১২:৩৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল এবং ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে। তবুও বছরের প্রথম তিন মাসে চীনের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে ৫ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা যেখানে ৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, সেখানে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেশি এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পরেও চীন এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি করেছে এবং বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে।
গত মাসে বেইজিং তাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বনিম্ন। এই পরিসরে এটি চলতি বছরের প্রথম জিডিপি পরিসংখ্যান হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুর্গম দ্বীপে রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকদের আকাশ থেকে ঝাঁপ
এর আগের ত্রৈমাসিকে ৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এবারের অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে উৎপাদন খাত। তবে আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতি এখনও চাপে রয়েছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কাইল চ্যান জানিয়েছেন, গাড়ি ও অন্যান্য রফতানি খাত এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এটি অর্থনীতিতে ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের পূর্ণ প্রভাব এখনও সামনে আসেনি এবং বাণিজ্যে বিঘ্নের কারণে আগামী ত্রৈমাসিকে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে।
চীনের নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অধীনে মার্চ মাসে নতুন জিডিপি লক্ষ্য ও অর্থনৈতিক কৌশল ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় উদ্ভাবন, উচ্চ প্রযুক্তি শিল্প এবং অভ্যন্তরীণ ব্যয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
এদিকে, দেশটির শাসক কমিউনিস্ট পার্টি অর্থনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছে। কারণ দুর্বল ভোগ, জনসংখ্যা হ্রাস এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুন: শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প
বৈশ্বিক পরিস্থিতিও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বাণিজ্য উত্তেজনা বেড়েছে, যা জ্বালানি সংকটকেও আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বর্তমানে চীনের অনেক পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এটি জানিয়েছেন যে: সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের আগে যে শুল্কহার ছিল, তা জুলাইয়ের শুরুতে আবার কার্যকর করা হতে পারে।
আগামী মে মাসে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যেই মার্চ মাসের রফতানি তথ্য অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির লক্ষণ দেখা গেছে। সংঘাতের কারণে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে এবং ভোক্তা ব্যয় কমেছে।
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে ২.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সম্মিলিতভাবে রফতানি ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্যারোলে মুক্তি পেলেন
ইলেকট্রনিক্স এবং উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে বছরের প্রথম দুই মাসের বাণিজ্য তথ্য একসঙ্গে হিসাব করা হয়েছে। মার্চে আমদানি প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। ফলে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি হয়েছে, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির প্রভাষক ইক্সিয়াও ঝোউ বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানির মূল্যও হঠাৎ বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি এবং অপরিশোধিত তেলসহ তেলজাত পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর তুলনায় চীন উপসাগরীয় তেলের ওপর তুলনামূলক কম নির্ভরশীল। তারপরও দেশটিতে পেট্রোলের দাম বাড়ছে। জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু চীনা বিমান সংস্থা ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে।
ঝোউ আরও বলেন, বৈশ্বিকভাবে খরচ কমে গেলে চীনের রফতানিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার মতে, রফতানি প্রবৃদ্ধি মূলত বাণিজ্য অংশীদারদের অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে, তাই দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান শত্রুপক্ষকে ‘বেদনাদায়ক’ পরিণতির হুঁশিয়ারি প্রদান করেন
সূত্র: বিবিসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন