ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৭শে মাঘ, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে শাবান, ১৪৪৭হিজরী
মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ইং ২৭শে মাঘ, ১৪৩২বাং

মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন মুসল্লিরা


মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত। এটি শাবান মাসের মধ্যরাত। মুসলমানদের কাছে এটি আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা প্রার্থনার একটি মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে, এ রাতটিতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের নজর দেন। এই বিশেষ রাতে অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফ করার সুযোগ লাভ করে।

শবে বরাত উপলক্ষে, রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের বিশাল সমাগম ঘটেছে। আজকের রাতে বিশেষ ইবাদত, নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশা করছেন।

আরও পড়ুন: বিএনপির বিরুদ্ধে হাসনা মওদুদকে হেনস্তার অভিযোগ উত্থাপন

লাইলাতুল বরাত উদযাপনের জন্য ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ, এবং দোয়া মাহফিলের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের শুরু থেকেই মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করতে থাকেন বায়তুল মোকাররমে। এর পর লাইলাতুল বরাতের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এশার নামাজের পর পুনরায় ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ব্যক্তি, জাতি এবং দেশের সুখ, সমৃদ্ধি ও গুনাহ মাফের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষ হওয়ার পর মুসল্লিরা জানান, তারা গুনাহ মাফ ও সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেছেন।

এই রাতের উপর নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবাহের মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার প্রয়াস করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এজন্য ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদে মুসল্লিরা আজ ইবাদত বন্দেগিতে মগ্ন থাকবেন।

আরও পড়ুন: ‘জান্নাত পার্টি’ থেকে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত সেক্রেটারির এক্স আইডি থেকে আপত্তিকর পোস্ট, হ্যাকড বলে দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং

০২:০৫ এম


জামায়াত সেক্রেটারির এক্স আইডি থেকে আপত্তিকর পোস্ট, হ্যাকড বলে দাবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমানের পর এবার সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভেরিফায়েড এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে নারীদের নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। জামায়াত দাবি করেছে যে এটি হ্যাকারদের কাজ।

গত ৩১ জানুয়ারি, জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকেও নারীদের সম্পর্কে আপত্তিকর একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। ওই পোস্টে বাড়ির বাইরে কাজ করা নারীদের পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর জামায়াত মন্তব্য করেছে যে তাদের আইডি হ্যাক করা হয়েছে এবং নারীদের সম্পর্কিত জামায়াতের অবস্থান নিয়ে ভুল তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে।

এর তিন দিন পর মঙ্গলবার রাতে, মিয়া গোলাম পরওয়ারের এক্স আইডি থেকে নতুন একটি পোস্ট প্রকাশ পায়, যা জামায়াত আমিরের পোস্টের প্রতিক্রিয়া হিসেবে লেখা হয়েছে। এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৫২ মিনিটে গোলাম পরওয়ারের ছেলে আহমাদ আতাউল্লাহ সালমান জানান, তার বাবার এক্স আইডিটি হ্যাক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘একটি চক্র নির্বাচনকে সামনে রেখে এই চক্রান্ত করছে।’

এরপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই ঘটনার ম্যাসেজে তীব্র নিন্দা জানান।

এক বিবৃতিতে বলেন, 'ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একের পর এক জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টে আক্রমণ করা হচ্ছে। জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টে সাম্প্রতিক হামলার পর, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এক্স আইডি হ্যাকড হয়েছে।'

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, 'রাতে ৯টা ৩ মিনিটে দুষ্কৃতিকারীরা অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করে একটি পোস্ট করেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সোশ্যাল মিডিয়া টিমের নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে এটি ডিলিট করা হয়। এ ব্যাপারে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'দুষ্কৃতিকারীরা যতই ষড়যন্ত্র করুক, তাদের পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে। যারা এরকম গুরুতর অপরাধে যুক্ত, তারা যত ক্ষমতাধরই হোন না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের সমন্বয়ে হাদি হত্যার তদন্তের দাবি জানালো ইনকিলাব মঞ্চ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং

০২:০৯ এম


জাতিসংঘের সমন্বয়ে হাদি হত্যার তদন্তের দাবি জানালো ইনকিলাব মঞ্চ

জুলাই বিপ্লবের উল্লেখযোগ্য শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যার তদন্তে রাষ্ট্রের দিক থেকে গড়িমসি ও অসহযোগিতার প্রবল নিন্দা জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি অভিযোগ করে, আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর জন্য চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ওসমান বিন হাদি হত্যার বাদী হওয়ার পরেও তাকে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে কিছু জানানো হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাড়তি অসহযোগিতা করা হচ্ছে এবং মামলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হচ্ছে।

জাবের আরও বলেন, দেশে বিদ্যমান বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ, আর এর ফলে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন সময়ের দাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে যদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হয় তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চয়তা না দিলে যদি কোনো দল নির্বাচনে অংশ নেয় এবং তা সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে এর দায়ভার সেই দলগুলোরই হবে। বিচার দাবি উপেক্ষা করে ক্ষমতার রাজনীতি মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অসমর্থ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা বলেন, গত চার দিন ধরে একটানা চেষ্টা করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের এবং আন্দোলনের সংগঠকদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার এ দূরত্বকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক মনে করেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতিসংঘকে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান কি ৮ বছরের পুরোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং

০২:১৩ এম


পাকিস্তান কি ৮ বছরের পুরোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিচ্ছে?

দ্বিপাক্ষিক সিরিজের বন্ধ থাকায় আইসিসি এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি বড় উদ্দীপনা। তবে, পাকিস্তান ভারত-বিরোধী ম্যাচ বয়কট কার্যকর করে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিরাট পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। কিন্তু পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজে প্রচারিত খবর অনুযায়ী, আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও বাংলাদেশের সাথে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তই এর পেছনে প্রধান কারণ। ভারতীয় অঞ্চলে গিয়ে বিশ্বকাপে খেলার জন্য রাজি না থাকায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল আইসিসির পক্ষ থেকে। এর বিরুদ্ধে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আগেই অবস্থান গ্রহণ করেছিল এবং বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিতও দিয়েছে।

এই সময়ে সামনে এসেছে একটি পুরোনো বিষয়। পিসিবির একটি সূত্র ডন সংবাদপত্রকে জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে আইসিসির ডিসপিউট রিসলিউশন কমিটিতে করা অভিযোগের অভিজ্ঞতা বর্তমান অবস্থানের ভিত্তি তৈরি করছে। বিষয়টি শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে পিসিবি এবং বিসিসিআইয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা চুক্তি থেকে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতের সাথে পাকিস্তানের ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলা হওয়ার কথা ছিল। বিনিময়ে পিসিবি আইসিসির বিগ থ্রি রাজস্ব ভাগাভাগি মডেলে সমর্থন দেয়।

২০১৮ সালে পাকিস্তানে সিরিজ খেলার জন্য বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল পিসিবি। কিন্তু বিসিসিআই তখন যুক্তি দেয় যে এটি ভারতের সরকারের সিদ্ধান্ত। আইসিসির ডিআরসি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের এই দাবি খারিজ করে দেয়। এবার একই যুক্তির মাধ্যমে শাস্তি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে পিসিবি।

আরও জোরালো ভাবে বলা হচ্ছে, ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্তটি এসেছে পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে। এই কারণে সরকারী নির্দেশনার অজুহাত দেখিয়ে আইসিসির সামনে নিজেদের অবস্থান জাহির করতে তারা তৈরি হচ্ছে। একই কারণে আগে ভারত ছাড়লে এবারের পাকিস্তানের শাস্তি কেন হতে হবে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে পিসিবির কর্মকর্তারা। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনাও তারা খুলে রেখেছেন মহসিন নাকভিদ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মায়ানমার সীমান্তে ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প, কেন বারবার কাঁপছে দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং

০২:১৬ এম


মায়ানমার সীমান্তে ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প, কেন বারবার কাঁপছে দেশ

মায়ানমার সীমান্তে, ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্পের ফলে দেশ কেঁপে উঠেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এরপর মাত্র ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে একটি নতুন ভূমিকম্প আসে, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ৬৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে। যদিও কম্পনের উৎস মায়ানমার সীমান্ত এলাকায় ছিল, তবে এর প্রভাব দেশের বিস্তৃত অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে।

এর আগে একই দিনে, ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে একটি হালকা ভূমিকম্প দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পন তৈরী করে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, এই ভূকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমের সাতক্ষীরা জেলার প্রান্ত। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।

গত বছরের ২১ নভেম্বর ভোরে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ওই ঘটনাটির পরবর্তী ৩২ ঘণ্টার মধ্যে আরও তিনবার মৃদু কম্পন দেখা দেয়, যা নতুন শঙ্কার সৃষ্টি করে। বিশেষত এই কম্পনগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার আশপাশ।

বিশেষজ্ঞদের মত, বাংলাদেশ আর শুধু প্রতিবেশী দেশগুলো ভারত বা মিয়ানমারের ভূমিকম্পের প্রভাবে কাঁপছে না, বরং দেশটির অভ্যন্তরীণ ফল্ট লাইনগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠছে। নরসিংদী মাধবদী, সাভারের বাইপাইল এবং রাজধানীর বাড্ডা অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক কম্পনের পেছনে এই কারণ থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পটি ইন্ট্রাপ্লেট ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা টেকটোনিক প্লেটের সীমানার বাইরে থেকে উৎপন্ন হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, বাংলাদেশে সংঘটিত অনেক বড় ভূমিকম্পের উৎস অন্তর্ভুক্ত ছিল দেশের বাইরে। যদিও ইতিহাস সাক্ষী যে, বাংলাদেশে দেশীয় ভূমিকম্পও ঘটেছে।

যেমন ১৬৪২ সালে সিলেট ভূমিকম্পে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ১৭৬২ সালে চট্টগ্রাম আরাকান ভূমিকম্পে ঢাকায় প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ১৮৮৫ সালের ৭ মাত্রার বেঙ্গল ভূমিকম্প এবং ১৯১৮ সালের ৭ দশমিক ৬ মাত্রার শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্পে একাধিক জেলায় ব্যাপক ক্ষতি ঘটেছে।

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশ তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে। ভারতীয় প্লেট, ইউরেশীয় প্লেট এবং বার্মা মাইক্রোপ্লেটের চাপের কারণে এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ। জিপিএস পরিমাপ অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন ফল্ট লাইন প্রতি বছর কয়েক মিলিমিটার করে সরে যাচ্ছে, যার ফলে ভূ অভ্যন্তরে শক্তি জমা হচ্ছে।

বিশেষভাবে ডাউকি ফল্ট ক্ষেত্রে সিলেট বিভাগ এবং মধুপুর ফল্ট এলাকায় ঢাকা ও টাঙ্গাইল সহ চট্টগ্রাম মিয়ানমার প্লেট সীমানা সংলগ্ন অঞ্চলগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ফল্ট লাইনের নড়াচড়া মাঝে মধ্যে অগভীর ভূমিকম্প সৃষ্টি করে, যা নরম পলিমাটির কারণে অনেক বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হয়।

ঢাকার মাটির গঠন এই ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র মেঘনা অববাহিকার নরম পলিমাটির জন্য ভূমিকম্পের তরঙ্গ ধীর হলেও তা শক্তিশালী হয়ে ওঠে, এই প্রক্রিয়াকে সাইট অ্যামপ্লিফিকেশন বলা হয়। ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও রাজধানীতে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে ঢাকার কিছু এলাকায় মাটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে লিকুইফ্যাকশন ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে ভূমিকম্পের সময়ে মাটি তরলের মতো আচরণ করে।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির বলেন, বাংলাদেশ ভারতীয় প্লেটের ওপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প হওয়া স্বাভাবিক। যদিও খুব ঘন ঘন এমন ঘটনা ঘটে না, তবে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞ মোহন কুমার দাস বলেন, দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে এবং ভূমিকম্পের সময় কি করা উচিত সে ব্যাপারে জনসচেতনতা নেই, এটি বড় একটি সমস্যা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে শাবান, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৫:১৮
জোহর ১২:১৪
আসর ০৪:১৪
মাগরিব ০৫:৫১
ইশা ০৭:০৩
সূর্যোদয় : ০৬:৩৫ সূর্যাস্ত : ০৫:৫১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%