০২:১৭ পি.এম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যদি কোনো দেশ শুধু প্রযুক্তি কিনে ব্যবহার করে, তাহলে সেই দেশ সবসময় অন্যের ওপর নির্ভরশীলই থাকবে। কিন্তু যে দেশ স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্পকলা এবং গণিত) শিক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তিকে বুঝতে সক্ষম হয়, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোজিত করতে পারে এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারে, সেই দেশই প্রকৃত অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জন করে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসে জাপান সেই পথ দেখিয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশও প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই স্টেমভিত্তিক দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আজ জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত আরটেক জেনারেল এক্সিবিশন ২০২৬- এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলি বলেন।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার এমন একটি শক্তিশালী স্টেম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি শেখানোই একমাত্র লক্ষ্য নয়। বরং ছেলে-মেয়েদের প্রশ্ন করতে শেখানো, সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করা, ধারণাকে গভীরভাবে বোঝা, সমস্যা বিশ্লেষণ করা এবং মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরির সক্ষমতা গড়ে তুলতেই হবে মূল উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ৭ কোটিরও বেশি এবং বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাথমিকে পড়ালেখা করছে। তবুও দেশের অর্থনীতি এখনো তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এজন্য একটি বহুমুখী, জ্ঞানভিত্তিক এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে প্রাথমিক স্তর থেকেই স্টেম শিক্ষার শক্ত ভিত্তি নির্মাণ করা অপরিহার্য।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাপানের ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। মেইজি পুনর্গঠনের সময় অথবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর উভয় ক্ষেত্রেই জাপান শিক্ষা, প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশও সেই ধারাকে অনুসরণ করতে চায়।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক শিখন সংকট মোকাবিলাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। শিশুদের সাক্ষরতা, সংখ্যাজ্ঞান এবং মৌলিক দক্ষতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি দৃঢ় শিক্ষাভিত্তি গড়ে তুলতে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: দুদক হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে
তিনি আরও বলেন, স্টেম শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ব্যয়বহুল প্রযুক্তি সবসময় আবশ্যক নয়। একটি শিশুর লাগানো একটি গাছই হতে পারে জীববিজ্ঞান শেখার কার্যকর ল্যাবরেটরি। স্থানীয় পানির মান পরীক্ষা করা, বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা, কাগজ দিয়ে সেতু নির্মাণ করা অথবা নিজ এলাকার রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যার সহজ প্রকৌশলভিত্তিক সমাধান খোঁজা, এগুলি শিশুদের জন্য কার্যকর স্টেম শিক্ষার অংশ হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে গণিত ল্যাব, বিজ্ঞান ক্লাব এবং মৌলিক রোবোটিক্স শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে চায়। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্টেম শিক্ষা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি বলেন, আরটেক জেনারেল এক্সিবিশনে প্রকাশিত শিক্ষা উপকরণের পদ্ধতিগুলি অত্যন্ত সহজ, মডুলার, ব্যবহারিক এবং সাশ্রয়ী। এই উদ্ভাবনী মডেলগুলি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সহজেই অভিযোজিত হতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী এবং বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়নযোগ্য শিক্ষাসমাধানগুলিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা শিক্ষার্থীদের শুধু তথ্য মুখস্থ করাবে না, বরং সমস্যাকে শনাক্ত করতে ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম করবে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনে তাদের সক্ষম করে তুলবে।
আরও পড়ুন: বিএনপি ক্ষমতায় আসলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না
তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ভাঙন, দ্রুত নগরায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, অটোমেশন এবং কৃতি বুদ্ধিমত্তার মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ। তবে এসব চ্যালেঞ্জ শুধু বাংলাদেশের নয় বরং বৈশ্বিক। তাই এসব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকল্প নেই।
বক্তব্যের শেষে প্রতিমন্ত্রী আরটেক, অক্টোব্রেইন, এই অনুষ্ঠান আয়োজক, অংশগ্রহণকারী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগামী প্রজন্মের শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা আরও সহনশীল, উদ্ভাবনী এবং সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়তে পারি।
অনুষ্ঠানে ওসাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক অতিথি এবং আরটেক ও অক্টোব্রেইনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রধান বিচারপতির এজলাসে আইনজীবীর আচরণ অনুচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত : আইনমন্ত্রী
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন