মঙ্গলবার, ৩ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৩:৩৮ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সময়ে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এই অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আত্মীয়তা বা প্রভাব বিবেচনায় নেয়া হবে না। শুধু অর্থ নয়, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা হবে। দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে গিয়ে রাজার হালতে বসবাস করতে দেব না। আমরা তাদের ঘুম হারাম করে দেব।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এবারের নির্বাচন সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়। এটি দেশ গড়ার নির্বাচন। জনগণের প্রবল চাপেই পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ও আন্দোলনে জুলাই যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।’
বেকারত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেকাররা ভাতা নয়, কাজ চায়। তাদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্র কাজের সুযোগ তৈরি করবে, ভিক্ষানির্ভর ব্যবস্থা নয়।’ কৃষিখাতে অতীতের দমননীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যারা ন্যায্য সারের দাবিতে গুলি চালিয়েছে, তারাই এখন ফার্মার্স কার্ডের কথা বলছে।’ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি ভিক্ষাবৃত্তির চেয়েও নিকৃষ্ট।’
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতি গড়তে হলে আমাদের ভালো শিক্ষা লাগবে। সেই শিক্ষাকে পঙ্গু বানিয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমত, বাজেটে শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়। দ্বিতীয়ত, দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে অসৎ লোকদের হাতে যা বাজেট আছে তা তুলে দেয়া হয়। এক দিকে বাজেট অপর্যাপ্ত, অন্য দিকে যা বাজেট থাকে সেটাও তারা খেয়ে ফেলে। সারা বাংলাদেশের একই চেহারা।’
তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কৃষিতে বিপ্লব হয়ে চেহারা পাল্টে যাওয়ার কথা। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য যে পরিমাণ বাজেট ও পর্যাপ্ত জনবল সরবরাহ করা দরকার তা করা হয় না। তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে কাছাকাছিও কিছু দিতে পারেনি। ১১ দল ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোটা ময়মনসিংহে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। কৃষিকে ওই পুরোনো ধাঁচে আর আমরা দেখতে চাই না। কৃষি এবং কৃষক, এই দুটোকে শিল্প এবং শিল্পীতে পরিণত করব ইনশাআল্লাহ।’
জনগণ পুরোনো পচা রাজনীতি আর চায় না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ পরিবার ও ব্যক্তিগোষ্ঠীতান্ত্রিক রাজনীতি চায় না। তারা দলীয় সরকার দেখতে চায় না। জনগণ জনগণের সরকার দেখতে চায়। অনেকেই এখন আস্তে আস্তে বলতে শুরু করেছে আমরাও হ্যাঁ। ঠ্যালার নাম বাবাজি। জনগণের ঠ্যালা এটি ভীষণ শক্তিশালী ঠ্যালা। এটা সাগরের উত্তাল ঢেউকে থামিয়ে দেয়।’
বক্তব্য শেষে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার ১১ দলীয় প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির ও সদর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি ও মুক্তাগাছা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ময়মনসিংহ জেলা আমির আব্দুল করিম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার তেজগাঁও অঞ্চলের সাতরাস্তা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে তারা এই সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এ অবরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে উক্ত সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। যাত্রী ও চালকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করছেন যে, দশম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিয়োগের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের বিধান করার সুপারিশের প্রতিবাদে তারা এই রাস্তা অবরোধ করেছেন। তাদের দাবি, সরকারকে এই সুপারিশ বাতিল করতে হবে।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সদস্য আরিফ বিল্লাহ জানান, উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরা আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে, বর্তমান সরকার বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। যদি এই সুপারিশ বাতিল না করা হয়, তাহলে তারা কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) তানিয়া সুলতানা জানান, সড়ক অবরোধের কারণে আশপাশের এলাকায় প্রভাব পড়েছে। সাতরাস্তা থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। সোনারগাঁওয়ের সামনে কানেক্টিং সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। এর ফলে আশপাশের সড়কগুলোতেও প্রভাব পড়েছে, এবং মহাখালী থেকে আসা যানবাহনকে ডাইভারশন করতে হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বালাশুর এলাকায় নির্মাণাধীন ‘তমি মার্কেট’ দখল করতে বাধা দেওয়ার সময় আলমগীর (৫০) নামে এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন। এরপর তাঁর স্বজনেরা ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করেন এবং সেখানে অগ্নিসংযোগও করেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বালাশুরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে এবং স্থানীয় নিহতের স্বজন ও ক্ষুব্ধ জনতাও বেলা ১১টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। এই কারণে উভয় দিকে交通完全 বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
বিক্ষোভের সময় হান্নান হাজীর মার্কেটের সামনে অগ্নিসংযোগ করা হলে পুরো এলাকায় ভীতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যোগদান করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল পুনরম্ভ হয়।
এ ঘটনায় তমিজউদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), তারেক (৩৫), তুষার (২৪), আব্দুর রহমান (২৩)সহ অন্তত ৮ জন আক্রমণের শিকার হয়ে আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর ও তাঁর ভাই তমিজউদ্দিন বালাশুরে একটি মার্কেটের নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন। এই জমিতে হান্নান হাজী, মানিক ও তাপস নামক কয়েকজন ব্যক্তি আদালতে মালিকানা দাবি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা ব্যার্থ হলে অভিযুক্তরা নির্মাণাধীন মার্কেটটি দখল করার চেষ্টা করতে থাকেন।
শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার সকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় মার্কেটটি দখল করতে আসেন হান্নান ও মানিকের সহযোগীরা। যখন বাধা দেওয়া হয়, তখন তারা আলমগীরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। আলমগীরকে বাঁচাতে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদের উপরও হামলা চালানো হয়।
আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় হাসপাতাল গেটের সামনে দ্বিতীয় দফায় আলমগীরের উপর হামলা করা হয়। পরে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিঞা বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদফতরের (ডিজিএফআই) প্রাক্তন মহাপরিচালক সাইফুল আলমের নামে ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির একটি ব্যাংক হিসাব, যাতে ৭৭ লাখ ৫৬৯ টাকা রয়েছে, অবরুদ্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ জারি করেছেন।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ডিজি সাইফুল আলমের স্ত্রী লুবনা আফরোজা, এবং তাদের দুই কন্যা সারাহ জুমানা ও জারিফা বিনতে আলমের নামেও ট্রাস্ট সিটি প্রকল্পের অধীনে দুই কোটি ৭৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ৫ কাঠা জমি জব্দ করার নির্দেশ আছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের পক্ষ থেকে সংস্থার উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং জমি জব্দ করার জন্য আবেদন করেছেন।
আবেদনে উল্লেখ আছে যে, সাইফুল আলমের দুদকে জমা দেওয়া সম্পদের বিবরণী যাচাই করা হয়েছে এবং অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন তৈরির জন্য একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সাইফুল আলম এবং তার পরিবারের সদস্যরা ব্যাংক হিসাবের অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর, হস্তান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সাথে, লুবনা আফরোজা ও তাদের কন্যারা প্লট ক্রয়ের জন্য জমা দেওয়া অর্থ উঠিয়ে সম্পদ গোপন করার চেষ্টা করছেন।
দুদকের মতামত অনুযায়ী, তদন্তের কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে এসব সম্পদ পুনরায় হস্তান্তর হলে, তা উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। এ কারণে তাদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং স্থাবর সম্পদ জব্দ করা আবশ্যক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মো. আজম সারোয়ার চৌধুরী
বগুড়া, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের . রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিয়াকত আলী মনে করেন, ভোটের দিন নারী ভোটাররা কেন্দ্রের দিকে আসলে অনেক আসনের ফলাফল পাল্টে যেতে পারে। কারণ, এই অঞ্চলে মোট ভোটারের অর্ধেকেরও বেশি নারী রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, বগুড়ার ১২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৬৭২ জন। এর মধ্যে ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৪২ জন পুরুষ ও ১৫ লাখ ৭৮৮ জন নারী ভোটার। তাছাড়া, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪২ জন। এভাবে বগুড়ায় পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটার ১৯ হাজার ৯৪৬ জন বেশি।
বগুড়া জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য মতে, সারিয়াকান্দি এবং সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসনে ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৫ জন। এখানে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৭৩, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার পাঁচজন। অর্থাৎ, এখানে নারীর ভোটারের সংখ্যা পুরুষের থেকে ২ হাজার ৮৪৪ জন বেশি।
শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-২ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯, নারী ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও পাঁচজন। এখানে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা নারীর থেকে ৮৪৪ জন বেশি।
আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৩ আসনের ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৩। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৪৭, নারী ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার তিনজন। বগুড়া-৩ আসনে ৪৭৬ জন নারী ভোটার বেশি রয়েছে।
কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩। এখানে পুরুষ ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮৫, নারী ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৩০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আটজন। এখানেও ১ হাজার ৫৪৫ জন নারী বেশি।
শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০। পুরুষ ২ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭, নারী ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছয়জন। এখানে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষ ভোটারের তুলনায় ৯ হাজার ৭৬০ জন বেশি।
বগুড়া সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩। পুরুষ ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬, নারী ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। এ আসনে ৮ হাজার ৪৪১ জন নারী ভোটার বেশি রয়েছে।
জেলার গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৭ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৭০, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ১৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার পাঁচজন। এই আসনে নারীর তুলনায় পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৫৩ জন বেশি।
নামুজা ডিগ্রি কলেজের সিনিয়র প্রভাষক রফিকুল ইসলাম বাসস’কে জানান, ‘নারী ভোটাররা সাধারণত ভোট দিতে আগ্রহী। যদি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে তারা দলবদ্ধভাবে ভোট দিতে আসবেন। তাদের ভোটই অনেক কেন্দ্রে ফলাফল নির্ধারণ করবে।’
বগুড়ার সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের সাধারণ সম্পাদক কেজি ফারুক বলেছেন, নারী ভোটাররা কেন্দ্রে আসলে অনেক আসনের ফলাফল পরিবর্তন হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন বর্তমানে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সংস্কার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চালাচ্ছে। ভোটার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সর্বশেষ ভোটার তালিকায় প্রায় এক লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন এবং বাদ পড়েছেন ৫০ হাজার।
বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বাসস’কে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নির্বাচনী আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে বিচারিক আদালত সক্রিয় রয়েছে। সকলের সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানানো হলো।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ