বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:২৬ পি.এম
নওগাঁয় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে, শহরের দয়ালের মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আ.ত.ম ইউসুফ (৪৫) নওগাঁ শহরের জগৎসিংহপুর হাজীপাড়া এলাকার একটি বাসিন্দা ও জয়পুরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো আজ সকালে শিক্ষক আ.ত.ম ইউসুফ স্কুটি (মোটরসাইকেল) চালিয়ে কর্মস্থল জয়পুরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শহরের দয়ালের মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার স্কুটির ধাক্কা লাগে। ফলে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি রাস্তার ওপর পড়ে যান।
এই সময়, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে আসা দ্রুতগতির একটি বিআরটিসি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এর ফলে বাসের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
স্থানীয়দের মতে, অটোরিকশার ধাক্কায় অসাবধানতাবশত সড়কে পড়ে যাওয়ার কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে উপলব্ধ ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখা গেছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো এর এক গবেষণা প্রতিবেদনের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে সুপার শপ পর্যন্ত, টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক কতটা ক্ষতিকর হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হলেও টুথপেস্টে উপস্থিত এই পদার্থ নিয়ে এখনই উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তবে বিশেষ করে শিশুদের এই ধরনের টুথপেস্ট ব্যবহার করার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
ঢাকা ডেন্টাল কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং ডেন্টাল পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হায়দার আলী খান জানিয়েছেন, যেহেতু আমরা টুথপেস্ট খাই না, তাই আতঙ্কিত হওয়ার এমন কিছু নেই। কিন্তু তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করে, তাহলে এটি পরিপাকতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র, এবং হৃদযন্ত্রসহ অন্যান্য শারীরিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিশুরা কোনোভাবেই টুথপেস্ট খেয়ে না ফেলে।
এসডো বলছে, এই গবেষণাটি আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য নয়, বরং বাজারের মনিটরিং এবং ভোক্তা ও সরকারকে সচেতন করতেই পরিচালিত হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা মন্তব্য করেছেন যে, ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে উৎপাদকরাও পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরিতে আগ্রহী হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করেছেন গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিকভাবে সক্ষম ল্যাবরেটরিতে চলমান রয়েছে পরীক্ষা।
অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানাচ্ছেন, আমাদের ৩০-৩৫টির বেশি আর্টিকেল সায়েন্টিফিক ফোরামে প্রকাশিত হয়েছে। যেহেতু সায়েন্টিফিক ফোরাম আমাদের গবেষণা প্রকাশ করেছে, তাই আমরা যে পদ্ধতিতে গবেষণা সম্পন্ন করেছি, সেটি উপযোগী তা প্রমাণিত হয়েছে।
বিএসটিআইর মহাপরিচালক কাজী এমদাদুল হক জানিয়েছেন, টুথপেস্টে কোন কোন উপাদান ব্যবহার করা যাবে এবং কোনগুলো যাবে না—সেটি নিয়ে নতুন করে মানদণ্ড নির্ধারণের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেছেন, আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করবো। যদি দেখা যায় যে আমাদের মানদণ্ডে কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটি আমরা করবো।
এদিকে, এ বিষয়ে এক আইনজীবীর রিটের পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাইকোর্ট, তাদের ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বুয়েট এবং বিএসটিআইয়ের একজন করে মোট তিনজনকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনের জন্য ডাকা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টুথপেস্টে নয়, মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরো পৃথিবীজুড়ে পানি, মাটি ও বায়ুতে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৪ সালের এইদিনে রক্তাক্ত রাজপথের প্রতি সহানুভূতি এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের প্রোফাইল লাল রং-এ রঞ্জিত করেন। কোটি কোটি ব্যবহারকারীর এই প্রতিবাদ, শাসকের মসনদকে নাড়িয়ে দেয়। এর আগে, নিহতদের স্মরণে সরকার ৩০ জুলাই রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, শোকের সেই কালো রং এর বিরপীতে মুখ ও চোখে লাল কাপড় বাঁধা ছবি দিয়ে আন্দোলনকারীরা অনলাইনে একটি প্রচার কর্মসূচি পালন করেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, কালোর বিরুদ্ধে লালের এমন আইডিয়া এসেছিলো তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে। জুলাইয়ের এই রক্তিম দিনটি কেমন ছিল? ৩০ জুলাই, ২০২৪। ইতোমধ্যেই নিহত হয়েছেন শত শত মানুষ। আহতের সংখ্যা অজানা ও অজস্র। এর সকল দায় সরকারের এবং তার পেটোয়া বাহিনীর ওপর বর্তায়। এমন এক সময়ে সরকারের তরফ থেকে রাষ্ট্রীয় শোকের ঘোষণা আসে। এদেশের আপামর জনতা ঘৃণাভরে সে ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন। এদিন কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল রাঙিয়ে তোলে বিপ্লবের লাল রঙে। হত্যার বিচার চেয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে বেরিয়ে আসে জনতা। শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবকদের পাশাপাশি বিশিষ্ট নাগরিকরাও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এদিন জনসম্মুখে হতাহতের জন্য সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেন তারা। রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্ভূত এ কর্মসূচিটি প্রথমদিকে সবাই ইতিবাচকভাবে নেয়নি। কিন্তু কিছুদিন পরেই মজলুমের পক্ষে যারা শামিল হচ্ছেন, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেন, প্রথমে আমরা প্রোফাইল লাল করার কর্মসূচিটি সাংবাদিক ও ফেসবুক গ্রুপে দিয়েছিলাম। তখন দেখা যায়, মানুষ কটূ ভাষায় বক্তব্য রাখছিল। তারা বলছিল, আমরা নাকি আন্দোলনটাকে নিচে নামিয়ে আনছি এবং অফলাইন থেকে অনলাইনে চলে আসছি। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য ছিল জনমত যাচাই করা। যারা হাসিনার নিপীড়নের পক্ষে তারা প্রোফাইল কালো করেছে এবং যারা ছাত্রদের পক্ষে তারা লাল করেছে। এতে একটা বাইনারি তৈরি হয়েছিল, সুতরাং সবাই বুঝতে পারেন কারা কারা কার পক্ষে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের শোকের কালো রঙের পরিবর্তে লাল রং ধারণ করে অনুষ্ঠানের নির্দেশনা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এসেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান আমাকে ফোন করে বলেন, যেহেতু তারা (তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার) কালো রঙে করছে, তাই লাল রঙ দিয়ে কোনও কর্মসূচি করা যায় কি না। সেটাই আমি ছাত্রদের বলেছি। তারা সকলেই সেটি গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, লাল কাপড় যদি নাও পাওয়া যায়, তবে ফেসবুকে আমরা লাল রঙ পোস্ট করবো। সেটি থেকেই প্রোফাইল লাল করা শুরু হয়। এছাড়াও কারফিউ তুলে নেওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের পদত্যাগের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি, আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত কমিশন করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের করার ১১ দফা দাবি জানানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিবাদ বিরোধী শিক্ষকদের ফোরাম-সাদা দলের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশের সহিংস পরিস্থিতি এবং গণগ্রেফতার নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়া ৬ সমন্বয়ককে কোন আইনে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রশ্ন তোলে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এতো সহিংসতায় আদালত লজ্জিত বলেও জানায়। এতকিছুর মাঝে সরকার জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সরকারের তিন মন্ত্রীই জানিয়েছেন, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি একদিনের মধ্যেই নিষিদ্ধ হবে। এদিকে পরদিন ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তারা জানায়, ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস এবং রাজপথে পালিত হবে এ কর্মসূচি। ২৪ জুলাই কিছু মানুষ কত রকমের প্রতিবাদ করতে পারে তার দৃষ্টান্ত। একদিকে রাজপথে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাল কাপড় এবং রাঙানোর মাধ্যমে প্রতিবাদ। সেই আপসহীন প্রতিরোধেই শেখ হাসিনা সরকারের মসনদ তছনছ হয়ে যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, জলবায়ু সহনশীলতা, যুব উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে ইউনেস্কোর অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশের ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে শামা ওবায়েদ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি এবং ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্প অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ-ইউনেস্কো অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও যুব ক্ষমতায়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি), ভাষা প্রশিক্ষণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানান। তিনি ইউনেস্কোর মহাপরিচালককে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান সুবিধাজনক সময়ে।
জবাবে ড. সুসান ভাইজ বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের জন্য ইউনেস্কোর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব সম্পৃক্ততা এবং টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদারকরণের এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একসময় মোবারক হোসেন ইমন হাতে ক্রিকেট বল নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর। চট্টগ্রামের ক্রিকেটাঙ্গনে তিনি ছিলেন সম্ভাবনাময় বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার হিসেবে পরিচিত। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ক্রিকেটারই চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ হয়ে ওঠেন। খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা এই ব্যক্তিকে অবশেষে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কোতোয়ালি মডেল থানা এবং যশোর জেলা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত ঐ অভিযানে দীর্ঘদিন নজরদারির পর তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমন ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ। এলাকার মাঠে খেলা শুরু করে, ২০১৯ সালের দিকে তিনি চট্টগ্রামের ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমিতে যোগ দেন এবং নিয়মিত অনুশীলন করতেন বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও কাজীর দেউড়ি এলাকার মাঠে। বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার হিসেবে তিনি দ্রুত পরিচিতি পান এবং ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের বোলিং অনুসরণ করতেন। ক্রিকেট নিয়েই ছিল তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমির কোচ আমিনুল হক বলেন, ইমন ছিল খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে। সে নিয়মিত অনুশীলন করত। তবে করোনার পর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। পরে গণমাধ্যমে ‘ডেভিড ইমন’ নামটি শুনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর ইমন অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। ওই সময় থেকেই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’এর গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সাহসী ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্যে পরিণত হন। বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, চান্দগাঁওসহ চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে এই গ্রুপের কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ ছিলেন এবং তাদের দাবি, ডেভিড ইমনের ১৫ থেকে ২০টি অস্ত্র বহনের ছবিও সংগ্রহে রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, বড় সাজ্জাদের সহযোগী ছোট সাজ্জাদ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন কারাগারে যাওয়ার পর ডেভিড ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান আলম মাঠপর্যায়ে গ্রুপটির কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামে আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো ডেভিড ইমনের নাম আসে। এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়। একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সর্বশেষ নগরের চন্দনপুরা এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার সঙ্গেও তিনি আলোচনায় আসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমন এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অপরাধচক্রের আরও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ