সোমবার, ৫ই জানুয়ারী, ২০২৬ ইং
১১:৪৩ এম
গত বছর বাজারে পেঁয়াজের দাম ভালো ছিল। মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে। এরপর দাম বৃদ্ধি পেয়ে ১২০ থেকে ১৩৫ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে পেঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অথচ উৎপাদন খরচ মাত্র ২২ থেকে ২৫ টাকা প্রতি কেজি।
যেহেতু খরচ বাদ দিলে চাষিরা লাভবান আছেন, সেহেতু চলতি বছর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঠের পর মাঠে পেঁয়াজের চারা রোপণের দৃশ্য চোখে পড়ছে। কিন্তু কৃষকরা ঠিক মতো সার পাচ্ছেন না, এর ফলে তারা বেগতিক অবস্থায় পড়ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণেই টিএসপি, এমওপি এবং ডিওপি সার প্রয়োজন অনুযায়ী মিলছে না। এমনকি কৃষকরা যদি অতিরিক্ত টাকা দেন, তবুও তাঁরা সঠিক পরিমাণ সার পাচ্ছেন না।
কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুমারখালী উপজেলায় মোট ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে ইতিমধ্যে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
পেঁয়াজের ভালো দামের সম্ভাবনায় কৃষকেরা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। জমির ভাড়া, বীজ, সার, চাষ এবং পরিচর্যা বাবদ প্রতি হেক্টরে খরচ চলছে প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা।
উপজেলার পান্টি, বাগুলাট, নন্দলালপুর ও চাপড়া ইউনিয়নের মাঠগুলোতে কৃষকরা দলবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে পান্টি ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের কৃষক একজন জানান, "গত বছর পেঁয়াজের দাম অনেক ভালো ছিল, ৪০ থেকে ১৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল, যে কারণে বহু মানুষ পেঁয়াজ চাষ করছেন। কিন্তু এখন সার সংকটে রয়েছি।"
অন্যদিকে বরইচারা গ্রামের জহির হোসেনের ছেলে আবু বাদশা বলেছেন, "তিনি চলতি মৌসুমে ১৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন। তার মতে, যথাযথ সার না পাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।"
এছাড়া, সারের দাম বেশি নেয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এক হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপি সার বাজারে এক হাজার ৮৫০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি খন্দকার আব্দুল গাফফার, যিনি বলেন, "সরকার সর্ম্পকে সারের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে।" উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম দাবি করেছেন, "সারের সংকট নেই এবং কৃষকদের লাইনে দাঁড়িয়ে সঠিক দামে সার সরবরাহ করা হচ্ছে।" কিন্তু বাস্তবে এটির সাথে সরকারের ব্যবস্থাগুলোর কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানিয়েছেন, ডিলারদের সিন্ডিকেট ও দাম বৃদ্ধি করার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতিদিন কেনাকাটার প্রয়োজনে আমাদের কোথাও না কোথাও যেতে হয়। তবে রাজধানীর কোনো মার্কেটে যাওয়ার আগে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি জেনে নেয়া জরুরি। তা হলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না।
তাই দেখে নিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর কোন কোন এলাকার শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ।
আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এরিয়া, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১ ও ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টার সিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ী একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ, সানারপাড়।
রামপুরার মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোড়ান বাজার, মেরাদিয়া বাজার, আয়েশা-মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স, দনিয়া তেজারত সুপার মার্কেট, আবেদীন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেট।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঘন কুয়াশার কারণে বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল স্থগিত করে রাখা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা থেকে এই দুই নৌরুটে ফেরির অপারেশন বন্ধ রয়েছে, যার ফলে মাঝ নদীতে ২টি ফেরি, ছোট এবং বড়, আটকা পড়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত ১১টার পর থেকেই কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচলে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে চ্যানেলের বিআইডব্লিউটিসি বাতি এবং মার্কিং পয়েন্টগুলোর চিহ্নও দেখা সম্ভব হচ্ছিল না।
এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য রাত ১টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়াশার প্রভাব কমলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পুরানো নোটের বিনিময়ে নতুন ব্যাংক নোট নিচ্ছেন সিরিয়ার বাসিন্দারা। আসাদ সরকারের আমলের নোট বদলের মাধ্যমে দেশটির মুদ্রার মানোন্নয়নের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে সরকার। যদিও, এই পদক্ষেপ দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যাংকাররা।
বাশার আল আসাদের পতনের পর সিরিয়া পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অর্থনীতি থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে নিচ্ছেন নানা পদক্ষেপ। তারই অংশ হিসেবে নতুন ব্যাংক নোট ছাপানোর উদ্যোগ নেয় শারা প্রশাসন।
দেশটির মুদ্রার মানকে তলানিতে পৌঁছানো থেকে বাঁচাতে ২০২৬ এর ১ জানুয়ারি থেকেই নোট বদলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকেই ব্যাংকে নাগরিকদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।
নতুন নোটে দুইটি শূন্য কমে যাচ্ছে। যাকে মুদ্রার পুনর্মূল্যায়ন বলে। এতে, মুদ্রার মান একই থাকলেও এর পরিবর্তে সমতুল্য ছোট সংখ্যার নোট ব্যবহার করা হয়। এতে বাজারে ছাড়া হয়েছে ১০ থেকে শুরু করে ৫০০ সিরিয়ান পাউন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন মানের নোট। যেখানে থাকছে গোলাপ, গম, জলপাই, কমলাসহ সিরিয়ার জনপ্রিয় বিভিন্ন কৃষিসংক্রান্ত প্রতীক।
প্রেসিডেন্ট শারা বলেন, নতুন নোটের নকশা দেশের জাতীয় পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ হবে। যেখানে ব্যক্তিপূজার ছিটেফোঁটা থাকবে না।
সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন বাসিন্দারা। তারা বলেন, এটা বেশ বড় একটা পার্থক্য। বেশ বড়। পুরানো টাকা দিয়ে বেচাকেনা করতে হলে আমাদের বস্তা ভর্তি করে পাউন্ড নিয়ে যেতে হতো। সবসময় ডাকাতের ভয়ে দিন কাটাতে হতো আমাদের।
বাসিন্দারা আরও জানান, অবশ্যই আমরা প্রথমে কিছুটা এলোমেলো করে ফেলবো। যেমন ১০ লাখ পাউন্ড মানের নোট হয়ে যাচ্ছে ১০ হাজার পাউন্ডের। সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এখন আমরা স্বচ্ছন্দে মানিব্যাগে টাকা রাখতে পারবো। সরকারের এই পদক্ষেপের জন্য তাদের ধন্যবাদ প্রাপ্য।
তবে ব্যাংকারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে দোটানা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এতে দেশের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। কমে যাবে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াটি মসৃণ ও শৃঙ্খলা মেনেই করা সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় তেল সম্পদের বিবরণ জানতে পারা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার পর। বিশ্বজুড়ে এখন দেশটির বিশাল তেল সম্পদের ওপর আলোচনা চলছে। মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখল করার ষড়যন্ত্র করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে, স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। এর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি চাইছেন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিতে।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোকে পুঁজি বিনিয়োগ করতে উৎসাহী করা হবে যেন দেশটির পুনর্গঠিত তেল শিল্প তৈরি করা যায়। এই ঘটনা ঘটার পর প্রশ্ন উঠেছে, মাদুরোর অপসারণ কি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার উদ্দেশ্যে?
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার কাছে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। যা বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশটির উৎপাদন অত্যন্ত কম।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলা দৈনিক মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা বিশ্ব উৎপাদনের মাত্র ০.৮ শতাংশ। ২০১৩ সালে মাদুরো এবং তার পূর্বসূরী হুগো শ্যাভেজের শাসনের সময় ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প ধ্বংস হওয়ার অভিযোগ করেছেন ফিল ফ্লিন, প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ ফিরে আসে, তবুও ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরে আসতে বছরের পর বছর সময় ও বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ জানায়, গত ৫০ বছরে দেশটির তেলের পাইপলাইনগুলোর আধুনিকায়ন হয়নি। সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতায় ফিরতে অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারি এবং সালফারযুক্ত, তাই এটি উত্তোলন ও পরিশোধনে বিশেষ যন্ত্রপাতি ও দক্ষতার প্রয়োজন। যদিও আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো সেই সক্ষমতা রাখে, নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা এখনো সেখানে কাজ করতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার ভারি তেল ডিজেল, অ্যাসফল্ট এবং শিল্পকারখানার জ্বালানির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজেলের সংকটের অন্যতম কারণ ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা। তবে সবকিছু সঠিক হলে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প পুনর্গঠনে সক্ষম হলে এটি বৈশ্বিক তেল বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ