ঢাকা সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০২ই জ্বিলহজ্জ, ১৪৪৭হিজরী
সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ইং ০৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

চাঁদা না দেওয়ায় বৃদ্ধা হত্যাকাণ্ড, নোয়াখালীতে যুবদল নেতা গ্রেফতার


চাঁদা না দেওয়ায় বৃদ্ধা হত্যাকাণ্ড, নোয়াখালীতে যুবদল নেতা গ্রেফতার

নোয়াখালী সদর উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ার কারণে হামলায় বৃদ্ধা মো. আবদুল হাই (৭৫) এর মৃত্যুর ঘটনায় যুবদল নেতা মো. লিটন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাত ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়।

একইদিন সকালে, যুবদল থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে লিটন চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন: বরিশাল জেলা ছাত্রদলের নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ

লিটন চৌধুরী নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের চৌধুরী ব্যাপারীর সন্তান এবং নোয়ান্নই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ মধ্যবাজারে হামলার শিকার হয়ে বৃদ্ধা আবদুল হাই’সহ তিনজন আহত হন।

জানা গেছে, সকালে তারা জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করলে যুবদল নেতা লিটন চৌধুরীর নেতৃত্বে তার ভাই ইসমাইল ও সাদ্দামসহ ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল হামলা চালায়। হামলার সময় জমির মালিক মো. আবদুল হাইকে মারধর করে পোলের ওপর থেকে খালে ফেলে দেওয়া হয়। এই হামলায় তার দুই ছেলে আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাতে গুরুতর আহত আবদুল হাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বুধবার ভোর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ঘটনার পর নিহত মো. আবদুল হাইয়ের ছেলে মো. সুমন বাদি হয়ে ৬ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: বরিশালে স্কুল সংলগ্ন বাণিজ্য মেলা নিয়ে হাইকোর্টে রিট, ডিসি-জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাজারে হামলা ও পীর হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ এম


মাজারে হামলা ও পীর হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাবি

কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং পীর হত্যার ঘটনার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা, যারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে শাহবাগে লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের ওপর হামলা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্ণয় ইসলামের ওপর আক্রমণ এবং দেশজুড়ে চলমান মব সহিংসতার প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।

শনিবার (১০ এপ্রিল) রাতে ৯টার দিকে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে শুরু করে ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গোলাম-এ-বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেন। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে নিহত হন দরবারের পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম, যিনি ৭০ বছর বয়সী, ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাবি শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, “কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা-অগ্নিসংযোগ, সুফি ইমাম শামীমকে হত্যা, শাহবাগে লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের ওপর হামলা এবং সারাদেশে মব সন্ত্রাসে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক দুঃশাসন থেকে মুক্তির পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল যে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে এবং ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আগের শাসনের ধারাবাহিকতায় সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

ঢাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মেঘমাল্লার বসু বলেন, “দেশের প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জঙ্গিবাদ ও মব সন্ত্রাসকে কোনোভাবেই আড়াল করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রকে শক্তিশালীভাবে এসব দমন করতে হবে।”

তিনি কুষ্টিয়া ও শাহবাগের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং তা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহাম্মেদ জুবেল বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে যে মব সহিংসতা দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। অথচ নির্বাচনের পর এসব বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংস্কার ও অধ্যাদেশ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ এম


সংস্কার ও অধ্যাদেশ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান পরিবর্তন

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য সম্পর্কে জাতীয় সংসদে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশনের মধ্যে গত শুক্রবার পর্যন্ত এসব অধ্যাদেশের মধ্যে ১২০টির নিষ্পত্তি হয়েছে ৯১টি বিল পাসের মাধ্যমে। বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য যে, নির্বাচনের আগে বিএনপি কয়েকটি অধ্যাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তবে সংসদে দেখা গেল, তারা এগুলো আইনে পরিণত করার বিপক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছে।

সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাতিল হওয়া যেসব অধ্যাদেশ রয়েছে, সেগুলো যুগোপযোগী করে নতুন বিল আনা হবে। কিন্তু বিরোধী দল বলছে, এসব অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্মের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং এর দায় তারা নেবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটসহ কয়েকটি অধ্যাদেশের পক্ষে থাকলেও সংসদে এগুলো পাস না হওয়ায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত টানা ছয় দিন সংসদে ১২০টি অধ্যাদেশের নিষ্পত্তি হয়েছে। যদিও বহুল আলোচিত গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।

রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশসহ সাতটি অধ্যাদেশে গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তবে গণভোট, দুদক, গুমসহ ১৩টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোনো সুরাহা আসেনি, ফলে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নেয়া কার্যক্রমের সুরক্ষা হবে কি না, তা অস্পষ্ট রয়ে গেছে। এমনকি গণভোট অধ্যাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত 'গণভোট'সহ অন্যান্য কার্যক্রমে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানিম হোসেইন শাওন জানান, যেসব অধ্যাদেশ পছন্দ নয়, সেগুলোর আশ্রয় নেয়নি সরকার। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ অনুসারে কিছু কার্যক্রম হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত ২৫ জন বিচারকের বিষয়ে সরকারি দলের সন্তোষ রয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের অধীনে কিছু কার্যক্রম হয়েছে। সেগুলো যদি হেফাজত না করা হয় তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে সেগুলোকে সরকার হেফাজতে রেখেছে।

একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনজীবীদের মতে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ নির্বাচনের প্রচারে গণভোটের পক্ষে প্রচার করেছেন। কিন্তু সংসদে গণভোট অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলও আনা হয়নি। যেহেতু অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে, তাই গণভোট নিয়ে নির্বাচনের আগে বিএনপির যে অবস্থান ছিল, তা নির্বাচনের পর পরিবর্তিত হয়েছে।

দলটির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। যদি গণভোট অধ্যাদেশের সুরক্ষা দিতে চাইতেন, তাহলে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতেন।

তানিম হোসেইন শাওন বলেন, গণভোটের সময় অধ্যাদেশটি কার্যকর ছিল, তাই গণভোট বৈধ ছিল। এই অধ্যাদেশের একটিমাত্র কাজ ছিল গণভোট সম্পন্ন করা। তাই অধ্যাদেশটি থাকার বা না থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয়। অধ্যাদেশটি বাতিলের মাধ্যমে বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় না।

জুলাই মাসের জাতীয় সনদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বিএনপির কোনো নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর সনদে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল এবং এর পরেই অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপনের অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয়ে বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও ছিল। কিন্তু সরকারি দলও এটিকে বাতিল করেছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ এবং সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ পাসের বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে বিএনপি এবং জামায়াত একমত হয়েছিল। কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি হুবহু বিল হিসেবে সংসদে পাস হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবার আইনটি পাসের কিছুক্ষণ আগে বিলের কপি সংসদ সদস্যদের টেবিলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিলে সংশোধনী দেন বিএনপির সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান। এর ফলে বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তি তৈরি হয়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এ বিষয়ে তাঁরা আগে জানতেন না। তাঁরা সরকারি দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ করেন। বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বিশেষ কমিটিতে সমঝোতা হয়েছে। একজন সদস্য সংশোধনী এনেছেন এবং তিনিও শুক্রবার এটি দেখেছেন।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান একাধিক ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু বিরোধী দল সরকারি দলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে মন্তব্য করেন, আপত্তি না থাকলে আইনগুলো পাস করা সরকারি দলের জন‍্য শোভন ছিল। এতে বিএনপি আস্থায় আসত এবং বিরোধী দলসহ পুরো জাতির কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেত। ভবিষ্যতে বিএনপির আশ্বাস নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য হওয়ার বিষয়গুলো আইনে পরিণত না করায় বিরোধী দলগুলোর প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। বিএনপির উচিত ছিল কোথাও আপত্তি থাকলে সেগুলো ব্যাখ্যা করে নতুন বিল আনতে বলা। আপত্তির বিষয়টি আগে জানানো উচিত ছিল।

গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিকার অধ্যাদেশ ও রাজস্ব নীতি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশের অধীনে কোনো কার্যক্রম না হওয়ায় সেগুলো সুরক্ষা করা হয়নি। রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশের মাধ্যমেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব নীতি এবং রাজস্ব ব্যবস্থা নামে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করার বিধান ছিল, যেটি নিয়ে এনবিআর এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনও করেছিলেন। কিন্তু বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই বিভাজনের বিষয়ে অনড় ছিল। তবে অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নের আগেই বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল। অধ্যাদেশটি বাতিল করার ফলে এনবিআর বিভক্ত হচ্ছে না।

দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশের অধীনে নতুন কমিশন নিয়োগ করা হয়নি এবং অধ্যাদেশ বাতিল হলেও কার্যক্রম সুরক্ষা করা হয়নি। ফলে দুদক আবার পুরোনো আইনে ফিরে যাচ্ছে।

এছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং অন্যান্য বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী’র আপত্তি ছিল। বিলগুলো আলোচনা করার জন্য সংসদে উত্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। শুরুতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সব অধ্যাদেশ উত্থাপনের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাতিল হওয়া বিলগুলো উত্থাপন করা হয়নি। শুক্রবার বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, যেসব অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে সেগুলো ফ্যাসিবাদকে পুনর্জন্ম দেবে এবং এর দায় বিরোধী দল নেবে না।

সরকারি দলের পক্ষ থেকে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার অধ্যাদেশসহ কয়েকটি অধ্যাদেশকে আরও যুগোপযোগী করে নতুন বিল আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার সংসদে বিতর্কের এক পর্যায়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেছেন, আগামী বাজেট অধিবেশনে সব বিল আনা হবে এবং সেদিন আলোচনা করার সুযোগ থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি নিয়ে ম্যাক্রোঁ মোহাম্মদ বিন সালমানের ফোনালাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ এম


যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি নিয়ে ম্যাক্রোঁ মোহাম্মদ বিন সালমানের ফোনালাপ

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক টেলিফোন সংলাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি পরবর্তী আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে নৌ-চলাচলের হুমকির প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই যুদ্ধবিরতির প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে জানান, টেকসই শান্তির স্বার্থে এই সমঝোতা অবশ্যই মেনে চলতে হবে এবং কালক্ষেপণ না করে এর আওতা লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

আলাপকালে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নৌ-নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই বলে তারা একমত হন।

এ ছাড়া পাকিস্তানে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই নেতা নিজেদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রী হত্যার পর মরদেহ উদ্ধারে প্রতিবেশীকে ফোন করেন স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ এম


স্ত্রী হত্যার পর মরদেহ উদ্ধারে প্রতিবেশীকে ফোন করেন স্বামী

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামী স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ ঘরে রেখে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান। পরে এক প্রতিবেশীকে ফোন করার মাধ্যমে ঘরে তার স্ত্রীর লাশ আছে জানালে, খবর পেয়ে পুলিশ তালা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে শ্রীপুর পৌর শহরের বেড়াইদেরচালা গ্রামের জংলাপাড়া এলাকার মাসুদ মিয়ার বাড়িতে।

নিহত নারীর নাম ঝর্ণা আক্তার (১৭) এবং তিনি ওই এলাকার হামিদুল ইসলামের মেয়ে।

অভিযুক্ত স্বামী মো. অপু (২৭) পরিবহন চালক বলে জানা গেছে, কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক তার ঠিকানা জানানো সম্ভব হয়নি।

স্বজনদের মতে, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিক অমতে ঝর্ণা ওই তরুণকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁরা মাসুদ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

ঝর্ণার বাবা হামিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের অমতে বিয়ে করায় তার মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না।

বাড়ির মালিক লাভলী আক্তার জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী তানিয়া আক্তারকে ফোন করে মো. অপু হত্যার ঘটনা জানিয়ে মরদেহটি উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করেন। বিষয়টি জানার পর তাঁরা সেখানে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত তালা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, ঘরের তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাতের আঁধারেই গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%