ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩২বাং

টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যে এলডিসি প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী


টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যে এলডিসি প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এলডিসি উত্তরণ বিষয়ক সেমিনারে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এই সেমিনারটির আয়োজনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) অংশগ্রহণ করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধি করতে চাইলেও এর উদ্দেশ্য হলো উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়। বরং এটি একটি টেকসই, স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল উত্তরণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরণের এই অতিরিক্ত সময় আমরা কোনো বিলম্বের জন্য চাই না; বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল এবং কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য চাই।’ তিনি জানান, বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএনসিডিপি) কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানায়।

আরও পড়ুন: ভোলার উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও জানান, প্রস্তুতিমূলক সময়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। সরকার তাই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস পরিচালিত গ্র্যাজুয়েশন প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলডিসি উত্তরণের জন্য যথেষ্ট অনুকূল নয়। সুতরাং অতিরিক্ত প্রস্তুতির সময় প্রয়োজন।

সরকার ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার নিয়ে একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (ডিরেগুলেশন), প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন।

মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা শুরু করতে বর্তমানে যে সময় লাগে, তা এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে উদ্যোক্তারা ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারবেন। এ ছাড়া ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা ও কাজের পুনরাবৃত্তি দূর করে ব্যবসার সময় এবং ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সেমিনারে জানানো হয়েছে, সরকারের গঠিত জাতীয় গ্র্যাজুয়েশন মনিটরিং ও সমন্বয় কমিটি এবং পাবলিক-প্রাইভেট টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধির অনুরোধ জানালে ইউএনসিডিপি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) জমা দিয়েছে। এখন বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি নাজুক অর্থনীতি ও দুর্বল আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে কাজ করছে। এজন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তিনি তুলে ধরেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কাঠামোগত ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঝুঁকি এবং সুষ্ঠু ও টেকসই এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকার ও সময়বদ্ধ রোডম্যাপ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার মন্তব্য করেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশ এখন অত্যন্ত গতিশীল। তাই সংস্কারের গতি যাতে থেমে না যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বাজার আরও উন্মুক্ত করা এবং সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: নতুন প্রকল্পে সব জেলায় পৌঁছাচ্ছে রেল, বাড়ছে কোচ-লোকোমোটিভ

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) গীতাঞ্জলি সিং, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা টেকসই এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, তবে মূল্য দিতে হয়েছে অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে উদ্ধার এক ব্যক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে উদ্ধার এক ব্যক্তি

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো তৎপর রয়েছে। ছবি : এএফপি

ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর আট দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের মাঝে আটকে থাকা ৪৩ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তাকে উদ্ধারের পর উপস্থিত শত শত উদ্ধারকারী উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির মাধ্যমে এসেছে।

ভূমিকম্পে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা যেখানে ২ হাজার ৩০০-এর কাছাকাছি, এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। সেখানে এত দীর্ঘ সময় পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিরাপত্তা প্রহরী হার্নান গিলকে জীবিত উদ্ধার করা একটি অলৌকিক ঘটনা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।

গত ২৪ জুনের ওই বিপর্যয়ে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকা কাতিয়া লা মার প্রায় পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সেখানে সাত তলা একটি ভবনে গিল দায়িত্বরত ছিলেন। দীর্ঘ সময়ের পর, সতর্ক উদ্ধার অভিযানে তাকে স্ট্রেচারে করে বের করে আনে উদ্ধারকারীরা।

উদ্ধারকাজ চলাকালীন গিলের স্ত্রী গুসবিমার গঞ্জালেস মন্তব্য করেন, ‘এটি আসলেই একটি অলৌকিক ঘটনা।’

গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য তিন দিন ধরে দিন-রাত একরকম কাজ করেছে সাতটি দেশের উদ্ধারকারী দল। অভিযানে ভেনেজুয়েলা, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, কোস্টারিকা, এল সালভাদর এবং মেক্সিকো থেকে উদ্ধারকারীরা অংশ নিয়েছেন।

উদ্ধারকারীরা তাকে হাইড্রেটেড রাখতে (শরীরে পানির অভাব দূর করতে) একটি হোস পাইপের মাধ্যমে ১০ লিটারেরও বেশি পানি সরবরাহ করেন এবং অক্সিজেন দেওয়ার জন্য একটি টিউব স্থাপন করেন।

অভিযানের শেষ পর্যায়ে, প্রায় ৩০ জন কর্মী ভবনের পার্কিং এলাকায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করেন, অন্যদিকে দুজন উদ্ধারকারী একটি তিন মিটার টানেল বা সুরঙ্গ খনন করেন।

চিলির উদ্ধারকারী দলের প্রধান ক্রিস্টিয়ান ভেরা জানান, ‘ওই ব্যক্তি ঠিক যে জায়গায় আটকে ছিলেন, সেখানে পৌঁছানো মোটেও সহজ ছিল না।’

মাঝেমধ্যে এমন কিছু বিস্ময়কর উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে আরও জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার আশা এখন অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। গত মঙ্গলবার ভূমিকম্পের ছয় দিন পরে দেশটিতে এক তিন বছর বয়সী শিশুকে জীবিত পাওয়া গিয়েছিল।

এছাড়া, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বহু মানুষ এখন গৃহহীন এবং খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলো রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো সময় উপদ্রুত এলাকায় রোগব্যাধি বা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিয়েভে রাশিয়ার নজিরবিহীন হামলা, নিহত বেড়ে ১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫১ পি.এম


কিয়েভে রাশিয়ার নজিরবিহীন হামলা, নিহত বেড়ে ১৮

২ জুলাই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার বিমান হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবনের দিকে এক ব্যক্তি তাকিয়ে রয়েছেন। ছবি: এএফপি

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্যতম বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে রাশিয়ার দ্বারা। রাতভর চলা এ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৯০ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। হামলার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) শোক দিবস ঘোষণা করেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো।

মেয়র ক্লিচকো মন্তব্য করেন, এটি কিয়েভের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় হামলা। যদিও এর আগে কয়েকটি হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল, তবে এবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সর্বাধিক সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। খবরটি জানিয়েছে বিবিসি।

হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। দক্ষিণ-পূর্ব কিয়েভের একটি বহুতল ভবনের বড় অংশ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছেন।

দারনিৎসকি জেলায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি কিন্ডারগার্টেনের পাশে বিশাল গর্ত সৃষ্টি করে, অপরটি নয়তলা ভবনের একাংশকে ধ্বংস করে দেয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভবনের বেজমেন্টে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাটি ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কয়েক দফায় চালানো হয়। প্রথমে ড্রোন হামলায় কিয়েভের ঐতিহাসিক এলাকায় একটি হোটেলে আগুন লাগে। এরপর রাত ১টার দিকে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। কিছুক্ষণ বিরতির পর আবারও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভোর পর্যন্ত ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এক রাতে ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৯৬টি ড্রোন ছুড়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল কিয়েভ। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করলেও ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন রাজধানীর ৩৩টি স্থানে আঘাত হানে।

হামলায় আহত স্থানীয় বাসিন্দা ওলেক্সি বলেছেন, রাশিয়ার দাবি সত্য নয়। এটি ইউক্রেনের হামলার প্রতিশোধ নয়। যুদ্ধ শুরু করেছে রাশিয়াই। এটি একটি আবাসিক এলাকা এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা সভিতলানা জানিয়েছেন, এর আগেও রুশ হামলায় তিনি আহত হয়েছেন, তার মা নিহত হয়েছেন এবং পরে যুদ্ধে তার ছেলেও প্রাণ হারিয়েছেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কিয়েভ সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো হবে। ইউক্রেন এ হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে আখ্যা দিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, আগ্রাসী রাষ্ট্র ও আত্মরক্ষাকারী রাষ্ট্রকে এক কাতারে দাঁড় করানো একেবারেই অনৈতিক। রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোর প্রতি আরও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিয়েভে রাশিয়ার হামলার ধরন বদলেছে বলেই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, হামলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও প্রতিটি অভিযান এখন দীর্ঘস্থায়ী, আরও শক্তিশালী এবং বিস্তৃত এলাকাজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনও সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো থেকে কৃষ্ণসাগর উপকূল পর্যন্ত রাশিয়ার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাদেক আবদুল্লাহসহ ২৪৮ আ.লীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, আসামির তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫০ এম


সাদেক আবদুল্লাহসহ ২৪৮ আ.লীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, আসামির তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম

বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৪৮ জন নামধারী নেতাকর্মীকে বিবাদী করে আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এটি দায়ের করেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত মো. মারজুক আব্দুল্লাহ।

অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট এসএম শরিয়ত উল্লাহ নালিশী মামলায় উপ-পুলিশ কমিশনার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যার হুমকিসহ বেশ কয়েকটি ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার প্রধান বিবাদী হচ্ছেন বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

এছাড়া বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর, সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টুসহ ২৪৮ জন নামধারী এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সাবেক ১৬ নং ওয়ার্ডকাউন্সিলর এবং মামলার অন্যতম আসামী রাজিব হোসেন দাবি করেছেন, এ মামলা সম্পর্কে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মামলার ২১২ নম্বর আসামী খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা ২০২২ সালের জানুয়ারী মাসে মারা গেছেন। কিন্তু তিনি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে করা মামলার আসামী হিসেবে উল্লেখ আছেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু নেতাকর্মীরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিভিন্ন সময় আগ্নেয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে সড়ক অবরোধ করে মিছিল করছে। এতে দেশের শান্তি এবং শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। এছাড়া তাদের প্রতিহত করতে গেলে ককটেল ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ সময় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের হত্যার হুমকি দেয়ার কারণে মামলাটি করা হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানিয়েছেন, একটি নালিশী মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপ-পুলিশ কমিশনারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে বিদায়ী ডিসি খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, ‘চুপিসারে’ কার্যালয় ত্যাগের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ এম


বরিশালে বিদায়ী ডিসি খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, ‘চুপিসারে’ কার্যালয় ত্যাগের অভিযোগ

বরিশালের বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ এনে স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ঝাড়ুমিছিল ও বিক্ষোভ করেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই ঝাড়ুমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিল শেষে বিদায়ী এই জেলাপ্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে ঝাড়ুমিছিলের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন ‘চুপিসারে’ তাঁর কার্যালয় ত্যাগ করে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন তাঁর নাম ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে। সরকারিভাবে গরিব, দুস্থ ও অসহায় সাধারণ মানুষের জন্য আসা বিভিন্ন অনুদান ও বরাদ্দের টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে লোপাট ও নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাদ্দের টাকা এবং বিভিন্ন খাতের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

দেশে তেল সংকটের সময় সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং কালোবাজারির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থলোপাট করার অভিযোগ আনা হয়েছে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে।

বিদায়ী জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর স্কুল মাঠে মেলার অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি এই মেলা পরিচালনার অনুমতি দেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এই ঘটনাটি বরিশালজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

আজ দুপুর ১২টায় শত শত ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং হাতে ঝাড়ুনিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দুর্নীতিবাজ এই ডিসির অনতিবিলম্বে বিচার করতে হবে এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ উদ্ধার করতে হবে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দুপুরের দিকে কার্যালয়ের সামনে ঝাড়ুমিছিল ও গণ-অসন্তोषের খবর পেয়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিদায়ী জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন চুপিসারে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও আশেপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:২৬
জোহর ১১:৫৭
আসর ০৪:২৩
মাগরিব ০৬:০৯
ইশা ০৭:২০
সূর্যোদয় : ০৫:৪৩ সূর্যাস্ত : ০৬:০৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%