীর আচরণ অনুচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত : আইনমন্ত্রী
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন