প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন টেকনাফে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
বিশেষভাবে-আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সময় যেন এই অঞ্চলে কোনও ধরনের অপ্রিয় ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক রাখতে চলছে ফুট পেট্রোলিং এবং সতর্কতামূলক প্রচারণা।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফ এলাকা। এখানে অবৈধ অস্ত্র, মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচারের মতো নানা অপরাধ কার্যক্রমের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সম্পর্কিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
তবে এই উদ্বেগ দূর করার জন্য সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী মাঠে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিদিন টেকনাফ পৌর এলাকা, মুখ্য সড়ক ও সীমান্ত এলাকা জুড়ে টহল কার্যক্রম তীব্র করা হয়েছে। সেইসাথে ফুট পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাস, নাশকতা ও অন্যান্য অপরাধ মোকাবিলার জন্য সর্তকতা প্রচারণা চলছে।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, যেকোন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স, সোয়াডস টিম, ড্রোন এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরা। একইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়, সে জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।
তিনি জানান, সরকার নির্দেশিতভাবে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে নৌবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই সময়ে তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে, যার ফলে তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা অবাধিত হয়েছে।
এদিকে বুধবার দুপুরে টেকনাফ নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বৈঠক করেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যেকোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা প্রতিরোধে নৌবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রিয়ার এডমিরাল মঈনুল হাসান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময় ভোটারদের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য নৌবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি জানান, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য নৌ সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আইনানুগ নির্দেশনা ও আচরণবিধি দেওয়া হয়েছে। তদুপরি জরুরি পরিস্থিতিতে জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স, সোয়াডস টিম, ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি কঠোর করার কাজও চলছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে। বরাবরের মতো বাংলাদেশ নৌবাহিনী সংবিধান ও আইনের আলোকে অর্পিত দায়িত্ব সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে পালন করতে প্রস্তুত।
নির্বাচন সংক্রান্ত নৌবাহিনীর এই কার্যকলাপ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বেশি বলা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন