ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৭শে মাঘ, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে শাবান, ১৪৪৭হিজরী
মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ইং ২৭শে মাঘ, ১৪৩২বাং

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরণ শুরু হয়েছে


মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরণ শুরু হয়েছে

১৯৭০-এর দশকের বাবার নির্মম হত্যার পর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। ক্ষমতার শীর্ষে উঠার পর আবারও তাঁর পতন ঘটে, তখন তাকে ভারতে পালাতে হতে হয়।

গত বছরের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শীর্ষ নেত্রী শেখ হাসিনাকে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক উত্তেজনাপূর্ণ অচলাবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। ঢাকায় তাকে বিচারের জন্য প্রত্যর্পণ করতে দাবি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: হাইকোর্টের রমজান সময়সূচি প্রকাশ, জানালেন নতুন কার্যক্রম

এদিকে, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় জানিয়ে তাকে ফিরিয়ে দিতে গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোবাশ্বার হাসান মন্তব্য করেছেন, ‘গণরোষ থেকে বাঁচতে হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান। তিনি ভারতে লুকিয়ে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। এটি সত্যিই একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।’

নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরা শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে কঠিন পথ পাড়ি দেন। খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে যেন কিছুটা বাধা স্বরূপ খালেদা জিয়ার সাথে সংঘর্ষ মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ জয়ী হলে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।

ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম হিসেবেই পরিচিত শেখ হাসিনা এক মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর পুনরায় খালেদা জিয়ার কাছে হারেন। কিন্তু ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় আসার পর তাকে আরও দৃঢ় ও বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে শুরু করে—যিনি নিজের অবস্থান মনে প্রাণে সুরক্ষিত করতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম র‍্যাবের হত্যাকাণ্ডের নতুন তথ্য দিলেন

পঁচঁজনের হত্যার অভিযোগের ভিত্তিতে, ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায়ে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিচারকদের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

অভিযোগে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশনাও সহী হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মধ্যে তিনটি মৃত্যুদণ্ডে ও দুটো আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়।

নিন্দুকেরা বলছেন, এটি আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভারত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে বলেছে, দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে একটি শর্তে আলোচনা করবে।

বিরোধী পক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করছে, যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য এসব দিকগুলো সংকট তৈরি করছে।

আরও পড়ুন: আজকের সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভারত সব সময়ই ভালো বন্ধু ছিল। এই সংকটের সময়ে ভারতই মূলত আমার মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে।’

কিন্তু ভারত সরকারের সাবেক কূটনীতিক অনিল ত্রিগুণায়েত লিখেছেন, তাদের মনে রয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে কারাদণ্ড বা মৃত্যুর মুখোমুখি করে ফিরিয়ে পাঠানো সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘ভারত সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে দেখতে হলে মানবতাবিরোধী অপরাধ বিবেচনায় নেবে না।’ যদিও হাসিনা এখনও আইনি প্রতিকার নিতে পারেন।

ভারত মূলত political crime হিসেবে বিষয়টি দেখলে, তাদের অপেক্ষা করতে হবে, কারণ হাসিনা এখনও আইনি সব দিক শেষ করেননি।

আরও পড়ুন: নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ৬৫৭ বিচারক নিয়োগ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কমনওয়েলথ মহাসচিবের অঙ্গীকার: বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০২:৩০ পি.এম


কমনওয়েলথ মহাসচিবের অঙ্গীকার: বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে

ঢাকা, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ : কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের অংশীজনদের সাথে যোগাযোগ করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে ও ভবিষ্যতে কিভাবে কমনওয়েলথ বাংলাদেশের মানুষের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করছেন।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে আসা মহাসচিব বচওয়ে আরও বললেন, বাংলাদেশের প্রতি কমনওয়েলথ পরিবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি ঢাকাস্থ হাই কমিশনারদের সাথে একটি বৈঠকে কমনওয়েলথ সনদের আলোকে বাংলাদেশকে আরও সমর্থন জোরদার করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

মহাসচিব সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভেরিফায়েড পেইজে জানান, হাইকমিশনারদের সাথে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। কমনওয়েলথের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়ে সফল আলোচনা হয়েছে, যা বাংলাদেশের জনগণের জন্য পারদর্শী।

সভায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, ব্রিটেনের হাইকমিশনার সারাহ কুক, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপালা উইরাক্কোডি এবং মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

শার্লি বচওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, যেখানে তিনি সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করার জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

কমনওয়েলথ মহাসচিব জানান, নির্বাচনে বাংলাদেশি নাগরিদের সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমনওয়েলথের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। বচওয়ে বলেন, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য তাদের মতামত শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রিফাত আহমেদের সাথে সাক্ষাতে, আইনশৃঙ্খলা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে তার নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তিনি বাংলাদেশের বিচারিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সফল অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত রাখতে কমনওয়েলথের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ সফরের প্রথম বৈঠকটি যুবনেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। মহাসচিব বলেন, তাদের চিন্তাধারা এবং গণতন্ত্রের প্রতি প্রত্যাশা তাকে মুগ্ধ করেছে। কমনওয়েলথ বাংলাদেশের যুবকদের পাশে থেকে ন্যায়সঙ্গত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়তে সাহায্য করবে।

মহাসচিব কমনওয়েলথের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়েও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এই পরিকল্পনায় গণতন্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বাংলাদেশী জনগণের আশা পূরণের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা আরও কার্যকর করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন।

চারদিনের সফরের অংশ হিসেবে আজ (সোমবার) তিনি অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। তাদের আলোচনার বিষয় থাকবে গণতন্ত্র, শাসন, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় অগ্রগতি বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায়।

সফরের আগে মহাসচিব বাংলাদেশকে কমনওয়েলথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্বাধীনতার পর থেকে দুইপক্ষের স্থায়ী অংশীদারিত্বের কথাও স্মরণ করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, কমনওয়েলথ এবং বাংলাদেশের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে যা আসন্ন নির্বাচনের সময় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মহাসচিব বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি হলো অধিকার এবং স্বাধীনতা রক্ষার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিযুক্ত এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে বাংলাদেশের জনগণ কমনওয়েলথকে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে গণ্য করতে পারে।

এছাড়া, हाल में কমনওয়েলথের নির্বাচন পূর্বমূল্যায়ন দলের সদস্যরা বাংলাদেশ সফর করেছেন। তারা সমস্ত রাজনৈতিক দলের সাথে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের পূর্বাপর পরিস্থিতি যাচাই করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে বিএনপি প্রার্থী রুহুল আমিন দুলালের পক্ষে জমকালো জনসভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০২:৩৪ পি.এম


পিরোজপুরে বিএনপি প্রার্থী রুহুল আমিন দুলালের পক্ষে জমকালো জনসভা

পিরোজপুর, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ : পিরোজপুর-৩ সংসদীয় আসনে (মঠবাড়িয়া) বিএনপি tarafından মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন দুলালের সমর্থনে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি'র উদ্যোগে গতকাল রোববার বিকেলে শহীদ মোস্তফা খেলার মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি'র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ আর মামুন খান।

এছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শতাধিক নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি সদস্যেরা বিএনপিতে যোগদান করেন। সদ্য যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে এই মঠবাড়িয়াতে একাধিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রুহুল আমিন দুলাল এবং অন্যান্য বহু নেতাকর্মীর রক্ত ঝরেছে। আমাদের একমাত্র দাবি ছিল ভোটের দাবি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি, মানবিক অধিকারের দাবি। আমরা আশাবাদী যে, মঠবাড়িয়ার জনগণ আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের আন্দোলনকে সফল করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে: নৌবাহিনী প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০২:৩৬ পি.এম


জাতীয় নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে: নৌবাহিনী প্রধান

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান মন্তব্য করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা হবে অপরিসীম। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে, ইনশাআল্লাহ।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে ২০২৫ সালে নবীন নাবিকদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন তিনি।

অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, "দেশের অভ্যন্তরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করছে।" বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের যুদ্ধ জাহাজ, নৌ সদস্য এবং কন্টিনজেন্ট প্রেরণ করা হচ্ছে। ১৯৯৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৭৫০০ জন সদস্য ফিলিস্তিন শান্তিরক্ষা মিশনে দুর্দান্ত কাজ করছে। নৌবাহিনী সারা বিশ্বে দেশের মান রক্ষা করে চলেছে। বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের চারজন সদস্য আত্মবলিদান করেছেন।

নৌবাহিনীর বি-২০২৫ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে রিজান মোল্যা পেশাগত ও সকল দিক থেকে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করে সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেছেন।

এছাড়া, মো. মারুফ হাসান মুন্না দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ এবং মো. হাসান আলী তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ অর্জন করেছেন। জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে মোট ৪১৭ জন নবীন নাবিক ২২ সপ্তাহের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে নাবিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তারা জাতীয় পতাকা স্পর্শ করে দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার শপথ গ্রহণ করেন।

এই প্রোগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের নৌসদস্য এবং নতুন ৪১৭ জন নাবিক ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে প্রবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ, ইকামা ও ভিসা ফি বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০২:৪৩ পি.এম


কুয়েতে প্রবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ, ইকামা ও ভিসা ফি বৃদ্ধি

কুয়েত সরকার সুস্পষ্টভাবে আবাসন (ইকামা), ভিজিট ভিসা এবং নির্ভরশীলদের স্পন্সর ফি সহ বিভিন্ন অভিবাসন সংক্রান্ত পরিষেবার ফি পুনর্নির্ধারণ করেছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হতে চলা এই নতুন পদক্ষেপে ইকামা নবায়ন, ভিসার শর্ত, নির্ভরশীলদের ফি এবং নির্বাসন সংক্রান্ত বিধানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

নতুন নীতিমালার ফলে, এখন থেকে ইকামার সময়কাল পাসপোর্টের মেয়াদের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে না। প্রবাসীরা যাদের পাসপোর্টে স্বল্প মেয়াদ রয়েছে, তারা ইকামা নবায়ন করতে পারবেন। তবে আবাসনে আবেদন করলেই পাসপোর্টের কমপক্ষে ছয় মাসের বৈধতা থাকতে হবে, যা বাধ্যতামূলক।

নতুন আইন অনুযায়ী, সাধারণ আবাসিক মেয়াদ সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকবে। কুয়েতি নারীর ও সম্পত্তির মালিকদের বিদেশি সন্তানের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ বছর। এই ক্ষেত্রে ইকামা নবায়ন ফি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন ফি অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মী, বিদেশি ছাত্র ও ধর্মযাজকরা ২০ দিনার, বিনিয়োগকারীরা ও রিয়েল এস্টেট মালিকরা বছরে ৫০ দিনার এবং স্ব-স্পন্সরকৃত ইকামা (ধারা ২৪) বছরে ৫০০ দিনার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালার অধীনে, সব ধরনের ভিজিট ভিসার ফি ১০ দিনার হবে, এবং ভিজিট ভিসার মেয়াদ ৩ মাস, তবে এটি নবায়নযোগ্য এক বছর পর্যন্ত থাকবে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা এক বছরের জন্য বৈধ হবে, তবে প্রতিবারের জন্য অবস্থান সর্বাধিক এক মাস।

এই নতুন আইনের অধীনে, ভিজিট ভিসা হতে ইকামায় রূপান্তরকে সহজতর করা হয়েছে। সরকারি ভিজিট ভিসায় আগত বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি ও পারিবারিক ভিজিট ভিসায় অধীনে আসা ব্যক্তিদের পারিবারিক ভিসার জন্য হাজার বেতন ৮০০ দিনার থাকতে হবে। প্রবাসীরা তাদের স্ত্রী-স্বামী ও সন্তানদের স্পন্সর করতে পারবেন যদি মাসিক আয় ৮০০ দিনার হয়।

কিছু পেশাজীবীদের এই শর্ত থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে, যেমন শিক্ষক, প্রকৌশলী, নার্স, ইমাম, সাংবাদিক, ফার্মাসিস্ট, সরকারি গবেষক, ক্রীড়া কোচসহ আরও কয়েকটি পেশার প্রতিনিধিরা।

নির্ভরশীলদের ফিও পরিবর্তিত হয়েছে, যা স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য বছরে ২০ দিনার, বিনিয়োগকারী ও ধর্মযাজকদের নির্ভরশীলের জন্য ৪০ দিনার, স্ব-স্পন্সরদের পরিবারের সদস্যের জন্য বছরে ১০০ দিনার এবং পিতা-মাতা বা অন্যান্য নির্ভরশীলদের জন্য ২০০ দিনার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ দিনার করা হয়েছে।

নতুন আইন অনুসারে, কুয়েতি পরিবার সর্বাধিক ৩-৫ জন গৃহকর্মী নিয়োগ করতে সক্ষম হবে এবং প্রবাসীদের জন্য ২ জন গৃহকর্মী নিয়োগের সুবিধা থাকবে। তবে কুয়েতিদের জন্য গৃহকর্মীর নবায়ন ফি বছরে ১০ দিনার এবং প্রবাসীদের ক্ষেত্রে ৫০ দিনার নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত কর্মীর জন্য বেশ উচ্চ ফি দিতে হবে।

ইকামা থাকা সত্ত্বেও নির্বাসন হতে পারে যেকোনো প্রবাসীর। এ সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। যেসব কারণে প্রবাসীরা নির্বাসনের মুখে পড়তে পারেন: আয়ের উত্স হারানো, নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়া অন্যত্র কাজ করা, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়া, এবং জনস্বার্থ বা জননিরাপত্তার কারণে মন্ত্রীর নির্দেশের ফলে নির্বাসিত হতে পারেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে শাবান, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৫:১৮
জোহর ১২:১৪
আসর ০৪:১৪
মাগরিব ০৫:৫১
ইশা ০৭:০৩
সূর্যোদয় : ০৬:৩৫ সূর্যাস্ত : ০৫:৫১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%