০৮:১৬ পি.এম
নওগাঁর চালের বাজারে আগুন লেগেছে। এক মাসের ব্যবধানে সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকায় বেড়েছে। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা তীব্র বিপাকে পড়েছেন। চালের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পেছনে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য এবং অবৈধ মজুতদারিকে দায়ী করছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ পৌর খুচরা ও পাইকারি চাল বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানেই আতপ চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। আর মাসের হিসাবে এই বৃদ্ধি কেজিপ্রতি প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাজারে খোলা চিনিগুড়া চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আর বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত চালের দাম ২০০ থেকে ২১০ টকায় পৌঁছেছে।
দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। পৌর চাল বাজারে চিনিগুড়া চাল কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, তারা শিশুদের জন্য বা বিশেষ দিনে বিরিয়ানি-পোলাও রান্নার কাজে চিনিগুড়া চাল ব্যবহার করেন। দাম বাড়ার কারণে আগে যেখানে ২-৩ কেজি চাল কিনতেন, সেখানে এখন ১ কেজি চাল কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। গত মাসে তারা যে চাল ১৪৫-১৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন, আজকের বাজারে সেই চাল ১৮০-২০০ টাকা কেজি দামে কিনতে হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে ৪০-৪৫ টাকা দাম বৃদ্ধির কারণে তারা মনে করছেন যে এটি সুখকর নয়। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে চিনিগুড়া চাল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সাধারণ ক্রেতারা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভবানীগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনা সভা
এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু সুগন্ধি চালই নয়, বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে কাটারি ও জিরাশাইলের মতো চিকন চালের দামও। বর্তমানে এসব চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকায়। মোটা স্বর্ণা-৫ চালের দাম কিছুটা স্থির থাকলেও চিনিগুড়া ও চিকন চালের বাজারের এমন ঊর্ধ্বগতিতে ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫০ কেজির চিনিগুড়া চালের বস্তায় দাম বেড়েছে প্রায় ২ হাজার টাকা। করপোরেট কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত দামে প্যাকেটজাত চাল বাজারজাত করায় খোলা বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে করপোরেট ব্যবসায়ীরা প্যাকেটজাত চাল বেশি দামে বিক্রি করায় খোলা বাজারে এর বড় প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।
এদিকে ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন জানান, বর্তমানে চালের ব্যবসা চলে গেছে করপোরেট কোম্পানিগুলোর হাতে। এর ফলে হাসকিং ও অটো মিল মালিকরা বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে রয়েছেন। বর্তমানে প্যাকেটজাত চাল বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করার অসৎ উদ্দেশ্যেই মূলত এমনটি ঘটছে। নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অসৎ ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে সরকারি অভিযান প্রয়োজন। বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি প্রকাশ করেছেন তিনি।
সুগন্ধি চালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিশাল বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। ভুক্তভোগীদের মতে, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা ছাড়া এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে চালের বাজারে স্বস্তি ফেরানো সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা সভার আয়োজন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন