বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৭:৪৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঘুমের ভান করে এক নারী সহযাত্রীকে বারবার আপত্তিকরভাবে স্পর্শের অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক বরুণ অরোরা (৩৮) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট, যখন রোড আইল্যান্ড থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে একটি ফ্লাইটে যাত্রা করছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ফ্লাইট অবতরণের কিছুক্ষণ আগে পাশের নারী যাত্রী ঘুম থেকে উঠে খেয়াল করেন যে বরুণ অরোরা তাঁর গায়ে অবাঞ্ছিতভাবে হাত দিচ্ছেন। এদিকে অরোরা ‘ঘুমের মাস্ক’ পরে ঘুমের ভান করে ছিলেন এবং নারী যাত্রী বারবার তাঁর হাত সরিয়ে দিলেও তিনি থামেননি।
এ ঘটনায় তদন্ত করে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ম্যাডিসন মুমা ও সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি রাসেল এল কার্লবার্গ।
বরুণ অরোরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করছিলেন। ২৯ জানুয়ারি এই অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং আগামী ৭ মে ফেডারেল জেলা আদালত তার সাজা নির্ধারণ করবেন। তার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এ ধরনের একটি অন্য ঘটনা গত বছরের নভেম্বরে ঘটে, যখন ৩৪ বছরের ভারতীয় জাভেদ ইনামদারকে যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ১২ বছর বয়সী কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের কারণে ২১ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার ফলে ন্যায়বিচার ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার তাগিদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি কেউ নীতি উপেক্ষা করে এবং লোভের প্রভাবে অন্যায় কাজ করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনা প্রদান করে বলেন, ‘সবার লক্ষ্যে যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় থাকে এবং দায়িত্ব পালন করেন’। তিনি আরও জানান, কোনও ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক এজেন্ডার বাস্তবায়নে তাদের সম্পৃক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। দায়িত্ব থেকে এড়িয়ে চললে বা অবহেলা করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া তিনি প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের থেকে কোনো অর্থ বা সুযোগ সুবিধা নেওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। এমনকি খাবার গ্রহণ করাও তাদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে।
আজ বিকালে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ এর সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে আইন, বিধি, জননিরাপত্তা, জনসেবা ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিতে হবে। সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বই হবে এই নির্বাচনের মূল শক্তি।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ স্বাগত বক্তৃতা দেন। এ সময় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের প্রতি উপদেষ্টা বলেন, ভোটকেন্দ্র ও বুথগুলোকে স্বচ্ছ রাখতে প্রস্তুত করতে হবে। ভোট কেন্দ্রের প্রধান রাস্তা মসৃণ ও যাতায়াত উপযোগী রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এগুলো যেন সময়মতো ভোটকেন্দ্রে পৌঁছায় সেটিও নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সংক্ষেপে, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা দরকার।
সভায় রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সাথে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, খুলনা বিভাগের তুলনায় রাজশাহী বিভাগের নির্বাচনি প্রস্তুতি উন্নত। নির্বাচনী সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অন্যান্য বারের তুলনায় নির্বাচন সহিংসতা কমে এসেছে। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো ও সুন্দর।
তিনি উল্লেখ করেন যে এবারের নির্বাচনে মোট ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১ লাখ, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, বাংলাদেশ পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪। উপদেষ্টার প্রত্যাশা, এবারের নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর অধীনে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৭ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে ডেমরা থানার দুইজন, সূত্রাপুর থানার দুইজন, মোহাম্মদপুর থানার তিনজন, তেজগাঁও থানার একজন, খিলক্ষেত থানার একজন, যাত্রাবাড়ী থানার পাঁচজন, দক্ষিণখান থানার দুজন ও শাহবাগ থানার একজন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় দিনভর একটি অভিযান পরিচালনা করে ৮ থানার পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ডেমরা থানার পুলিশ মো. শরীফ (৩৯) এবং মো. বাবু মিয়া ওরফে বাবুল (৪১)কে, সূত্রাপুর থানার পুলিশ ইয়ামিন আরাফাত সঞ্জয় (২৮) ও মো. আল-আমিন সরদারকে (৩২), মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ মো. নয়ন (১৮), মুজাহিদ হোসাইন ওরফে কামরান (২৫), এবং মো. কবির হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে।
এছাড়া, তেজগাঁও থানার পুলিশ মো. লিটন বেপারী (৬০), খিলক্ষেত থানার পুলিশ মো. সেলিম (৩৮) এবং যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ মো. জুয়েল (২৫), মো. বাবু ওরফে ছোট বাবু (২৫), মো. হায়দার হোসেন তপু (৪০), মো. ইমরান (২৭) ও মো. মাহমুদুল হাসান (২৫)-কে আটক করেছে।
দক্ষিণখান থানার পুলিশ মো. কারুল ইসলাম শিবলু (২৯) এবং মো. আলামিনকে (৩৬), এবং শাহবাগ থানার পুলিশ মো. মান্নান মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া সকল ব্যক্তিকে পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের ক্রিকেটের কেন্দ্রবিন্দুতে সাকিব আল হাসান সম্পর্কে আলোচনা যেন থামছেনা। খেলোয়াড়ের জাতীয় দলে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও, বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারকে অবজ্ঞা করার বিরুদ্ধে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে না। যদিও মেগা টুর্নামেন্টে খেলতে না পারলেও, ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ দিতে বিসিবি একটি টুর্নামেন্ট রেখেছে বলে জানা গেছে, যা 'অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ' নামে পরিচিত। এই টুর্নামেন্টে ধূমকেতু একাদশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সালাউদ্দিন।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের আগে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে না থাকার প্রসঙ্গে আলোচনায় সাকিবের কথা উঠে আসে।
সালাউদ্দিন, যিনি টাইগার অলরাউন্ডারের শৈশবের মেন্টর, স্পষ্টভাবে জানান, যদি সাকিব ফিট থাকে তবে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত না করা হবে এটা অবৈখিক হবে।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, 'যদি কেউ বলে তারা সাকিবকে চায় না, সে বোকার রাজ্যে বাস করছে। সাকিবের ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই দলের ভারসাম্য নিয়ে আসে। ফিটনেস অবশ্যই জরুরি, কিন্তু তাকে দলে চাওয়া-না চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।'
এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশ দলের সাকিবকে আবার দলে রাখার দাবি আরো জোরালো হয়েছে। অভিজ্ঞ এই খেলোয়াড়ও জাতীয় দলে ফিরতে চান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভবিষ্যতে সাকিবের নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, 'বিশ্বকাপ খেলছি না। তবে আমি এমন একজন মানুষ নই যে কিছু মিস করার জন্য অসন্তুষ্ট হব। আমি জানি কালকে আমি বাঁচব কিনা। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে না ভেবে, বর্তমানে যে অবস্থায় আছি, তাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি খেলাটিকে উন্নত করার।'
আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানের চড়া দামে বিক্রি হওয়ার পর সেই খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটি শুরু হয়। ওই সময় বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণে ভারত থেকে বিশ্বকাপ খেলতে আপত্তি জানায়। বোর্ড পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশে সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানায়। তবে আইসিসি বাংলাদেশের দাবি মেনে নিয়ে, পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে।
মোস্তাফিজুর রহমানের এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সালাউদ্দিন বলেন, ' আমি নিজেই মোস্তাফিজকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'তুমি কেমন অনুভব করছো?' সে বলেছিল, 'যেটা চলে গেছে, সেটা চলে গেছে। সবাই মোস্তাফিজের মতো হতে পারবে না। তবে এভাবে হতাশ হলে সেই খেলোয়াড়ের জন্য ভালো হবে না। কারণ, যেটা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না, সেটাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি না।'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি বর্তমানে ‘সংকটজনক অবস্থায়’ রয়েছে, যেখান থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিশ্বের ৭২ শতাংশ জনসংখ্যা এখন ‘স্বৈরাচার’ অধীনে বাস করছে। এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এইচআরডব্লিউ বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৬ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া ‘এমন নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যারা প্রকাশ্যে নিয়মের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে এবং যথেষ্ট অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী’।
এইচআরডব্লিউ তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে স্মরণ করানো হয়েছে, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার পর মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প মানবাধিকারের প্রতি বিশেষভাবে অবজ্ঞা দেখাচ্ছেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে বেপরোয়া। বিতর্কিত অভিবাসন পুলিশ, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর মুখোশধারী ও সশস্ত্র এজেন্টরা অসংখ্য সহিংস এবং নিপীড়নমূলক অভিযান চালিয়েছে, যা আগে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অকল্পনীয় ছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বর্ণ এবং জাতিগত দোষারোপ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ এবং নির্বাহী ক্ষমতার বৃদ্ধি করে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করার প্রচেষ্টা—এসব যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার কর্তৃত্ববাদী অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে।’
এইচআরডব্লিউ আবারও অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলপূর্বক গুমের সাথে জড়িত, যা আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ। ২৫২ জন ভেনেজুয়েলার অভিবাসীকে এল সালভাদরের কারাগারে পাঠানোর উদাহরণ নিয়ে এসেছে তারা।
এছাড়া, প্রতিবেদনে চীন ও রাশিয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, এই দুটি দেশ আগেই বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে বিপর্যস্ত করেছে। প্রতিবেদনে বলছে, বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচক এখন ১৯৮৫ সালের স্তরের ধারাবাহিক। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ‘রাশিয়া ও চীনের নাগরিকরা ২০ বছর আগের তুলনায় এখন কম স্বাধীনতা ভোগ করছেন।’
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বোলোপিওন মানবাধিকারের পক্ষে দাড়ানো দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের ভিত্তিতে একটি জোট গঠন করা আবশ্যক, যাতে ট্রাম্পের মতো শুল্কবিধিমালা আরোপকারী নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়।’
এইচআরডব্লিউর ৫২৯ পাতার প্রতিবেদনটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটির সম্পূর্ণ বিরূপ। পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের সহযোগী দেশগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনে চোখে পড়ার মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এল সালভাদরে ২০২৪ সালে কোনো বড়ো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি এবং অপরাধাবলির ‘ঐতিহাসিক পর্যায়ে’ নেমে আসার দাবি করা হয়েছে।
তবে এইচআরডব্লিউয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এল সালভাদরে গ্যাং সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে, কিন্তু ২০২৫ সালে গণগ্রেপ্তার, গুম এবং নির্যাতনের মতো বড়ো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা হবার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া, প্রতিবেদনে ইসরাইলকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও জাতিগত নিধন’ করার জন্য আবারও অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তাদের নৃশংসতা আরও বৃদ্ধি করেছে হত্যাকাণ্ড, অনাহার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্ছেদের মাধ্যমে। যদিও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ