১১:১৮ পি.এম
কওমি মাদরাসার শিক্ষা পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ৬ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে, শায়খ আহমাদুল্লাহ দেশের শীর্ষ আলেম ও মাদরাসার দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে এই উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এই কথা বলেন।
পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, কওমি মাদরাসা সংকটাপন্ন জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং রাষ্ট্রীয় অনুদান ছাড়াই লাখ লাখ এতিম ও দুস্থ শিশুর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের প্রতি শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ওপর ছায়া ফেলছে। ইসলাম শিশুদের সঙ্গে কোমল আচরণের ওপর কড়া নির্দেশনা দেয়, যা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। কিছু তথাকথিত শিক্ষকের নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ড অত্যন্ত লজ্জাজনক, এমন মন্তব্যও তিনি করেন। সংবাদমাধ্যমের অতিরঞ্জন বা ষড়যন্ত্রের অজুহাতে বিদ্যমান সমস্যা অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি সতর্ক করেন।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু
মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সুরক্ষায় শায়খ আহমাদুল্লাহ যে ৬টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন, সেগুলো হলো:
• কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি গঠন: ‘আল-হাইআতুল উলয়া’র পক্ষ থেকে শীর্ষ আলেম, আইন ও মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে, এই কমিটি নিরপেক্ষ তদন্ত চালাবে এবং দোষীদের আইনের হাতে সোপর্দ করার পাশাপাশি একটি ‘সেন্ট্রাল ব্ল্যাকলিস্ট’ বা কেন্দ্রীয় কালোতালিকা তৈরি করবে।
• অভিযোগ গ্রহণ সেল: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি ডেডিকেটেড হটলাইন চালু করা হবে, যেখানে অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
• প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত সংস্কার: ক্লাস ও আবাসিক হলগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা। ছোট শিশুদের জন্য মা-বাবার সান্নিধ্য নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষা উৎসাহিত করা হবে এবং কওমি মাদরাসার গণরুমের প্রচলিত বিছানা পদ্ধতির পরিবর্তন আনা হবে। এছাড়া শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কাজ করানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়।
আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে
• শিক্ষক ও স্টাফদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন: শিক্ষকদের জন্য কঠোর আচরণবিধিমালা প্রণয়ন এবং শিশু মনস্তত্ত্ব ও সুরক্ষা আইন সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবাহিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং শিক্ষকদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য ফ্যামিলি কোয়ার্টার বা নিয়মিত ছুটির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়।
• নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালা: মহিলা মাদরাসাগুলো সম্পূর্ণভাবে নারী কর্মকর্তা ও স্টাফদের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। মূল ফটকের প্রহরী বা দারোয়ান ছাড়া কোনো অবস্থাতেই মাদরাসার ভেতরে পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ রাখা যাবে না।
• অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ: যত্রতত্র গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত ও মানহীন প্রাইভেট মাদরাসাগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির আওতায় আনা হবে এবং নতুন প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে যথাযথ সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
পোস্টের শেষ অংশে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কওমি মাদরাসা মানুষের আত্মিক আশ্রয়ের শেষ জায়গা। এই পবিত্র অঙ্গনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে, অন্ধ আত্মপক্ষ সমর্থনের ঊর্ধ্বে এসে কঠোর আত্মসংশোধনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা দরকার। বৃহত্তর স্বার্থে দেশের শীর্ষ আলেমগণ এই প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: বিএনপি ক্ষমতায় আসলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন