সোমবার, ২ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০২:৪০ পি.এম
হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে ইসলামিক ফ্রন্টের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এ ঘটনা ঘটে রবিবার বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুড়ি ইউনিয়নের দেওলগাঁও গ্রামে। এই সময়ে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল হয়, যার ফলে পূর্বনির্ধারিত প্রচারণা শেষ না করে চলে যেতে বাধ্য হন তাহেরী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যখন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী দেওলগাঁও গ্রামে প্রচারণার জন্য আসেন, তখন সাটিয়াজুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল হকের নেতৃত্বে একদল রাজনৈতিক কর্মী মোমবাতির শ্লোগান দিতে শুরু করে এবং প্রচারণা চালাতে নিষেধ করেন। তাদের হাতে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ ফয়সলের লিফলেটও দেখা যায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে কথার তীব্র লড়াই শুরু হয় এবং পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়।
ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পূর্বে তাহেরী বলেন, “নির্বাচন আসছে এবং শেষ হবে। রাজনীতির অধিকার সকলের রয়েছে। তবে নির্বাচনী সভা না করতে দেওয়ার ঘটনা সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।” তিনি আরো বলেন, “বিএনপির সমর্থকরা শুধু প্রচারণা ব্যাহত করেনি, তারা আমার গাড়ি বহরকে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখে। যদি এভাবে শান্তি লাভ করে, যাক।” তাহেরী বলেন, “এলাকার সম্মান রয়েছে এবং সেটি ধরে রাখতে হবে। মনে রাখবেন, প্রচারণায় বাধা দেওয়া মারাত্মক অপরাধ।”
চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর সিরাজ এই বিষয়ে বলেন, “নির্বাচনে নানা ঘটনা ঘটে। এটি একটি ভুল বুঝাবুঝি।”
চুনারুঘাট থানার (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা এ বিষয়ে কোনো অবগতির খবর পাইনি। তথ্য সংগ্রহ করে দেখবো।”
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সোমবার কক্সবাজারের মহেশখালীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জানান, “দেশের মধ্যে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্যের সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে। এসব অপসংস্কৃতি থেকে জাতিকে মুক্ত করাই জামায়াতের অঙ্গীকার।”
শফিকুর রহমান আরও বলেন, “পচে যাওয়া নেতৃত্ব দিয়ে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, পুরোনো রাজনীতির পরিবর্তন ঘটানো।”
তিনি বলেন, মহেশখালীতে একটি আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। জামায়াত লবণ শিল্পকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং কক্সবাজারকে সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও উন্নত নগরীতে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে। অপমানজনক বেকার ভাতা না দিয়ে যুবকদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ পরিবর্তন হবে। নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে।
জাতিকে বিভক্ত না করে, বরং ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশের রূপ পরিবর্তন হবে। নতুন বাংলাদেশের জন্ম হবে।
জামায়াতের আমির বলেন, যারা বসন্তের কোকিল নন, তাদের নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে হবে। ইনসাফের ভিত্তিতে উন্নয়ন ঘটানো হবে। পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলো আগে উন্নয়ন কাতারে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়া হবে।
গণভোট নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা আগে মুখ লুকিয়ে কথা বলতেন তারা এখন গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য আসছেন। তিনি কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি লবণ শিল্পকে রক্ষা এবং আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িপাল্লা মার্কার পাশাপাশি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এখন একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সেই উদ্দেশ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে সামনে এগোতে দেয়ার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে এবং তারা দেশের অবস্থাকে আফগানিস্তানের মতো করতে চেষ্টা করছে।’
আজ সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার জনসংযোগের সময়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত নারীদের কাজ করতে দিতে চাইছে না; তারা চান মেয়েরা যেন ঘরেই বসে থাকে।’
এই সময় জামায়াতে ইসলামের আমিরের সাম্প্রতিক এক ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) পোস্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যদি আমির নারীবিদ্বেষী এই ধরনের মন্তব্য করেন, তবে তিনি অন্যায় করেছেন। বাংলাদেশে নারীদের এবং পুরুষদের সমানভাবে কাঁধ দিয়ে দেশের এবং বিশ্বের উন্নয়নে সংঘবদ্ধ হতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, জামায়াত হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। তবে তিনি সবাইকে নির্বিকারভাবে এবং সাহসী হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এখন আপনাদের হাতে, তাই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ভুল করা চলবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রীসংস্থার নেত্রীরা দাবি করেছেন যে, নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে বিএনপি ও ছাত্রদল নারীদের প্রতি হেনস্তা চালাচ্ছে। তারা জানান, ক্রমাগত নির্যাতন এবং সহিংসতার পাল্টা জবাব নারীরা ব্যালটের মাধ্যমে দেবেন।
এ বিষয়ে তারা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের সামনে বক্তৃতা প্রদান করেন।
নেত্রীরা জানান, রাজনীতির মঞ্চে নির্বাচনী প্রচারণার নামে নারীদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীরা পেশীর শক্তি ব্যবহার করে নারীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করছে। তবে, বড় একটি রাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
গাজীপুর, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নারীদের ওপর হামলা ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তারা বলেন, এর ফলে পুরো জাতির জন্য একটি লজ্জা ছাড়া আর কিছু নেই। এছাড়াও প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা সম্পর্কে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাবে। তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণের জন্য একটি নতুন বাংলাদেশ আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন।
এদিন দুপুর ১২টার পর জামায়াত ইসলামী আমির ড. শফিকুর রহমান সমাবেশে উপস্থিত হন এবং বক্তব্য প্রদান করেন। সকালে তিনি মহেশখালীতে জনসভা করেও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা রাজা-রাজত্বের পক্ষে নই। দেশের সকলের জন্য ন্যায়-বিচার গ্রহণযোগ্য, অপরাধ করলে বিচার নিশ্চিত হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি আমরা নিজেদেরকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করবো এবং জনগণকে এ সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করবো। যদি আমরা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিই, তাহলে কক্সবাজার আলোকিত হবে।’
জামায়াত আমিরের মতে, ‘কক্সবাজার একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। যদি এখানকার প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ ভালোভাবে কাজে লাগে, তাহলে এটি দেশের একটি উন্নয়নকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তাই ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে নেতৃত্ব প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলি অন্তত সময় পর্যন্ত আমরা রক্ষার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’
এ সময় তিনি প্রতিটি আসনের প্রার্থীকে জনগণের কাছে পরিচিত করে দেন এবং যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। এই বাংলাদেশ তৈরি হচ্ছে তোমাদের জন্য।’
নির্বাচনের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘এই নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং জাতির এক নতুন দিগন্তের প্রবর্তনের নির্বাচন। এটি হবে জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন পূরণের নির্বাচন এবং মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ।’
তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারিকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেশের জনগণ তাঁদের মতামত প্রকাশ করবে।’
মহেশখালীতে জনসভায় ড. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চান না। আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলেই সেটি প্রকৃত বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’
সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার উদ্বোধন হয়।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন: কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-০৪ আসনের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি মো. সিগবাতুল্লাহ সিফাত, ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. পারভেজ।
মহেশখালী ও কক্সবাজার শহরের জনসভা শেষে জামায়াত আমির চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার পদুয়ায় জনসভায় যোগ দিতে রওয়ানা দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ