ঢাকা সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০২ই জ্বিলহজ্জ, ১৪৪৭হিজরী
সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ইং ০৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার


সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্র থেকে জানা গেছে, আটকের পর তাকে রাজধানী ঢাকার মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন: দুর্গম দ্বীপে রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকদের আকাশ থেকে ঝাঁপ

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "তাকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।"

যাহোক, তাকে কোন মামলায় বা কী কারণে আটক করা হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বে গিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল আর্টেমিস-২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ এম


পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বে গিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল আর্টেমিস-২

বিশ্ব আজ মানব ইতিহাসের একটি অনন্য সাধারণ মুহূর্তের সাক্ষী হলো। সোমবার (৬ এপ্রিল) গ্রিনিচ মান সময় ১২:৫৬ মিনিটে, নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী পৃথিবীর থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল (৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার) পথ অতিক্রম করে ফেলেছেন। এর মাধ্যমে, তারা ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক ‘অ্যাপোলো-১৩’ মিশনের গত ৫৬ বছরের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন। নাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নাসার ওরিয়ান মহাকাশযানটি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল (৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার) দূরত্ব অতিক্রম করার পর পুনরায় পৃথিবীর কক্ষপথে ফেরার যাত্রা আবার শুরু করবে।

এই মিশনটি নাসার এসএলএস (SLS) রকেটে চড়ে শুরু হয়েছে ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে। মিশনে অংশগ্রহণ করেছেন চার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন।

রেকর্ড গড়ার পর, ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে জেরেমি হ্যানসেন একটি বার্তায় বলেন, ‘আমাদের পূর্বসূরিদের অসামান্য অর্জনকে সম্মান জানিয়েই আমরা আজ পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দুতে পৌঁছেছি। পৃথিবী আমাদের আবার টেনে নেওয়ার আগে আমরা মহাকাশের আরো গভীরতা অভিমুখে যাব। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া হলো—পরবর্তী প্রজন্ম যেন দ্রুত আমাদের এই রেকর্ডটিও ভেঙে দেয়।’

নাসার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মিশন চলাকালে নভোচারীরা চাঁদের দুটি ক্রেটার বা গর্তের নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। একটির নাম রাখা হয়েছে তাদের মহাকাশযানের সম্মানে ‘ইন্টিগ্রিটি’। অন্যটির নাম নভোচারী রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারল-এর স্মরণে। এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের কাছে পেশ করা হবে।

আরো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভোচারীরা চাঁদের একেবারে কাছে (৪,০৬৭ মাইল দূরত্বে) পৌঁছানোর পর, প্রথমবারের মতো মানুষের চোখে চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা অন্ধকার দিকের সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। চাঁদের আড়ালে যাওয়ার কারণে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বা ‘ব্ল্যাকআউট’ পিরিয়ড তৈরি হবে। এরপর, ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুনরায় হিউস্টনের কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

এছাড়া, নভোচারীরা মহাকাশ থেকে একটি বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করবেন। তারা উচ্চ-রেজোলিউশনের ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠের এমন কিছু ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করবেন, যা আগে কখনোই সরাসরি দেখা যায়নি। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ‘মুন বেস’ তৈরির পরিকল্পনাকে সমৃদ্ধ করবে।

আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা ইতোমধ্যে তাদের সফরের অর্ধেকের বেশি পথ অতিক্রম করেছেন। আগামী ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) রাত ৮টা ০৭ মিনিটে তারা স্যান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ (স্প্ল্যাশডাউন) করবেন। এরপর, তাদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জন পি. মুরথা’য় নেওয়া হবে।

নাসার মতে, এই সফল মিশন কেবল চাঁদে ফেরার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের প্রথম অভিযানের শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউনূসের অবহেলায় ১৩৮ শিশুর জীবনহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ এম


ইউনূসের অবহেলায় ১৩৮ শিশুর জীবনহানি

অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলার ফলে ১৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এছাড়া প্রতিদিন সারা দেশের হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে শিশুদের হামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিকা প্রদান না করার কারণে এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার বিচার দাবির পাশাপাশি তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার জন্য আদালতে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘ আড়াই দশকের সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলা হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ হিসাবে উল্লেখ করে, তার পেছনে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, তদন্তের সময় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব এবং সব উপদেষ্টাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে অনুরোধ করা হয়েছে। যদি যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে হাই কোর্টে রিট করার পরিকল্পনা আছে বলে জানানো হয়েছে।

গতকাল নোটিশটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম পাঠান এবং সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের ৮টি দপ্তরে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর পাঁচ দিনের মধ্যেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞসহ একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছি।’

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু করা হয়। প্রথমদিকে যক্ষ্মা, ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, পোলিও এবং হামের টিকা দেওয়া হতো। এটি শহরকেন্দ্রিকভাবে ১৯৮৫ সাল থেকে গ্রাম পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়।

কিন্তু সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার কেন পূর্ববর্তী সরকারের মত একটি শক্তিশালী টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে নোটিশে। এতে আরও বলা হয়েছে, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অপর্যাপ্ত টিকাদান, টিকা সংকট ও টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের কারণে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে হামসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে টিকা আমদানির অনুরোধ জানিয়ে চিঠিও দিয়েছিলেন। কিন্তু সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ইচ্ছাকৃতভাবে তা আমলে নেননি।’ নোটিশে ড. ইউনূসকে একজন ‘অনৈতিক ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘তিনি বাংলাদেশের জনগণের দুর্দশার ওপর ব্যবসা করে বিপুল মুনাফা অর্জনের এক প্রধান হোতা। এ ধরনের ইচ্ছাকৃত অবহেলার (টিকা আমদানি না করা) কারণে শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অসংখ্য শিশু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’ নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ড. ইউনূসের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি টিকাদান কর্মসূচি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া। ফলে তার সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।’

অন্যদিকে, গতকাল গুলশানে এক আলোচনা সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হাম প্রতিরোধের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করলেই আসল কারণ জানা যাবে। তিনি জানান, ‘৪৯ দিনে দেশে হাম ছড়িয়ে যায়নি। ইউনূস সাহেব যাকে যেখানে বসিয়েছিলেন, তারা সঠিকভাবে কাজ করেননি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্রমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে ১,২৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৫ জন মারা গেছেন। ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮,৫৩৪ জন, এর মধ্যে ১৩৮ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮০ জনের। এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ১,০৯৯ জনের। স্বাস্থ্য বিভাগ গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।

মহাখালীর ডিএনসিসি কভিড হাসপাতালে দুই বছরের সিফাতকে নিয়ে উপস্থিত টঙ্গীর হানুফা বেগম জানান, ‘সিফাতের শরীরে লাল র‌্যাশ দেখা দেয় এবং জ্বর আসে। টঙ্গীর এক ক্লিনিকে ডাক্তার হামের উপসর্গ বুঝিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। নোয়াখালী থেকে ঢাকায় এসে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসার পর এখানে এসেছি। হাসপাতালে হাম ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে মেয়েকে। জ্বর কিছুটা কমছে।’

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে। সেখানে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা অন্তত চারটি হাসপাতাল ঘুরে শয্যা না পেয়ে এখানে এসেছেন। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী রয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আলাদা হাম ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে রোগীদের পরিপূর্ণ। সংক্রামক ব্যাধি হাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ৫৬ জেলায়। শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার গত রবিবার থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. তানজিনা জাহান জানিয়েছেন, ‘শিশুদের ক্ষেত্রে হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে। অনেক শিশুর মধ্যে পুষ্টির অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের চিকিৎসকরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিচ্ছেন।’ বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ৪৪টি। সেখানে ১৬ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) রয়েছে। মোট ৬০টি শয্যা শিশুদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনও শয্যা খালি নেই। গতকাল ৭১ জন হামের রোগী ভর্তি ছিল এ হাসপাতালে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন ভর্তি হয়েছেন। ডিএনসিসি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বেশির ভাগ রোগী আইসিইউ ও এনআইসিইউ না পেয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে এখানে আসছেন চিকিৎসার জন্য। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিশেষায়িত আইসিইউ ও শয্যার সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে একটি শয্যা খালি হওয়ার পরও অন্য একটি শিশুকে ভর্তি করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

হাম রোগে আরো তিন শিশুর মৃত্যু: হাম রোগে ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশু মারা গেছে এবং হাসপাতালে নতুনভাবে আরও রোগী ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৩৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, রবিবার দুপুর থেকে আজ (সোমবার) দুপুরের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা দুই শিশুর ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ের মধ্যে ২০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৫ শিশু। হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪১১ শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। তাদের মধ্যে ৪২ শিশু মারা গেছে।

সিলেট: সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই মাস বয়সি এক শিশু মারা গেছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানিয়েছেন, দুই দিন আগে হাম ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে ওই শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। এছাড়া গতকাল সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ১০১ জন ভর্তি ছিলেন। রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল থেকে ওসমানী হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর আগে ২৬ মার্চ শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০০ শয্যার আইসোলেশন চালু করা হয়।

রংপুর: রংপুর বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৩ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ১৪ জন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের দিনাজপুরে ১৬ এবং গাইবান্ধায় ৩ রোগী শনাক্ত হয়েছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ ও দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ রোগী ভর্তি হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গাউসুল আজম জানিয়েছেন, ‘সারা দেশের হামের নমুনা পরীক্ষা ঢাকায় হয়। এজন্য ফলাফল আসতে সময় লাগছে। এ অবস্থায় সরকার উদ্যোগ নিলে বিভাগীয় শহরগুলোতে হাম পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন করলে ভুক্তভোগীদের জন্য সহজ হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে খেলাপি ঋণ, পরিমাণ সাড়ে ৫ লাখ কোটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ এম


উদ্বেগ বাড়াচ্ছে খেলাপি ঋণ, পরিমাণ সাড়ে ৫ লাখ কোটি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত স্থিতিভিত্তিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সংসদের একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি উল্লেখ করেছেন বর্তমানে সংসদ সদস্য ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।

গতকাল সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) করা প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। এই একই সময়ে তিনি শীর্ষ ২০ খেলাপির তালিকাও সংসদে উপস্থাপন করেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চান, দেশে এই মুহূর্তে প্রকৃত খেলাপি ব্যাংকঋণের পরিমাণ কত, শীর্ষ ২০ খেলাপি কারা এবং ঋণ আদায়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে: এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস লিমিটেড, সোনালি ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম ট্রেডিং কম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড, পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরাণীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কম্পানি, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড।

অর্থমন্ত্রী খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের বিভিন্ন ব্যবস্থারও উল্লেখ করেন। বর্তমান সংসদ সদস্যদের খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য এবং তাদের মালিকানাধীন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো থেকে এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে। মোট ঋণের একটি বড় অংশ বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা বর্তমানে নিয়মিত বা অ-খেলাপি হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে। অর্থাৎ, আইনগত জটিলতায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খেলাপি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, দেশের ব্যাংকিং খাতে পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। বিশেষ করে 'ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের' চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দেন তিনি। উল্লেখ্য, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে তদারকি জোরদার, শীর্ষ ২০ খেলাপির ওপর নজরদারি, রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি এবং আরও কিছু পদক্ষেপ।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারকে প্রাণবন্ত ও গতিশীল করার জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারকে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন বিনিয়োগকারীর আস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

এছাড়া, সরকার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা ও হ্যাকিং রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এখন থেকে একজন গ্রাহক একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে একটি এমএফএস প্রোভাইডারের অধীনে মাত্র একটি হিসাবই সচল রাখতে পারবেন।

এশিয়ার কনফারেন্সে আলোচনা শেষে সংসদে তিনটি বিল পাস হয়েছে যাতে নির্বাচনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যাবে। নির্বাচনের বছর, বিধান অনুসারে সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ তিনটি কাননে পাস হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চটা দেওয়ার অঙ্গীকার সাকিবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ এম


জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চটা দেওয়ার অঙ্গীকার সাকিবের

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলে খেলা, ক্লাব ক্রিকেটের অস্থিরতা, দেশে ফেরা এবং রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য নিয়ে দক্ষিণাকাশে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলেন। তবে তার এসব বক্তব্যের পর আলোচনার পরে, এবার এই অলরাউন্ডার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানান, এই মুহূর্তে তার পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে এবং ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ উজাড় করে খেলতে চান। সুযোগ পেলে তিনি দেশকে আরও কিছু স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিতে চান।

পোস্টে সাকিব বলেন, আসসালামু আলাইকুম সবাইকে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে আমার একটি বক্তব্য বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। আমি সবার কাছে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চাই। এই মুহূর্তে আমার পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে।

তিনি আরও জানান, ক্যারিয়ারের এই শেষ পর্যায়ে এসে আমি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ উজাড় করে খেলতে চাই এবং সুযোগ পেলে দেশকে কিছু দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই।

রাজনীতি প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি মনে করেন, দেশের জন্য কাজ করতে হলে শুধু রাজনীতিতেই আসতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তার ভাষায়, ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর, আমি আমার দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। তবে সেটা যে শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে, তা নয়। রাজনীতি ছাড়াও দেশের জন্য কাজ করা সম্ভব। তবে হ্যাঁ, রাজনীতির মাধ্যমে কাজগুলো করা হয়তো অনেক বেশি সহজ হয়।

জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ক্যারিয়ার শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাকিব। তিনি বলেন, আমি আশা করি লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মুখে হাসি নিয়ে আমি আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করতে পারব। এই লক্ষ্যে আমি বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে দোয়া ও ভালোবাসা প্রার্থী।

সাকিবের এই ব্যাখ্যার পর, তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতীয় দলে ফেরা এবং রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেটাঙ্গনে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%