১২:০৯ এম
সভ্যতার সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ হয়ে পড়ছে কর্মব্যস্ত। আর এই কর্মব্যস্ত জীবনে প্রযুক্তি সহজতা নিয়ে এসেছে। সংসারের বিভিন্ন বিষয়কে সহজতর করার জন্য প্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য। রেফ্রিজারেটর হলো প্রযুক্তির একটি চমৎকার আবিষ্কার। এর ফলে আপনি নিয়মিত বাজার করার ঝামেলাও এড়াতে পারেন।
অনেকে একসাথে প্রচুর বাজার করে চিন্তিত হয়ে পড়েন, যে ফ্রিজে রাখা মাছ অনেক দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে কি না! মাছ ফ্রিজে কতদিন রাখা যাবে? আদতে কতদিন এটি ভালো থাকবে? মাছকে নিরাপদে কতদিন পর্যন্ত রাখা যায় তা জানা প্রয়োজন। আজকের প্রতিবেদনেই এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। চলুন, বিস্তারিত জেনে নিই।
মাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রথমত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক প্যাকেটজাত করার গুরুত্ব রয়েছে। মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে একটি এয়ারটাইট প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে শক্তভাবে সিল করে রাখা উচিত। এতে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না এবং মাছের দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। ফ্রিজে রাখার সময় মাছটি বরফযুক্ত ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখা হলে এটি কিছুটা বেশি সময় তাজা থাকে।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু
তাজা মাছ, চিংড়ি, স্ক্যালপ বা স্কুইড টাইপ সামুদ্রিক খাবার সাধারণভাবে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে রান্না করে ফেলা নিরাপদ। তবে কিছু বড় আকারের মাছ, যেমন টুনা, স্যামন, ট্রাউট বা সোর্ডফিশ তুলনামূলকভাবে একটু বেশি সময়, প্রায় তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তৈলাক্ত মাছ যেমন ম্যাকারেল, সার্ডিন বা ব্লুফিশ সাধারণত তিন দিনের বেশি ফ্রিজে না রাখাই ভালো। অতিরিক্ত সময় রাখলে স্বাদ, গন্ধ এবং নিরাপত্তা তিনটি বিষয়ই নষ্ট হতে শুরু করে।
যদি আপনার দুই দিনের মধ্যে মাছ রান্না করার পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে তা ফ্রিজারে রাখা উত্তম। ফ্রিজারে রাখার আগে মাছকে আর্দ্রতা প্রতিরোধক ফ্রিজার পেপার বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে শক্তভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে এবং ভিতরে বাতাস প্রবেশ করতে দিতে হবে না। সঠিকভাবে মোড়ানো মাছ ফ্রিজারে দীর্ঘদিন ভালো থাকে, তবে ব্যবহারের সময় ধীরে ধীরে বরফ গলানো জরুরি। রান্নার আগের রাতে মাছটিকে ফ্রিজারের পরিবর্তে রেফ্রিজারেটরের নিচের তলাতে রেখে গলে নেয়ার পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো।
রান্না করা মাছও ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সম্ভব, তবে এরও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে। সাধারণত রান্না করা মাছ ফ্রিজের ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় দুই থেকে তিন দিন পরিমাণ ভালো থাকে। এই সময়ের বেশি রাখলে স্বাদ খারাপ হয়ে যায় এবং খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অনেকের ধারণা রয়েছে, ফ্রিজে রাখা মাছের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। বাস্তবে, সঠিকভাবে হিমায়িত করলে মাছের প্রোটিন, চর্বি এবং ভিটামিন এ ও ডি-র মতো চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তবে হিমায়িত করার কারণে মাছের স্বাদ এবং গঠনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একবার মাছ গলে গেলে তা আর কখনোই পুনরায় ফ্রিজে জমায়েত করা উচিত নয়। এতে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া বেড়ে যেতে পারে এবং খাবারটি নিরাপদ থাকে না।
আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে
সবশেষে, ভালো মাছ সংরক্ষণের শুরু সঠিকভাবে ভালো মাছ কেনার মাধ্যমে হয়। তাজা মাছের রং উজ্জ্বল থাকে, গন্ধ স্বাভাবিক এবং ফিলে আর্দ্র ও টানটান দেখায়। তাই ধূসর, নিস্তেজ বা শুকনা দেখতে মাছ থেকে এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে তাজা এবং হিমায়িত- দুই ধরনের মাছই পুষ্টিকর এবং নিরাপদে খাওয়া সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন