সোমবার, ২ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০১:২০ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের মহেশখালীকে স্মার্ট ইকোনমি জোন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, কক্সবাজারকে সিঙ্গাপুর কিংবা হংকংয়ের চেয়ে আরও উন্নত করা হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মহেশখালীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, পচে যাওয়া নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, 'বস্তাপচা রাজনীতির পরিবর্তনই আমাদের মূল লক্ষ্য।'
একত্রিত জাতি গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, 'বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।' তিনি আশ্বাস দেন যে, আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশ বদলে যাবে এবং নতুন বাংলাদেশের জন্ম হবে।
এছাড়া জামায়াত আমির চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্য বন্ধ করারও ঘোষণা দেন।
শিক্ষিত বেকারদের প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘অপমানজনক বেকার ভাতা নয়, যুব সমাজকে সম্মানজনক কাজ প্রাপ্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ক্ষমতায় গেলে কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী, লবণ শিল্পকে রক্ষা ও আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির।
নির্বাচনী সভায় দাঁড়িপাল্লা মার্কার সঙ্গে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছেন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই তথ্যটি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের অনলাইন রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে। তবে, দিল্লি এই আমন্ত্রণের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নির্বাচন এবং গণভোটের পর্যবেক্ষণে ভারতকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। ভারত ছাড়াও, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও কিছু দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থারও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
কিন্তু, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভারত সদস্য পাঠাবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য মোতাবেক, বর্তমানে মোট ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নির্বাচনের পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা, ১৬টি দেশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের ৩২ জন ব্যক্তি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অফিস থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনসমূহের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
ভারতের পাশাপাশি আমন্ত্রণপত্র পেয়েছে নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া, রোমানিয়া এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশ। কিছু দেশ তাদের প্রতিনিধিদল চূড়ান্ত করতে এখনও কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নারীদের অপমান করেছেন। তিনি বলছেন, তাদের বক্তব্য শুনলে স্পষ্ট বোঝা যায়, যদি তারা ক্ষমতায় আসে, তাহলে নারীদের দুর্দিন শুরু হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই মন্তব্য করেন রিজভী।
রিজভী জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করে বলেন, 'জান্নাতের কার্ড কি শেষ হয়ে গেছে? যে কারণে নারীদের নিয়ে ঐরকম কথা বললেন! এটা কি শফিক সাহেবের আইডি হ্যাক হয়ে গেছে?'
তিনি আরও জানান, শফিক সাহেবের মন্তব্যের মাধ্যমে নারী সমাজের প্রতি সম্মানহানি ঘটেছে। তাদের কথা শুনলে বোঝা যায়, ক্ষমতায় গেলে নারী সমাজের সমস্যা বাড়বে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব উল্লেখ করেন, 'আপনারা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মন্ত্রী ছিলেন? এখন আপনি বলছেন, দলের প্রধান নারী হবে না। কেন একজন নারীকে মনোনয়ন দেননি?'
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, জামায়াতের আমির পুরো নারী সমাজকে অপমান করেছেন। যদি আইডি হ্যাক হয়েছিল তবে সেটা প্রমাণ করতে না পারলে তাকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
তিনি বলেন, নারীদের জামায়াতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, কারণ জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার বিরোধী ছিল। জামায়াতে ইসলামী মা-বোনদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে তুলে দিয়েছিল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান জানান, শফিকুর রহমানকে নারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায়, যে আগুন জ্বলবে, সেটায় জামায়াত পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। যেই মা থেকে সকলের জন্ম, সেই মা জাতিকে পায়ের নিচে রাখতে চায় জামায়াত।
তিনি যোগ করেন, '১২ তারিখে নারীরা তা বুঝিয়ে দেবে, যে তাদেরকে হেয় করে কোনো দল জয়ী হতে পারে না।'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ-সংলগ্ন প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভা শেষে হেলিকপ্টারে করে যশোরের দিকে রওনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যথাযথভাবে সেখানে তার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে জনসভার মঞ্চ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত হতে যাওয়া এই সভাকে ঘিরে পুরো এলাকায় জনতার ঢল উঠে পড়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে বক্তব্য প্রদান শুরু করেছেন।
সকাল থেকেই জেলা শহরের বিভিন্ন স্থান ও আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সমর্থক সমাবেশের স্থলে আসতে শুরু করেন। উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের খোলা মাঠ, রাস্তা ও অলিগলিতে মানুষের ভিড় ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে এলাকাটি মুখরিত হয়ে উঠেছে। এখন সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কখন তারেক রহমান মঞ্চে আসবেন।
এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) যশোর প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তারেক রহমানের এই সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি জনসভায় অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের সামনের ভোটারের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপরেখা তুলে ধরবেন।
এ সময় আইনশৃঙ্দলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় পাঁচশোর অধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা তদারকির জন্য শতাধিক পুলিশ সদস্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার করতেও প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি র্যাবের ছয়টি বিশেষ টিম মাঠে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। পুরো এলাকা জুড়ে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্যাংকখাতের সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যাংকারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পেশাদারিত্ব বজায় রেখে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে।
তিনি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬-এ এসব কথা বলেন।
আর্থিক উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যতটুকু স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে, তা সম্পূর্ণভাবে সফল হয়নি। রাজনৈতিক সরকারের অধীনে কাজ করা কঠিন হলেও ব্যাংকারদের প্রস্তুত থাকতে হবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
আগামীতে রাজনৈতিক এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। তাই ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সবাইকে এক হয়ে কাজ করার উপর জোর দেন। তিনি জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্তব্য হচ্ছে তাদের নিয়মনীতি মেনে চলা এবং একইসঙ্গে মানুষের সেবা প্রদান করা।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান তৈরিতে এসএমই এবং মাঝারি শিল্প খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই খাতগুলোকে সমর্থন দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব তুলে ধরেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ