সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৭:২৮ পি.এম
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় একটি গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন নেতা-কর্মী এবং সমর্থক দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গী সেনাকল্যাণ গার্মেন্টের সামনে অবস্থিত একটি ক্লাবঘরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বলছেন, টঙ্গী চেরাগআলী এলাকায় গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির সমর্থনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি জনসভার জন্য স্থানীয় নেতা সুমন সরকারের সমর্থকরা সেনাকল্যাণ মার্কেট এলাকার ক্লাবে জড়ো হয়েছিলেন। সভার জন্য সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে সেখানে আগে থেকেই অনেক গ্যাস ভর্তি বেলুন মজুত করা হয়েছিল।
বিকেল ৪টার দিকে, যখন নেতা-কর্মীরা ক্লাবঘর থেকে বেলুন নিয়ে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে ক্লাবঘরের অভ্যন্তরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের হাত, পা ও মুখ দগ্ধ হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধ ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ, যেমন হাত, পা ও মুখ, উল্লেখযোগ্যভাবে ঝলসে গেছে। অধিকাংশ আহতের বয়স ২০ বছরের নিচে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে চিকিৎসা করা হচ্ছে।
দগ্ধরা জানিয়েছেন, ক্লাবঘরে থাকা বেলুনগুলোর ভেতরে যে দাহ্য গ্যাস ছিল, তা তারা আগে থেকেই জানতেন না। সাধারণ ডেকোরেশনের বেলুন মনে করে তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ায় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে যান।
গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির সমর্থক মো. রবিউল ইসলাম জানালেন, সমাবেশের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আবদ্ধ ঘরে অতিরিক্ত গ্যাস বেলুনের ঘর্ষণ বা অন্য কোনো দাহ্য উৎস থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৩৪ হাজার ৬৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন বা ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার। অপরদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ হাজার ৪৭৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন বা ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গণনা অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ থাকা ছিল ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।
নিট রিজার্ভ গণনা করা হয়ে থাকে আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপের ভিত্তিতে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে, এবং নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সংশয় থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
তিনি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার নির্বাচনী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এবং স্থানীয় সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করার পর এই কথা জানান।
বিজিবি মহাপরিচালক জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন নাটকীয়ভাবে সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার এলাকা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষার জন্য মোট ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবির নিরলস নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে বিজিবি প্রধান বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যেন কোনো ষড়যন্ত্রকারী বা দুষ্কৃতকারী সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং নির্বাচনী পরিবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, তা কঠোরতার সঙ্গে প্রতিহত করতে হবে।’
বিজিবি মহাপরিচালক এছাড়া আরও জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করছে। সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য আকাশ থেকে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার হবে, এবং কুইক রেসপন্স ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন টিম এবং বিশেষায়িত K-9 ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। প্রতিটি সদস্যের শরীরে থাকবে বডি-অন ক্যামেরা, যা মাঠ পর্যায়ে স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সকালবেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রি কলেজ এবং দুপুরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজে অনুষ্ঠিত সভায় সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং র্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সদিচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলমান রাজনৈতিক পরিবেশ ও জনগণের দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে বাংলদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীতে একটি গণমিছিলের আয়োজন করেছে।
রাজশাহী সদর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের নির্দেশে আজ দুপুর ৩টায় নগরীর সিএন্ডবি মোড় থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। মিছিলটি লক্ষীপুরের বিভিন্ন সড়ক অতিক্রম করে মেডিকেলের সামনে দিয়ে জাদুঘর মোড় পর্যন্ত পৌঁছে এবং সেখানে থেকে জিরোপয়েন্ট হয়ে নিউ মার্কেটে শেষ হয়।
গণমিছিলের প্রস্তুতির জন্য আজ সকালে থেকেই নগরজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নির্ধারিত স্থানে সমবেত হন।
গণমিছিলের আগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা আল্লাহর রহমতে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করবেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন এক যুগের শুরু হবে, যেখানে ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সবাই সবার অধিকার পাবেন।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, রাজশাহী नागरिकদের আজকের গণমিছিলে ব্যাপক অংশগ্রহণ দাঁড়িপাল্লার অনুষ্ঠিত গণজোয়ারের সৃষ্টি করেছে, যা ১২ তারিখে নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার ভূমিধস বিজয় নিশ্চিত করবে ইনশাআল্লাহ।
এ কর্মসূচিতে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চলতি বছরে ৮ ফেব্রুয়ারির বার্ষিক বৈঠকে বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের সাথে সাক্ষাৎ করেননি। এর ফলে তিনি তার ৩৭ বছরের পুরনো ঐতিহ্য ভাঙার বিষয়ে ইরান ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে অবহিত হয়েছেন।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণ করার পর থেকে প্রতি বছর খামেনি এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এমনকি করোনাভাইরাসের মহামারি চলাকালেও তিনি এই রীতিটি রক্ষা করেছিলেন।
এই বার্ষিক বৈঠকটি ১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির একটি বিশেষ স্মৃতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ওই দিনে ইরানের বিমানবাহিনীর একটি দল প হলভি রাজবংশকে উৎখাত করার জন্য আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে। খোমেনি ছিলেন ইসলামিক রিপাবলিকের প্রতিষ্ঠাতা এবং খামেনির পূর্বসূরি সর্বোচ্চ নেতা।
পরবর্তী চার দশকের মধ্যে দিনটি এক প্রতীকী অনুষ্ঠানে উন্নীত হয়, যেখানে প্রতি বছর একই তারিখে বিমানবাহিনীর সদস্য এবং কমান্ডাররা ইরানের ধর্মীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
প্রতিবেদন আরও জানাচ্ছে, চলতি বছর খামেনির পরিবর্তে রবিবার বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মুসাভি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ