বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং
১১:০৭ এম
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অবৈধভাবে মজুদ করা ১২০০ লিটার পেট্রোলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এসময় তেল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ গাড়িও জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে, উপজেলার নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষীনারায়ণপুর এলাকায় হাজী আসমত আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- লক্ষীনারায়ণপুর এলাকার চাপরাশি বাড়ির মো. শাহজাহানের ছেলে মো. মুসফিকুর রহমান মাহি (১৯), একই ওয়ার্ডের মানিক হুজুর বাড়ির জালাল উদ্দিনের ছেলে মাহমুদুল হাসান (২৬) এবং পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুসুদনপুর এলাকার পণ্ডিত বাড়ির মৃত ফজলুল হকের ছেলে মো. মঞ্জুর আলম (৫৩)।
পুলিশ জানায়, লক্ষীনারায়ণপুর এলাকায় হাজী আসমত আলীর বাড়ির আবুল খায়েরের বসতভিটায় অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদের তথ্য পেয়ে ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। এই অভিযানে সেখান থেকে ১২০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনউদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ করে বিক্রি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পেট্রোল ও পিকআপটিও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র আর ইউক্রেনকে বিনামূল্যে অস্ত্র সরবরাহ করবে না। জর্জিয়ায় এক অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, জনগণের করের অর্থে কিয়েভকে অস্ত্র কিনে সরবরাহ করা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, তিনি এও জানান যে, ইউরোপীয়রা চাইলে নিজেদের অর্থে অস্ত্র কিনে কিয়েভকে দিতে পারবে।
এদিকে, চীন সফরে গিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, পশ্চিমারা কিয়েভকে নিয়ে নতুন সামরিক জোট গঠনের পায়তারা করছে। যুদ্ধের ময়দানে গত একদিনে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটেছে।
যুদ্ধের ময়দানে পাল্টাপাল্টি হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ২ শতাধিকবার মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে দুপক্ষ। এছাড়া, দিনিপ্রোপেত্রভস্ক এবং জাপোরিঝিয়া সহ একাধিক অঞ্চলে রুশ সেনারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোররাত থেকে ওডেসা বন্দরসহ ইউক্রেনের অন্তত নয়টি স্থানে তিন শতাধিক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও আবাসিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইউক্রেনের চলমান হামলায় রুশ শিবিরেও ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হচ্ছে। কিয়েভ দাবি করেছে, গত একদিনে রাশিয়ার বহু সেনা নিহত হয়েছে। তারা একই সঙ্গে শত্রুপক্ষের আর্টিলারি ও রকেট সিস্টেম এবং প্রায় এক হাজার ৪০০টি ড্রোন ধ্বংসের দাবিও করেছে। তবে, জেলেনস্কি বাহিনীর এমন প্রতিরোধের মুখে ক্রেমলিন দমে না গিয়ে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে।
এমন অবস্থায়, ইউক্রেন যখন সামরিক সহায়তার আশায় পশ্চিমাদের দিকে মুখ করে রয়েছে, ঠিক তখনই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিস্ফোরক একটি মন্তব্য করেছেন। জর্জিয়ায় এক অনুষ্ঠানে তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে অস্ত্র কিনে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, ইউরোপীয়রা চাইলে নিজেদের অর্থে অস্ত্র কিনে কিয়েভকে দিতে পারে। কিন্তু মার্কিন করদাতাদের অর্থ এই যুদ্ধে আর ব্যয় করা হবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অবস্থান রণক্ষেত্রে ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্চ হতে পারে।
এদিকে, বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। বুধবার তিনি দাবি করেছেন, কিয়েভকে নিয়ে ইউরোপে একটি নতুন সামরিক জোট গঠনের পাঁয়তারা করছে ওয়াশিংটন।
ল্যাভরভের দাবী, রাশিয়াকে ঠেকানোর দায় ইউরোপের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের মুক্ত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, যাতে তারা এশিয়ায় চীনের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করতে পারে। ইউক্রেনে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের শান্তি রক্ষা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাকেও রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ল্যাভরভ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলে বুধবার একটি বাস রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জন আহত হয়েছে।
দেশটির জরুরি সেবা কর্মকর্তারা এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
কুইটো থেকে এএফপি জানায়, ইকুয়েডরের জরুরি সেবা সংস্থা ‘ইসিইউ৯১১’ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আজুয়াই প্রদেশের আন্দিয়ান অঞ্চলের মলেতুরোর কাছে এই দুর্ঘটনায় ১১ জন মারা গেছেন।’
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনা মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত বছরে ইকুয়েডরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্ষপথে একটি অত্যাধুনিক চীনা স্যাটেলাইট কিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে ইরান। সম্প্রতি ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর অত্যন্ত গোপনে চীনের একটি সংস্থার কাছ থেকে ‘টিইই-০১বি’ নামক এই স্যাটেলাইটটি সংগ্রহ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান এবং গতিবিধি নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করতেই এই কৃত্রিম উপগ্রহটি ব্যবহার করেছে তেহরান।
জানা গেছে, ‘আর্থ আই কোম্পানি’ নামে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান এই স্যাটেলাইটটি তৈরি ও উৎক্ষেপণ করেছিল। চীনের এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত ‘ইন-অরবিট ডেলিভারি’ মডেলে কাজ করে, যার অর্থ হলো মহাকাশে স্যাটেলাইট সফলভাবে স্থাপনের পর সেটি অন্য দেশের ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ইরান স্যাটেলাইটটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। একইসঙ্গে বেইজিং ভিত্তিক স্যাটেলাইট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘এমপোস্যাট’-এর গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগও পেয়েছে আইআরজিসি। এর ফলে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বিশাল এলাকাজুড়ে তাদের নজরদারি চালানোর সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসের ওপর দিয়ে এই স্যাটেলাইটটি বেশ কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে এবং উচ্চমানের ছবি সংগ্রহ করে। কাকতালীয়ভাবে সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছিলেন। এ ছাড়াও জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেস, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরে নজরদারি চালিয়েছে এই স্যাটেলাইট। কুয়েত, জিবুতি এবং ওমানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপরও গত কয়েক মাস ধরে কড়া নজর রেখেছে ইরান। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম প্ল্যান্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোও এই নজরদারির আওতায় ছিল।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো চীনা কোম্পানি এ ধরনের স্পর্শকাতর প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে পারে না। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, চীন সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও নেপথ্যে থেকে ইরানকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। যদিও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবরের মতোই ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকেও ইরান একই ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ সহায়তা পেয়েছে বলে খবর বেরিয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ৩৪ বছরের নীরবতা ভেঙে অবশেষে সরাসরি আলোচনায় বসছেন ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমন ও একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে, আজ বৃহস্পতিবার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে, ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কিছুটা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর দুই দেশের নেতাদের মধ্যে কথা হতে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়। তবে এই আলোচনা ঠিক কোন মাধ্যমে বা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি দেননি।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই ওয়াশিংটন ডিসিতে দীর্ঘ ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেন ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা। দুই দেশের মধ্যে এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও, সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এই ঐতিহাসিক আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সংঘাতপূর্ণ দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় নিয়ে আসতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ