০৮:১৪ পি.এম
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশে সোনা উত্তোলনের কাজ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। একসময় যেসকল পাহাড়ে গ্রামবাসী ও তাদের গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ ছিল, সেখানে এখন দিনরাত এক্সক্যাভেটর দিয়ে খনন কাজ চলছে। এই খনন কার্যক্রম স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলেও পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের জীবন ও জীবিকায় গুরুতর প্রভাব পড়ছে।
ফয়জাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে শিওয়া এলাকায় কয়েক হাজার খনিশ্রমিক সোনা উত্তোলনের কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকার বিনিয়োগকারীদের হয়ে পাহাড় কেটে মূল্যবান এই ধাতু সংগ্রহ করছেন।
যদিও খনি কার্যক্রমে কিছু স্থানীয় মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হলেও অনেকেই এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে হতাশ। এর মধ্যে ৭৪ বছর বয়সী কৃষক মোহাম্মদ আমিন অন্যতম।
আরও পড়ুন: ভোলার উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী
পুল-ই-জিরি বান উপত্যকার বাসিন্দা আমিন এএফপিকে জানান, খনন কাজ শুরুর আগে নদীর পানি ছিল গভীর ও স্বচ্ছ। এখন সেই পানি পান করা তো দূরের কথা, গোসল কিংবা হাত-পা ধোয়ার কাজেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
তিনি কান্নাভেজা চোখে জানান, নদীর তীরের সব ঘাস বিলীন হয়ে গেছে। ধুলাবালি ও বাতাসের কারণে সেখানে এখন চাষাবাদ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
খনন কাজের আগে আমিন সর্বোচ্চ ৪০টি ছাগল পালন করতে পারতেন। এখন পরিবেশের অবনতির কারণে ১৫টি ছাগল পালন করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি তার জমি একটি খনি কোম্পানির কাছে ইজারা দিয়েছেন। এর বিনিময়ে তাকে ২০ হাজার ডলার দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনি অর্ধেক অর্থও পাননি। খনন শেষে জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কোম্পানিটি পূরণও করেনি।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর দেশটির খনি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় আয় বাড়াতে দেশের বিপুল ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদ কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে তালেবান সরকার।
বিশ্বব্যাংকের মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের পর আফগানিস্তানে শত শত খনিসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ খাতে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বছরে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হয়েছে।
আফগান খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় খনি খাতকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুমায়ুন আফগান জানান, আগের সরকারের সময় খনিজসম্পদ অনিয়মিতভাবে উত্তোলন করা হতো এবং যথাযথ তদারকি ছিল না।
তিনি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে সোনা উত্তোলন দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেশী তাখার প্রদেশেও কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। সেখানে একটি আফগান কোম্পানি চীনা অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে সোনা উত্তোলন করছে।
আরও পড়ুন: লেবার নেতা করবিনের দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সামরিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা হোক
বর্তমানে খনি কোম্পানিগুলোর ওপর প্রতি হেক্টর জমির জন্য প্রতি মাসে ২০ গ্রাম স্বর্ণ অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ কর হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। কোম্পানি লাভবান হোক বা না হোক, এই কর পরিশোধ করতে হয়।
বাদাখশানের কিছু এলাকায় এখনো খনন শুরু হয়নি। শিওয়া থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের এমন একটি এলাকায় বাস করেন পশুপালক ফাজিল। নিরাপত্তার কারণে তিনি পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি।
শৈশব থেকেই প্রতি গ্রীষ্মে পশুর পাল নিয়ে ওই পাহাড়ে আসেন ৪৫ বছর বয়সী ফাজিল। তিনি চান, তার এলাকায় খনিশ্রমিকেরা না আসুক।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, তবে মূল্য দিতে হয়েছে অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন