০২:২২ পি.এম
প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমাদের কর্মের পুরোপুরি প্রতিদান কিয়ামতের দিনই দেয়া হবে। অতঃপর যাকেই জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হবে, সে-ই প্রকৃত অর্থে সফলকাম হবে। আর জান্নাতের বিপরীতে পার্থিব জীবন তো প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
একজন মুসলমানের মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব কাফন-দাফন করাতে হয়। একটি হাদিসে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত আলি (রা.)-কে লক্ষ্য করে বলেন, ‘হে আলি! তিনটি জিনিসের ক্ষেত্রে বিলম্ব করবে না। ১. নামাজের যখন সময় আসবে তখন নামাজ আদায় করা থেকে দেরি করবে না। ২. মৃত ব্যক্তির জানাজা যখন উপস্থিত হবে তখন কাফন-দাফন সম্পন্ন করতে দেরি করবে না। ৩. কোন অবিবাহিতা মেয়ের জন্য যখন কোন উপযুক্ত পাত্র পাবে তখন তাকে পাত্রস্থ করা থেকে বিলম্ব করবে না। (তিরমিজি: ১/২০৬)
মানুষের মৃত্যুর পরে পরবর্তী ধাপ হলো কবর। অনেকেই নিজের মৃত্যু পরবর্তী কবরের জায়গা জীবদ্দশাতেই ঠিক করে রাখতে চান। ইসলামি শরিয়তে এভাবে নিজের কবরের জায়গা নির্ধারণ করে যাওয়া কি জায়েজ?
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু
ইসলামি শরিয়তে, যদি কোনো জমি কবরস্থানের জন্য ওয়াকফ করে দেয়া হয় তাহলে সেখানে কুরব অবস্থানকারী ব্যক্তির জন্য বিশেষ কবরের জায়গা নির্ধারণ করার অনুমতি নেই। কারণ, ওয়াকফ করে দেয়ার কারণে এই কবরস্থানের জায়গায় সাধারণ মানুষের অধিকার রয়েছে এবং তা জনসাধারণের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। তবে কেউ যদি নিজের মালিকানাধীন জায়গায় কবরের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে রাখতে চান, তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই।
এভাবে মালিকানাধীন জমিতে কবরের জন্য জায়গা নির্ধারণের বিষয়টি কোনো হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। তবে হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর পক্ষ থেকে এমন কাজের বিষয়টি সাব্যস্ত। তিনি মৃত্যুর আগে ১০ অথবা ২০ দিনারের বিনিময়ে নিজের কবরের জন্য জায়গা কিনেছিলেন। (সিরাতে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ: ৯৯; সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৫ম খণ্ড ১৪৪)
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন