বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৬:৩২ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রকাশ করেছেন যে, ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রয়েছে। যারা এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত, তাদের জনগণ একটি বিশেষ নামে অভিহিত করছে। জনগণের ভাষায়, তাদেরকে গুপ্ত নামে ডাকা হয়। কারণ, জনগণ লক্ষ্য করেছে, তারা যখন একভাবে আচরণ করে, তখন অন্যদিকে তাদের আচরণ ভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়। বিভিন্ন পরিস্থিতির সাথে নিজেদের পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে তারা। এরা শুধুমাত্র রূপ পাল্টায় না, বরং জনগণের প্রতি অবহেলা করে চলে। এর ফলে, জনগণের মধ্যে তাদের প্রতি কোনও আস্থাও নেই।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত একটি বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভাটি শুরু হয় এবং দুপুর পৌনে তিনটায় তারেক রহমান এতে যোগ দেন।
জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে দলের শীর্ষ নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান, ‘এই গুপ্ত দলের নেতৃত্বের একজন একটি অতি আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন দেশের খেটে খাওয়া মা-বোনদের সম্পর্কে। যে ব্যক্তি বা দলের নেতারা দেশের খেটে খাওয়া মা-বোনদের নিয়ে অনৈতিক মন্তব্য করেন, তাদের থেকে আমরা কেমন ভালো আশা করতে পারি? ভালো কিছু আশা করা একেবারেই অসম্ভব। এর বাস্তব প্রমাণ আমরা ১৯৭১ সালেও দেখতে পেয়েছি। সেবার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য লক্ষ লক্ষ নারী, মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছে। সুতরাং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণকে সচেতন রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের দলের একজন নেতা বলছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরে রাখবেন, ১৩ তারিখে জনগণ তাদের পা ধরে রাখবে। তাহলে তাদের চিন্তা ও চেতনা কেমন হবে তা বোঝা যায়! বাস্তবে, তারা ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণকে দেখবেন, ১৩ তারিখের পর তারা এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চান যাতে জনগণের হাঁসফাঁস বেড়ে যায়। আসলে, তাদের জনগণের প্রতি বিশ্বাস নেই। তারা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসও করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরা বাংলাদেশের মানুষের সাথে অনৈতিক আচরণ করছে। অন্যদিকে তারা বলছে, তারা জনগণকে সৎ শাসন দেবে। কিন্তু ভাই, আপনারা তো অনৈতিক কাজ শুরু করে দিয়েছেন। যেখানে আপনারা অনৈতিক আচরণ করছেন, সেখানে কিভাবে আশা করা যাবে যে জনগণ সৎ শাসন পাবে? আপনারা তো নিজেদের অসৎ কাজ করে চলেছেন।’
একই সময়ে বক্তব্যে পদ্মাপাড়ের মানুষের উন্নয়ন ও কৃষকদের স্বার্থে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচটি জেলার ১৫টি সংসদীয় আসনের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন তারেক রহমান। জনসভায় পাঁচ জেলার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এপস্টেইন ফাইলস। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন নির্মাণ করেছিলেন এক ভয়াবহ সাম্রাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসের নথি লুকিয়ে থাকা তথ্যসমূহের কারণে বিশ্বব্যাপী এক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, টেসলার সর্বাধিকার ইলন মাস্ক—এমনকি মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নামও।
এবার নতুন কিছু নথিতে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন এবং রক কিংবদন্তি মিক জ্যাগারের নাম দিনকালিত। গত মঙ্গলবার পাম বন্ডির দ্বারা প্রস্তুতকৃত এপস্টেইন ফাইলের একটি বিশাল অংশ প্রকাশ করা হয়, যেখানে বিনোদন ও রাজনৈতিক জগতের একাধিক সুপরিচিত ব্যক্তির ছবি রয়েছে।
প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে, জেফ্রি এপস্টেইন এবং তার সহচরী গিজলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে একাধিক প্রমোদ ভ্রমণে বহু তারকা অংশগ্রহণ করেছেন। সেই ছবির মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেখানে মাইকেল জ্যাকসনকে ডায়ানা রস ও বিল ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা গেছে। আরেকটি ছবিতে সেই পপসম্রাটকে এপস্টাইনের পাম বিচ হাউসে পাওয়া গেছে।
তবে নথির তথ্য অনুযায়ী, এসব ছবিতে কিংবা নথির মধ্যে মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলেনি।
২০১৬ সালের একটি জবানবন্দিতে, এপস্টাইনের এক অভিযোগকারী জানিয়েছেন, তিনি এপস্টাইনের বাসভবনে মাইকেল জ্যাকসনকে দেখেছেন। কিন্তু সেই জবানবন্দিতেও জ্যাকসনের বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়নি।
অন্যদিকে, রোলিং স্টোনসের তারকা মিক জ্যাগারের একটি ছবি রয়েছে বিল ক্লিনটন ও এপস্টাইনের সঙ্গে এক ডিনারে। সেখানেও জ্যাগারের কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের আলামত মেলে না।
তালিকার মধ্যে বিনোদন জগতের বাইরেও রাজনীতিবিদদের নাম রয়েছে, যেমন বিল ক্লিনটন এবং অভিনেতা ক্রিস টাকারের নাম ও ছবি। বিচার বিভাগের এই নতুন তথ্য প্রকাশের পরে আবারো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলি আলোচনায় উঠে এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির, ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এমন একটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে যেখানে বিচার করার সময় নিরীক্ষিত হবে না, কে প্রেসিডেন্ট এবং কে সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের শাস্তিযোগ্য অপরাধে, প্রেসিডেন্টও কিন্তু শাস্তির আওতায় আসবেন। এখানে সকলের জন্য একই বিচার ও শাস্তির আওতা থাকবে এবং বিচারক তাদের রাজনৈতিক পরিচয় অনুযায়ী কাউকে বিচার করবেন না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে তিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব বক্তব্য প্রদান করেন।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, 'আমরা বসন্তের কোকিল নই; বিপদের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাই না। আমাদের বিপদের সময়ও দেশে থাকতে হবে, মাটি কামড়ে টিকে থাকতে হবে। ভবিষ্যতেও আমরা এদেশে থাকব। দেশবাসীর অন্তরে আমাদের ঠাঁই দরকার, অন্য কোনও দেশে আমাদের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ আমাদের যা দিয়েছে, সেটাই যথেষ্ট।'
দেশের পলাতক নেতাদের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'এদেশ থেকে তারা কেন চলে যায়? কারণ তারা নিজেদের তৈরি ফ্যাসিবাদের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে না। যারা মনে করে, এদেশ নিরাপদ নয় ও উন্নত নয়। কোন কারণে কি দেশ উন্নত হয়নি? তোমরা পালাক্রমে দেশের শাসন করেছ, তাহলে দেশকে উন্নত করো কেন?'
একটি বিশেষ দলের প্রতি মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বললেন, 'একদল মতলববাজ ও ধান্দাবাজ জাতিকে বিভক্ত করে, জাতির মধ্যে হিংসা ও প্রতিহিংসা সৃষ্টি করে। তারা কামড়ে কামড়ে সম্পদ লুট করেছে। রাজনীতি ব্যবসা নয়; রাজনীতি কোনো চাঁদাবাজি নয়। যুগের পর যুগ ধরে মানুষের মধ্যে বঞ্চনা করা হয়েছে। তাদের অনুভূতিকে দালালি করে ব্যবসা করেছে।'
নারীদের নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, 'যদি প্রয়োজন হয় তবে জীবন দেব, কিন্তু দেশের মায়েদের গায়ে আমি হাত দিতে দেব না। ঘর, রাস্তা এবং কর্মস্থলে তারা নিরাপদ থাকবে। কর্মস্থলে তারা মর্যাদার সঙ্গে কাজ করবেন। আমরা নারী জাতির জন্য এ নিশ্চয়তা প্রদান করব।'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়টি মরদেহ পোড়ানো ও এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা সহ মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে মামলার রায় আগামী বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।
একদিন আগে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোহাম্মদ মনোয়ার হোসাইন তামিম।
এর আগে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্যানেলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বে তিন সদস্যের গঠনকৃত প্যানেল মামলাটির রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। এই প্যানেলে অন্য দুই সদস্য হিসেবে বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর অন্তর্ভুক্ত আছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া একটি রহস্যজনক রোগের পেছনে নিপাহ ভাইরাস নয়, বরং বাদুড়বাহিত নতুন একটি ভাইরাস দায়ী এমন তথ্য উঠে এসেছে সর্বশেষ গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, আক্রান্তরা প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি)-এ সংক্রমিত হয়েছিলেন, যা মানুষের জন্য মারাত্মক স্নায়ুবিক ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
গবেষণায় জানানো হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের উপসর্গের মধ্যে ছিল জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ এবং স্নায়ুবিক সমস্যা। আক্রান্ত পাঁচজনই খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন যা বাদুড়ও খেয়ে থাকে এবং আগে নিপাহ সংক্রমণের একটি পরিচিত মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।
প্রাথমিকভাবে রোগটি নিপাহ ভাইরাসজনিত বলে ধারণা করা হলেও পরীক্ষায় দেখা যায়, কারও শরীরেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নেই। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর সবাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তিনজন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট ও হাঁটাচলার জটিলতায় ভুগছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়, যার সুনির্দিষ্ট স্নায়বিক কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই রোগের প্রকৃত কারণ প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি) একটি বাদুড়বাহিত ভাইরাস। গবেষকদের মতে, ভাইরাসটি জিনগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা জনগণকে খেজুর গাছ থেকে নামানো কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকার, রোগতত্ত্বীয় নজরদারি জোরদার, এবং দ্রুত গবেষণা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: ব্যক্তিগত সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ